উন্মুক্ত কবিতা -১৫
মলয় সরকার -এর কবিতা
সমুদ্র
আমি সমুদ্রের বুকে চুমু খেতে গিয়ে
বুক ভরা নোনা জল আর বাতাস লেগে
কখন যেন নিজেই সমুদ্র হয়ে গেছি-
আজ গাংচিল আর সমুদ্র বকের দল
হাবুডুবু খায় আমার বুকে,
ঝোড়ো হাওয়া লণ্ডভণ্ড করে তোলে
ঊড়ে যায় আমার আঁচল -
পরণের বেশবাস-
তখন আমি ডুব দিই আমার গভীরে
আরও গভীরে,
আমার হাতে ঠেকে মুক্তা মাণিক
সমুদ্রই আমি কিংবা আমিই সমুদ্র হয়ে
নিজের ঘর বাড়ী অস্তিত্ব হয়ে ফুটে উঠি-
হে আমার শহর
হে আমার শহর,
তোমাকে ভালবাসি বলেই
আজও সহ্য করছি তোমার বেয়াদপি,
আমার ঘর ভাসিয়েছ অল্প বৃষ্টিতেই,
নর্দমার নোংরা ঘিনঘিনে জল
ঢুকেছে আমার রান্নাঘরে,
রাস্তার আলোগুলো মুখ লুকিয়েছে অন্ধকারে লজ্জায়,
তার আড়ালে চলছে কাঁচা নারী মাংসের
বিকিকিনির সাথে
অজস্র দুষ্কর্মের পাহাড়-
তাও তোমাকে ক্ষমা করেছি।
হে আমার শহর,
চলার রাস্তাগুলো ছাল চামড়া ছাড়ানো
গোরুর পিঠের মত,
দুর্দম বজ্র আওয়াজের আতিশয্যে হয়েছি বধির প্রায়,
তবুও তোমাকে ক্ষমা করেছি।
চতুর্দিকে জমিয়ে তুলেছ
দৈনন্দিন বর্জ্যের পাহাড়,
তার পুতিগন্ধে আকাশ বাতাস ক্লেদাক্ত
বাতাসে ভাসছে মৃত্যুদূতের কণা
দেহে প্রবেশের সুযোগের অপেক্ষায়-
হে আমার প্রিয় শহর,
তোমার বুকে আবাল্য খেলা,
কৈশোরের প্রেমোদগমের যৌবনে পরিণতি,
তোমার জন্য ভালবেসে ঝরিয়েছি
অনেক রক্ত,
তোমাকে স্বপ্নে দেখেছি মেরুজ্যোৎস্নার মাঝে,
তাই-
আজও ক্ষমা করছি
শিশুপালের মত শত অপরাধও-
কিন্তু-
কিন্তু, আর কতদিন!

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন