লেবেল

বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৫)।। ছায়া- ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 







ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৫)

ছায়া- ছায়া  অন্ধকারের আড়ালে 

অনন্যা  দাশ 




কেসটা সত্যিই খুব অদ্ভুত মোড় নিচ্ছে মার্কাস!” রোহন কুমার বললেন।

“কী রকম?”

“কুণাল বলে একটা ছেলের সঙ্গে কথা হল আজকে। সে বলল একটা মেয়ের সঙ্গে আলাপ করে তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। ওমা মেয়েটা নাকি তার ওয়াইনে ডেট রেপ ড্রাগ মিশিয়ে তাকে অজ্ঞান করে তার কম্পিউটার থেকে সব ফাইল মুছে দিয়ে যা ক্যাশ ছিল সব নিয়ে পালিয়েছে!”

“ও বাবা এ তো উলটো কেস! ওই ডেট রেপ ড্রাগ তো ছেলেরাই বেশি ব্যবহার করে!” 

“হ্যাঁ, এই ছেলেও মোটেই ভালো নয়। প্রচুর মামলা ঝুলছে ওর নামে। ওই ডেট রেপ ড্রাগটা ওই এনেছিল আর মিশিয়েছিল মেয়েটার ওয়াইন গ্লাসে। কিন্তু মেয়েটা কী ভাবে জানি টের পেয়ে চট করে ওয়াইনের গ্লাস বদল করে ফেলে!” 

“ও বাবা সে তো তার মানে সেয়ানা মেয়ে!”

“হ্যাঁ, সে আর বলতে! মেয়েটা ওকে বলে ওর নাকি জাপানে জন্ম! নাম ইশিও! কিন্তু ছেলেটা বলছে মেয়েটাকে মোটেই জাপানি দেখতে নয়, বরং ভারতীয়!”

“হুঁ! হাতের ছাপ?”

“কিছু না! খুব চালাক মেয়ে সব মুছে টুছে দিয়েছে। আপনার প্যাডটা দিন!”

মার্কাস প্যাডটা এগিয়ে দিতে রোহন তাতে লিখলেন Oishi তারপর বললেন, “এবার এটাকে উলটে দিন দেখি কী দাঁড়াচ্ছে – Ishio!

“ও মাই গড! এতো সেই মেয়ে যে ল্যারি বলে ছেলেটার সঙ্গে চ্যাট করে তার আঙ্গুল কেটে দিয়েছিল!”  

“হ্যাঁ! সেই একই মেয়ে। মেয়েটা মনে হয় ছেলেদের ঘৃণা করে, ম্যান হেটার! সে মেয়ে সোশাল নেটওয়ার্কিং করছে কোন একটা লাইব্রেরি বা পাবলিক জায়গায় ঢুকে সেখানকার কম্পিউটার থেকে, সেখানে তো শয়ে শয়ে লোক কম্পিউটার ব্যবহার করে তাই আমরা ঠিক ধরতে পারছি না। খুব চালাক মেয়ে! কোথায় থাকে একবার ধরতে পারলে...”

“হুঁ! তবে এক্ষেত্রেও ছেলেটা বেশ পাজি তাই শাস্তি ওর প্রাপ্যই ছিল। বেশ করেছে কম্পিউটারের সব কিছু মুছে দিয়ে ক্যাশ নিয়ে পালিয়েছে! মেয়েটা বুদ্ধিমান না হলে ছেলেটা তো ওকে ডেট রেপ ড্রাগ খাইয়ে দিচ্ছিল আর একটু হলেই!”





 আজকে সুনেত্রাদিদের বাড়িতে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান। বেশ অনেক লোক হয়েছে। সুনেত্রাদি নিজেও ভালো গান করেন, ওনার হাজব্যান্ড প্রদীপদা ভালো সেতার বাজান, সব মিলিয়ে জমজমাট প্রোগ্রাম চলছে। অনুষ্ঠানের পর খাওয়া দাওয়ার এলাহি আয়োজন। বলতে নেই পলাশদার কল্যাণেই সুনেত্রাদিদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে আর এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরেছি। নাহলে আমি এখানে কাউকেই চিনতাম না, চেনার চেষ্টাও করিনি কাজের চাপে সময় হয় না মনে করে, কিন্তু চেষ্টা করলে একটু সময় বার করা যায় দেখছি। আমি আজ শাড়ি পরেছি। অনেকেই বলেছে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে তোমাকে দীপা তাই মনটা বেশ খুশি। আমি আসতেই পলাশদা ঐশীর কথা জিজ্ঞেস করছিল। আমি বলতে বাধ্য হলাম যে ঐশী আসেনি, ও অফিসে কাজ পড়ে গেছে বলে। আসলে ওর এই সব বাঙালিদের অনুষ্ঠান একেবারেই পছন্দ নয়। ও শুনে বলেছিল, ‘নাহ, আমার গিয়ে কাজ নেই। একে তো হাজারটা প্রশ্ন, বিয়ে করেছো, কেউ আছে নাকি।।যেন নিজের ছেলের বিয়ে দেবেন আমার সঙ্গে! তাছাড়া কাজের চাপের পর সারা বিকেল ধরে বেসুরো গান গাইবে লোকে সেই সব শোনার ইচ্ছে আমার নেই। ক্যানসাসে থাকতে এক রাউন্ড অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে, আর না বাবা! তার থেকে বাড়িতে শুয়ে ঘুমোলে বা একটা ভালো সিনেমা দেখলে কাজে দেবে! আর গানের জন্যে তো ফোন আছেই রে বাবা, সে বেসুরো গায় না!”   



অনুষ্ঠান ভালোই চলছিল। পলাশদা ‘তুমি সন্ধ্যারও মেঘমালা’ গানটা ভালোই গাইল। গাইতে গাইতে বেশ কয়েকবার আমার দিকে তাকাচ্ছিল। আমার বুকের ভিতর একটা ধুকপুকানি ভাব! আনুষ্ঠানের শেষে সুনেত্রাদি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, “আরেকটা বিশেষ ঘোষণা আছে! আমাদের খুব প্রিয় হয়ে ওঠা পলাশ একা থেকে দোকা হতে চলেছে! বিয়ে করছে পলাশ। ওর ভাবী স্ত্রী সুপ্রিয়া কলকাতায় ওর জন্যে অপেক্ষা করছে। আসছে অঘ্রানেই ওদের বিয়ে, ইংরেজির তারিখ ৯ ডিসেম্বর! আমরা তার মানে আরেকজন প্রিয় মানুষ পাবো! সবাই ওকে শুভেচ্ছা জানাও ওর এই সুখবরের জন্যে!”পলাশদা বিয়ে করছে! ওর যে কলকাতায় একজন গার্লফ্রেন্ড আছে সেই কথাটা কই আমাকে তো বলেনি সে! আমি তো ভাবছিলাম...থাক সেই সব ভেবে আর কাজ নেই! আমি পলাশদাকে কিছু না বলেই খাবার ঘরে চলে গেলাম। খাবার কী খেলাম কিছু মনে নেই আমার সব কিছুই কেমন যেন বিস্বাদ ঠেকছিল আমার মুখে। খাওয়া হয়ে যাওয়ার পর বাথরুম খুঁজছিলাম। নিচের বাথরুমে প্রবল ভিড় বলে সুনেত্রাদি ওপরের ঘরের গেস্ট রুমের বাথরুমটা ব্যবহার করতে বললেন। আমি বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখি পলাশদা বাথরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে।আমাকে দেখে হাসিমুখে বলল, “আমাকে অভিনন্দন জানালি না দীপা? আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে শুনে তোর হিংসে হল বুঝি?”    রাগে আমার গা রি রি করছিল। আমি কিছু বলছি না দেখে পলাশদা আমাকে জড়িয়ে ধরল। অক্টোপাসের মতন ওর হাত আমার শরীরের চারিদিক ছুঁয়ে বেড়াতে লাগল! আমার গালে গাল ঠেকিয়ে সে বলল, “আরে ওই সম্বন্ধটা তো মা-বাবার করা! বউ বউয়ের জায়গায় আর ভালো লাগা ভালো লাগার জায়গায়, কী বলো?”


ভাগ্যিস তখনই দুটো বাচ্চা মেয়ে মিতুল আর পৃথা, “আন্টি ওপরের বাথরুমে যেতে বললেন!” বলে হাজির হল। পলাশ (এর পর থেকে ওকে দাদা বলা ছেড়ে দিলাম!) তখন আমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হল আর আমি সেই সুযোগে সেখান থেকে পালালাম।তারপর আমি আর একটা মিনিটও ওখানে থাকিনি। গাড়ি নিয়ে সোজা বাড়ি! বাড়ি ফিরে কিছুক্ষণ খুব কাঁদলাম। আমি বুঝতে পারিনি আমার কান্নার আওয়াজ অতটা জোরে শোনা যাচ্ছিল কিন্তু ঐশী শুনতে পেয়ে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল, “কী ব্যাপার এত কাঁদছ কেন?”সহানুভূতির একটু ছোঁওয়া পেয়ে আমি তো ভেঙ্গে পড়লাম। হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে সব ওকে বলে দিলাম। শুনে মুখটা কঠিন হয়ে গেল ওর।  





যাই হোক একটা কাউকে বলতে পেরে নিজেকে বেশ হাল্কা লাগছিল। ঐশীকে বললাম যে সুনেত্রাদি ওর জন্যে খাবার দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু ওই সব চক্করে আনাই হল না। তাই শুনে সে বলল, “আমাকে চেনেনই না আমার জন্যে কেন খাবার দিতে চাইছিলেন? খাবার বেশি হয়ে গিয়েছিল নাকি? যাক আমার ওই সব চাই না, আমি দু স্লাইস পিজা খেয়ে নিয়েছি। খাবার আনলেও আজকে তো খেতে পারতাম না!”তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “তোর ওই পলাশদা লোকটা একেবারেই সুবিধার নয় দেখছি। ভাগ্যিস আমার সঙ্গে আলাপ হয়নি! আমি মনে করি ওর মতন লোকেদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই! ল্যাবে যা ছাইপাঁশ করছে সেটা ও না করলে অন্য কেউ করবে! কলকাতায় যাকে বিয়ে করতে চলেছে সেও বেঁচে যাবে এক দুশ্চরিত্রের হাত থেকে! ওর মতন ছেলেদের আমি ঘৃণা করি!”আমি ওর কথা ততটা মন দিয়ে শুনছিলাম না, নিজের দুঃখে কাতর হয়ে ছিলাম বলে। আমি আর কিছু বলছি না দেখে ঐশী নিজের ঘরে চলে গেল।    







আরও  পড়ুন 👇👇👇👇




 https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/05/blog-post_23.html





 https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/05/blog-post_12.html




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন