লেবেল

বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

প্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ: শ্রদ্ধার্ঘ্য ও স্মরণে : সুবীর ঘোষ ।।Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 





প্রয়ার কবি শঙ্খ ঘোষ: শ্রদ্ধার্ঘ্য  ও স্মরণে

আমার মৃত্যুর দিন মনে পড়ে

                   সুবীর ঘোষ

 

 

সদ্যপ্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন-আমি যখন ছেড়ে যাব , তখনও আমিই পড়ে থাকবে।  এখন চতুর্দিকে শঙ্খ ঘোষ, চতুষ্পার্শ্বে তাঁর কবিতা। বাকসর্বস্ব বাঙালিকে তিনি যেন বলতে চেয়েছিলেন - শব্দহীন হও। তিনি চেয়েছিলেন নিঃশব্দের তর্জনীর আড়ালে মানুষ কিছুক্ষণ ভাববেঃ- জীবনের প্রতি কী তার দায়বদ্ধতা। সমাজের সকল অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন এক সদাজাগ্রত প্রতিবাদী মুখ । সেই মুখ আজ নীরব হয়ে গেল । শব্দহীন হয়ে গেল । কে এখন দেবে সমস্ত ক্ষতের মুখে পলি !

 

পঞ্চাশের দশকের প্রধান কবিদের কবিতায় যখন আত্মজৈবনিক রূপরেখা প্রবল ভাবে ছায়াপাত ঘটাচ্ছে তখন সেই দশকেরই আর এক প্রধান কবি শঙ্খ ঘোষ-এর কবিতায় আমরা কবিতার বিশুদ্ধ ইঙ্গিতময়তার  কোনো অভাব খুঁজে পাই না । এই যে তিনি সমকালীনের সঙ্গে পথ চলে বুকের মধ্যে আবহমানতাকে আগলে রাখার নিপুণতা রপ্ত করে নিলেন সেই তরুণ বয়সেই তা-ই তাঁকে পাঠকের মুগ্ধতা উপহার দিতে লাগল দশকের পর দশক । কবিতায় তাঁর দ্বৈতসত্তার চলাচল । এক সত্তা প্রকাশমান , এক সত্তা নিহিত 

 এক সত্তা তথাগত , এক সত্তা ভাসমান । তাঁর ‘দ্বা সুপর্ণা’ কবিতাটি পড়া যেতে পারে—


"এমন জটিলঝুরি সমকালীন 

সব জায়গায় থাকি, আমার 

অন্য একটি পাখি কেবল আড়াল ক’রে রাখি।"


দ্বা সুপর্ণা সযুজা সখায়া 

সমানং বৃক্ষং পরিষস্বজাতে। 


 শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ জানাচ্ছে আসক্ত পাখি ফল খায় , নিরাসক্ত পাখি উপোস দেয়। জীবাত্মা সুখদুঃখের চক্রে আবদ্ধ । পরমাত্মা নিরাসক্ত তথাগত। জীবাত্মা ভাসমান। স্বামী বিবেকানন্দের ভাষায়—“ অনাসক্তি হল প্রচন্ড কর্মব্যস্ততার মধ্যেও নিবিড় বিশ্রাম”। পঞ্চাশের বহুচর্চিত স্বীকারোক্তির কবিতাগুলির পাশে শঙ্খবাবুর ‘প্রতিহিংসা’ কবিতাটিকে রেখে ঐ দ্বিত্বকে বুঝে নিতে চাইব । যুবতী শুধু প্রেমের কথা বলে। পঞ্চাশের অন্যান্য কবিরা প্রেমে সোচ্চার ছিলেন , প্রেমিকারা ততটা নয়। এই কবিতায় যুবতীই প্রেমে উচ্চকিত। পুতুলনাচের ইতিকথার কুসুমের বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে। কথক বা প্রেমিক বা আমি পরিবর্তে শরীর ভরে আগুন ঢেলে দেয় । প্রেমজ আগুন বা প্রেমরহিতও হতে পারে। কবিতার নাম যখন প্রতিহিংসা তখন প্রেমবিযুক্ত প্রাণিজ প্রবণতার দিকেই অনুমানের অভিমুখ চলে যায় ।

সমগ্র কাব্যগ্রন্থটিতে ( নিহিত পাতালছায়া ) সামাজিক মানুষ হয়ে সংসারে বেঁচে থাকার আগ্রহ প্রবল ভাবে দেখতে পাই । কিন্তু তবু এক ভয় কাজ করে । মৃত্যুর ভয় ততটা নয় যতটা খসে পড়ার ভয় । “ কাল যে-ঘরে ছিলাম, আমি যে-ঘর ছেড়ে গিয়েছিলাম / কোথায় সেই ঘর” ? খসে পড়ার ভয়ের লক্ষণ স্পষ্ট । বলছেন-“ যেখানে আমার কবর হবে আজ সেখানে জল দিতে ভুলে গিয়েছি” । কবর কী তলিয়ে যাওয়াকে আশ্রয় দেয় ! পেতে চাইছেন আরো কিছু নিজস্বতা , আরো কিছু অজ্ঞাত সময় । এভাবেই তিনি উপগত সময়ে দাঁড়িয়ে অজ্ঞাত সময়ে খসে যাওয়াকে বাঁচাতে চাইছেন।




আরও  পড়ুন 👇👇👇




https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/04/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_49.html






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন