অঙ্কুরীশা সাহিত্য পত্রিকা ও আপনার অভিজ্ঞতা
অভিজ্ঞতা -১৭
অঙ্কুরীশা পত্রিকা একটি গৌরবোজ্জ্বল নবজাতক
দুর্গাদাস মিদ্যা।
বাংলা সাহিত্যের স্রোতধারায় লিটল ম্যাগাজিনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সাহিত্য একটি চলমান ধারা। প্রবাহিত স্রোতের মতো। উৎসমুখে যদি বারিধারার সংযোজন না থাকে তবে যত বড় নদী হোক না কেন একদিন সে স্রোতহীন হবেই। এমন অজস্র উদাহরণ আমাদের প্রতিদিনের ভৌগোলিক চেতনায় চিত্রিত হয়েছে।
তবে এটা সুখবহ যে বাংলাসাহিত্যের স্রোতধারায় নিত্য নতুন স্রোতের সংযোজন ঘটে চলেছে।বিযোজন যে নেই তা নয় তবে সংযোজনের হার বিয়োজনের তুলনায় বেশ বেশি হওয়ার ফলে দিনে দিনে সাহিত্যের ধারা বেশ পুষ্ট হয়ে উঠছে।প্রায় সমস্ত বিভাগেই এই ধারা বজায় রেখে বাংলাসাহিত্যের গতি বেগবান।
এই বেগবান স্রোতে অঙ্কুরীশা পত্রিকা একটি গৌরবোজ্জ্বল সংযোজন। তাও সে আজকের সংযোজন নয় । পাঁচ পাঁচটি বছর ইতিমধ্যে অতিক্রম করে এসেছে খুব যোগ্যতার সঙ্গে।
সম্পাদক হিসেবে বিমল মন্ডল খুব মনোযোগ দিয়ে এই কাজ করে চলছেন। বহু লেখক লেখিকার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এই পত্রিকাটি।
বছরে তিনটি করে সংখ্যা প্রকাশিত হয়ে থাকে।
আসলে বিমল মন্ডল শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকার ফলে পত্রিকার নান্দনিক দিকটায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।বিষয় নির্বাচন সেও লক্ষ্য করার মতো তাই এই অঙ্কুরীশা পত্রিকাটি নবজাতক হলেও বেশ সাড়া জাগিয়ে তার অবস্থান ঘোষণা করে চলছে। সাহিত্যের স্রোতধারায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা সংযোজিত হয়েছে যা উল্লেখের দাবি রাখে।
জীবনানন্দ শতবর্ষ সংখ্যা গুণমানে এক অনন্য অবদান রেখেছে যা বড় গলায় বলার মতো।
বর্তমান বৎসরে মাইকেল মধুসূদন এর দ্বিশতবর্ষ চলছে সেই কথাও দৃষ্টি এড়ায়নি সম্পাদকের।
মাইকেল মধুসূদন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সংখ্যা প্রকাশ করেছেন এবং ইতিমধ্যে তার বিদগ্ধ পাঠক সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই ফাঁকে একটা কথা বলা বোধহয় অসমীচীন হবে না যে লিটল ম্যাগাজিন বাংলা সাহিত্যের
ধারাকে নিরন্তর পুষ্ট করে চলছে ।কত কত লেখক লেখিকা কত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখছেন কত নিত্য নতুন বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন তার দেখলে অবাক হতে হয় ।তাই আমার ধারণায় লিটল ম্যাগাজিনের স্রোত মূল স্রোত। বাণিজ্যিক পত্রিকার লেখক গোষ্ঠী সীমিত।পরিসর কম। বিতর্ক এড়িয়ে চলে।
কিন্তু লিটল ম্যাগাজিন কারও দয়া ভিক্ষা না করে মাথা উঁচু করে কাজ করে যায় । অঙ্কুরীশাও ব্যতিক্রম নয়। আমার মতে এই নবজাতক এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সৃষ্টি করে চলবে এবং চলছে।এই পত্রিকার উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করে আমার প্রতিবেদন শেষ করছি।
সম্পাদক:--আরাত্রিক।
২৪/৬৬ নাবালিয়া পাড়া রোড
কলকাতা --৭০০০০৮।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন