মে দিবসের কবিতা
কলমে—
আরণ্যক বসু
পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়
কাজল দাস
বিমল মণ্ডল
গৌরী পাল
জিন্দাবাদ
আরণ্যক বসু
( মে-দিবস মানে--পথনাটিকায় গোর্কির মা , মে-দিবস মানে -- লাল ঘাসে নীল ঘোড়া ....)
রঙ বদলেছে, দিন পালটেছে ,
কারখানা গেটে তালা ;
এ ওকে কাটছে,বোমায় ফাটছে ,
শুধু খেউড়ের পালা।
জানি , এতদিনে নীল দিগন্তে
মুছে গেছে সব ঋণ ,
পদাতিক কবি এখনো লিখছে--
লাল টুকটুকে দিন।
দীনের থেকেও দীন হয়ে গেছে
খনিতে লুকোনো সোনা ,
কমরেড মানে পাশেপাশে থাকা,
যারা কিছু কাড়লোনা।
দল বদলেছে সুবিধেবাদের
যাবতীয় দুর্ভাগা,
তবু বিপাকে ও রক্তক্ষরণে
হাতে হাত রেখে জাগা !
অবিশ্বাস্য ? তবু চোখ খুলে
দেখে যাবো বাঁদরামি ,
ও পয়লা-মে ,জানি আজও হাঁটি
তোমার সঙ্গে আমি।
অধরা মাধুরী সূর্য তারায়
বলে ওঠে- থামবেনা ;
লাল পতাকার রক্ত আবির
বড়ো ব্যথা দিয়ে কেনা!
আকাশকুসুম এক হয়ে গিয়ে
মুছে নেবে জীর্ণতা ,
জীবন মানে তো ঝাঁপানো ঝর্ণা --
বলেছে খরস্রোতা।
আমাদের কাছে মে-দিবস মানে --
গানে , পুনরুত্থানে ;
জিন্দাবাদের দেয়াললিখন
ভালোবাসা দিয়ে টানে।
মে দিবসের চিরকূট
পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়
সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি বাবাকে
এই একটা দিন স্বাধীন
মদ কিনে মাংস কিনে
বাজার থেকে বাড়ি ফিরতে
আর মা'কে ঝাঁটাপেটা করতে... আজকের পাভেলের কাছে তাই পয়লা মে
আন্তর্জাতিক বিষণ্নতা দিবস
অথচ মা-বোনেদের
অন্তরের রক্তিম অভিবাস
পূবের কাঁটাতারের শূন্যতায়
উজ্জ্বল প্রথম সূর্য হয়ে
ফুটে আছে
আকাশে বাতাসে।...
১লা মে’
কাজল দাস
আবার একটা শ্রমিক দিবস এলে
রাঙা ধূলোয় দিন- মজুরের ঘাম,
উদ্ধত হাতে রক্তে মশাল জ্বেলে-
আবার একবার ভয়হীন স্লোগান।
আবার একটা লালচে রঙা ভোরে
উঠবে জেগে জনতার কোলাহল
আসবে সকাল আগামীর হাত ধরে
গড়বে মানুষ আবার মানুষের দল।
আবার একটা পথনাটিকার রাতে
ভীড় ঠেলেই উঠবে- আলোর ছবি
প্রতিবাদী কোন’ বিপ্লবী করাঘাতে
উঠবে জেগে- নব প্রভাতের দাবি।
আরও একবার পথে নামার ডাকে
আবার একটা শিকল ভাঙার গান
নবীন আলোয় উদ্ভাসিত বৈশাখে
শক্ত মুঠোয় -“হেই সামালো ধান।
বিমল মণ্ডল
সূর্য একচোখে চেয়ে থাকে ফুটপাত, কারখানা
লোকালয় থেকে অনেক দূরে
প্রকাশ্যে পরিযায়ী ক্ষেত
নির্বোধ শিশুরা গায়ে মাখে দুপুরের রোদ
মে দিবস দু'চোখ তুলে
চুপিচুপি স্বাগত জানায়
অন্ধকার ট্রেন লাইনে পড়ে থাকা
রক্তভেজা শরীর...
নতুন একুশের কোলে।
শিশু শ্রমিক
গৌরী পাল
শিশুটি কাঁদছে খিদের জ্বালায়
ঘুম ভেঙেছে পৃথিবীর ব্যস্ত ফুটপাতে ,
কতো কথা বলি আমরা
মিটিং মিছিল আর বক্তৃতাতে।
বড়ো বড়ো সভা সেমিনারে শুনে থাকি
শিশু শ্রম আইনত বন্ধ করা হোক
এক কানে শুনি আরেক কানে বের করি
এটাই আমাদের দূর্নীতি পরায়ন হোক।
ধনী মানুষ যতই উঃ আঃ করুক
গরীবের দুঃখ কোনদিন বুঝবে না,
এসি গাড়িতে চড়ে গরীবের খিদের জ্বালা বোঝা
ভন্ডামি ছাড়া আর কিছুই না।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন