লেবেল

বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৬) ।। ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 







ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৬)


ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে 

অনন্যা দাশ 



রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ যখন মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল তখন পলাশ ইউ টিউবে একটা বাংলা সিনেমা দেখছিল। রবিবার বিকেলটা একটু হাল্কাই নেয় সে। পরদিন তো আবার পাথর ভাঙ্গা শুরু। ফোনটা আসতে স্ক্রিনের দিকে তাকাল পলাশ। দীপা! দীপার ফোন! কালকে রাতে সুনেত্রাদির বাড়িতে তো এমন সতী সাবিত্রী সেজে বসেছিল যে বলবার নয়, সে আবার আজকে ফোন করছে কেন? থাক আর ওসব কথা ভেবে লাভ নেই। সিনেমাটা পজ করে ফোনটা ধরল পলাশ।

“হ্যালো? কে দীপা?”

“হ্যালো, হ্যাঁ, পলাশদা আমি দীপা বলছি!” কথাগুলো কেমন যেন কেটে কেটে যাচ্ছিল দীপার। মনে হচ্ছিল বহুদূর থেকে আসছে।

“হ্যাঁ, দীপা, বল?”

“পলাশদা আমি না খুব বিপদে পড়েছি। তুমি একবারটি কর্নারস্টোনের ওখানে আসতে পারবে? আমি একজনের সঙ্গে এসেছিলাম সিনেমা দেখতে সে দেখি আমাকে না জানিয়েই কেটে পড়েছে! এত রাতে আর একা একা উবার ডাকতেও ঠিক সাহস হচ্ছে না, আর অন্য কাকেই বা বলব। তুমি একবারটি আসবে প্লিজ? আর কাকে ডাকব ভেবে পাচ্ছি না! তোমার বাড়ি থেকে তো কাছেই। তুমি আসলে উবার নিয়ে যাওয়া যাবে। আমাকে নামিয়ে দিয়ে তুমি বাড়ি চলে যেও। আসলে সেদিনই টিভিতে দেখলাম একা একা উবারে চড়ে একটা মেয়ে খুব বিপদে পড়েছিল তাই ভয় করছে।”

“ঠিক আছে আমি আসছি! কর্নারস্টোন তো বেশি দূরে নয়, হাঁটা পথে মিনিট সাতেক। আমি এখুনি আসছি!”

“তুমি সিনেমাহলের দিকটায় না গিয়ে কর্নারস্টোন মলের পার্কিং্যে এসো। আমি ওই দিকটাতেই দাঁড়িয়ে আছি। আর পলাশদা, কালকের ঘটনাটার জন্যে আমি খুব দুঃখিত। কী যে মাথায় ভূত চেপে বসেছিল তখন!”

“ঠিক আছে, ঠিক আছে, ও নিয়ে আর ভাবতে হবে না এখন!”হনহন করে হেঁটে কর্নারস্টোন এলাকায় পৌঁছতে পলাশের বেশিক্ষণ লাগল না। পলাশ যেটা ভুলে গিয়েছিল সেটা হল রবিবার দিন এই মলটা আবার সাতটায় বন্ধ হয়ে যায়। এখন প্রায় ন’টা চল্লিশ তাই পার্কিং লট একেবারে ফাঁকা। 



মেয়েটা গেল কোথায়? ওকে ফোন করল পলাশ। নাহ তুলল না সে। হয়তো সিগনাল নেই। মলে ঢোকার গেটটার দিকে হাঁটতে শুরু করল পলাশ বিশাল পার্কিং চত্বরটা পেরিয়ে। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখোতে লাগল, যদি মেয়েটাকে দেখা যায় তবে বড্ড অন্ধকার হয়ে গেছে। এখানে গরমের দিনে প্রায় সাড়ে আটটা নটা অবধি আলো থাকে কিন্তু এখন অন্ধকার হয়ে গেছে।হঠাৎ বেশ জোড়ালো একটা আলো ওর ওপর এসে পড়ল। চোখ ধাঁধানো আলোতেও পলাশ বুখল একটা বিশাল গাড়ি ওর দিকে ছুটে আসছে! 



“আরে, আরে কী হচ্ছে!” বলে পলাশও প্রাণের ভয়ে ছুটতে শুরু করে দিল কিন্তু ওই ভয়ঙ্কর দৈত্যের সঙ্গে পেরে উঠছিল না। সারা পার্কিং লট ধরে পাগলের মত্ন ছুটে বেড়াতে লাগল পলাশ। কে হতে পারে? কে মারতে চায় ওকে? দরদর করে ঘাম ঝরছিল ওর, তারপর এক সময় আর দৌড়তে পারছিল না। দৈত্যের এক ধাক্কায় ওর শরীরটা শূন্যে লাফিয়ে উঠে ছিটকে বেশ কয়েক হাত দূরে গিয়ে পড়ল। দৈত্যাকায় গাড়িটা গোঁগোঁ করে দম নিয়ে আবার ঘুরে গিয়ে ওর দিকে ধেয়ে আসতে লাগল। পলাশ উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। হামাগুড়ি দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে দানবের পথ থেকে সরে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করল কিন্তু কিছুতেই কিছু করতে পারল না। ওকে রক্তাক্ত করে গুঁড়িয়ে দিয়ে চলে গেল গাড়িটা। অসহ্য যন্ত্রণায় মুখ দিয়ে ভয়াবহ মৃত্যু চিৎকার বেরিয়ে এল। আকাশের বাতাসের বুক চিরে সেই চিৎকার ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে। রক্তাক্ত মৃতপ্রায় পলাশের চোখের সামনে ভেসে উঠল কলকাতায় ওর মা-বাবা বাড়ির লোকেদের মুখগুলো।সব কিছু চিরতরে অন্ধকার হয়ে যাওয়ার আগে ওর মুখ দিয়ে একটা প্রশ্ন বেরিয়ে এল, “কেন?”পলাশ নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে বিশাল ধুমসো গাড়িটা আলো নিভিয়ে আস্তে আস্তে পার্কিং লট থেকে বেরিয়ে গেল। শেষ হয়ে গেল একটা অধ্যায়। 







সুনেত্রাদিদের বাড়ি থেকে ফেরার পর সেদিন রাতেই আমার প্রচন্ড জ্বর এসেছিল। তিনদিন ল্যাবে যেতে পারিনি এতটাই শরীর খারাপ ছিল। সেরে উঠে কাজে গিয়ে ভয়ঙ্কর খবরটা শুনলাম। পলাশ মারা গেছে! দুদিন আগে, মানে আমাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার পরের দিনই তার মৃত্যু হয়েছে একটা পথ দুর্ঘটনায়। হিট অ্যান্ড রান, কে মেরেছে কিছু বোঝা যায়নি। রাতে কোথায় একটা গিয়েছিল সেখান থেকে ফেরার পথে কোন একটা গাড়ি ওকে ধাক্কা মারে।



আমার বুকের ভিতরটা কেমন জানি একটা হু হু করে উঠল। যতই বিয়ে ঠিক হোক আর আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করুক লোকটাকে চিনতাম তো আমি! ওর ল্যাবের সবাই দেখলাম বেশ ধাক্কা খেয়েছে। কী সব মেমোরিয়াল সার্ভিস ইত্যাদি করা হবে ওর জন্যে বলছিল ওরা। পোস্ট মর্টেমের পর ওর দেহটাকে ভারতে পাঠানো হবে শুনলাম। নিজের অজান্তেই আমার চোখ দিয়ে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল।







 আরও পড়ুন 👇👇



https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/06/ankurishapatrikagmail.html




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন