এ মাসের গুচ্ছ কবিতা
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়
১.
না -লেখা শব্দের ভেতর
ব্রহ্মাণ্ডের এককোণে তোমার আমার দেখা
তারপর অহংকার প্রেম স্বপ্ন মায়া
উজ্জ্বল দৃশ্যমান মানসচক্ষে ভাসছে
ক্ষীয়মান সামন্তপ্রথা থেকে সমাজতন্ত্রের ভূত
শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনামের মতোই
অগাধ জলরাশির দিকে তাকিয়ে থাকা
এমনই কাকভোরে নীল লাউঞ্জের ভেতর আকাশ যেখানে ঢুকছে জানলা দিয়ে
পোস্ট কার্ড সাইজের হাওয়া
ত্রিসীমানায় কোনও সঞ্চার নেই
মানুষের মুখ দেখে মনে হয়
এখনো কিছুটা আশ্বাস, সম্ভাবনা রয়ে গেছে
অবশ্য জানি, যা কিছু গোপন আজ
আমরা অতিক্রম করে যাবো
বিবর্তনের উপনিবেশ
আমাদের না লেখা শব্দের ভেতর ...
২.
অশ্রু
যতই উপরে উঠি সাপ হয়ে ক্ষণিকেই
কেটে দাও তুমি
ফের শুরু করি ,ফের সিড়ি দিয়ে উঠি
ফের দিনে রাতে পায়রা ও তিতিরের মতো
মূল্যহীন সাপলুডোর খেলা শুরু হয়
তখন মৃদু হাসি ডেসিবেলে বাধা
তখন একচোখে গ্রীষ্ম
অন্যচোখে শীত...
শরীর স্ফুলিঙ্গ মাত্র সূর্যাস্ত ধূসর
নদীতে জলের শব্দ দুকূল ছাপিয়ে আসে
তোমরা আজ অশ্রু বলো যাকে...
৩.
জঠর
আমার বাবা মা আমার ঘুমোবার বিছানা বালিশ
সরিয়ে রেখেছেন, আমার কোষ্ঠিতে লেখা আছে
মরা গাছে ফুল ফোটাতে আমার আবির্ভাব
বন্ধ্যা নারীর কোলে সন্তান
সাইরেনের আওয়াজে আমাদের সকাল শুরু
রাত্রি শেষে ছুটে এসে চোখে লাগে
বন্ধুদের কেচ্ছাবিলাস...
এর চেয়ে আমাদের জয়কৃষ্ণপুরের
শিবের গাজন ঢের ভালো
কোথাও যাবার কথা ভেবে
এই আলোর ঝলকানি আর সয় না
একদিন ভারতবর্ষ খুব কাছের খুব নিজের
মনে হোত ,আজ শুধু ঘৃণা আর সন্দেহের বিষ
এই আমি মুখ নিচু করলাম
আমি ফিরে যাচ্ছি মাতৃজঠরে ...
না -লেখা শব্দের ভেতর
ব্রহ্মাণ্ডের এককোণে তোমার আমার দেখা
তারপর অহংকার প্রেম স্বপ্ন মায়া
উজ্জ্বল দৃশ্যমান মানসচক্ষে ভাসছে
ক্ষীয়মান সামন্তপ্রথা থেকে সমাজতন্ত্রের ভূত
শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনামের মতোই
অগাধ জলরাশির দিকে তাকিয়ে থাকা
এমনই কাকভোরে নীল লাউঞ্জের ভেতর আকাশ যেখানে ঢুকছে জানলা দিয়ে
পোস্ট কার্ড সাইজের হাওয়া
ত্রিসীমানায় কোনও সঞ্চার নেই
মানুষের মুখ দেখে মনে হয়
এখনো কিছুটা আশ্বাস, সম্ভাবনা রয়ে গেছে
অবশ্য জানি, যা কিছু গোপন আজ
আমরা অতিক্রম করে যাবো
বিবর্তনের উপনিবেশ
আমাদের না লেখা শব্দের ভেতর ...
২.
অশ্রু
যতই উপরে উঠি সাপ হয়ে ক্ষণিকেই
কেটে দাও তুমি
ফের শুরু করি ,ফের সিড়ি দিয়ে উঠি
ফের দিনে রাতে পায়রা ও তিতিরের মতো
মূল্যহীন সাপলুডোর খেলা শুরু হয়
তখন মৃদু হাসি ডেসিবেলে বাধা
তখন একচোখে গ্রীষ্ম
অন্যচোখে শীত...
শরীর স্ফুলিঙ্গ মাত্র সূর্যাস্ত ধূসর
নদীতে জলের শব্দ দুকূল ছাপিয়ে আসে
তোমরা আজ অশ্রু বলো যাকে...
৩.
জঠর
আমার বাবা মা আমার ঘুমোবার বিছানা বালিশ
সরিয়ে রেখেছেন, আমার কোষ্ঠিতে লেখা আছে
মরা গাছে ফুল ফোটাতে আমার আবির্ভাব
বন্ধ্যা নারীর কোলে সন্তান
সাইরেনের আওয়াজে আমাদের সকাল শুরু
রাত্রি শেষে ছুটে এসে চোখে লাগে
বন্ধুদের কেচ্ছাবিলাস...
এর চেয়ে আমাদের জয়কৃষ্ণপুরের
শিবের গাজন ঢের ভালো
কোথাও যাবার কথা ভেবে
এই আলোর ঝলকানি আর সয় না
একদিন ভারতবর্ষ খুব কাছের খুব নিজের
মনে হোত ,আজ শুধু ঘৃণা আর সন্দেহের বিষ
এই আমি মুখ নিচু করলাম
আমি ফিরে যাচ্ছি মাতৃজঠরে ...
৪.
অন্য কিছু নয়
শরীরে সাড়া নেই কেন, আমার কি যোগ্যতা কিছু কম....আমিতো তোমাকে নিয়ে শুধু কি সাতাশ পা হেঁটেছি আমি যে সভা থেকে সভায় গেছি
নবরাত্রি কর্বাচভ পুরনো দরদালান
রাত জাগা আলো রূপনারায়ণ
সে আলোতে শরীর খুঁজে পাওয়া
মনে নেই, মনে নেই তোমার
মন নেই তোমার কুসুম
মহাষ্টমীর দিন একসাথে উপবাস
বিসর্জনে পাট ভাঙা শাড়ি, সিদুর খেলা
তার পর সারাটা বছর শুধু রবি থেকে সোম
আমার যা কিছু সব ই তোমার দু দশ কদম...
তারপর বহু রাস্তা পার করে আজ এই দিনগত ক্ষয়,যেন সেই অধিক সময়
কার জয়, কার ই বা পরাজয়
ভাবি,আর ভাবতে ভাবতে বেলা বেড়ে যায়...
৫.
আশ্লেষ ...কম্পন
ভাঙা পথের রাঙা ধুলোয় চলতে চলতে
শেষ পর্যন্ত সোনাঝুরির হাটে যে এসে পৌঁছে যাবো সে আর বেশী কথা কি
যেমন পাকেচক্রে ভগবান ভূত হলে ব্যর্থ অব্যর্থ
প্রাণের সঞ্চার হয়...
কাগজের প্রথম পাতায় মুদ্রিত হয়ে বলতে হয়
শান্তিনিকেতন,খেলা শুরু হতে দেরী হবে
তখনই অনায়াসে তীব্র ফলায় বিষণ্ণতার সুর
ঝরে ঝরে পড়ে আর অম্নি মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম
ছয়...সাত ...আট ....হাসি কষ্ট মান্যতা
কিছু কথা থেকে যায়
অসমাপ্ত সীমানা মাপতে
তখন তটরেখাজুড়ে শেষ সম্বল
কানে কানে বেজে চলে অন্ধকারে রবীন্দ্রনাথ
কোথায়, কোনগ্রামে যেন অকারণে অকালবৃষ্টি
ভিজে ভিজে হেজে যাওয়া ধানের চারা
আততায়ী মেঘ সিধেল চোরের মত বাতাস
শুকনো কাগজে মোড়া বারুদ
কুয়াশা..... ক্লোরোফর্ম সব একাকার হয়ে যায়
নিমেষে, পাকেচক্রে ভগবান ভূত হলে
এরকম মনে হয়, মনে হয় সব কিছু থমকে আছে
গ্রীনরুমে ,ফুটলাইট আশ্লেষ.... কম্পনে...
---------------- ---------
এই বিভাগে আপনিও আজই আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখাটি পাঠিয়েদিন।
ankurishapatrika@gmail. com
---------------- ---------

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন