১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রেম দিবসে অঙ্কুরীশা-য় ভালোবাসার কবিতায় তিরিশ জন কবির কবিতা সংকলন।।
প্রাপ্তি
বিকাশ গায়েন
প্রথম দিনের দৃষ্টি বিনিময়
মনকেমনের জরির নকশা তোলা আঁচল পাড় ময়ূরকন্ঠী শাড়ি
দুচারদিনের সঙ্গসাধন বাদ দিলে সেই তুলেই রাখা।
মাঝেমধ্যে রোদ খাওয়ানো।সেদিন আকাশ
অপূর্ব ঝলমলে,ন্যাপথালিনের মেদুর গন্ধ
অল্প ছোঁয়া,একটু ঘেঁষে বসা
লোকচক্ষুর দাগ না লাগে এবম্বিধ সতর্কতায়
হাত পোড়ানো নম্র উপহার।
ভাবলে আজো টের পাওয়া যায় গরম,সেই
পায়ের নিচে কম্পমান ভূমি,
মু
৩.
ভালোবাসার দিনে
প্রেম
রবীন বসু
আবাদি জমির আলে বসে আছে প্রেম
চুপচাপ
অন্তরঙ্গ
কিছুটা উদাসী
গৃহ আছে, গৃহ নেই উন্মূল সময়
ছত্রখান
উদ্বাস্তু
উপবাসী
বিচ্ছেদকে ঘিরে ধরে অনাগ্রহ হাত
ও পরী, তোকে যে ছোঁবে আজ জ্যোৎস্নার রাত!
৬.
চুম্বন
চুম্বন একটি চমৎকার উদ্ভিদ
একটা শতাব্দী সে একাই দাঁড়ি
সে জানে আয়ু একটি শব্দহীন
শাখা ও প্রশাখার মাঝে যে আ
মাঝে মধ্যে ঠোঁটের কাছে এসে
ফুল একপ্রকার শেকড়ের দৃষ্টি
উদ্ভিদের ভেতর দিয়ে যাতায়াত
মানুষ বারংবার ভুলে যায় হৃ
৭.
ভালোবাসার দিনে
মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি
আজকে মনে দিচ্ছে উঁকি
ভালোবাসার কথা
তোমার জন্য বুকের মাঝে
শুধুই অকুলতা।
পাখির গানেও শুনছি বুঝি
শুধুই তোমার গান
শিশির ভেজা গোলাপ বনে
করছো বুঝি স্নান।
সোনা রোদের আলোয় দেখি
তোমার মুখের হাসি
ভালোবাসার স্রোতে যেন
যাচ্ছে ভুবন ভাসি।
গাছের সবুজ পাতা জুড়ে
তোমার ছবি আঁকা
তোমার জন্য প্রজাপতি
মেলছে বুঝি পাখা।
ভালোবাসার এই দিনেতে
লাগছে সবই ভালো
এখন তুমি এসে কাছে
খুশির প্রদীপ জ্বালো।
৮.
অবৈধ
তুলসীদাস মাইতি
নিখুঁত ইচ্ছে দিয়ে সাজানো তার ডাক ছুঁয়েছি স্বভাবে।
সাড়াও দিয়েছি। সহজ এই উল্লাসে আগুন কেমন
পোড়াতে থাকে আঁচ পাওয়ার আগেই টানাপোড়েন নয়, এক নির্নিকার পলায়ন। বিচ্ছেদের ছায়ায় কাছে চলে আসার ক্লান্ত নিবিড় টান তবু রেখে যায় অজস্র ছাই।
বেগহীন প্রেম আর ঘৃণাহীনতার বয়ে চলা সংলেপ।
৯.
প্রেমের পান্ডুলিপি
১৩.
শ্রাবণী বসু
কর্কশ নুড়ি জড়ো করে পাহাড় করেছি
প্রতিটা পাথরে লিখছি
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।
কী আশ্চর্য ! পাথরের ভিতর
শুরু হয়ে গেল ছোটাছুটি
শুরু হয়ে গেল লাফালাফি।
তার চেয়েও বড় বিস্ময়
পাথরের পাঁজর ফাটিয়ে
নেমে এলো ঝরনা।
আমার দীর্ঘতম স্নানে
জড়িয়ে ধরে বললো,
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।
মেঘবতী শীতের দুপুরে
চোখে চোখ অসম্ভব বন্ধু
স্বাভাবিক ভাবেই হাঁটি হাঁটি পা পা করে
পথ এগিয়ে যাওয়া অবলীলায়
অজস্র প্রস্তাব ছুটে আসছে পথে প্রান্তরে
একগুচ্ছ লাল টকটকে গোলাপ
নীলখাম বন্ধ করা নাম গোত্রহীন চিঠি
মুচকি হেসে প্রকৃতির বুক চিরে পথ চলা
হঠাৎ এবার ফেরাও মোরে
তাকাও পিছন ফিরে তাকাও
দেখো প্রেমিকা র খাতা বাড়ছে।
প্রেম -২
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
দরজাটিতে সাবধান লেখা প্ররোচনা
তার মানে খুলতেই হবে আলিবাবা
এখনো উদ্যত মান্ধাতার দীর্ঘ হাত
অভিমন্যু শিখেছে ঘুমে চক্রব্যূহ ভেদ।
জানালায় উৎসুক স্বর্গ ফুটে থাকে।
রাধা জানে পথটি বন্ধুর সেপাশে বঁধুয়া
পরাশর-জিনকে কুয়াশা চেনাবে ?
বিষের দড়ির উপর পারিজাত ফোটে
বাধা ও জয়ের মানে শীত ও বসন্ত
গোলাপে আগুন যদি ভাঁটফুল আছে।
গিলোটিন তোমাকে ভ্যাঙাই!
২৩.
মধুরিমা: ৬
গৌতম বাড়ই
মধুরিমা, নির্বাপিত ছায়ায় খুঁজি
আমাদের প্রেম এই প্রাক- বসন্ত উদযাপনে।
খুব মোলায়েম পুরুষ কিংবা শক্ত- পোক্ত
যাদের অভিধানে নেই প্রেম আখর--
দেখি প্রেম বোঝে তারা আরও বেশি নিশ্চূপে
কখনও এই ইন্দুবনে
একটি মাত্র কাক প্রেম ডেকে আনে
একটি মাত্র কোকিলে প্রেম ছোঁয় মনে
মধুরিমা আমরা অনন্তের পথে
অর্বাচীন উদাসীন যুগলে
যে প্রেম এসেছিল তা কি যেতে পারে চলে?
২৪.
উৎসব
বিশ্বজিৎ রায়
এ'জীবন রঙ-উৎসব করে দিয়েছিলে তুমি
মুঠি খুলে যেদিন প্রথম দেখিয়েছিলে
স্বপ্নআঁকা রক্তকরবী --
সেদিন থেকে এ'জীবন যেন এক
আলোয় ফেরা মুগ্ধ পৃথিবী...
বোবা দিনগুলি যখন জড়িয়েছিল চারপাশ,
বুকের ভেতর বাজছিল অস্থির শ্বাসপ্রশ্বাস --
ঠিক সেসময়, একদিন তুমি
মেঘশরীরে বাজিয়েছিলে অর্গান,
সেদিন থেকে আমার মনে রঙের ঝুমঝুমি...
২৫.
ভালোবাস
ত্রিপর্ণা ঘোষ
ভালোবাসার সাগরে প্রেমের হাত ধরে হারাতে গিয়ে,
নিজেকেই হারিয়েছিলাম ঠিক একটা সময় পর।
অনেকটা ঠিক কুলকিনারাহীন হয়েই;
ভালোবাসার সীমানাটা আসলে গড়তে জানতে হয়।
যেদিন এই বেড়াজালের বাইরে পৃথিবীকে দেখলাম,
নিজেকে অনেকটাই অচেনা লেগেছিল।
পরিচিত আমিটাকে নতুনভাবে পেয়েছিলাম ফিরে:
তাই ফিরে যাওয়া হয়নি আর কখনওই।
নতুন জীবনে বাঁচতে শিখিয়েছে এ ভালোবাসা।
কিন্তু পিথাগোরাসের উপপাদ্যের মতোই
জটিল ছিল যে ভালোবাসার সংজ্ঞা,
উত্তর আজ তার স্পষ্ট জলছবির মতোই।
২৬.
অজয় দেবনাথ
আমার সংযতবন্ধন, অকালস্রোতে ভেসে
ভেসে ভেসেই তোমার অভিসার…
অথচ বহুরূপী চোখের রঙে
লাল-নীল-সবুজের দ্বিচারিতা!
অবরুদ্ধ প্রেম।
অমর স্বপ্ন ছলনা শেখেনি কোনও
যদি প্রেম সত্যি অকপট
নির্জন দর্পণে…
এমনকি বক্ষবন্ধনী খুলেও
আমাকেই খুঁজে পাবে না কি…?
২৯.
ভালোবাসা
দীপা কর্মকার
ভালোবাসা আসে না যে
দিনক্ষণ বার সময় দেখে
সে যে আসে চুপে চুপে
ভালোবাসার পরশ মেখে।
দুটি মন এক হয়ে যায়
বোনে খুশির স্বপ্নজাল
আঁখির নীলে রঙিন হয়
হৃদয় আকাশ লালিম লাল।
স্বপ্ন ডানায় ভর করে মন
ভাসতে থাকে কল্পলোকে
দিনের আলোয় নেমে আসে
চন্দ্রিমা তার মানস চোখে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন