আজ বিশ্বপথিক স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪তম রজতজয়ন্তী বর্ষ।তাঁর এই রজতজয়ন্তী বর্ষে নতজানু শ্রদ্ধা ও প্রণাম সারা বিশ্বের যুবশক্তির আদর্শ এই মানুষটির প্রতি, যাঁকে কোনোদিন ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।
অঙ্কুরীশা-য় কবিতায় শ্রদ্ধাঞ্জলি
নিবেদনে—
১.তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
২.সৌমিত বসু
৩.জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
৪.গৌতম রায়.
৫.তপনজ্যোতি মাজি
৬.দুর্গাদাস মিদ্যা
৭.সমাজ বসু
৮.শ্যামল মন্ডল
৯.বিমল মণ্ডল
১০.মনোজ ভৌমিক
১১. রঞ্জন ভট্টাচার্য
১২.পুষ্প সাঁতরা
১৩.শ্রী সুজন
১৪.জীবন সরখেল
অঙ্কুরীশা-য় কবিতায় শ্রদ্ধাঞ্জলি
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
নির্ভীক এক বাঙালি যুবক শিকাগো ধর্মসভায়
মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচু করে বলেছিল জোরগলায়
বহু দূর থেকে এখানে এসেছি আমি সামান্য মানব
বলার জন্য পেয়েছি সময় জানি খুব দুর্লভ
প্রথমেই বলি সার সত্যটি শোনো সব বোন ভাই
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই;
আমার জন্ম ভারতবর্ষে সাত সমুদ্র পারে
পেরিয়ে এসেছি কত জলপথ কত ঢেউ পারাবারে
এসে শুধু দেখি কত গুণিজন কত কত দেশ থেকে
চেনাজানা নেই কারও সঙ্গেই--শ্রদ্ধেয় প্রত্যেকে
দেখি এ সভায় সমস্ত পৃথিবী মিলে গেছে একঠাঁই
সবাইকে বলি মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই;
আমাদের দেশ ঐতিহ্যের--তার গতিধারা বেয়ে
পথে পথে ঘুরি মানুষে মানুষে মিলনমন্ত্র গেয়ে
আমাদের আছে চতুর্বেদ আর বেদান্তের মহাগান
প্রতি শ্লোকে আছে ঐক্যবার্তা, বিভেদ-পরিত্রাণ
লেখা আছে তাতে মানুষ সত্য জীবনের মূলমন্ত্র
মানবিকতাই আবরণ হোক মানবের স্নায়ুতন্ত্র;
বেদান্ত বলে প্রতি দেহকোষে বাস করে ঈশ্বর
সেই ঈশ্বরে ব্যাপৃত এই পার্থিব চরাচর
সব মালিন্য ধুয়েমুছে আছে সে বিশ্বজনীনতা
জানুক পৃথিবী ভারতের এই সহিষ্ণুতার কথা
সব প্রতিরোধ, প্রতিবন্ধক করে দিয়ে দূরছাই
বলো হে বিশ্ব মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।
শুভজন্মদিন হে মহামানব!শতকোটি প্রণাম
হে মহাজীবন
সৌমিত বসু
তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন
কিভাবে রাজার ছবির ওপর থুতু ফেলতে হয়
আমরা শিখিনি ; ভয়ে, সামাজিকতায়, বশ্যতায় |
দূরে সমুদ্রের ওপর জেগে উঠছে তার চূড়ো
ভিজিয়ে দিচ্ছে আমাদের কাপড় চোপড়,
গ্লানি, সমূহ অতীত ;
চোখ জ্বালা ক'রে কান্না এসে দাঁড়াচ্ছে
রেটিনা ব রা ব র
স্পর্শ এসে দুলিয়ে দিচ্ছে বিশ্বব্রম্ভান্ড
একটি ছড়ি হাতে নিয়ে তিনি হেঁটে চলেছেন
উত্তর থেকে দক্ষিণ
পায়ের স্পর্শে নেচে উঠছে অভাবী ভারতবর্ষ |
বিজ্ঞাপনের সমস্ত রং শুষে নিয়ে
একটি বিশাল বটগাছ ডালপালা ছড়িয়ে
উন্মাদের মতো শুধু হাসছে
আর তার তলায় ছায়া পোহাচ্ছে একনৌকো সন্ততি
আলোর বিবেক
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
একগলা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে সামান্য আলোর আভাস
শীতরাতে দূরের আলো হয়ে যায়।পাঁকগন্ধ, গুঞ্জন ওঠে
গুলিয়ে ওঠে গা,প্রাণকেন্দ্র ঘ্রাণকেন্দ্রে প্রবল বিবমিষা
ডেকে উঠি,অতলে ডুবছি আলো কই? ডাঙা কই?
সাঁতার জানি না,গলা পর্যন্ত কালোর কসরত, ডুবে যাবো
এতটুকু খড়কুটো নেই,দিশাহীন,আলো দাও।
অধিকারের প্রবল দাপটে বলি,অন্ধকে আলো দাও.....দাও....
এ যে অধিকার। মানবিক সংবিধান দানবেরও প্রিয়
তুমি ছিলে,তুমি আছো,নিশ্চিন্ত হয়েছি,উজ্জ্বল রশ্মিগুলো
রশি হবে,বিপত্তারণ মই হবে,সাপের আগ্রাস থেকে তুলে নেবে
প্রবল প্রেমে,দুর্জয় প্রহরী আছে,প্রহরে প্রহরে ডাকে,
ওঠো,জাগো,কর্তব্যে যাও,শুদ্ধতার শপথ নাও......
ভোরের ঘুম আঁকড়ে তবু আলস্যের শ্যাওলার মাছেরা
ঘুমিয়ে থাকবো একপ্রহর বেলা,তারপর, যতটুকু কম করা যায়
কাজের নাটকে যাবো
এভাবেই আবার নামবো,ডুববো,কাদা মাখবো,পাঁকগন্ধ পাবো
তুমি আলোর জাদুতে সব শোধন করবে,ঠিক জানি,
তুমি আছো তাই ,তুমি আছো আলোর তাপস,
জাগ্রত বিবেক,আলোর সন্ন্যাসী।
বিবেকানন্দচোখ
গৌতম রায়
সারা পৃথিবী জুড়ে একটা চোখের সন্ধান বিবেকানন্দচোখ
এমন দৃষ্টিপাতের মেহনে শুধু আবেশ নয়,
ঘুম নেই কতকাল
জাগরণ ! পুনঃজাগরণ !
ভিজে যাই , ভিজে যাই
সূর্যকুণ্ডের পর চলন চলন
এ নদীদৃষ্টিতে লেগে থাকে মানুষী পড়োশি পরশ
তাই এতো নদীকল্যাণ সম্বোধন।
ভারতমহাসাগর মহাতীর্থের পর
চার মেঘের পুনরুত্থান–
এমন পৃষ্ঠটানে বৃষ্টিপাতে হিমালয়ও
নিজেকে চূর্ণ করে সহস্র লক্ষবার।
এসো দৃষ্টি এসো প্রেম এসো কল্যাণ
পৃথিবীত্বে পায়ে পায়ে এগিয়ে যাই।
বিশ্বাস
তপনজ্যোতি মাজি
বিশ্বাস অর্জনের জন্যে বিশ্বাস চাই অবিচল।
প্রতিদিন ছোট হচ্ছে আমাদের উচ্চতা।
নিজেদের খর্বতা দেখে লজ্জা হয় কখনও কখনও।
আমরা হতে পারিনি কত কিছু।
মানবিক হতে পারিনি।
ধর্ম নিরপেক্ষ হতে পারিনি।
অসাম্প্রদায়িক হতে পারিনি।
পারিনি নারিজাতির প্রতি শ্রদ্ধাবনত।
আমরা আয়ত্ত করেছি কুপমুণ্ডুকতা।
ধর্মভেদ এবং ধর্মান্ধতা।
সত্য আর অহিংসা থেকে সরে গিয়ে
শিখছি ভেদ দর্শন।
আমরা ভাঙছি নিজেদের।
টুকরো টুকরো করছি ঐক্য।
জ্ঞানকে দূরে সরিয়ে অজ্ঞানতায়
ঢেকে ফেলছি নিজেদের।
সৎ ও সাহসী হতে বলেছিলে।
আমরা পারিনি।
পরিব্যাপ্ত ব্যর্থতার মধ্যে তোমার
আর একটা জন্মদিন।
তন্ময় মননে ভেবে দেখার দিন।
আমরা তোমার স্বপ্নের যোগ্য
উত্তর প্রজন্ম কিনা?
চিরস্মরণীয় বীর
দুর্গাদাস মিদ্যা
আমার মনের মাটিতে যে নাম
সদা জাগরূক সে নাম স্বামী বিবেকানন্দ।
হাজার দুখের মাঝেও তিনি
আমাদের সকলের চির আনন্দ।
পৃথিবীর এই গভীর অসুখে তাঁর আশীর্বাদ
ঘোচাবে আমাদের সকলের
মানসিক অবসাদ।
তাঁর চোখের দিকে যখন আমি চাই
হাজার প্রতিবন্ধকতায় চলার শক্তি ফিরে পাই।
তিনিই আদিত্য তিনিই অগ্নিবর্ণ পুরুষ
বেহুশ প্রাণে তিনিই জাগান হুশ। তিরোধান দিবসে জানাই শতকোটি প্রণাম
চিরস্মরণীয় বীর তিনি মহৎ এক প্রাণ।
হে মহামানব
সমাজ বসু
সত্য অহিংসার চারাগাছগুলো মৃতপ্রায় পড়ে আছে
আমাদের উঠোনে---
ঐক্যের সব সেতু ভেঙে টুকরো টুকরো
এই বেশ আছি, দেওয়ালের দু পাশে।
অজ্ঞানতার অন্ধকারে জ্বেলে রেখেছি নিদেন একটা
মোমবাতি---
মোমবাতির থিরথির আলোয় কেঁপে উঠছে
আমাদের এই মলিন দিনযাপন।
হে মহামানব---
আরো একবার তোমার শাসন বারণ আর
সত্যের অনুসন্ধান ফিরে আসুক---
আমাদের বর্ণহীন জীর্ণ জীবনধারণে।
বিবেকানন্দ
শ্যামল মন্ডল
আঠারো'শ তেষট্টিতে
বার-ই জানুয়ারি
ব্রহ্মজ্ঞান বিবেকানন্দ
জন্ম হল তাঁর'ই।
কর্ম যোগী ধর্ম যোগী
সাম্য এনে বঙ্গে ,
সকল ধর্মের শ্রেষ্ঠ ধর্ম
মেখে ছিলেন অঙ্গে।
বাল্যকালেই জাত বিভেদের
গণ্ডী ভেঙ্গে দিয়ে,
মানবধর্ম করতে পালন
দৃঢ় শপথ নিয়ে।
পরমহংসের পরম ছায়ায়
পেলেন নতুন শিক্ষা,
যত মতে তত পথে
মানব ধর্মের দীক্ষা।
দেশ হ'তে দেশ-দেশান্তরে
ধর্ম প্রচার তরে।
ঘর-পরিজন সকল ছেড়ে
সন্যাসী রূপ ধরে,
শিকাগোর সেই বিশ্ব-সভায়
ধর্ম যোগীর বেশে,
বিশ্ব-জোড়া নাম হ'লো তাঁর
দীর্ঘ্য ভাষন শেষে।
বিশ্ব-ভূবন জয়ের পরে
এলেন দেশে ফিরে,
বেলুড়মঠ গরীমা তাঁর
তাঁর মহীমা ঘিরে।
রামকৃষ্ণ মঠ-মিশন গড়েন
মানব সেবার জন্য,
রাজ কর্মে'তে ভক্তি জ্ঞানে
মানব জাতি ধন্য।
চৌঠা জুলাই ঊনিশ'শ
এলো অমোঘ সেদিন,
বেলুড়মঠে ধ্যানের মাঝেই
হলেন সত্যে বিলীন।
প্রেম
বিমল মণ্ডল
সংসারে পড়ে থাকা ভীড়ে
মুক্তির আলো খোঁজে
দেবতার আরাধনা সেরে
প্রেমের মহিমা বোঝে।
মানুষের মাঝে মুক্তির স্বাদ
বিলিয়ে গেলেন তিনি
জাতপাত আর ধর্ম ভুলে
থাকতেন বিবেকানন্দ যিনি।
প্রতি জীবে প্রেম সেবা
মন তুলিতে আঁকেন
সাতসাগর আর তেরো নদীতে
প্রেমের হৃদয়কথায় ভাসেন।
হে পরিব্রাজক
মনোজ ভৌমিক
দিব্যকান্তি সুপুরুষ সুন্দর শ্রীমুখ,
অধরের দীপ্তি ভাসে সূর্য সম তেজে।
অরূপ লোচন হেরি মনে জাগে সুখ,
জ্ঞানগর্ভ বাণী যার এ বিশ্বে বিরাজে।
তিনিই বিবেকানন্দ বঙ্গের সন্তান,
আন্তরিক সম্ভাষণ বড়ই মধুর।
চিকাগোয় দেখালেন ভারত মহান,
নিমেষেই করলেন নিকট সুদূর।
কর্মই শ্রেষ্ঠ সম্পদ মন্ত্র ছিল যার,
গড়তে সমৃদ্ধ দেশ আহুত যুবক।
জীব সেবা শিব সেবা ভাবনাই তার,
ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা তুমি হে পরিব্রজক।
একবার জন্ম নাও হে মহামানব,
ধর্ম জীবন ধারণ হোক অনুভব।
এসো এসো হে বিবেক
রঞ্জন ভট্টাচার্য
আজ আর নেই সেই বটবৃক্ষ
ঝরেছে তার পাতা ফুল ফল
আগাছা গ্রাস করেছে তাকে
জঞ্জালে ভরেছে শরীর ফুসফুস হূৎপিণ্ড
ফুসফুসের রক্ত চুষে খায় দুর্বৃত্তায়ন...
বিবেক হারিয়ে গেছি খরস্রোতা নদীর ভাঙনে নিমজ্জিত আজ সাগর অতলে।
বিবেকের বিবেক আজ হৃদয়ের কোণে কোণে বিন্দুমাত্র নেই
যা ছিল সব কোথায় !
সেই যুবক তার যৌবন শক্তি কোথায়
সেই উদ্দীপনা উন্মাদনা আর শ্রদ্ধা ভক্তি!
এসো, এসো বিবেক নতুন করে সাজাও তোমার সমাজ
অবতার রূপী আর এক শক্তিকে
পাঠাও আমাদের মাঝে
তোমার চিন্তা-ভাবনা বিবেক যেন আগুনে পুড়ে ছারখার
শুধু অপেক্ষায় আছি এসো আবার এসো আবার এসো হে বিবেক...
ভালোবাসার প্রত্যাশী
দীপক বেরা
চারিদিকে প্রসারিত নিশ্চল অন্ধকারে
বহুচেনা দীর্ঘ মুখের উৎসব
দর্পণে অজস্র মুখের মিছিলে
তোমার মুখ যেন মনেই পড়ে না —
পৃথিবীটা বদলে যাচ্ছে ক্রমশ..
অর্থ-অনর্থের যুদ্ধে রক্তাক্ত হচ্ছি প্রতিদিন
তবু এই মায়াময় জীবন জড়িয়ে
আমাদের বেঁচে থাকার অক্লান্ত প্রয়াসে
প্রেম ও মৈত্রীর এই পার্থিব মহাগার্হস্থ্যে
তুমিই তো সেই উচ্চতর প্রেরণার ঘ্রাণ!
আমরা যে চিরভিখারি, হাতে নেই
দানের যোগ্য ধুলপরিমাণও অর্থ ও সামর্থ্য
আছে শুধু ইচ্ছে, অনুরাগ, আর চোখের জল।
হে বীর সন্ন্যাসী যুগনায়ক—
এই ক্রান্তিকালে চোখের জল মুছিয়ে
তুমিই দিতে পার মুহূর্তকালের তরে
প্রতিজ্ঞা এক ঝাঁঝাল
এই রক্তাক্ত আবহে তুমিই দিতে পার
শুশ্রূষার জল, এক ঈশ্বরীয় আলোর শিখা
জীবের প্রতি — প্রেম প্রীতি ভালোবাসা
কোনও প্রতিশব্দ নেই যার..
তোমার কাছে নতজানু সেই দানের আশায়
লক্ষ্যহীন অসীম ধৈর্য্য নিয়ে আছি অপেক্ষায়
শুধু এইটুকু প্রত্যাশা ---
বিশ্ব প্রেমিক
পুষ্প সাঁতরা
বিশ্ব প্রেমিক সন্ন্যাসীরাজ
অভয়ের প্রতিমূর্তি
মানুষের সেবা ঈশ্বর সেবা
জীবের অনুবর্তী।
মহিমা প্রকাশ ঐশী আকাশে
অন্তরের মর্যাদা
সাড়া জাগানো দেশপ্রেম
তুমিই রাজার রাজা।
আত্ম শক্তির উন্মোচনে
স্বামীজীর আহ্বান
শক্তিই সেরা উন্মোচনের
দেশপ্রেমের সম্মান।
উন্নত শির মহান অগ্নিশিখা
আত্মবিশ্বাসে ভরপুর
স্বদেশের মান আকাশ সমান
নারী জাগরণের সুর।
মানব দরদী প্রেমস্বরূপ
রেনেসাঁর জাগ্রত দীপ
কর্মযোগী বিবেকানন্দ
সদানন্দের অন্তরীপ।
স্মরিনু হে যুগপুরুষ"
স্মরিনু হে যুগপুরুষ
শ্রী সুজন
নীল আকাশে ভাসে মেঘকুল,
শ্বেতকৃষ্ণ বিবিধ বরণ -
মেঘকুলমাঝে দন্ডায়মান কে তুমি হে যুগপুরুষ ?
গেরুয়াবসনপরিবৃত সৌম্যকান্তিময় দেহাভরণ ।
জন্মদিন দিচ্ছে ডাক হে বীর সন্ন্যাসী
তব আবির্ভাবপরশে চিরকৃপাধন্য এই ত্রিভুবন,
তুমিই স্বামী বিবেকানন্দ-ত্যাগ,শৌর্য,সেবান্বেষী
দুনির্বার-দুর্জয় হে যুবনায়ক করি তব আবাহন ।
'মুচি,মেথর,চণ্ডাল আমার রক্ত;আমার ভাই' সম্বোধনআবেশী
'জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর'বন্দিত মহাসম্ভাষণ,
বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধমন্ত্রে তুমি হিন্দুধর্মমর্যাদাউন্মেষী
চিকাগো ধর্মসম্মেলনে ভারতীয় ধ্বজাউত্তোলনে লহ চিরসন্মানন ।
বেদান্তাচার্য্য তুমি ঠাকুরের প্রিয় নরেন,মায়ের পুত্রস্নেহাবেশী
বেলুড়মঠের রামকৃষ্ণ মিশনস্থাপনে ধন্য তব গুরুদক্ষিণাজ্ঞাপন,
ঠাকুরের বাণীপ্রচারে সদাউদ্যোগী তুমি ঠাকুর ভাবান্বেষী
ভূভারতে পরিব্রাজকরূপে ভ্রমণে উক্ত ভাবেরই প্রচারজ্ঞাপন ।
মায়ার বন্ধনমুক্ত সিংহহিয়াসর্বস্ব হে যুবসন্ন্যাসী
যুবশক্তির মুখ্য প্রতীক তুমি তবজন্মদিনে করি চিরস্মরণ,
আজি ১২ই জানুয়ারী তব জন্মদিন 'জাতীয় যুবদিবস'রূপে পালনপ্রয়াসী
'তুমি রবে নীরবে,হৃদয়ে মম'প্রণমি তোমায় হে মহাজীবন...
জাতীয় যুব দিবস
জীবন সরখেল
ত্যাগ সেবার জাতীয় ভাবের
সাফল্যে প্রসারে
স্বামীজীই হন সফলতম
দেশে দেশান্তরে...
জাত পাত ধর্ম বর্ণের বিভেদ
অকারণ সব লড়াই
স্বামীজীর যোগ্য নেতৃত্বেই
প্রশমিত আজ তাই।
রামকৃষ্ণের সমন্বয় ভাব
ছড়ান সহজ রূপে
পাশ্চাত্য প্রাচ্যও মশগুল সেই
বেদান্ত জ্ঞান দীপে...
আগামী পাঁচ হাজার বছর
জ্ঞান ভক্তি হোক কর্ম
শিব জ্ঞানেই জীবসেবা
রবেই মূল সার ধর্ম...
সপ্তর্ষির এক মহান ঋষি
স্বামীজীর জন্মদিন
চিরন্তন যুব চেতনায়
শ্রদ্ধা ভক্তিই রই লীন...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন