প্রতিদিন বিভাগে
অণুগল্প —৬
রক্তের কাঁপন
খুকু ভূঞ্যা
সকাল হতে না হতেই রোজ বাবা ছেলেকে ফোন করে। ছেলে বাবার ফোন পেয়েই পড়াশুনাতে মনোযোগ দেয়। মা মরা ছেলে। ছেলের ভালোর জন্য কলকাতার বাইরে পড়াশোনার জন্য রেখে আসে। কিন্তু বাবা মাঝে মাঝে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ছেলেকে ফোন করতে ভুলে যায়। ছেলে মানসিক যন্ত্রণাও কষ্ট পায়।
শ্রাবণের সকালে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল।
ভেজা গাছগুলো তার দিকে করুণ তাকিয়ে।
অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছিল ফোনের। রোজ কত কথা হয় বাবা ছেলের। কোনদিন ফোনের ওপার থেকে বাবা বলে, সুপ্রভাত সোনা। ছেলে অমনি বলে ওঠে,আজ সারারাত তোমাকে খুব মিস করেছি। স্বপ্ন দেখলাম, তুমি আমার পাশে শুয়ে। প্রশ্ন করলাম, আমি কী হলে তুমি খুশি হবে বাবা? তুমি বললে, খুব ভালো মানুষ।
তারপর কোনদিন ফোনে বলে, আজ পড়তে বসার দরকার নেই। আজ সারাদিন তুমি আকাশ দেখো।মেঘ দেখো। বৃষ্টি মেখে নাও হৃদয়ের কোণায় কোণায়।
ছেলের চোখ ভর্তি জল। ফোনটা নীরব। আকাশ তেমনি কাঁদছে হু হু। সে অভিমানে পেন্সিল ইরেজার বের করে আঁকতে বসল শূন্য হৃদয়ের ছবি। বাবা এলে বলবে, আমি শুধু ভালো মানুষ হবার স্বপ্ন দেখি। এবং আমি চব্বিশ ঘণ্টা তোমায় মিস করি বাবা --

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন