প্রতিদিন বিভাগে
অণুগল্প -১০
টান
সুস্মেলী দত্ত
-বাবলু বাবলু...
-কে কে ওখানে? ও বাবা, তুমি! ওখানে কেন,?কাছে এসো|বাবা.. কোথায় তূমি?
স্বপ্নটা তাহলে সত্যি নয়, একথা ভাবতেই বুকটা কেমন যেন ফাঁকা হয়ে গেল|
বাবলু নামটা অনেকদিন পরে ও আজ বাবার মুখে শুনলো|এমনিতে রাশভারি বাবা ওকে অরূপম বলেই ডাকেন|
বাবা এই শব্দটা মনে করলেই মনের মধ্যে কত না স্মৃতি ভিড় করে আসে|
মাকে মোটামুটি অসুস্থ দেখে দেখেই ওর বড় হয়ে ওঠা|তারপর হঠাৎ একদিন কর্কট রোগের থাবা আরও চওড়া হতে শুরু করলো |গলা থেকে ফুসফুস অব্দি পৌঁছে গেল যখন তখন শরীর আর যুঝতে পারলো না|
এই তো সেদিনের কথা|মাধ্যমিক পাশ করতে না করতেই বাবার শখে বাবলুর সাময়িক ঠিকানা হোলো দার্জিলিং কনভেন্ট|না এখানে যে কয়েকদিন ও এসেছে সেভাবে অভিযোগ জানাবার মতো কিছু নেই|বাবাও রোজ সকালে ওর নিয়মিত খোঁজ খবর নেন|তাহলে, কিসের অসুবিধে বাবলুর?
এর উত্তর বাবলুর যেমন জানা নেই, তেমনি ওর বাবারও|বন্ধুদের কাছে বাবলুর কনভেন্টে পড়াটা একটা স্ট্যাটাস সিম্বল|ওকে তো একদিন এই বিশাল দুনিয়ার মধ্যে অন্তত একটা জায়গা করে নিতে হবে|ওর ভবিষ্যৎ ভেবেই...
নিজের মনকে নিজেই প্রবোধ দেন সফল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার অনির্বান চক্রবর্তী|
বাবলুকে আজ সকাল থেকে ফোন করা হয়নি|কে জানে কেমন আছে ছেলেটা? আসলে গতকাল রাতে অনেক দেরিতে বাড়ি ফিরেছে অনির্বান|শত অনুরোধ করা সত্ত্বেও অনির্বান রিয়ার সঙ্গে বেড শেয়ার করেনি|আজকাল রিয়ার মা কি একটু বেশিই প্রশ্রয় দিচ্ছেন রিয়ার অফিসের বস অনির্বানকে|কেন? উনি কি ভাবছেন ডিভোর্সি মেয়ের সঙ্গে এতো মেলামেশা করলে অনির্বান তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হবে!
-মাই ফুট, মুখ থেকে স্ল্যাং টা অবশেষে বেরিয়েই গেল|
নাহ যতই রিয়াকে ওর ভালো লাগুক না কেন মৃত স্ত্রী উর্মির জায়গায় কিছুতেই ওকে বসাতে পারবে না অনির্বান|
আর তাছাড়া বাবলুই বা কি ভাৱবে? বাবা নষ্টামি করবে বলেই কি ওকে হোস্টেলে...ছিঃ
ফোনের শব্দে ভাবনার রেশ টা কেটে গেল|
বাবলু ফোন করছে|
নিশ্চয় বলবে বাবিন, সারা সকাল আজ তূমি ফোন করলে না, তাই রাতে করলাম|শরীর ঠিক আছে তো?
অনির্বান মনে মনে বললো, সব ঠিক আছে বাবলু, শুধু মনটাই তোর জন্য রাতদিন হু হু করে|তুই ফিরে আয়...ফিরে আয় অরূপম|
ফোনটা আবার বাজার আগে অনির্বান নিজে ডায়াল করলো|
নাহ আর যে তর সইছে না|
-

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন