প্রতিদিন বিভাগে
অণুগল্প—৭
ফুল ফোটার আগে
অশোক রায়
সকাল হতে না হতেই রোজ বাবা ছেলেকে ফোন করে। ছেলে বাবার ফোন পেয়েই পড়াশোনাতে মনোযোগ দেয়। মা -মরা ছেলে।
ছেলের ভালোর জন্য কলকাতার বাইরে পড়াশোনার জন্য রেখে দিয়ে আসে। কিন্তু বাবা মাঝে মাঝে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ছেলেকে ফোন করতে ভুলে যায়। ছেলে মানসিক যন্ত্রণা ও কষ্ট পায়।
হোয়াটস্যাপে বাবুলির মেসেজ আসে - বাবা ফোন তুলছো না কেন? এখানে আমার একা ভালো লাগে না, পড়াশোনায় মন লাগে না। তুমি এসো না বাবা আমায় নিয়ে যাও। গৌরাঙ্গ দুঃখ পায় ছেলের উদাস মায়াভরা মুখখানি ভেসে ওঠে। একবার ভাবে সব ফেলে ছুটে যায় ছেলের কাছে। কিন্তু সাইট ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি যখন তখন যাওয়া যায় না।
- শিগগির আসব বাবুলি, এই কাজটা শেষ হলেই.... বাবুলি জানে না কবে বাবার কাজ শেষ হবে। তার মন কাঁদে। একাকিত্ব দূর করতে একটা অবলম্বন চাই তার।
স্কুল থেকে ফেরার পথে মিতিন একদিন বলল কি সবসময় মনমরা হয়ে থাকিস চল তোকে এক জায়গায় নিয়ে যাব। যেতে যেতে পুকুর পাড়ের আকাশী রঙের বাড়ি থেকে গানবাজনা কানে এল। হারমোনিয়াম তবলা গিটার আরো কত কি। বাজাচ্ছে গাইছে তার বয়েসি কচি কাঁচার দল।একজন স্যর স্মিতমুখে সুরের জল বুনছেন।
বাবুলির তোলপাড় মনটা হাল্কা হয়ে গেল নিমেষে।আকাশে উড়তে উড়তে সে ডেকে ওঠে - বাবা আমি গান গাইব বাবা।।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন