হেমন্তের সকাল -৪১
জয়শ্রী সরকার
১.
এসো, হেমন্ত-ঘ্রাণ মাখি
হৈমন্তিকার হাস্যমুখে মধুর প্রকৃতি আজ
হিমেল হাওয়ার মিষ্টি সুরে সকালের নব সাজ।
ওই শোনা যায় ভোরের আজান, শুনছি পাখির গানও
দূরের ঝিলে গাঙ্ শালিখের মিষ্টি কলতানও!
নয় বেশি শীত, নয় তো উষ্ণ, মিষ্টি রোদের ছোঁয়া
হৃদয় বলে এমন পরশ পবিত্রতায় ধোয়া ।
সোনার ধানে মাঠ ভরে যায় যেন সোনার তরী
চতুর্দিকে আনন্দগান নবান্নসুখ ভ'রি!
নিশির শিশির মেখে গায়ে হেমন্তিকা এসে
নরম রোদের মিষ্টি ছোঁয়ায় থাকবে ভালোবেসে।
হেমন্তিকার রূপের ছটা ঠিকরে পড়ে ঠোঁটে
হিমের কুঁড়ি লাগলে গায়ে আনন্দফুল ফোটে!
নিয়ম মেনে শরৎ উধাও হেমন্তকে ডেকে
তবু শরৎ চললো যেন শিউলি সুবাস রেখে।
হৈমন্তী রূপসি বাংলা সত্যিই মনোলোভা
সকাল-আকাশ রোদে ঝলমল মনোরম এক শোভা!
২.
আর ক'টা দিন থাকতে যদি
হেমন্ত-গান শুনবো বলে
সকাল থেকে বসে
তবু তুমি পড়ার বোঝা
চাপাও কষে কষে।
পড়ার পরে শুধুই পড়া
থাকি বড্ড দুখে
হেমন্ত-গান শোনার পরে
প্রাণটা ভরে সুখে!
হেমন্ত-দিন আসবে বলে
অপেক্ষাতে থাকি
সোনার ফসল না দেখলে যে
আনন্দটাই ফাঁকি!
আর কটা দিন থাকতে যদি
হেমন্তকাল তুমি,
বসুন্ধরা স্নিগ্ধ হ'তো
সুখের পরশ চুমি!
তোমার আসা আগন্তুকের
ক্ষণিকের অতিথি
খুসবু ঢেলেই সেই চলে যাও
নেই কোনো ঠিক তিথি!
বাঃ!ভালো লাগলো
উত্তরমুছুন