হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-- এর কবিতা
১.
কবি কষ্ট পেলে
লোকে বলে তোমার মুখ দেখলেই বোঝা যায়
কিছু একটা আছে,কী আছে ?ওপেনহাইমার জন্মবীজ উপগত নীরবতা সূর্যমুখী ফুল
কী আছে ?বলো বলো কোথায় কী আছে ?
রেখেছি গোপন করে তবু লোকের ঐ না বলা কথা
গৃহস্থালির মাঝে,অদূরে সূর্যাস্ত হচ্ছে অসংবৃত
পাখিগুলি একে একে উড়ে গিয়ে বসছে ডালে
এরপর সূর্য্যের সমস্ত আলো নিয়ে উত্তরাধিকারসূত্রে
সপ্তর্ষি সারারাত ছটফট করবে পাপড়ি আর অধর
তারপর ভোরবেলা নিমডাঙার মাঠে
অসি খেলা শুরু হবে শরীর নীলাকাশ হবে
আমি তো সাপ ন ই শিরোদেশে চুমো খাবো
আমিতো কাউকে কাটিনি দুঃখ জন্ম জন্মান্তর
তবু এত ক্রোধ, এত তাচ্ছিল্যের হাসি তুতানখামেনের
কেন ছাপোষা কবির প্রতি অমন নিয়নালোক
তুমি কি জানোনা কবিকে দু়ঃখ দিলে কী হয় ?
তুমি কি জানোনা কী হ য়,হাওয়া কঁাপে ব্যালট ঘুরে ঘুরে আলপথ বাক্সে...
কষ্ট পায় জনপদ, পাহাড় পাথরস্তূপ অগম্য বনভূমি ...
২.
চিরস্থায়ী
আমি জঙ্গলের ভেতরে যত গেছি দেখেছি
গাছে গাছে পাতায় পাতায় লেখা চার অক্ষর
ভালবাসার নাম...কাঁটা বলা ভুল হবে মধুমালতী
আমি পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে দেখেছি ঐ এক ই কথা
অন্য নামে ,বিদ্যুৎ ঝলকের পর পর হে মুগ্ধ যন্ত্রণায়
উত্তর দেবো ভেবে নদীর কাছে গেছি ফুলের সংসার
যেন হলুদ প্রজাপতি পরখ করতে অপ্সরার মতো দুটি ডানা উড়ে যাচ্ছে পুড়ে যাচ্ছে ডাল ভাঙার সাথে
পরাজয়, পতন আর অনিশ্চয়তার কাঁটা গিলে যাচ্ছে
রঙ ছিল হলুদ কি লাল
কে কার সুগন্ধ ছোঁবে এই নিয়ে ভাগচাষ
পাপড়ি খুলেছে তার নীলাভ অন্তর্বাস
সাজিয়ে বসেছে তাই নতুন অধ্যায়
তবু ভালবাসা জগতে এক অদ্বিতীয় মধুর,চিরস্থায়ী ...
অযুত মায়াবী ধান নীল হারমোনিয়াম লিখে আর মোছে শুধু সিম্ফনি ...রাগ শিবরঞ্জনী ...
৩.
সততার পক্ষে
সততার পক্ষে আজ আর কোনও সত্য নেই
শুধু আছে প্রত্যাক্ষান, কিন্তু কেন ?
কেন এত দ্বেষ, শুদ্ধ অপাপবিদ্ধ কোমলতার দিকে
পন্ডিতেরা যা বলেন,ক্লাসে যা পড়ানো হয়েছে
জ্যোতির্গময় হে মাধব হে অথর্ববেদ
তাহলে সব মিথ্যা, ঝুট ...আমরা ভুলে যাই সহজেই
একটি শিশুর মনে থরে থরে জমে ওঠে
অকল্পনীয় ভালবাসা, সম্ভ্রম শ্রদ্ধাভাজন মণীষা
বড়ো হয়ে সে যখন দেখে ভুল,এই সমস্ত বিচার ভুল
গভীর বেদনায় ছ্যাঁৎ করে ওঠে তার বুক
বিস্মৃত এবং ভয়ঙ্কর এই দুঃখ প্রাকৃতজনের
ভুলতে সে বারে যায়,যৌনপল্লিতে যায়
অসৎ হ ওয়ার. তীব্ৰ আকাঙ্খায় ঝুঁকে পড়ে তার মন
শুকিয়ে যাওয়া ক্ষত উস্কে দিয়ে সে ভুলে যেতে চায়
সমস্ত শিল্প পুরনো বেদনাযন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয় ...
আকাশের বুকে বড়ো তারাটির মতো কিছু ন য় ...
৪.
উপহার
জন্মদিনে রমাঁ রল্যার ...জাঁ ক্রিস্তভ ...ব ইটি আমাকে উপহার দিয়েছিল অপর্ণা
আমি সযত্নে সিন্দুকে তুলে রেখেছিলাম ...
কপালকুণ্ডলা উপহার দিয়েছিল শ্রীগণেশ আমার সাউথ ইন্ডিয়ান বন্ধু...নাকি কে দিয়েছিলো এখন আর মনে নেই সপ্তম ঋতু আমরণ ঘ্রাণের ভিতর
মনে নেই ...রেজারেকশন..
এভাবেই আমার সিন্দুক ভরে উঠেছিল
...টু হ্যাভ অর হ্যাভ নট এ ...
উমবের্তো একোর ...দ্য নেম অব দ্য রোজ ...এর
নয়নাভিরাম মলাটটি মহামায়া ইঁদুরে কেটেছে
আজ এতদিন পরে পুরনো সিন্দুকের তালা খুলে
দেখি সবটাই ভ্যানিশ শুধু মাউসে ক্লিক করা বাকি. ..
সব আমার ভালবাসার দিনে শ্রেষ্টত্ব দাবী করে
মিলান কুন্দেরা অক্টাভিয়ান পাজ সমকামি লোরকা

ভালো
উত্তরমুছুন