
২৩ শে জানুয়ারি
নেতাজীর ১২৯তম জন্মদিনে ... অঙ্কুরীশা-র কবিতাঞ্জলী
তৈমুর খান
হে নেতাজি
বারবার উৎসুক হয়ে উঠি:
তুমি কি আমার ভিতরে জেগে আছো?
সব কল্লোলের বাক্যে দেশের আবেগ
বীর্যের তীব্র অভিযানে মুগ্ধতা আনে
দুর্বার স্রোতের টানে নম্র সমর্পণ
বিকল্প বুঝিনি কিছু আর কারো কাছে।
স্বাধীনতা নিয়ে রোজ পথ হাঁটি
সব সংকীর্ণ পথে কেউ নেই আর
তোমার মতন অবিসংবাদী;
সময়ের কণ্ঠস্বরে বেজে ওঠে ধ্বনি
মনে হয় চিনি কতকাল ধরে
আমরাও প্রজন্ম প্রজন্ম সংগ্রামী।
রক্ত দিতে দিতে রাঙা এভুবনে
সব রক্তের দেশে তোমার জন্মের কাহিনি
সভ্যতার ইতিহাস লিখে রাখে;
আর সেই আজাদ ফৌজ সংগঠিত হলে
আমরাও যুদ্ধে যাই, সমস্ত জীবন যুদ্ধ
আমাদের বেঁচে থাকা পৌরুষের নব দীপ্তি পায়।
স্বপ্নভঙ্গ
সাতকর্ণী ঘোষ
একটা সময় আলোকিত হতে পারত যদি তিনি থাকতেন
মগজের পেষণ যন্ত্রে যে এত যন্ত্রণা থাকে কে জানত
অন্ধকার ছিল এখনও তার ছবি স্পষ্ট কষ্টের চিৎকারে
হাহাকারে বিদির্ণ হতে থাকে চিত্রিত মানচিত্র
আপনাকে ভীষণ দরকার আপনি বুঝতে পারছেন
শুধু পাথরের মূর্তির ভেতর যে বন্দিদশা
তাকে ভেঙে ফেলে বেরিয়ে আসাই জীবন
থেমে থাকা যে মৃত্যু তা আপনি জানতেন
থামিয়ে দেবার যে গূঢ় চক্রান্ত ছিল তাও জানতেন
এখনও আছে তার থেকে আরও বেশি
অন্ধকার এখন আরও গাঢ় আরও গভীর
এত কালোর মধ্যে থেকে কী করে আপনাকে দেখব
আপনিই বা কী করে খুঁজে পাবেন সমস্ত স্বপ্নদের
এই মহা অসময়ে আমরা ক্রমাগত শেষ হয়ে পড়ছি
একটা লৌহ হাত এসে ধরুক আমাদের নরম হাত
তারপর হাত মুঠো হবে বজ্রভীষণ মুঠো হবে
মিছিল হবে আগুনের মতো লেলিহান
অন্তরাল
বিকাশ চন্দ
ভেঙেছে প্রভূত্বের নিরন্ধ্র প্রাচীর
এ স্বরাজ দেখোনি তুমি
এ সাম্রাজ্য কি ছিল নিভৃতে হৃদয়ে
রূপান্তর সময়ে ছিলে কি ছিলেনা তুমি
মাঘ শীতের সকাল জানুয়ারি তেইশ রোদ্দুরে
এমন স্বাধীনতা মানে কি আমার তোমার
আমাদের বাঁচা মরা সবই কি অস্তিত্বের দাস
তোমার শরীর ছোঁয়ার শেষ ইচ্ছে টুকু
এ দেশের মাটি পায়নি
তবুও দেশোত্তম তুমি চির অন্তরালে
অতীত হারিয়েছে কালের গহ্বরে
ভবিষ্যৎ কেউ দেখে যাবে কি
বল্গাকষে ঘোড়ার উপর হাত তুলে তুমি
অপেক্ষার অন্ধকার ভেঙে সূর্যের লাল
ছন্নছাড়া জীবন ভেঙে জাগে উচ্ছন্ন জীবন
স্বাধীনতার জন্য আবারও চাই
সকল মানুষের উজ্জ্বল স্বাধীনতা
ঘড়ঘড়ে গলায় কে যেন বলে উঠলো
ধুত্তোর স্বাধীনতা.... নেতাজী কোথায়....
ভারতবর্ষ তোমাকেই খোঁজে
পুষ্প সাঁতরা
নেতার নেতা নেতাজী সুভাষের
স্বপ্ন স্বাধীন ভারত
দৃঢ় চিন্তার সূতো দিয়ে গাঁথা
মনেরই কসরৎ।
মেকি দেশপ্রেমের মুখোশ আঁটা
ভুয়ো দেশপ্রেমী সাজে
দেশের জন্য ভাষন চড়ায়
নানাকথার ভাঁজে।
তেইশে জানুয়ারির জন্মদিনে
কত কথার ফুলঝুরি
তাঁর আদর্শ কে গ্রহন করেছি?
গড়ায় হিংসার নুড়ি।
হে মহাপ্রাণ! দৃপ্ত কন্ঠে জাগিয়ে তোল
জাগো জাগো অলসতা নয়
ভারত মাতার বীর সন্তান
স্পন্দন আবেগ ময়।
এসো এসো অগ্নি স্ফুলিঙ্গ
এসো সংগ্রামী বীর
ভারতবর্ষ তোমাকেই খোঁজে
উন্নত নির্ভীক শির।
হৃদয়ের মাঝে আসন পেতেছি
ব্যাকুল অক্ষরে
তোমা শূন্য ভারতের মাটি
এই তেইশের ভোরে।।
আজ তেইশে জানুয়ারি
মুক্তি দাশ
ভারত মায়ের দামাল ছেলে,নেতা জনগণেরও।
তোমায় পেয়ে ভুলেছি সব
অভাব অনটনেরও।
আজ তেইশে জানুয়ারি
কখনো কি ভুলতে পারি?
এ দিন ছাড়া ক্যালেন্ডারে
থাকতো আগস্ট পনেরো?
হে মহামানব
জয়শ্রী সরকার
সেদিনের সেই ছোট্ট সুবি আজকে নেতাজি সুভাষ
দেশপ্রেমের মন্ত্র নিয়ে জাগিয়েছ মনে আশ।
নেতার মতো তুমিই নেতা --- হে নেতাজি, হে সুভাষ
তোমার তুলনা তুমিই কেবল --- তুমি যে বৃটিশ ত্রাস !
সংগ্রামেতে নও তো ক্ষুদ্র, স্বপ্নে তোমার দেশমাতা
পাহাড় প্রমাণ বাধার সামনে তুমিই ছিলে পরিত্রাতা।
পরাধীন এই ভারতবর্ষে দেশপ্রেমের মন্ত্রকে
অস্ত্র করেই স্তব্ধ করেছ বৃটিশ ষড়যন্ত্রকে !
'দিল্লি চলো' স্লোগান দিয়ে তো ডেকেছ তরুণ দলকে
ভয়াল চক্ষে বৃটিশ দেখেছে তোমারই মনোবলকে।
'আজাদ হিন্দ্ ফৌজ' গড়েছ শক্ত করতে ঘাঁটি
পরাধীনতার শৃঙ্খল হতে মুক্ত স্বদেশ-মাটি !
ক্ষমতালোভীর বাঁকা চোখ হেনেছে শুধুই আঘাত
দৃপ্ত কন্ঠে মুক্তির মোহে করে গেছ প্রতিবাদ।
পরাধীন এই ভারতবর্ষে তুমি তো আলোর দিশা
দেশপ্রেমের মহান মন্ত্রে কাটালেই অমানিশা !
দিনবদলের পালার পরেও আজো আছো অমলিন
স্বার্থের মোহে ভুলেছে যারা, তাদেরই মহিমা ক্ষীণ।
সময়টা আজ দুঃসহ, তাই --- প্রতিটি ভারতবাসী
তোমাকেই আজ প্রয়োজন তাই তোমার শরণে আসি !
ফিরে এসো সুভাষ তুমি বিদ্যুৎ মিশ্র
বীর নেতাজি সুভাষ তুমি স্মরণ করি রোজ
কোন অজানায় দিলে পাড়ি আজও করি খোঁজ।
আজকে শুধু ভ্রষ্টাচার আর হিংসা যে সবখানে
ভুলে গেছি সেই বলিদান স্বাধীনতার মানে।
দুর্নীতিতে ঢাকলো শহর বিষাক্ত পরিবেশ
প্রহসন আজ স্বাধীনতা সংকটে এই দেশ।
ফিরে এসো সুভাষ তুমি দিচ্ছে সময় ডাক
বস্তি ঘরের সেই মেয়েটা আজকে বিচার পাক
ঋণের বোঝায় ক্লান্ত সবাই করজোড়ে ডাকে
সত্য যে আজ ধুলায় গড়ায় দুর্নীতির ওই ফাঁকে
নতুন করে স্বাধীন করো বলছি সবাই শোনো
পরাধীনতার অনলে পুড়ে চেতনা আর মনও।
মেরুদন্ড নেই তো আর আগের মতোই সোজা
শাসক যখন শোষণ করে চাপায় মাথায় বোঝা।
কে বাঁচাবে কে আর আছে, তোমার মতোই বীর
যুবসমাজ চুপ করে আজ ছাপ পড়ে ক্লান্তির।
গরিব-দুঃখী সবাই যেন একটু ভালো থাকে
নতুন করে স্বাধীন করো অভাগা দেশটাকে।
ভারতাত্মা যাঁর প্রাণ
জীবন সরখেল
যাঁর মহত্বে ত্যাগের কথায়
বাংলা বর্ণমালা
গুণগানে হন আজ আকুল
জুড়োতে তাঁর জ্বালা!
দেশের দুঃখ কষ্ট মুছতে
বহু সাগর নদী
সাঁতরে যিনি করেছেন পার
দিনরাত নিরবধি!
রাশিয়া জার্মানি জাপান
মালয় সিঙ্গাপুরে
স্বদেশ স্বরাজ স্বাধীন স্বপ্নে
ছোটেন দেশান্তরে...
'আজাদ হিন্দ ফৌজ'-'দিল্লী চলো'র
সেই চির আহ্বানে
ভারতাত্মা গর্জায় আজও
নেতাজির ধ্যান জ্ঞানে...
ভারতাত্মা যাঁর প্রাণ ;আপ্রাণ
পীড়িতের উদ্ধারে
প্রজাতান্ত্রিক উদার ভাবনার
প্রতীক দেশ সংসারে....
বিশ্ব সেরা বীর নেতাজী
কার্ত্তিক মণ্ডল
কোথায় গেলে বীর নেতাজী?
কাঁদছে ভারত মাতা
সারা দেশে ঢাকছে আঁধার
পিষছে কলের যাঁতা।
নেতারা সব লুটছে দেদার
ভাঙছে মেরুদণ্ড
জাতপাত আর ধর্মে ভেঙে
করছে খণ্ড খণ্ড ।
দেশপ্রেম সব ভুলেই গেছে
লোভ লালসা শীর্ষে
প্রেমপ্রীতি ভালোবাসা নাই
গ্রাস করেছে ঈর্ষে ।
যাদের হাতে রইল এদেশ
তারাই এখন ধনকুবীর
কৃষক,শ্রমিক মেহনতির
লজ্জায় হয় নতশীর।
ভারত মায়ের যোগ্য ছেলে
থাকত যদি এতদিন
বিশ্ব সেরা হতোই হতো
থাকত না এদেশে ঋন।
তোমার মতো কে আর পারে
বাসতে ভালো এদেশকে
দিল্লি চলো বলে না কেউ
বাঁচায় না আর সে রেশকে
তুমি এসো গড়ো আবার
আজাদ হিন্দ এক যুদ্ধ দল
লোভ লালসা ভেঙে গুঁড়ে
করবে এদেশ সমতল।
তবেই না এই ভারত মাতা
বিশ্ব সেরা পুণ্য ঘর
বাসবে ভালো সব মানুষে
থাকবে সবার খুশ অন্তর।
নেতাজি ও প্রজাতন্ত্রের সকাল
শফিউল বারী রাসেল
এই দিনে ভারতের আকাশে
পতাকা ওঠে নিয়মের শৃঙ্খলায়,
ঢাক বাজে রাষ্ট্রের ছন্দে,
আর ইতিহাস দাঁড়িয়ে থাকে
নীরব কিন্তু জাগ্রত।
প্রজাতন্ত্র দিবস—
শুধু সংবিধানের উৎসব নয়,
এ এক প্রতিশ্রুতি,
যে ক্ষমতা রাজাসনের নয়,
ক্ষমতা জনগণের।
এই প্রতিশ্রুতির ছায়াতলে
একটি নাম বারবার ফিরে আসে—
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
যিনি আইন মানার আগে
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন,
যিনি জানতেন
স্বাধীনতা ভিক্ষায় আসে না,
স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়।
নেতাজি কোনো দিবস ছিলেন না,
তিনি ছিলেন আগুন—
যে আগুন শাসনের ভয় জানত না,
শুধু জানত, দেশ মানে আত্মসম্মান।
প্রজাতন্ত্রের সকাল
আমাদের শেখায় শাসনের ভাষা,
আর নেতাজি শেখান
প্রতিরোধের ব্যাকরণ।
এই দুইয়ের মিলনেই
একটি রাষ্ট্র সত্যিকারের রাষ্ট্র হয়।
নেতাজির স্বপ্ন ছিল
মানুষের মর্যাদার ভারত,
ধর্ম, ভাষা, পরিচয়ের ঊর্ধ্বে
একটি স্বাধীন সত্তা।
প্রজাতন্ত্র সেই স্বপ্নকে
আইনের অক্ষরে বাঁধতে চেয়েছে।
আজ যখন কুচকাওয়াজ চলে,
মিসাইল, মার্চ, পদক ঝলমল করে—
তখন নেতাজি যেন প্রশ্ন করেন,
“এই শক্তি কি মানুষের জন্য,
না মানুষের ওপর?”
এই প্রশ্নই প্রজাতন্ত্রের প্রাণ।
এই প্রশ্নই নেতাজির উত্তরাধিকার।
নেতাজি আমাদের সাহস দেন
ভুলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে,
আর প্রজাতন্ত্র শেখায়
ভুল শোধরানোর পথ।
এই দিনে তাই
নেতাজিকে স্মরণ মানে
শুধু অতীত দেখা নয়,
ভবিষ্যতের দিকে
সোজা চোখে তাকানো।
একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র
তখনই পূর্ণ হয়
যখন নেতাজির সাহস
আর প্রজাতন্ত্রের ন্যায়
একই কণ্ঠে কথা বলে।
সেই কণ্ঠেই
আজ ভারতের সকাল।
নীল বস্ত্র, হলুদ ঘোড়া প্যারাসিন্থেটিক ভ্রম ও অস্থির হিম প্রবাহিতের নীল স্বর্গদোষ
নিমাই জানা
টু থার্ড সারেন্ডার হিমায়িত প্যারাফিন মেশানো অস্ত্যর্থক ঘোড়াটির থেকেও মারাত্মক প্রো সিফিলিস দ্বাররক্ষীদের ভাঁজ করা চামড়ার বদবদে পুঁজ (ম) রক্তের স্থাপত্য(???) ও হিস্টোরিক্যাল মূর্ধন্য দন্ডের ভেতর গলনাঙ্কবিহীন ছিদ্রের সরু সাপ জিব ঢুকিয়ে বিষাক্ত মদন শাস্ত্রের থেকেও আরও নিশাচর পুরুষটিকে কফের ওষুধের সাথে দুটো ধারালো ব্লেড ফ্রি দিচ্ছে , নৃত্যরত কমলালেবুর মতো আধ্যাত্মিক সংবিধান আমি ,ফুঁ দেওয়া নিষিদ্ধ কালো রঙের ঘোড়ার পোষ্টিকতন্ত্র টাঙিয়ে রাখি নষ্ট উপগ্রহের গলায় , যারা ফাঁসির দড়ি থেকে অতি ধর্ষিত নারীদের মাংস রোদে শুকোতে দিতে থাকে তারা আমার ক্যান্সারের গেঞ্জির গন্ধ কোনদিন বিছানায় পায়নি , আমি উলঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি সোজা রাস্তায় কফ ফেরি করি লম্বা একটা স্ট্যাচু কালো রঙের থামস আপ, প্যাড, কালো গামবুট নষ্ট হিসির গন্ধ প্রেতের বমি ভোজালি চকলেটের খোসা পবিত্র ন্যাপকিনের সাদা রং মধ্যরাতের বয়ঃসন্ধি শীঘ্রপতনের ফানুস মনসিজ গ্ৰীন ল্যাবরেটরের ফিসফিস চিৎকার , মহাপ্রস্থান অ্যাম্বুলেন্সের থুতু মগধ কেন্দ্রের বিষাক্ত ট্রেনের গন্ধ পুরুষ হাসপাতালের নিষিদ্ধ কক্ষের গর্ভপাত তুলো ভর্তি ব্ল্যাকবেরি ব্ল্যাক ডট্স হুইস্কি চামচের ডগায় লেগে থাকা মুষল মাংসের স্যাম্পেল সবাই মিথ্যে কথা বলে , এক মুঠো সাদা ছাই নিয়ে মহাকাশের বিমান দুর্ঘটনায় দাঁড়িয়ে অবৈধ পেট্রোল রসায়নের ভেতর থেকে স্নায়ুবন্ধ ও গর্ভনিরোধকের তামা চুইংগাম গান পয়েন্ট থেকে বের করে রাতের শীতল নীহারিকার অম্লান জোড়া মিচকানো দাঁত অর্ধভক্ষ নক্ষত্র নিষ্ক্রিয় গলা অযুত অনিমা তৃতীয় বৈকুণ্ঠ লালা চতুর্থ ভৌম প্রহৃত সংবিধানের পিন্ডি চটকানো রাক্ষস সকলেই কটকট করে তাকিয়ে হিঁচড়ে রাক্ষসের যৌনাঙ্গ বিক্রি করতো , এখানে রহস্যময় বিভুতি দ্রোণাচার্য ছাড়া কেউ জানতো না উর্বশীর বিমোহিত বিশ্বের পলল পুরুষটিকে , বাদামী ঘোড়াদের মতো অতীন্দ্রিয় চিৎকার ঘেউ ঘেউ সভ্যতার মিশে যাওয়া বরফের উন্মাদ দৃশ্য, যাপনবিহীন ইন্দ্রিয় রক্তের সম্পর্ক যোগ সাধনার দানতীৰ্থ অহংকার অচৈতন্য জ্ঞান নির্বিশেষ সংযোগের পুরুষ অক্ষমতা বিজ্ঞাপনের কসমিক দোকানে লম্বা করে চিরে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে তড়িৎদাহত থুতু, মিথ্যে করেই মৃত মানুষের মতো সাক্ষী দেই কালো বুটের প্যারা সাইনোভিয়াল গলার যক্ষা রোগ পুড়ছে , রাত্রি পুড়ছে, মিছিল নেই দরজা খুলে হিসি করে হাসি, রজনীগন্ধার মতো বিষাক্ত ব্লেড কিনে সঙ্গমশালায় গিয়ে শরীরের সমগ্র মাংসপেশিতে পুঁতে দেই নিজের নপুংসক মাথার লাল গলনাঙ্ক ও গর্বিত ধাতব অস্ত্রের বীজ , এই জাহান্নামে কোন কোন ঈশ্বর নিজের মাংস ফেরি করে কুকুরকে খাওয়াচ্ছে অযুত সেনাবাহিনীদের অশ্লীল দীর্ঘশ্বাস নিয়ে , কতদিন একটা পুরুষ সাদা ঘোড়া অসংখ্য সংবিধানের ব্লু প্রিন্ট আর গন্তব্য বিহীন রেপিস্টদের চ্যাপ্টার ক্লোজ করছে , মৃত্যুর পর ব্রহ্ম হেঁটে হেঁটে তার টেপ জামা পাল্টে যেত আর নিজের মাংস দেখাতো অধঃপাতের মানুষকে।
লালকেল্লার পথে অদৃশ্য কদম
তারাশংকর দে
রক্তমাখা ইতিহাসের পাতায়
যে নাম আগুনের মতো জ্বলে—
নেতাজী,
তোমার ডাকে কেঁপে উঠেছিল
নীরব দেশের শিরদাঁড়া।
“আমাকে রক্ত দাও”—
এই বাক্যে ছিল না কেবল যুদ্ধ,
ছিল স্বাধীন সকালের স্বপ্ন,
ছিল মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার।
প্রজাতন্ত্র দিবস আসে
তিনরঙা পতাকার ছায়া নিয়ে—
রাজপথে শোনা যায় কুচকাওয়াজের তাল,
কিন্তু ভেতরের কানে
আজও বাজে তোমার অদৃশ্য কদম।
সংবিধানের পাতায় পাতায়
লিখে রাখা প্রতিজ্ঞা—
সমতা, স্বাধীনতা, ন্যায়;
তবু প্রশ্ন জাগে,
আমরা কি সত্যিই প্রস্তুত
এই শব্দগুলোর ওজন বইতে?
নেতাজী,
তুমি মানচিত্রে নেই,
কিন্তু প্রত্যেক প্রজাতন্ত্র সকালে
তোমার অনুপস্থিতিই
আমাদের সবচেয়ে বড় উপস্থিতি।
পতাকা উঠলে বুকের ভেতর
একটা শপথ নীরবে দাঁড়ায়—
এই দেশ কেবল দিবসের নয়,
এই দেশ প্রতিদিনের দায়িত্ব।
আমাদের নেতাজি
দীনেশ সরকার
তোমার নায়ক আমার নায়ক দেশের নায়ক যিনি
দেশবরেণ্য জননায়ক সুভাষ বসু তিনি।
আমবাঙালি তাঁর নামেতে নত করে মাথা
তাঁর বীরত্বের গল্পে ভরা ইতিহাসের পাতা।
জ্বালতে আলো স্বাধীনতার পরাধীন এই দেশে
‘দিল্লি চলো’ ডাক দিলেন যে দেশকে ভালোবেসে।
‘জয় হিন্দ্’ বলে আমজনতার রক্তে দিলেন নাড়া
শপথ নিলেন ইংরেজদের করবেন ভারত ছাড়া।
আজাদ্ হিন্দ্’ বাহিনী নিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে
কদম কদম বাড়ালেন পা স্বাধীনতার যুদ্ধে।
সৈন্য যত এই ভারতের যোগ দিলো সেই দলে
স্বাধীন দেশের প্রথম ঝান্ডা ওড়ালেন ইম্ফলে।
উড়লো ঝান্ডা আন্দামানে তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে
শৌর্য দিয়ে ভারতবাসীর হৃদয় নিলেন জিতে।
হলেন তিনি দেশের নেতা সকলের ‘নেতাজি’
জন্মতিথির পুণ্য লগ্নে প্রণাম জানাই আজি।
দেশনায়ক নেতাজি সুভাষ
:বিশ্বজিৎ ঘোষ সুভাষ
আপোসহীন দেশপ্রেম ও অদম্য সাহসিকতার মূর্ত প্রতীক সুভাষ
ভারতীয় উপমহাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের কিংবদন্তি পূর্বাভাস ।
প্রবল দূরদর্শিতায় উপলব্ধি সশস্ত্র সংগ্রাম অপরিহার্য
রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা আনার স্লোগান অনস্বীকার্য ।
দেশের স্বাধীনতায় উৎসর্গীকৃত প্রাণ জ্বলন্ত অগ্নিশিখা
আত্মত্যাগের প্রতিমূর্তি নেতাজির নাম ভারতবাসীর হৃদয়ের দীপশিখা ।
স্বাধীনতার প্রশ্নে অহিংসা-সত্যাগ্রহের সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রামের দ্বন্দ্ব
সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার স্বপক্ষে প্রাণবন্ত ।
সমাজতান্ত্রিক আদর্শে ধর্মনিরপেক্ষ উদারনৈতিক চিন্তানায়ক
নারীর ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্রের প্রসার, দারিদ্র্য ও বৈষম্য ঘোচাতে প্রকৃত দেশনায়ক ।
গীতাপাঠ ও স্বামীজির আর্দশে মোক্ষলাভে সন্ন্যাসী হওয়ার তীব্র বাসনা
বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি নয়, তেজোদীপ্ত তারুণ্যে দেশের সেবা ও মুক্তি সাধনা ।
জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি, কলকাতার মেয়র, আদর্শগত সংঘাত
বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রকাশ্য সমালোচক -- ফল পদত্যাগ ।
রাজনৈতিক বিচক্ষণতায় গড়লেন "অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লক" দেশের সাধক
ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, আজাদ হিন্দ ফৌজের সংগঠক ও সর্বাধিনায়ক ।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের এগারো বার কারারুদ্ধ ও নিজগৃহে বন্দিত্বে দেশত্যাগ
বাঙালি হিয়ায় পাঠানের বেশে বিদেশ ভূমে দেশের জন্য অনন্য আত্মত্যাগ ।
রাশিয়া,জার্মানি,জাপান ঘুরে জাপানি ও যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে সামরিক অভিযান
স্বাধীন ভারতে প্রথম ত্রিরঞ্জিত পতাকা উত্তোলন ভারত পথিক, তরুণের স্বপ্ন, তরুণের আহ্বান ।।
খণ্ডাংশ
আবদুল বাতেন
কফিতে চুমুক দিতে দিতে টেবিলে মাথা ঠেকে সেই যে
ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলো, মিঃ হ্যারি
ক্যাফেটেরিয়ার এক কোণে
কফি ব্রেক শেষ হল
ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, যে যার কাজে
অ্যালার্ম দেয়া ফোন তাঁর ডেকে উঠল।
কিন্তু সে আর তাঁর সেকশনে ফিরল না।
ক্লক আউট করে, এক সময় অফিস থেকে আমরা
বেড়িয়ে গেলাম- কেউ জিমে, কেউ বারে, পার্কে
মিঃ হ্যারি চেয়ার ছেড়ে আর উঠল না।
মাঝে মাঝে ভাবি-
ট্রেন- বাসে ফিরতে ফিরতে আমিও
যদি নীরবে নিশ্চিহ্ন হই, উড়ে যাই অবলীলায়
বাষ্পের মতো আকাশে- অসীমে, শূন্যে মহাশূন্যে।
আসে- যাবে, কিছু কি তাতে কখনো ?
একটি ধূলিকণার থাকা না- থাকায়, পথের?
এক বিন্দু জল থাকা না- থাকায়, মহাসাগরের?
মিঃ হ্যারির অবর্তমানে অন্ধকার কি আমাদের অফিস?
আটকে থাকে না, কিছুই কারো জন্য কোথাও; হায়
নক্ষত্রও মরে, আলোর ঝলকানি ছড়িয়ে মহাকাশে
অতঃপর ঠিকঠাক। যেমন ছিল, চলবে তেমন
আমারও না- থাকার অনন্তকাল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন