উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৫
তপনজ্যোতি মাজি'র পাঁচটি কবিতা
১.
কথা
কে প্রথম কথা বলেছিল? ইভ না আদম?
কার ওষ্ঠ কেঁপেছিল চুম্বনের আগে? পরিসর
জুড়ে দৃশ্যত ছড়িয়েছিল নৈর্ব্যত্তিক অন্যমনস্কতা।
সমস্ত উচ্চারণ মুগ্ধতম, বলেছেন জ্যোতিষ্কলোকের ঋষি।
কবি কেবল বলেছিলেন, কথামানবী।
গল্পে গল্পে গড়িয়ে যায় কথা।
মানবী জানেন মানবতার কাছে তিনি
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২.
ছাদ
কোনও অর্জনই চূড়ান্ত নয়।
সান্ধ্য বাতাসকে তবু তার মনে হলো অসফল প্রেম।
নির্জনতা বিবর্তনময়,
ছাদ থেকে সে দেখছিল প্রতিবেশী আকাশ।
মনে হলো যে ঘর ছেড়ে গেল অকস্মাৎ,
তার প্রস্তুতিপর্বটি নিশ্চিত
গ্লানিমুক্তির পরিসর।
৩.
সমাধান সূত্র
তুমুল ঝড়ের পরেও স্থির।
তোমাকে কল্পবৃক্ষ ভেবে সম্পূর্ণ উদাসীন হলো
প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যাস।
অসম দ্বৈরথ দেখেও মানুষ নির্বাক।
কেবল মননে মননে বিনিময় হলো
সন্ধিপ্রস্তাব।
৪.
ঋণ
তীরবর্তী গ্রামগুলি নদীমাতৃক।
খড়ের ছাউনী দেওয়া অনিশ্চিত ঘর।
স্বভাববিরুদ্ধ নিজের অবস্থান পরিমাপ করে
তাকে ডাকি।
আদুল শরীরে ফুটে আছে কেয়াফুল।
সুগন্ধ কেবল নাগরিক নয়।
৫.
অমর্ত্য
তুমি কিনেছিলে কলামকারি পাঞ্জাবি।
সোনাঝুরি হাটে গাঢ় রঙের ঘুমফ্রক কিনেছিল
আইরিশ মেয়েটি কৌতূহল বশত।
প্রতীচী এখন সংবাদ শিরোনাম।
সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন যৌবনের অমর্ত্য।
আত্মবিস্মৃতি আমাদের অভ্যাস।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন