ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস ( পর্ব- ১৯)
নেপথ্য সংগীতের আড়ালে
অনন্যা দাশ
রাতে মা ভেঙ্কাট আঙ্কেলের সাহায্যে মসালা ধোসা, বড়া আর সাম্বর ডাল বানয়েছিলেন। জিকো কেকা দুজনেই দক্ষিণ ভারতীয় খাবার খুব পছন্দ করে, তাই ওরা খুব খুশি। অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডাটাড্ডা হয়ে তারপর ওরা যখন শুতে গেল মামা আর ভেঙ্কাট আঙ্কেল তখনও গল্প করে চলেছেন। মা অবশ্য অনেক আগেই ঘুমোতে চলে গিয়ে ছিলেন।
এমনিতে কেকার ঘুম খুব গাঢ় কিন্তু বেশ ভ্যাপসা গরম পড়েছে বলে তেষ্টায় ওর ঘুমটা ভেঙে গেল। হাত বাড়িয়ে জলের বোতলটা নিতে যাবে এমন সময় খুট করে কি একটা শব্দ শুনতে পেল। শব্দটা ঠিক কোথা থেকে আসছে ঠাহর করতে পারল না কিন্তু একটু অন্যরকম একটা শব্দ। বুকটা ছাৎ করে উঠল কেকার। এক পাশের ঘরে জিকো আর অন্য পাশের গেস্ট রুমটাতে মামা আর ভেঙ্কাট আঙ্কেল শুয়েছেন। কেকা নিঃশব্দ জিকোর ঘরে গিয়ে জিকোকে ঝাঁকাল। জিকো আঁ আঁ করে উঠছিল।
“চুপ কর” কেকা ফিসফিস করে বলল, “শুনতে পাচ্ছিস?”
জিকোর ঘুম ছুটে গেছে, সেও শুনতে পেয়েছে।
“চল মামাকে ডাকি। মনে হচ্ছে নীচের তলায় কেউ ঢুকেছে। আওয়াজটা নীচের থেকেই আসছে।“
জিকোরা ঘর থেকে বেরতেই মামাকে দেখতে পেল ওরা।
“এখানে তোরা কি করছিস?”
“তোমাকে ডাকতে আসছিলাম। বাড়িতে কেউ ঢুকেছে মামা! জিকো ফিছফিস্ করে বলল।
মামা চটকরে ওদের ঠেলে গেস্ট রুমটায় টোকালেন। ভেঙ্কাট আঙ্কেল টান টান হয়ে খাটে বসে রয়েছেন। ওনাকে ডাকতে হল না।
“তোরা বেরিয়ে এলি কেন! ঝামেলা করলি তো!”
গেস্ট রুম দিয়ে পাশের একটা ছোট ড্রেসিং রুমে যাওয়া যায়। মামা ওই ঘরটার দিকে আঙুল দেখিয়ে দিলেন ওদের।
“দরজা বন্ধ করে দিস গণ্ডগোল হতে পারে।”
জিকো আর কেকা চট করে ওই ছোট ঘরটায় ঢুকে পড়ল। দরজা অবশ্য পুরোপুরি বন্ধ করল, অল্প খোলা রেখে ফাঁক দিয়ে দেখতে লাগল।
বাইরের রাস্তার আলো এসে পড়ছে ঘরে হালকা পর্দার ফাঁক দিয়, তাই চোখ সয়ে গেলে মোটামুটি দেখা যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ছায়ামূর্তি ঘরে প্রবেশ করল।
সে ঘরের মধ্যে একটু ঢুকতে মামার কঠোর কন্ঠস্বর শুনতে পাওয়া গেল, “এসো কালনাগ! আমরা তোমার জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম। বন্দুক ফেলে দাও!” .কিন্তু কালনাগ মামার কথা শুনল না। তার বন্দুক ধরা হাতটা এক চুলও নড়ল না। দুম্ করে একটা ভয়ানক আওয়াজ হল। গুলি চলে গেছে। তার আগেই অবশ্য ভেঙ্কাট আঙ্কেল লাফিয়ে পড়ে ফ্লাইং ট্যাকেল করে ওর প্যাঁ দুটো ধরে মাটিতে ফেলেছেন তাই গুলিটা মামার গায়ে না লেগে দেওয়ালে গিয়ে লেগেছে। কালনাগ মাটিতে পড়ে যেতেই মামা আর ভেঙ্কাট আঙ্কেল ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওকে কাবু করে ফেলতে চেষ্টা করতে লাগলেন, কিছুটা হটোপুটি হল কিছু মামা আর ভেঙ্কাট আঙ্কেল শেষ পর্যন্ত ওকে বাগে আনতে সক্ষম হলেন। ওর হাত থেকে বন্দুকটা ছিনিয়ে নেওয়া হল।
মামা বললেন, “জিকো আলোটা জ্বেলে দে আর দিদির বেডরুমের দরজাটা খুলে দে!”
মা চিৎকার করছেন শুনতে গাওয়া যাচ্ছে! গুলির শব্দে নিশ্চয়ই ঘুম ভেঙ্গে গেছে।
জিকো-কেকা লুকানো জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে আলো জ্বেলে দিল। মামা এক ঝটকায় কালনাগের মুখের কালো মুখোশটা খুলে ফেললেন। ওরা আশ্চর্য হয়ে দেখল, “আরে এ তো রাজেশ্বর ঝা!”
মার বেডরুমের দরজা খুলে দিতে মা তো রেগে কাঁই! বললেন, “ঘরের মধ্যে বন্দুকের গুলির শব্দ শুনে আমার তো ভয়ে প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছিল, জিকো কেকার কিছু হয়ে গেল ভেবে। এদিকে ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ বেরোতেও পারছি
না। আমার ঘরের দরজাটা কে বন্ধ করল?”
জিকো কেকা সমস্বরে বলল, “মামা!”
পুলিশ এসে রাজেশ্বর ঝাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর মামা ভেঙ্কাট আঙ্কেলের আসল পরিচয়টা দিয়ে বললেন, “ইনি হলেন ভেঙ্কাটেশ শ্রীনিবাস রেড্ডি, ইদানীং জয়পুর থানার ওসি। মিস্টার জৈনের বদলি হয়ে গেছে! কালনাগকে ধরার জন্যে আমরা এই ফাঁদটা পেতেছিলাম।”
চলবে...
আরও পড়ুন 👇👇👇
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/04/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_7.html

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন