লেবেল

বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১

ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস ( পর্ব- ১১)।। ট্রেকিংয়ের পথে রহস্য— অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 





ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস ( পর্ব- ১১)

ট্রেকিংয়ের পথে রহস্য 

অনন্যা দাশ 


আটটা নাগাদ ওরা তিনজন সি অ্যাণ্ড স্যান্ডের অফিসে গিয়ে হাজির হল। রক যদিও নিমন্ত্রিত নয় তাও সে ঝুলে পড়েছে। এরিক সেজেগুজে ফিটফাট হয়ে ওদের জন্যে অপেক্ষা করছিল। ওর অফিসে একটা টেবিলে বেশ কিছু বেগেল, ডোনাট ইত্যাদি সাজানো।  

এরিক ওদের দেখে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাল। রকের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিতে বলল, “তুমিও যে চলে এসেছ তাতে আমি খুব খুশি হয়েছি। চলো ব্রেকফাস্ট খাওয়া যাক।”

ভজা মোটেই ওই সব চিনি সর্বস্ব খাবার পছন্দ করে না। অঙ্কন ভারতীয় মিষ্টি ভালোবাসে, তবে এখানকার মিষ্টি খেতে রপ্ত হয়নি আর বেগেলের শক্ত পাউরুটিতে ওদের মোটেই রুচি নেই। তাই ওরা দুজনে দু’কাপ চা নিয়ে বসল। রকও খুব স্বাস্থ্য সচেতন। রাতে খিদের চোটে পিজা খেয়ে নিয়েছে সেটাই অনেক। ও এক কাপ কড়া কালো কফি নিয়ে বসল। মনে হয় রাতে ভালো ঘুম হয়নি ওর।    

গ্রান্টের মৃত্যুর কথা উঠতে এরিক বলল, “ওর তো বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে নাকি শুনলাম। ও তো কনজার্ভেশানালিস্ট! এরকম লোকেদের শত্রু হতে বাধ্য! আরে বাবা ওর বাবা, কাকা, দাদু, জ্যাঠা সবাই শিকারি ছিলেন, আছেন। ও তো তাদরেকেও বদলাতে পারেনি আর ওয়েবসাইট করে কী আর পৃথিবী বদলানো যায়? মানে আমাকে ভুল বুঝো না। আমি নিজেও শিকারের পুরোপুরি বিরুদ্ধে কিন্তু এখানে অনেক জায়গাতেই শুনেছি নাকি হরিণ আর ভাল্লুকের সংখ্যা এত বেড়ে যায় যে তাদের সংখ্যা কমানোর জন্যে শিকারের অনুমতি দেওয়া হয়। শুধু শুধু জলে থেকে কুমিরের সঙ্গে শত্রুতা করাটা তো বুদ্ধিমানের কাজ নয়! আমার মনে হয় ওই একই কারণে ওর নিজের বাবার সঙ্গেও ঝগড়া হয়েছিল।”

রক আর অঙ্কনের মধ্যে অনেকবার চোখাচোখি হয়েছে। এরিক যে গ্রান্টের ব্যাপারে অনেক কিছু জানার চেষ্টা করেছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই কোন।

এরিক বেগেলে একটা কামড় দিয়ে বলে চলল, “আমি বুঝতে পারছি তোমাদের বন্ধু অন্য রকম ছিল। ওই রকম যারা হয় তাদের অনেক শত্রু তৈরি হয়ে যায়। আমার এক বন্ধুও ওই রকম ছিল। সে অবশ্য মারা যায়নি, কিন্তু আফ্রিকার কোন এক জঙ্গলে গিয়ে বসে রয়েছে! তোমরাই বলো হিরের টুকরো ছেলে, কত কী করতে পারত তা না...যাক তোমরা কিছু খাচ্ছ না? আর আমি খেয়েই চলেছি!”

ভজা হঠৎ বলে বসল, “আচ্ছা আপনারা এখানে ঠিক কী করছেন যেন?”

“আমরা সমুদ্র সৈকতে রিসর্ট তৈরি করা যায় কিনা তা যাচাই করে দেখি...”

“তা এত সব অফিস টফিস করে?”

“আরে এখানে তো থাকার মতন হোটেলই নেই তেমন, তাই বাড়ি ভাড়া করে অফিস করলে আখেরে সস্তাই পড়ে! আচ্ছা আমাদের এই ব্রোশিওরগুলো নাও। তোমরা সারা পৃথিবীতে আমাদের তৈরি যে কোন রিসর্টে গিয়ে এই কার্ড দেখালে ১০% ডিসকাউন্ট পাবে। দারুণ অফার, মিস কোরো না!”

দরজার টোকা পড়ল। এরিক ‘কাম ইন’ বলতে রিসেপশানের মহিলা এসে বললেন, “তোমার জন্যে জরুরি ফোন আছে!”

“এক্সকিউজ মি, আমি ফোনটা ধরে আসছি,” বলে এরিক বেরিয়ে গেল।   

অঙ্কন কী একটা বলতে যাচ্ছিল ভজা ওকে ক্যাঁক করে একটা লাথি মারল টেবিলের তলায়। তারপর বিচিত্র সুরে কী একটা হিন্দি গান গাইতে লাগল। সেই গান অঙ্কন কোনদিন শোনেনি! হিন্দি গান শেষ হতে ‘আমাকে আমার মত থাকতে দাও’ ধরল। রক মুখ হাঁ করে ভজার কারবার দেখছিল। ভাগ্য ভাল ভজার গান শেষ হওয়ার আগেই এরিক ফিরে এল। ওর মুখের হাসিটা বেশ মেকি বলে মনে হল।  

ভজা বলল, “ব্রেকফাস্ট আর ব্রোশিওরগুলোর জন্যে অনেক ধন্যবার। আমরা এবার উঠব। আজকেই আমাদের ফিরতে হবে। ক্লাস মিস হয়ে যাচ্ছে। গুড বাই বলছি না। পৃথিবীটা খুব ছোট, আবার দেখা হয়ে যেতেও পারে। তাই আন্টিল উই মিট এগেন!”

বাইরে বেরিয়ে অঙ্কন বলল, “তোর কী মাথা খারাপ? ওই রকম করছিলি কেন?”

“ঘরে ভিডিও ক্যামেরা লাগানো ছিল হাঁদারাম! আমাদের সব কথা ও কাজ ভিডিও হচ্ছিল!”

রক বলল, “হ্যাঁ, আমিও প্রথমে বুঝিনি তারপর তুমি বিচিত্র গান গাইতে আমার সন্দেহ হল। তোমাকে তো কোনদিন গান গাইতে দেখিনি তাই! তখন এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখতে পেলাম।”

অঙ্কন বলল, “কিন্তু কেন?”

“জানি না! তবে এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে আরেকবার গ্রান্টের বাড়িতে ঢুঁ মেরে যাব কিনা ভাবছি। যদি কিছু জানা যায়!”

রক বলল, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, যেতেই হবে। আমি গাড়িতে করে এক বাক্স জিনিস এনেছি গ্রান্টের ঘর থেকে। সেটা ওর মা-বাবাকে দিতে হবে। ওর ল্যাপটপ, আইপড, কিছু ছবি ইত্যাদি। বাকি জামাকাপড় ইত্যাদি ওনারা পরে নিতে পারেন। ওর ফোনটা তো খাদ থেকে উদ্ধার হয়নি মনে হয়। বা হলেও পুলিশের কাছেই রয়েছে।”

“ঠিক আছে চল!”

গ্রান্টের বাড়ি গিয়ে গাড়িটা গেটের বাইরে রেখে গেট খুলে ভিতরে ঢুকল ওরা। ওমা গেট খুলতেই একটা বড়োসড়ো কুকুর ছুটে এল। এই ধরণের কুকুরদের অঙ্কন চেনে, গোল্ডেন রিট্রিভার। কুকুরটা দেখে ওরা ভয় পেয়েছিল বটে কিন্তু ভিতর থেকে এক মহিলা একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে এসে বলল, “ওটা অস্কার। চলে এসো ও তোমাদের কিছু করবে না। ও শুধু খেলতে চায়। মাঝে মাঝে মনে হয় বুঝিবা ও চোর এলে চোরের সঙ্গেও খেলতে শুরু করে দেবে! শুধু গেটটা বন্ধ করে দিও নাহলে ও বাইরে বেরিয়ে যাবে।”

তারপর এগিয়ে ওদের কাছে এসে বলল, “আমি ক্যাথি, গ্রান্টের দিদি। আর এটা আমার ছেলে মেসন। তোমরা তো গ্রান্টের বন্ধু তাই না?”

ওরা ‘হ্যাঁ’ বলার সঙ্গে সঙ্গে ভিতর থেকে বাজখাঁই গলায় একজন হাঁক দিল, “কে এসেছে ক্যাথি?” বলতে বলতে গ্রান্টের বাবা বেরিয়ে এলেন। ওদের তিনজনকে দেখে প্রচন্ড রেগে গিয়ে চিৎকার করতে লাগলেন, “বেরিয়ে যাও! এখুনি বেরিয়ে যাও এখান থেকে! কাল বারণ করেছিলাম তাও তোমরা শুনছ না! আবার এসে হাজির হয়েছ! তোমাদের সাহস তো কম নয়!”

ভজা শান্ত গলায় বলল, “আপনি অযথা উত্তেজিত হচ্ছেন! আমরা আপনার কোন ক্ষতি করতে আসিনি। গ্রান্ট আমাদের বন্ধু ছিল। রকের তো বিশেষ বন্ধু ছিল। আমাদের মনে হচ্ছে ওর মৃত্যু পরে গিয়ে হয়নি, ওকে ঠেলে ফেলা হয়েছে তাই আমরা আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলাম। তা আপনাদের যদি নিজের ছেলের মৃত্যুর সম্পর্কে কোন কিছু জানার কৌতূহল না থাকে তাহলে আমাদের আর কিছু বলার নেই। আমরা আজই ফিরে যাচ্ছি। রক এই বাক্সটা এনেছে তাতে ওর কিছু জিনিস আছে চাইলে দেখতে পারেন!”

রক বাক্সটাকে বাইরেই নামিয়ে দিল আর ওরা তিনজন গাড়ি করে মোটেলে ফিরে গেল। পথে কেউ কোন কথা বলল না।

মোটেলে ফিরে ভজা বলল, “আধ ঘন্টার মধ্যেই বেরিয়ে যাব আমরা। পথে শুধু কিছু খাবার তুলে নিতে হবে তাহলে আর রাস্তায় থামতে হবে না।”

আধ ঘন্টা পরে ওরা নীচে নেমে এসে গাড়িতে উঠতে যাবে এমন সময় রক বলল, “এই যা!”

কী হল?”

চারটে টায়ারই তো… কিন্তু কেনকী হচ্ছে এ সবকে করল?” রকের গলায় আতঙ্ক

ভজা আর অঙ্কন তাকিয়ে দেখল গাড়ির চারটে চাকা থেকে হাওয়া বার করা শুধু তাই নয় একটা চাকা কে যেন ফালা ফালা করে কেটে দিয়েছে!

হোটেলের সামনের ডেস্কে যে ছেলেটা ছিল সে বলল, “হ্যাঁ গাড়িটার অ্যালার্ম আবার ক্যাঁ কোঁ করে বাজছিল কিন্তু আমি ফোনে ছিলাম তাই বাইরে গিয়ে দেখতে পারিনি

রক জিজ্ঞেস করল, “এখানে গাড়ি সারানো যাবে কোথায়?”

ছেলেটা বলল, “ট্রাস্টি অ্যালের দোকান আছে আমি ফোন করে দিচ্ছিওরা এসে নিয়ে যাবে

ট্রাস্টি অ্যালকে ফোন করে জানা গেল যে ওদের লোক কম তাই বিকেল চারটে পাঁচটার আগে কিছু হবে না

অঙ্কন দুঃখ করে বলল, “শুধু শুধু আজকের দিনটা নষ্ট হল

ভজার চোখ অন্য দিকেসে বলল, “দেখা যাক নষ্ট নাও হতে পারে!”

অঙ্কন দেখল রিসেপশানে একজন মহিলা এসে ঢুকেছে তাকে কোথায় যেন দেখেছেও গ্রান্টের দিদি ক্যাথি

ওদের দেখে এগিয়ে এসে ক্যাথি বলল, “তোমাদের সঙ্গে একটু কথা ছিলএখানে সবার সামনে তবে!”

রক বলল, “চলো আমাদের ঘরে বসে কথা বলা যাবে আমরাও তো আটকে গেছি

তারপর ঘরে যেতে যেতে বলল, “তুমি জানলে কী করে আমরা এখানে আছি?”

ক্যাথি শুকনো হাসি হাসল, “এইটুকুনি তো ছোট জায়গা এখানে কে কী করছে সবাই সব জানে!”

!”

ঘরে বসে ক্যাথি বলল, “আমার বাবার ব্যবহারের জন্যে আমি খুবই দুঃখিতসেই জন্যেই আমি এলাম সত্যিটা  তোমাদের জানাতে গ্রান্টকে কে মেরেছে আমরা জানি না কিন্তু কারা মারিয়েছে আমরা জানি!”

ওরা তিনজন সমস্বরে বলে উঠল, “কারা?”

ওই সি অ্যান্ড স্যান্ডের লোকেরাই ওকে মারিয়েছে কাউকে দিয়ে!” 

অ্যাঁবলো কি!”

হ্যাঁপ্রথম থেকেই সব বলি তাহলে আমাদের এখানটা ছোট জায়গা তো দেখতেই পাচ্ছ সমুদ্রের ধারে একটা ছোট বসতি বলতে পারো মাছ ধরাদোকান এই সব দিয়েই রোজগার আর মোটেল বলতে ওই একটাই কেউই খুব একটা বড়োলোক নয় এমন সময় একদিন হঠাৎ ওই এরিক উদয় হল বিচের ধারে বিশাল একটা রিসর্ট করতে চায় ওরা। ৩০ তলা হোটেল, সুইমিং পুল, ক্যাসিনো খুব এলাহি আর বিলাসবহুল ব্যাপার। সবার কাছ থেকে জমি কিনতে শুরু করল ওরা। গ্রান্ট জানতে পারা মাত্র ওই কম্পানিটা সম্বন্ধে খোঁজখবর নিতে শুরু করে দিল। তাতেই জানা গেল যে কম্পানিটা ভালো নয়। পরিবেশ দূষণের বেশ কয়েকটা মামলা ঝুলছে ওদের নামে। ব্যাস আর যাবে কোথায়, গ্রান্টের মাথা গরম হয়ে গেল। বাবাকে বলল, ‘আর যে যাই করুক তুমি কিছুতেই ওই পিশাচদের হাতে আমাদের জমি তুলে দেবে না! ওরা আমাদের জায়গাটাকে শেষ করে দেবে’ ইত্যাদি অনেক কিছু। এমনিতেই বাবা জমি বেচতে চাইছিলেন না আর গ্রান্টের কথা শুনে তো আরোই নেচে উঠলেন। বাবা আর তার কয়েকজন বন্ধু মিলে বেঁকে বসলেন। সি অ্যান্ড স্যান্ডকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে জমি বিক্রি করবেন না। বাবাই সেই দলটার নেতা হলেন। ওরা প্রথমে অনেক অর্থের লোভ দেখালো কিন্তু বাবাকে টলাতে পারল না। বাবা আর বন্ধুরা অনড় রইলেন। বাবারা ভেবেছিলেন সি অ্যাণ্ড স্যান্ডের লোকজন না শুনে এই জায়গাটা ছেড়ে চলে যাবে কিন্তু ওরা গেল না এবং ওদের সুর বদলাতে লাগল। এবার ওরা শাসাতে আর ভয় দেখাতে শুরু করল। প্রথম প্রথম মিষ্টি কথার আড়ালে আর তারপর একেবারে খোলাখুলি। আমার তো বিয়ে হয়ে গেছে, আমি আমার স্বামী আর ছেলেকে নিয়ে শিকাগোতে থাকি তাই প্রথমের দিকে আমি জানতামই না এই সব ঘটছে এখানে। ওরা ভয় দেখাতে শুরু করার পর মা একদিন ফোনে বললেন। শুনে আমারও খুব রাগ হল। এদিকে ওদের সুর বদলাতে গ্রান্ট তো খেপে লাল। ও পুলিশের কাছেও গিয়েছিল কিন্তু সেখানে গিয়ে একটু কথা বলেই বুঝতে পারে যে সি অ্যাণ্ড স্যান্ডের বিরুদ্ধে এখানকার পুলিশও কিছু করবে না। এখানকার পুলিশ স্টেশান একেবারেই ছোট। মোটে তিন-চারজন আছে, আর তাদের ভয় দেখিয়ে বা অর্থ দিয়ে নিজেদের দলে অনায়াসেই টেনে নিয়েছে ওরা। গ্রান্টকে যে ওরাই মেরেছে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। সেই জন্যেই বাবা তোমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন না ভয়ে। পাছে আমাদের আবার কোন ক্ষতি করে ওরা। এদিকে বাবার অন্য যে সব বন্ধুরা জমি বেচবে না বলেছিল তাদের সি অ্যান্ড স্যান্ডের লোকজন এখন বলেছে, ‘গ্রান্টের অবস্থা দেখছ তো? কেউ প্রতিরোধ করলে তার অবস্থাও ওর মতন হবে!’ সেই জন্যে এখানকার কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না। তোমাদের সঙ্গে কথা বলছে দেখে ফেললে যদি তাদের কিছু হয় সেই ভয়ে।” এতটা বলে ক্যাথি থামল। হু হু করে এয়ার কন্ডিশানার চলছে ঘরে তাও ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।

ভজা জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা ওই ভয় দেখানো বা শাসানোগুলো কী এরিক করছিল?”

ক্যাথি বলল, “সেটা আমি ঠিক বলতে পারব না। আসলে আমি তো এখানে থাকি না সব কিছু ফোনে মার কাছে শোনা। আমি বাবাকে রাজি করাবো তোমাদের সঙ্গে কথা বলতে তখন ওনাকে জিগ্যেস কোরো। বাবার ভয় হচ্ছে যে মেসন, মানে আমার ছেলেটার না কোন ক্ষতি করে বসে ওরা। অস্কার, মানে আমাদের কুকুরটাকেও বিষ মেশানো খাবার দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্য ভালো অস্কার ওটা খাওয়ার আগেই বাবার চোখে পরে যায়। গ্রান্ট সেটা শুনে সাংঘাতিক খেপে উঠে ওদের অফিসে গিয়ে চড়াও করেছিল। সেখানে কী ঘটেছিল আমি জানি না কিন্তু তার ফল তো দেখতে পাচ্ছি,” ক্যাথির চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল গড়াতে লাগল।  

রক বলল, “কিন্তু এখানকার পুলিশও যদি কিছু না করে তাহলে তো খুব মুশকিল!”

“হ্যাঁ, পুলিশকে হাত করেই তো এরা এই সব করছে। আমি মেসনকে নিয়ে আজ রাতের ফ্লাইটেই শিকাগো ফিরে যাচ্ছি। আমার হাজব্যান্ড তো আসতে পারেনি। আমি আরও কয়েকদিন মার কাছে থাকতে চাইছিলাম কিন্তু বাবা ভয় পাচ্ছেন। উনি চান না আমি থাকি এবং সেটা নিয়ে বিস্তর টেনসান করছেন তাই আমি আজ বিকেলেই বেরিয়ে যাচ্ছি। কী হবে জানি না। আমি তোমাদের কাছে ভিক্ষে চাইছি আমার ভাইয়ের খুনিদের শাস্তির ব্যবস্থা করে দাও! এই ভাবে আমার ভাইটাকে মেরে ফেলল ওরা!”

ভজা বলল, “দেখুন আপনি চাইলে আমরা আপনার বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারি কিন্তু তাতে কোন লাভ হবে কী? যা শুনলাম তাতে তো মনে হচ্ছে এখানকার ব্যাপার স্যাপার খুব গোলমেলে। আমাদের অত ক্ষমতা নেই!”

ক্যাথি বলল, “বাবার অবস্থার কথা ভাবো একবার! উনি মনে করছেন যে ওনার জমি বেচতে রাজি না হওয়ার জন্যেই গ্রান্ট খুন হয়েছে। এখন তোমরা কথা বলে যদি কিছুটা আশ্বাস দিতে পারো!আমি তো শিকাগো ফিরে গিয়েও ওদের জন্যে দুশ্চিন্তায় থাকব।”

ভজা আবার বলল, “আমি সবই বুঝতে পারছি কিন্তু যেখানে পুলিশ ফোর্সও বেহাত হয়ে গেছে শোনা যাচ্ছে সেখানে কিছু করাটা খুব মুশকিল। তবে আমরা পুলিশের সঙ্গেও কথা বলে দেখব। দেখি ওদের মতিগতি কী রকম। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পুরো ব্যাপারটা খোলাখুলি আমাদের বলার জন্যে। আমাদের টায়ার পাংকচার না হলে তো আপনার সঙ্গে কথাই হত না!”

“পাংকচার?” 

“পাংকচার বললে হয়তো ভুল হবে। কে বা কারা সুন্দর করে আমাদের গাড়ির সব টায়ার থেকে হাওয়া বার করে দিয়েছে। শুধু তাই না একটা চাকা তো ফালা ফালা!”

ক্যাথির কপালে ভাঁজ পড়ল, “কিন্তু এই ব্যাপারটা তো আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। সি অ্যাণ্ড স্যান্ডের লোকজন তোমাদের এখানে আটকে রাখার চেষ্টা করবে কেন? তোমরা চলে গেলেই তো ওদের সুবিধা। কী যে হচ্ছে!”  

রক উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “আপনি গাড়ি নিয়ে এসেছেন তো? তাহলে আমাদের একটু রাইড দিয়ে দিন। এখানে তো গাড়ি ছাড়া কোথাও যাওয়া মুশকিল।”

“ও হ্যাঁ, হ্যাঁ। আমি বরং পুলিশ স্টেশানে তোমাদের নামিয়ে দিই। তোমরা ওদের সঙ্গে কথা বলো। ততক্ষণ আমি বাবাকে গিয়ে রাজি করাই। তোমাদের হয়ে গেলে আমাকে ফোন করো আমি তখন তোমাদের তুলে নিয়ে যাবো।”

“হ্যাঁ, সেই ভালো!”





চলবে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন