পৌষ এল ঘরে-৮
দুরন্ত বিজলী১.
ওম
খড়গুলো কোলে করে ডাঙায় উঠে এলে
তারপর সুন্দর করে বিছিয়ে দিলে
গতকাল অঘ্রাণ বিদায় নিল
আজ পৌষের শুরুতে অবশেষ শস্য ভরে নিচ্ছ
তোমার চলায় মা উঠে আসছে
তোমার গায়ে মা মা গন্ধ
যেমন আমি আমার মায়ের গা থেকে পেতাম
অঘ্রাণ ও পৌষের ফসল ফলানো মাঠে
পৌষ এলে পিঠে পুলি
পৌষ এলে নতুন ধানের চালে নবান্ন
বাতাসে অন্নদাময়ী মায়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে
কুয়াশার হিমে রোদ মিশে কুসুম কুসুম ওম
তোমার মুখে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল ফুটে উঠছে
এখন এই পৌষের কুয়াশাঘন আহ্লাদী শীতে
তোমাকে আলিঙ্গনে বাঁধতে খুব ইচ্ছে করে।
২.
মাপকাঠি
ক্রমশ বুক খালি করে
সকল ফসল তুলে দিয়ে
পৌষ শূন্য মাঠে কুয়াশা ভরা শীতের বাতাস
রোদ-জ্যোৎস্না-অন্ধকারে ছড়িয়ে দিচ্ছে
সকাল বিকাল রাত্রির ভিতর
আমাদের পার্বণের ক্ষণগুলি
হাত বাড়িয়ে ডাকছে
আমাদের স্বাদ বদলের স্বাদ গ্রহণের
আনন্দ ঝেড়ে ফেলে দিচ্ছে দুঃখ ও যন্ত্রণা
পাতা ঝরার মতো
ফসল ও শূন্যতা আমাদের জীবনের
পূর্ণতার মাপকাঠি
প্রকৃতির হাত ধরে আমরা বেঁচে থাকি
ঠিক শিশুরা যেমন করে পথ পার হয়।
চমৎকার প্রকাশ। ভীষণ ভালো লাগলো। অদ্ভুত এক
উত্তরমুছুনমোহময়ী শীতের বর্ণনা।