অনুবাদ কবিতা
মূল ভাষা- অসমিয়া
কবি- প্রঞ্জানজ্যোতি
ভাষান্তর - বাসুদেব দাস
১.
খরা
‘হুদুমদেও,হুদুমদেও এক চলকা পানী দেও…’
জলের খোঁজে সারা রাত হুদুমখুঁটির চারপাশে
কৃষক পত্নীরা উলঙ্গ হয়ে নাচল
তবু হুদুমদেওর মন গলল না
জল নেই।জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদে
মুখ তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে আতুর মাঠ
আকাশেও জল নেই।সমস্ত জল
জমে পাথর হয়ে গেছে কৃ্ষকের চোখে
হুদুমদেও নারাজ।
তিনি আর মানুষের কথা শুনেন না
তাহলে কার কথা শুনবে হুদুমদেও
কার কথা?
ব্যাঙের কথা।
ব্যাঙের কথা শুনবে হুদুমদেও
ব্যাঙতো মানুষে্র মতো গাছগুলির শিকড় উপড়ে ফেলেনি
আবর্জনায় পুঁতে ফেলেনি জলাশয়ের বুক
অথবা কালো কালো ধোঁয়ায় পুঁতে ফেলেনি আকাশ
তাহলে হুদুমদেও কেন শুনবে না ব্যাঙের কথা।
ব্যাঙের ডাকে জেগে উঠবে হুদুমদেও
মেঘ ডাকবে।বৃষ্টিতে জেগে উঠবে তৃষ্ণাতুর মাঠ
এসো, এসো লক্ষ্মী মা, আঘোনাকা্ই,আষাঢ় যে যায়
আজকেই পাততে হবে ব্যাঙের বিয়ে
আষাঢ়ে ও যদি না ভিজে মাঠের বুক
অগ্রহায়ণে পার ভেঙ্গে জমাট বাঁধা চোখের জল নেমে আসবে।.
২.
আড়াল কথা
শৈশবে একদিন
ওপাশে যাস না বাবা
ওটা গোঁসাইয়ের জলখাওয়া ঘাট
ওপাশে পা রাখিস না
ওটা গোঁসাই প্রভুর আসা-যাওয়ার পথ
তোর নিশ্বাসের বাতাসে অস্পৃশ্য হবে গোঁসাই প্রভুর আকাশ
তোর পায়ের ধুলোয় অস্পৃশ্য হবে গোঁসাই ঘরের বাতাস
গোঁসাই অসন্তুষ্ট হবেন,পৃথিবী্তে প্রলয় নামবে
রৌ রৌ নরকে স্থান হবে তোর
তুই যে মাছ মাছ গন্ধ করা ডোমের জাত
ইস তা কীভাবে হবে দিদা
মা তো আমাকে সবসময় ডাকে
‘আমার গোঁসাই আমার গোঁসাই’বলে
সময় গড়িয়ে গেল
দেখলে চোখ ফুটবে বলে দিদা বলা পুঁথিগুলি
আমরা একদিন সাহস করে মেলে দেখলাম
আমাদের চোখ ফুটল
আমরা বুঝতে পারলাম মানুষের ভণ্ডামি
আমরা বুঝতে পারলাম শোষকের কারসাজি
উচ্চ-নিচ পৃথিবী কেবল ভণ্ড মানুষের চালাকি
আমরা থু থু দিই পাপের পৃথিবীতে
এখন জোর দিয়ে বলি
‘কুকুর শৃগাল গর্দভেরও আত্মারাম’
ডোমের রক্তেও আছে একই ভগবান
সমস্ত প্রাণিতে ঈশ্বর দেখা
ও আমার সরল দিদা
তুই ই আসল গোঁসাই
তোকে আমার শতকোটি প্রণাম।

সুন্দর অনুবাদ।
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো। কবি পরিচিতি জানালে ভালো হতো।
উত্তরমুছুন