ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব- ১৪)
নেপথ্য সংগীতের আড়ালে
অনন্যা দাশ
২৪.
“তোমরা একেবারে কোন কাজের নয়!”
“এটাতে আমাদের কোন হাত ছিল না সাহেব। ওই ছাগলচড়ানো ছোকরা কিভাবে দেখতে পেয়ে গিয়ে সব গণ্ডগোল হয়ে গেল। তাও তো আমরা ধরা দিইনি সাহেব। আমি আর নকুল তো পালাতে পেরেছি। তাই ওরা কিছু জানতে পারেনি।”
“মূর্খ! তোমাদের হাতের ছাপ চারিদিকে। তোমাদের একজনের মুখ ওরা সবাই দেখেছে। আর অপরাধের তালিকা তো দুশো হাত লশ্বা তোমাদের দুজনেরই। তাই কে ছিল বুঝতে আর ওদের বেশি সময় লাগবে না। পুলিশরা বোকা নয় মোটেই, ওদের বোকা ভেব না। এখন চুপ করে ঘাপটি মেরে বসে থাকো কিছু দিন। ওই ছেলেটার পিছনেও যেতে হবে না কারণ ওখানেও পুলিশ যাবে। তোমাদের মতন মূর্খের দলকে নিয়ে কাজ করতে গেলে অনেক ঝামেলা হবে সেটা আমার বোঝা উচিত ছিল।”
“সাহেবজি, আমাদের টাকাটা?”
“টাকা? কিসের টাকা?”
“কেন ওদের ধরে কেল্লায় নিয়ে গেলাম, অনেক পেট্রল খরচা হল, গাড়িটাও তো ...”
“ঠিক আছে আর ভ্যাজভ্যাজ করতে হবে না। কিছুদিন বাদে ব্যাপারস্যাপার একটু শান্ত হলে একদিন রাতের দিকে এসে টাকা নিয়ে যেও। তার আগে আর তোমাদের দুজনকে এই তল্লাটে দেখতে চাই না আমি।”
২৫.
মামার কাছে টাকা নিয়ে জিকো ইন্টারনেট ক্যাফেতে গিয়ে বসল। কি ভাগ্যিস কেকাটা পিছন পিছন চলে আসেনি! সবসময় উকি ঝুঁকি, আড়ি পাতা! কিছু দেখতে গেলেই মাকে গিয়ে বলে দেবে! বন্ধু শৌনককে একটা বড়সড় ইমেল করল জিকৌ। তারপর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটা খুলল। মামা অবশ্য বলে দিয়েছেন যে ওই ঘটনাটার কথা ফেসবুকে না লিখতে তাই কিছু লেখা গেল না। অন্যরা কে কি লিখেছে একটু দেখছিল জিকৌ। প্রমিলামাসির ছেলে অয়ন ওর নতুন ফেসবুক বন্ধু হয়েছে। সে কি একটা শেয়ার করেছে সেটা দেখতে গিয়ে চমকে উঠল জিকো! ওখানেই “মামা” বলে চিৎকার করতে যাচ্ছিল, তারপর মনে পড়ল আরে ও তো সাইবার ক্যাফেতে রয়েছে। যে লোকটা দেখাশোনা করার জন্যে বসে ছিল তাকে জিকো বলল, “আমাকে একটু বাইরে যেতে হবে একজনকে ডেকে আনতে কিন্তু আমার সময় এখনও শেষ হয়নি। আমি এই যাবো আর এই আসব। আমাকে আবারইন্টারনেটে ঢুকতে দেবেন তো? আর পয়সা নেবেন না তো?”
লোকটা মাথা নেড়ে জানাল যে আর পয়সা নেবে না।
জিকো ছুটে গিয়ে হোটেলের তিনতলায় মামার ঘরটায় গেল। যা ভেবেছিল তাই, সবাই ওখানে বসে গল্প করছে।
“মামা এক্ষুনি এসো!”
ওর কথা বলার ধরন দেখে সবাই বেশ ঘাবড়ে গেল।
“কি হয়েছে?”
“কিছু হয়নি, ইন্টারনেটে একটা জিনিস দেখাবো।”
সবাই সেটা শুনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বলল, “ও কম্পিউটারে--!”
জিকো মাঝে মাঝেই মামাকে এটা সেটা হাবিজাবি দেখায় কম্পিউটারে ।
“তা অমন ছুটছিস কেন বাবা?”
“সময় শেষ হয়ে যাবে তো!”
“ও আচ্ছা তাই বল। আগি ভাবছিলাম কি না কি হল আবার!”
মামা উঠে ওর সাথে যেতেই জিকো বলল, "মামা এটা সাংঘাতিক, বিশাল, একেবারে ভয়ঙ্কর ক্লু!”
“অত বিশেষণ দিতে হবে না আর, কি হয়েছে সেটা বল!”
“চলো না দেখবে! আমি মনে হয় রহস্য ভেদ করে ফেলেছি!”
জিকো ফেসবুকটা খুলে মামাকে অয়নের শেয়ার করা খবরটা দেখাল।“পি বি এস-টা মনে হয় প্রিয়ব্রত সেন, তাই না মামা?”
"হ্যাঁ, তাই তো মনে হচ্ছে। ওরে জিকো এটা তো সত্যি সাংঘাতিক। যাক্ এবার অন্তত তুই বাড়িয়ে বলিসনি। আমাকে এখুনি কয়েকটা ফোন করতে হবে। তুই এটার একটা প্রিন্ট আউট জোগাড় কর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।”
জিকোর সুখে একটা তৃপ্তির হাসি ছড়িয়ে পড়ল। কেকা ডীপ ফ্রিজ থেকে পাথরটা বার করার পর থেকেই ওর নিজেকে
খুব বোকা বোকা মনে হচ্ছিল। কাগজটা তো টেবিলের উপরেই পড়েছিল অথচ ওর খেয়াল হল না! যাক এই খবরটা গেয়ে মনে শান্তি হয়েছে।
“প্রিয়ব্রত? আমি সাগরদা বলছি।”
“হ্যাঁ, বলো সাগরদা। পুলিশের লোক এসেছিল। ওরা খুলিটা নিয়ে গেছে। লেটার বক্স পরীক্ষা করে বলেছে মনে হয় রক্ত
নয়, টমেটো সস! তবে শুকিয়ে গিয়ে ঠিক রক্তের মতন লাগছিল। তা তুমি আসবে না? আমি তো তোমার আসার অপেক্ষা
করছিলাম?”
“না, আজকে আর ওদিকে যাওয়া হবে না। অনেক কিছু ঘটে গেছে ইতিমধ্যে, সেসব পরে তোমাকে বিস্তারিত বলব। তা
তুমি কি একবার বাণী পার্কে আসতে পারবে? মানে এলে খুব ভাল হয়।”
“বাণী পার্ক? সেটা অনেকটাই দূরে ... বাণী পার্কে কোথায়?”
“দাঁড়াও ঠিকানাটা দিচ্ছি” বলে মামা ওকে নোটবই থেকে পুরো ঠিকানাটা পড়ে শোনালেন।
“কী হয়েছে একটু বলবে?”
“এখন সবকিছু খুলে বলার সময় নেই তবে তুমি ছটার মধ্যে ওখানে পৌছে যাওয়ার চেষ্টা করো। আর কোন ভয় নেই তোমার কিছু হবে না! আচ্ছা আরেকটা কথা, জিকো ফেসবুকে একটা ব্যাপার দেখেছে, সেই দরকারি কথাটা তোমার কাছে যাচাই করে নিতে চাই।”
চলবে...
আরও পড়ুন 👇👇👇
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/03/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_3.html

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন