উন্মুক্ত কবিতা -২৬
বিজয়ার মিষ্টান্নপুরাণ
তপন বন্দোপাধ্যায়
দশমীর তিথিশেষে দেবীর বিসর্জন
হাসিমুখে আসবেন সব আত্মীয়স্বজন
কোলাকুলি হাতজোড় আপ্যায়নের পর
গিন্নিমা বসাবেন তাঁর মিষ্টান্ন-আসর;
শুরু হয় রান্নাঘরে তুমুল ব্যস্ততা
ভাবতে থাকেন কার কার আসবার কথা
কর্তাও প্রস্তুত, নিলেন তুলে থলে
ফর্দ নেই গিন্নির, মুখে যাচ্ছেন বলে;
খানপঞ্চাশ রসগোল্লা অন্তত চাই
ডেকচি ভরে বানাব স্পেশাল রসমালাই
ততক্ষণে কড়াইতে মালপোর ছ্যাঁকছ্যাঁক
ভাজছেন তুলছেন রাখছেন ভরে তাক;
ও পাড়ার হুক্কামেশো মালপো খাবেন দশ
ন পিসোর পছন্দ রসগোল্লার রস
মালাইটা ভালো লাগে জনার্দন কাকার
চেটেপুটে খেয়ে শেষে চেয়ে নেবেন আবার;
কারো কারো পছন্দ ধবধবে রাবড়ির
ডেকটা ভর্তি করে বানালেন তাড়াতাড়ি
হঠাৎ পড়ল মনে এ গলির পিঙ্কির
খেতে বড়ো ভালোবাসে হাতে -গরম নিমকি;
কর্তা ফেরেন ঘরে থলে ভরা সন্দেশ
কত না রকম তার , সাইজ শেপ টেস্ট
দোকানে যা ভিড় আজ, বলেন ভুরু নাচিয়ে
গিন্নি রাখেন ফ্রিজে, পরের পর সাজিয়ে;
এইবার প্রতীক্ষা কে কখন আসবেন
মিষ্টান্নভর্তি প্লেট এগিয়ে দেবেন।

অতিশয় সুন্দর একটি কবিতা।বিজয়া দশমী অনুষ্ঠানের একটি সুন্দর চিত্রকল্প তৈরী করেছেন কবি তাঁর কবিতায়। খুব ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুন