শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রেম দিবসে অঙ্কুরীশা-য় ভালোবাসার কবিতায় তিরিশ জন কবির কবিতা সংকলন।। Ankurisha। E.Magazine। Bengali Poem in literature।

 


১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রেম দিবসে অঙ্কুরীশা-য়  ভালোবাসার কবিতায়  তিরিশ জন কবির  কবিতা সংকলন।।     


সম্পাদকীয়
আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সব বয়সের মানুষের  ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন আজ।  আজ এই দিনে তরুণ - তরুণী, বাবা- মা - সন্তান, প্রেমিক- প্রেমিকা, ভাই- বোনের প্রতি যেমন ভালোবাসার দিন, তেমনি মানুষ- মানুষের প্রতি ভালোবাসার দিন এটি। প্রতিদিন, সারাবছর ধরে সারাদিন ভালোবাসার দিন। তবুও আজকের  এই দিনটিকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে বেছে নিয়েছেন মানুষ। তাই আজ সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশে গ্রাম থেকে শহরে ভালোবাসার উৎসব হিসেবে পালিত হচ্ছে। মুঠোফোনে ম্যাসেজ, ইমেল, প্রভৃতির মতো  অঙ্কুরীশা-র ই-ম্যাগাজিনেও পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয় হয়ে উঠেছে পল্লবিত। আর তিরিশ জন কবির  এই সংকলনে যাঁরা কবিতায় প্রেমকথা এঁকেছেন তাঁদেরকে অঙ্কুরীশা-র পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।                        














কলমে —
১.অজিত বাইরী
২.বিকাশ গায়েন
৩.গৌতম হাজরা
৪.মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনিয়া
৫.রবীন বসু
৬.রবীন বণিক
৭.মঙ্গল প্রসাদ মাইতি
৮.তুলসীদাস মাইতি
৯.শুভঙ্কর দাস
১০.অমিত কাশ্যপ
১১.ফটিক চৌধুরী
১২.ভক্ত গোপাল ভট্টাচার্য
১৩.দীপক বেরা
১৪. তপন জ্যোতি মাজি 
১৫.দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়
১৬.শ্রাবণী বসু
১৭.বিমল মণ্ডল
১৮.শুভ্রাশ্রী মাইতি
১৯.নির্মল বর্মন   
২০.  অশোক রায়    
২১.   জয়দেব মাইতি   
২২.জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় 
২৩.গৌতম বাড়ই  
২৪.বিশ্বজিৎ রায়
২৫. ত্রিপর্ণা ঘোষ
২৬. সুধাংশুরঞ্জন সাহা   
২৭.অশোককুমার লাটুয়া 
২৮. অজয় দেবনাথ 
২৯.দীপা কর্মকার
৩০.রতন মণ্ডল 



১.

কথা ছিল ডাক পাঠাবে 
অজিত বাইরী 


কথা ছিল ডাক পাঠাবে,
ডাক পাঠাবার সময় হলো কই?
মাথার উপর ভিড় করে দু'একখণ্ড মেঘ;
সোঁদামাটির গন্ধ আনে কয়েক পশলা বৃষ্টি;
মন তবু ভেজে কই?

কথা ছিল ডাক পাঠাবে,
কথা ছিল ডাক পাঠাবে,
অপেক্ষার দিনগুলি ভারি হয় ক্রমেই।

দুই হাত পেতে বৃষ্টি নেব,
দুই ওষ্ঠ পেতে বৃষ্টি নেব,
বৃষ্টি নেব চোখের পাতায়।

তোমার ডাক পৌঁছুবে কবে?

দিগন্তপারে ঘনায় সন্ধ্যে;
আমার ঘরে বাতি জ্বালায় কে !

২.

প্রাপ্তি

বিকাশ গায়েন


প্রথম দিনের দৃষ্টি বিনিময়
মনকেমনের জরির নকশা তোলা আঁচল পাড় ময়ূরকন্ঠী শাড়ি

দুচারদিনের সঙ্গসাধন বাদ দিলে সেই তুলেই রাখা।

মাঝেমধ্যে  রোদ খাওয়ানোসেদিন আকাশ
অপূর্ব ঝলমলে,ন্যাপথালিনের মেদুর গন্ধ 

অল্প ছোঁয়া,একটু ঘেঁষে বসা
লোকচক্ষুর দাগ না লাগে এবম্বিধ সতর্কতায়
হাত পোড়ানো নম্র উপহার

ভাবলে আজো টের পাওয়া যায় গরম,সেই

পায়ের নিচে কম্পমান ভূমি, 

                           মুঠোয়  উথালপাথাল ক্লাস নাইন




৩.
ভালোবাসার দিনে

গৌতম হাজরা

না দেখার ইচ্ছেয় যেদিন চশমা খুলে রাখি
সেদিন নীল সমুদ্র দেখি
দেখি নীরদ মজুমদারের ছবি। 

তারপর দেখার ইচ্ছেয় কয়েকটি বছর। 
এরমধ্যে তোমার আসা যাওয়া। 

সেদিন বললে, এসো আজ দুজনে ভালোবাসার কবিতা পড়ি। 
তখন, আমার চশমার মধ্যে উঠে এলো তোমার নীল সমুদ্রের মতো চোখ
ঠোঁটের প্রান্ত থেকে সব গোপনতা। 

দেখি, সমস্ত ঐশ্বর্য ক্রমশ জাপটে ধরছে হৃদয়ের গোপন ক্যানভাসে! 



৪.
 আদরের পরে 
মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনিয়া


ভাসমান হয়ে যাবো কুঁড়িদের পথ খুলে গেলে
নিঃশ্বাস নামে সেই নদীর জলকণা সৌরভে
উড়ে যাবো বাতাসের গায়
মাইল মাইল পথ দাঁড় বেয়ে এসে
কি ভেবে থেমে,আরও থেমে,অবশেষে
শীতকাল লেগে গেল নৌকোয়।
তখনও বরফ ছিল,
ব‍্যক্তিগত,খুবই বিপজ্জনক আইসবার্গ
হঠাৎই সামনে এলে নিভে যায় পারাপার
কি করবো বলো বরফে ধাক্কা লাগানো ছাড়া
উত্তাপে ঘেমে নেয়ে গলে যাওয়া ছাড়া
জনপদ ভেসে গেলে সেইতো জলকষ্ট নিয়ে বসে থাকো
কম্পাসে খোঁজো ঢেউ,দিকনির্ণয়
জানতে পারো না দূর জলাশয়ে
ঠোঁটে কোন কুঁড়ি এসে গেছে
চেরি লাল লিপস্টিকে পাপড়ির ডানা এতো ছটফট করে
দুচোখের টানাপথ ঝরে আজও ঝরে
তোমার আদরের পরে...

৫.

প্রেম

রবীন বসু


আবাদি জমির আলে বসে আছে প্রেম

চুপচাপ

অন্তরঙ্গ

কিছুটা উদাসী

গৃহ আছে, গৃহ নেই উন্মূল সময়

ছত্রখান

উদ্বাস্তু

উপবাসী

বিচ্ছেদকে ঘিরে ধরে অনাগ্রহ হাত

ও পরী, তোকে যে ছোঁবে আজ জ্যোৎস্নার রাত!



৬.

চুম্বন

রবিন বণিক 

চুম্বন  একটি  চমৎকার  উদ্ভিদ

একটা  শতাব্দী  সে  একাই  দাঁড়িয়ে  থাকতে  পারে

সে  জানে  আয়ু  একটি  শব্দহীন  আন্দোলন

শাখা    প্রশাখার  মাঝে  যে  শ্চর্য  সংসার

মাঝে  মধ্যে  ঠোঁটের  কাছে  এসে  জানিয়ে  দেয় 

ফুল  একপ্রকার  শেকড়ের  দৃষ্টিশক্তি

 

উদ্ভিদের  ভেতর  দিয়ে  যাতায়াত  করতে  করতে

মানুষ  বারংবার  ভুলে  যায়  হৃৎপিণ্ড  একটি  দৈহিক  সংবিধান 


৭.

ভালোবাসার দিনে

মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি 


আজকে মনে দিচ্ছে উঁকি 

ভালোবাসার কথা 

তোমার জন্য বুকের মাঝে 

শুধুই অকুলতা।


পাখির গানেও শুনছি বুঝি 

শুধুই তোমার গান

শিশির ভেজা গোলাপ বনে 

করছো বুঝি স্নান। 


সোনা রোদের আলোয় দেখি 

তোমার মুখের হাসি 

ভালোবাসার স্রোতে যেন 

যাচ্ছে ভুবন ভাসি।


গাছের সবুজ পাতা জুড়ে

তোমার ছবি আঁকা 

তোমার জন্য প্রজাপতি 

মেলছে বুঝি পাখা। 


ভালোবাসার এই দিনেতে

লাগছে সবই ভালো

এখন তুমি এসে কাছে 

খুশির প্রদীপ জ্বালো। 


৮.

অবৈধ তুলসীদাস মাইতি নিখুঁত ইচ্ছে দিয়ে সাজানো তার ডাক ছুঁয়েছি স্বভাবে। সাড়াও দিয়েছি। সহজ এই উল্লাসে আগুন কেমন পোড়াতে থাকে আঁচ পাওয়ার আগেই টানাপোড়েন নয়, এক নির্নিকার পলায়ন। বিচ্ছেদের ছায়ায় কাছে চলে আসার ক্লান্ত নিবিড় টান তবু রেখে যায় অজস্র ছাই। বেগহীন প্রেম আর ঘৃণাহীনতার বয়ে চলা সংলেপ।


৯.

প্রেমের পান্ডুলিপি 

শুভঙ্কর দাস

এই পর্যন্ত এসে থামলেন দুর্বাসা। 
পর্ণকুটিরে গোপন করলেন অভিজ্ঞান। 
দুষ্মন্ত প্রথম প্রেমের সকল অনুভূতি পাতায় লিখে পাঠিয়েছে কালিদাসের কাছে...
কবি ও সন্ন্যাসী এক।

নীরবে হেসে বুক থেকে বের করলেন
ভালোবাসার অতৃপ্তি, অস্পর্শ এবং অফুরন্ত কামনা 

নারী তো করা যায় না নির্মাণ! 
নারী তো কাব্যের সূচিপাতা নয়!
নারী তো সুলভ সংযোগ নয়! 

সে তো চিরন্তনী সুধা
পেতে হলে ধ্যানের উর্দ্ধে ধী,প্রীতির উর্দ্ধে প্রেম
এবং সাহসের উর্দ্ধে সমর্পণ লাগে

শুধুমাত্র সহজ অনুরাগে....

তাই শকুন্তলা, তার বিরহ, অশ্রুজল 

হৃদয় তুই যদি প্রত্যাখ্যান করিস,কোথায় গিয়ে

একা দাঁড়াই বল?


১০.
দেবী
অমিত কাশ‍্যপ

আমি হাত রাখতেই নরম বিকেল
তোমার হাতের ওপর বসল
বসেই রইল, আমি ম্রীয়মান দৃশ্যপট দেখি
ঘাটের পাশ দিয়ে অস্তগমন ভেসে যায় 
আশ্চর্য এক নীরবতা যেন ছুঁয়ে 

তুমি না করতে পার না, নম্র বিকেল তোমার হাতে 
চেপে থাকা স্মৃতির অতল থেকে চোদ্দ ফেব্রুয়ারি 
নাড়া দিল, পেয়ে যায় মোহিত জ‍্যোৎস্নাঘাত

হই হই আনন্দ ঝরে যাচ্ছে দেখ
তোমার মুখ এখন অন্ধকারে ঢাকা 
আমি অন্ধকার থেকে অনুভব করি
স্নিগ্ধ এক দেবীগন্ধ উঠে আসছে, চরণে প্রেম

১১.
প্রেমের বিজ্ঞাপন
ফটিক চৌধুরী

চৌকাঠ পেরোলেই খোলা হাওয়া
ফুসফুসে বাড়তি অক্সিজেন
মনে ফুরফুরে আনন্দ
গাছে গাছে সবুজ হিল্লোল
হৃদয়ে কীসের আন্দোলন !

বাইরে সপ্রাণ সজীবতা
কোকিলের ডাকে শিহরণ
ফুলে ফুলে ভ্রমরের গুঞ্জন
আকাশ ভরা সূর্য তারা
চৌকাঠ পেরোলেই অজানা আলিঙ্গন
এসবই তো প্রেমের বিজ্ঞাপন।


১২.
বাঁচার  অধিকার 
ভক্ত  গোপাল  ভট্টাচার্য 

 তোমার  বাঁকা ঝাঁকড়া   চুলে
আমার  সব  ইচ্ছা  তার লজ্জা  হারালো,
নাম  না  শুনে ফেসবুকে  ছবি   দেখে 
   প্রেমে  পড়েছিলাম 
তুমি   কি  জানো  আমার  মনের  কথা ।
 প্রতিজ্ঞা    করলাম  সেই  দিন 
আমার   প্রতিজ্ঞার   সঙ্গে  তোমার   প্রতিক্ষার  হবে  কি  মিলন
 তারা   সরিয়ে  দিয়ে  চাঁদ  উঠলো
       ধরা    দিলে   তুমি  ।
   হাতে   সময়   খুব   অল্প
তার   চেয়ে   অল্প   সুযোগ 
  সময়ের   নদী   বয়ে   যায় 
ছিনিয়ে  নিয়ে  তোমাকে,  ভেসে   যাই  দ্রুত 
তোমার   মুখের  রং  হয়েছে  বৃষ্টির  পরে 
   বৃষ্টি   ভেজা  গাছের  পাতার   মতো 
মেঘের   গম্ভীর  নীলিমা  নেমেছে   চোখে 
আমি  নীল  হয়ে   গেছি  তোমার  মধ্যে ।
পেতে    দিয়েছি    আমার  সব  অস্তিত্ব 
সে   দিন  আমার  সর্বস্ব  দিয়ে   সুন্দর   করেছি,
আঁচল   দিয়ে   ঘিরে   রেখেছো  আমায় 
 সেদিন  সার্থক ,  বাঁচার   অধিকার ।


১৩.

ভালোবাসি বলে 
দীপক বেরা

ভালােবাসি বলে,
খরস্রোতে পাড় ভাঙে
দিগভ্রান্ত, গতিপথ ভুলে 
ছুটে ছুটে চলেছি প্রতিদিন।
ভালােবাসি বলে,
রক্ত-ঝরা পায়ে হেঁটেছি পথ অন্তহীন।
ভালােবাসি বলে,
হৃদয়ে এঁকেছি রক্ত-গােলাপ
মেখেছি রঙ পাঁপড়ির ভিতর রঙিন।
ভালােবাসি বলে,
তােমাকে জড়িয়ে বাঁচি মনের গহীনে
অনুক্ষণ নিশিদিন!

অথচ,
ভালােবাসি,
বলোনি কোনওদিন।
ছিঁড়েছাে শুধু পাঁপড়িগুলি
অবহেলায়, একটু একটু করে প্রতিদিন!
ভালােবাসি বলে,
অন্তর্দহনে পুড়ে চলেছি, আর 
গুনে চলেছি মৃত্যুদিন, পলে পলে প্রতিদিন!

১৪.
ভালোবাসার অক্ষর
 তপনজ্যোতি মাজি

পুরুষ  নারীকে বলেছে ভালোবাসি।
নারী  পুরুষকে বলেছে ভালোবাসি।

ভালোবাসার কথা শেষ হয়নি আজও।
ভালোবাসার কথা শেষ হয়না কখনও।
ভালোবাসার কোনও কারণ হয়না।
ভালোবাসার কোনও উত্তর হয়নি কোনোদিন।
পুরুষ নারীকে বেষ্টন করে জানতে চায়,
ভালোবাসার কি রঙ?
লাল ? নীল? নাকি গোলাপ বর্ণ?
নারী পুরুষকে প্রশ্রয়  দিয়ে মৃদুস্বর বলে
ভালোবাসা বহুবর্ণ আকাশ দ্রাঘিমা।

ভালোবাসার কি সংজ্ঞা? পুরুষ জানতে 
চায় নারীর কাছে।
নারী মিতবাক।
দৃষ্টির ইঙ্গিতে  দৈববানীর মতো উচ্চারিত হয়,
ভালোবাসার সংজ্ঞা ভালোবাসা।
কোনও পরিধি নেই,
কোনও প্রাচীর নেই। 
কেবল হৃদয়ের গভীর কম্পন,
প্রতিরোধহীন সমর্পন।


১৫.
 ভালোবাসা,তোমাকে
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়


ছাদের কার্নিশে আটকে থাকা মেঘ
একদিন বেড়িয়ে পড়ল
উড়তে উড়তে গিয়ে বসল এক গাছের গায়ে
আবেগের কথায় ভাসতে থাকল দুজন
চলতে থাকল কথাকলি বারে বারে
ওরা বুঝল, বসন্ত জাগ্রত দ্বারে
আবেশে থরো থরো কাঁপন হৃদয়ে

ছেলেটার বুকে মাথা রেখে মেয়েটা বলেছিল
ভালোবাসি,ভালোবাসি
আলিপ্ত ঠোঁটে ভালোবাসার আলপণা
বুকের উপত্যকায় জোনাকির সাজ
লাল টুকটুকে প্রেম যেন লাজে রাঙা

তারপর এক সন্ধ্যায় মেঘ অঝোর ধারায়
ঝরে পড়ল সম্পর্ক হীনতায়
পড়ে রইল গাছ নিঝুম নির্জনতায়
ভালোবাসা হলো না
মেয়েটি উন্মুক্ত শরীরে বাসর সাজাল 
অন্য পুরুষে অন্য মৈথুনে
নিরাপদ জীবন যাপনে
একা ছেলেটি গাছটার মতো
ভালোবাসার নাম দিল 
বিষাক্ত ছোবল !



১৬.
পাষাণ গলে জল
শ্রাবণী বসু


কর্কশ নুড়ি জড়ো করে পাহাড় করেছি
প্রতিটা পাথরে লিখছি
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।

কী আশ্চর্য ! পাথরের ভিতর
শুরু হয়ে গেল ছোটাছুটি
শুরু হয়ে গেল লাফালাফি।

তার চেয়েও বড় বিস্ময়
পাথরের পাঁজর ফাটিয়ে
নেমে এলো ঝরনা।

আমার দীর্ঘতম স্নানে
জড়িয়ে ধরে বললো,
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি। 

১৭.
ভালোবাসার গায়ে
বিমল মণ্ডল

কবে যেন ভালোবাসার গায়ে
আলুথালু আঁধার বিস্ময়ে 
আমি সুদূরমগ্ন পথচারী

ঘনকালো অন্ধকারে মোম জ্বেলে 
কবেই হেঁটেছি এই পথে
কবেই নেচেছি চাঁদ দেখে
তারপর কেটেছে দীর্ঘ সময় 
অনন্ত পথ পেরিয়ে  পেয়েছি
 তোমার ছায়াযান

দীর্ঘক্ষণ প্রেয়সীর কোলাজ  
স্থির স্মৃতিতে ভালোবাসার গায়।  

১৮.
 তুমি যদি জানতে...
 শুভ্রাশ্রী মাইতি

প্রতিটি দুপুর দরজায় আঁকা থাকে অপেক্ষার বিষণ্ন পদাবলী
নিমগ্ন অভিসার সাজে তুমি চৌকাঠে এসে দাঁড়াবে বলে...

বৃক্ষ তা জানে, তাই সুশীতল ছায়া এঁকে রাখে পাতার মায়ায়
নদী তা জানে, তাই সুরধুনী বাজিয়ে চলে স্রোতের নাব্যতায়
লতা তা জানে, তাই চুম্বনচিহ্ন ফেলে রাখে সহকার তরুর কায়ায়

শুধু তুমি তা জান না বলে
ভোরের নরম শিশির শালুকপাতায় মাথুর কাব্য লেখে রাতদিন।
অথচ তুমি মোহনবাঁশি হয়ে উঠলেই, 
স্পর্শ উত্তাপের সঘন সজল প্রতীক্ষায়
হৃদয় রাধানূপুর হয়ে বেজে উঠত কত সহজেই
সেই কোন বৃন্দাবনী যুগের আশ্চর্য সমর্পণীয় ছন্দে...

তুমি যদি একবার তা জানতে ! 


১৯.
 লাল গোলাপ
নির্মল বর্মন

মেঘবতী শীতের দুপুরে
চোখে চোখ অসম্ভব বন্ধু
স্বাভাবিক ভাবেই হাঁটি হাঁটি পা পা করে
পথ এগিয়ে যাওয়া অবলীলায়
অজস্র প্রস্তাব ছুটে আসছে পথে প্রান্তরে
একগুচ্ছ লাল টকটকে গোলাপ
নীলখাম বন্ধ করা নাম গোত্রহীন চিঠি
মুচকি হেসে প্রকৃতির বুক চিরে পথ চলা
হঠাৎ এবার ফেরাও মোরে
তাকাও পিছন ফিরে তাকাও
দেখো প্রেমিকা র খাতা বাড়ছে।

২০.
সিগনাল পেরিয়ে
অশোক রায়

ফাটা জিন্স, আর ভি-কাট টপ
ব-দ্বীপের ভেজা উষ্ণতা বেয়ে
মধু  ক্ষেতে মৌমাছির ঢল
তোমার চোখের নীল ফুল
ঢেউয়ের মাথার মণি
অনন্ত ভালবাসা ধুসর বালুচর
বড় বড় ফোটায় বৃষ্টির ঝড়
ছাপা অক্ষরে শরীরের লেখা পড়ি

আর নতুন গল্প বলার ফাঁদে মেলি পেখম
রামধনু জোনাকির প্রেম 
আলো আর আলেয়ার নিরন্তর আলাপন।।


২১.

     ওম
জয়দেব মাইতি 

দিন ফুরলে, আমার মাটি আজও নির্বাক। 
বাসি গন্ধে পুড়ে যায় দিন
অবুঝের সংসার- ভালোবাসা চায়, ছেলেবেলার

আর কতদূর সে সময়? 

স্বপ্নে, তোমার হাতের গোলাপ ছুঁই। ওম মাখি ভালোবাসার দিনে-

ভারী নিশ্বাসে ঘুম ভাঙে - আগের মতো

  ২২.                         

প্রেম -২    

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

দরজাটিতে সাবধান লেখা প্ররোচনা
তার মানে খুলতেই হবে আলিবাবা
এখনো উদ্যত মান্ধাতার দীর্ঘ হাত
অভিমন্যু শিখেছে ঘুমে চক্রব্যূহ ভেদ।

জানালায় উৎসুক স্বর্গ ফুটে থাকে।

রাধা জানে পথটি বন্ধুর সেপাশে বঁধুয়া
পরাশর-জিনকে কুয়াশা চেনাবে ?
বিষের দড়ির উপর পারিজাত ফোটে
বাধা ও জয়ের মানে শীত ও বসন্ত
গোলাপে আগুন যদি ভাঁটফুল আছে।

গিলোটিন তোমাকে ভ্যাঙাই!


২৩.

মধুরিমা: ৬

গৌতম বাড়ই

মধুরিমা, নির্বাপিত ছায়ায় খুঁজি

 আমাদের প্রেম এই প্রাক- বসন্ত উদযাপনে।

খুব মোলায়েম পুরুষ কিংবা শক্ত- পোক্ত

যাদের অভিধানে নেই প্রেম আখর--

দেখি প্রেম বোঝে তারা আরও বেশি নিশ্চূপে

কখনও এই ইন্দুবনে

একটি মাত্র কাক প্রেম ডেকে আনে

একটি মাত্র কোকিলে প্রেম ছোঁয় মনে

মধুরিমা আমরা অনন্তের পথে 

অর্বাচীন উদাসীন যুগলে

যে প্রেম এসেছিল তা কি যেতে পারে চলে?


২৪.

উৎসব 

বিশ্বজিৎ রায়


এ'জীবন রঙ-উৎসব করে দিয়েছিলে তুমি

মুঠি খুলে যেদিন প্রথম দেখিয়েছিলে

স্বপ্নআঁকা  রক্তকরবী --

সেদিন থেকে এ'জীবন যেন এক

আলোয় ফেরা  মুগ্ধ পৃথিবী...


বোবা দিনগুলি যখন জড়িয়েছিল চারপাশ,

বুকের ভেতর বাজছিল অস্থির শ্বাসপ্রশ্বাস --

ঠিক সেসময়,  একদিন তুমি

মেঘশরীরে বাজিয়েছিলে অর্গান,

সেদিন থেকে আমার মনে রঙের ঝুমঝুমি...


২৫.

ভালোবাস

ত্রিপর্ণা ঘোষ  


ভালোবাসার সাগরে প্রেমের হাত ধরে হারাতে গিয়ে,

নিজেকেই হারিয়েছিলাম ঠিক একটা সময় পর।

অনেকটা ঠিক কুলকিনারাহীন হয়েই;

ভালোবাসার সীমানাটা আসলে গড়তে জানতে হয়।

যেদিন এই বেড়াজালের বাইরে পৃথিবীকে দেখলাম,

নিজেকে অনেকটাই অচেনা লেগেছিল।

পরিচিত আমিটাকে নতুনভাবে পেয়েছিলাম ফিরে:

তাই ফিরে যাওয়া হয়নি আর কখনওই।

নতুন জীবনে বাঁচতে শিখিয়েছে এ ভালোবাসা।

কিন্তু পিথাগোরাসের উপপাদ্যের মতোই 

জটিল ছিল যে ভালোবাসার সংজ্ঞা,

উত্তর আজ তার স্পষ্ট জলছবির মতোই।


২৬.

অভিধান নই
সুধাংশুরঞ্জন সাহা


আমি তো অভিধান নই, যে
পাতা ওল্টালেই পেয়ে যাবে
ভালোবাসার যথার্থ মানে,
প্রেমের প্রকৃত অর্থ,
কিংবা বিরহের আঘাত বৃত্তান্ত ।

আদতে আমি এক অবহেলিত গাছ,
যার পাতায় পাতায়,
শাখার শাখায় অবজ্ঞার চিহ্ন।
যাকে ভালো না বাসলে কিছুই জানা যায় না ।


  
  ২৭.     
ভ্যালেন্টাইন্সের প্রথম গোলাপে 
 অশোককুমার লাটুয়া 

সবশেষে প্রসঙ্গ একটা পেয়ে গেলাম পুরনো গল্পের জন্যে। 
পুরনো টেবিল, দেয়ালঘড়ি, জলের বোতল 
পুরনো চামড়ায় ফুলের গন্ধ প্রেমিকার বহুদর্শী বুড়োর অভিজ্ঞতায়। 
মন্ত্রমুগ্ধ পুরনো নদীর বিকেলের ঘ্রাণ, বেশরম কিছু পুরনো স্বপ্ন, পুরনো কিছু ঠোঁটযুদ্ধ, পুরনো প্রত্যাখ্যান, 
পুরনো কিছু অপূর্ব দৃশ্য কিংবা পুরনো কিছু গান 
সবশেষে পেয়ে গেলাম পুরনো কিছু প্রসঙ্গ স্মৃতির এ্যালবাম। 
পুরনো কিছু ঘৃণা, ক্রোধ, বুঝেও কিছু না বোঝার বোকামি —আশ্চর্য পুরনো চরিত্রে করেছি অভিনয়। 
বুঝেছি অনেক ঘেঁটে পুরনো বই আর পরকীয়ার মানে। 
বহুদর্শী বুড়োর অভিজ্ঞতায় বহুকাল দেখেছি পাহাড়, ঝর্ণা কেমন ব্লাউজ খুলে নদী হয়ে যায়। দেখেছি কিভাবে পুরনো হাড়ে দুব্বো গজায়। 
পুরনো সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে 
যদিও ভেঙেছে পাঁজর তবু আজ পুরনো প্রসঙ্গ পেয়ে পুরনো গল্পের জন্যে 
তোমাদের সাথে কাটালাম কিছুটা সময়। 
বহুদর্শী বুড়োর অভিজ্ঞতায় যদিও এখন নিজের সাথে নিজে লুডো খেলি 
তবু বলি প্রিয় শ্রোতারা আমার 
চুমু খেয়ে ভালোবেসো ভ্যালেন্টাইন্সের প্রথম গোলাপে। 



২৮.
  প্রেম

অজয় দেবনাথ

 

আমার সংযতবন্ধন, অকালস্রোতে ভেসে

ভেসে ভেসেই তোমার অভিসার…

অথচ বহুরূপী চোখের রঙে

লাল-নীল-সবুজের দ্বিচারিতা!

 অবরুদ্ধ প্রেম।

 

অমর স্বপ্ন ছলনা শেখেনি কোনও

যদি প্রেম সত্যি অকপট

নির্জন দর্পণে…

এমনকি বক্ষবন্ধনী খুলেও

আমাকেই খুঁজে পাবে না কি…?


২৯.

ভালোবাসা

দীপা কর্মকার 

ভালোবাসা আসে না যে

দিনক্ষণ বার সময় দেখে

সে যে আসে চুপে চুপে

ভালোবাসার পরশ মেখে।


দুটি মন এক হয়ে যায়

বোনে খুশির স্বপ্নজাল

আঁখির নীলে রঙিন হয়

হৃদয় আকাশ লালিম লাল।


স্বপ্ন ডানায় ভর করে মন

ভাসতে থাকে কল্পলোকে

দিনের আলোয় নেমে আসে

চন্দ্রিমা তার মানস চোখে।

 

৩০.
হৃদয়ের খোঁজে
রতন মণ্ডল   


পথে পথে ঘুরি হৃদয়ের খোঁজে
চেনা মুখ গুলো কেউ সাথে নেই
আগলে রেখেছি দৃঢ়তার হাতে
কম্পিত ধন বুকের মাঝে
সেও তো ছিনিয়ে নেবে দিন গেলে-
আপন হারায় আপনার কাছে
ভালোবাসার খোঁজে কান পেতে রই
বুকে বুক ঠেকে ভিড়ের আছিলায়
হৃদয়ে হৃদয় ঠেকে কই?










আরও পড়ুন  👇👇
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/02/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in.html








                                       

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন