লেবেল

বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-২)।। ছায়া-ছায়া অন্ধকারের আড়ালে - অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 






ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-২)

ছায়া-ছায়া অন্ধকারের আড়ালে

অনন্যা দাশ



যাই হোক, পলাশদা আমাকে বলল, “তুই মনে হয় একটু ডিপ্রেশানে ভুগছিস দীপা! ডাঃ মিত্রর কাছে একবার ঘুরে আসতে পারিস। আমার এক বন্ধুর স্ত্রীর মিসক্যারেজের পর সিভিয়ার ডিপ্রেশান হয়ে গিয়েছিল। একেবারে সুইসাইডাল কেস! ডাঃ মিত্রর কাছে মোটে তিনটে সেশান করেই মনের দিক থেকে একেবারে চাঙ্গা হয়ে গেল! এখন ওদের যমজ বাচ্চা হয়েছে, একটা ছেলে একটা মেয়ে! দিব্যি আছে! তোর ওপর দিয়েও তো ঝড় বয়ে যাচ্ছে। রজারকে সবাই চেনে, নেহাত গ্রান্ট লিখে অনেক টাকা জোগাড় করেছে তাই নাহলে ওকে ইউনিভার্সিটি থেকে কবেই ঘাড় ধরে বার করে দিত! তাই তুই একটু কাউন্সেলিং নিলে মনে হয় মনের দিক থেকে ভালো বোধ করবি!”   শুনে আমারও মনে হল কথাটা ঠিকই বলছে পলাশদা। মনের মধ্যে যে দুঃখ কষ্ট জমাট বেঁধে রয়েছে সেগুলোকে কারো সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারলে নিজেকে অনেকটা হাল্কা মনে হবে। কিন্তু বাড়ি ফিরে ঐশীকে কথাটা বলতেই সে ভীষণ ভাবে প্রতিবাদ করে উঠল, বলল, “সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে কেন যাবি তুই? তুই কী পাগল নাকি? তোর ওই পলাশদাকে বল নিজের ওই সব জঘন্য চিন্তা নিজের কাছেই রাখতে! এই সব ছেলে কী মনে করে নিজেদের? মেয়েরা কী ঠুনকো পুতুল নাকি যে একটু কাজের চাপে ভেঙ্গে পড়বে?” 


ঐশী আমার রুমমেট। ভীষণ নারীবাদী গোছের, যাকে বলে একেবারে পাক্কা ম্যান হেটার! এদিকে নিজে সব সময় জিন্স আর টি শার্ট পরে থাকে। শাড়ি, স্কার্ট জাতীয় মেয়েলি পোশাক ভুলেও পরবে না! কথায় কথায় ছেলেদের গালি দেয়! ও ঠিক কোথায় কাজ করে আমি জানি না। কোন একটা কোম্পানিতে কাজ করে। রোজ অফিস থেকে ফিরতে রাত হয় ওর! তবে আমি ভালোই জানি এই যদি পলাশ না হয়ে সুরমাদি ডাঃ মিত্রর কাছে যাওয়ার কথাটা বলত তাহলে ওর অতটা রাগ হত না! বা ডাঃ মিত্র যদি মেয়ে হতেন তাহলেও না! আমি অবশ্য ঐশীর ওই রকম নারীবাদী কথাগুলো এক কান দিয়ে শুনি আর অন্য কান দিয়ে বার করে দি! ও কত যে ওই রকম কথা বলে তার ঠিক নেই! আমার ভালোটা তো আমাকেই বুঝতে হবে। মা-বাবাকেও তো খুব একটা কিছু বলা যায় না, এমনিতেই প্রচুর দুশ্চিন্তা করেন আমাকে নিয়ে।   


পলাশদার কথাটায় যুক্তি আছে দেখেই ডাঃ মিত্রর সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে ফেললাম। ইন্সুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে দেখলাম। কয়েকটা সিটিং্যের জন্যে ওরা ফিস দিয়ে দেবে বলল। আমি ভাবলাম দেখাই যাক না কী হয়!  

প্রথম দর্শনেই ডাঃ মিত্রকে বেশ ভালো লেগেছিল আমার। বেঁটে খাতো চেহারা কিন্তু বেশ হাসি খুশি, সান্তা ক্লস বুড়োর মতন দেখতে। গায়ের রঙ ফর্সা টুকটুকে। সুট টাই পরে রয়েছেন, দেখে বোঝাই যায় না যে উনি বাঙালি। ওনার সঙ্গে কথা বলে বেশ ভালো লাগল। অনেক কিছু বললাম ওনাকে প্রাণ খুলে। ছোটবেলার কথা, মা, বাবার কথা, আমার আগের যে বস মারা গেলেন তাঁর কথা। শুধ ঐশী আর রজারের কথা কিছু বললাম না। আসলে আর সময়ও ছিল না। আমার টাইম শেষ হয়ে গিয়েছিল। অন্য পেশেন্ট অপেক্ষা করবে। ওই দুজনের কথা পরের বার বলব ঠিক করলাম। আমার বলা সব কথা রেকর্ড করে ফেললেন উনি। বললেন পরে ধীরে সুস্থে আবার শুনলে নাকি অনেক কিছু বোঝা যায়। ভগবানই জানেন সেটা সত্যি কিনা। আমার মনে হয় না যে উনি আবার বসে ওই সব কথা শুনবেন! সময় কোথায় ওনার দুবার করে একই কথা শোনার? তবে এটা জানি যে ওই রেকর্ডীং উনি আর কাউকে শোনাতে পারবেন না। এখানে প্রচুর নিয়ম কানুন আছে সেই ব্যাপারে, প্রাইভেসিকে অসম্ভব গুরুত্ব দেওয়া হয়! তাই আমি নিশ্চিন্ত বোধ করছিলাম। মনটাও কিছুটা হালকা লাগছিল।সব চেয়ে বড়ো কথা রাতের ঘুমের জন্যে মাইল্ড একটা ঘুমের ওষুধ দিয়েছেন।  





আরও পড়ুন 👇👇


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/05/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_63.html


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন