স্বাধীনতা বিষয়ক কবিতা —১৭
স্বাধীনতা
বিদ্যুৎ মিশ্র
হা গো বাবুরা তুমরা বল্যেছিলে হামরা
স্বাধীন হঁয়েছিলি আজকের দিনট্যতে;
সাজে গুজ্যে তিলক লাগাই ফুল ছিটাই
পতাকা তুলে এক ঘন্টা ভাষণ শুন্যে
হামিও হাততালি দিঁয়েছিলি সবার মতোন,
ভাবল্যি এবার তবে দুঃখের দিন ফুরাল্যো।
তারপরে যখন টেকসি চাপ্যে বাবু চল্যে গেল্য
বাবুর লোক গুল্যা বললে হল্য, এবার পালা।
কুথায় স্বাধীন বাবু ? সকাল হল্যেই তো হামদের
টানা হিঁচড়া লাগ্যেই আছে।হাতজোড় করে
খামখ্যা জীবনট্য কাটেই গেল্য, ভাবে ছিলি
তুমাদের মতন ইংলিস ইসকুলে ছিলাট্যকে
ভর্তি করব্য ; লারলি বাবু।দমে টাকা খুঁজছে
আর কি বলছ্যে ? বাপকেও ইংলিশ জানতে হব্যেক।
তবে যাঁয়ে ছিলাট্যকে ভরতি লিব্যো;
ইট্য কেমন কথা বাবু, হামি মুখ্যু মানুষ
তা বল্যে ছিলাট্যকে ইসকুলে পড়াতে লারব্য।
সেই মিড ডে মিল আর রেশনের চাল গম
এই গুলা লিতেই কি হামরা স্বাধীন হঁয়েছি।
পঞ্চায়েত আফিসে তিন মাস ল্যে পড়ে থাক্যে
দুটা ত্রিপাল পাঁয়েছিলি।বাবু ভোটের আগে
হামার কাঁধট্যতে হাত দিয়ে বলেছিল্য;
চিন্তা নাই কর বুধা, ইবারে বর্ষার আগেই
তোকে ঝকঝকা দালান ঘর বানাই দিব্যো।
কতো বর্ষা পিরাই গেল্য, এই বছর তো বান আসল্য
হামরা গাছের ডাল ধরে ভুখা পেটে পড়ে রইল্যি।
বাবু গুল্যা হেলিকপ্টার লিয়ে আস্যে উপরলেই
ছবি টবি তুলে নিয়ে গেল্যেক। বললে
তুরা টাকা পাবি , যা ক্ষতি হল্য সেটা ফেরত দিবো।
কই গো বাবু ? কুথায় স্বাধীন হামরা ? সেই তো
ছিলাট্য শহর যাঁয়ে কারখানায় কাজ করছ্যে
পরব পাব্বণও আসতে পারে নাই, বলে ছুটি নাইখ্য।
আর কতো বলব্য হে বাবু কেমন স্বাধীন হল্যম আমরা।
জাত পাতের নামে দেশট্যকে ভাগ করে দিঁয়ে,
নিজের গাড়ি ঘর সব বাগাই লিয়ে লুটে নিল দেশট্য।
তোরা স্বাধীন হলিস বাবু; আমরা এখনো সেই
পরাধিনেই রয়ে গেলি তোদের কাছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন