দীর্ঘ কবিতা
নগর সংকীর্তন
পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়
কল্লোলিনী তিলোত্তমা –
কত জল কত স্বচ্ছ স্বাদু জল
অবিরত বয়ে যায়
নষ্ট হয়ে যায়।
ফুটপাথের ধারে
শহুরে গরিবগুরবো ব্যবহার করে
তবে যত্ন জানে না,
তাদের অনেকেই আজ
পুঁথিপোড়ো তোতাপাখি
‘জলই জীবন’ এইপ্রজ্ঞা
উগলে দেয় পরীক্ষার পাতায়
নীল-সাদা আলোর মালায়
বাসস্টপে বিজ্ঞাপনে
অতিকায় সরকারি হোর্ডিংয়ে
মহাত্মা মহাজন সব
এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
সাক্ষী হয়ে দেখে যান নির্বাক বেদনায়।
ভোট আসে। ভোট যায়।
তিথি লগ্ন কিছুই মানে না।
তবু জল, মিষ্টি শীতল জল
অনর্গল বয়ে যায়। নষ্ট হয়
নর্দমায় কলরোল তুলে...
চায়ের কাপে তুফান ওঠে।
কেউ বলে উত্তরে বেশি
তুলনায় দক্ষিণে কম।
প্রতিপক্ষ যদিও অন্য মত পোষণ করে।
তৃতীয় নিরেপেক্ষ কণ্ঠ
উদাসীন দাবী তোলে –
এই দুই পর্যবেক্ষণ আংশিক সত্য,
উলটো হতে পারে
বা পালটে যেতে পারে।
এই ভাবে মেরুকরণের বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়...
ভোট আসে। হাওয়া সরগরম।
তিথি লগ্ন কিছু না মেনেই
চলে যায় আবার
যেন অন্য কোনো ঋতুচক্রের নিয়মে।
এত যে অপচয়, এত ক্ষয়ক্ষতি
তার কতটা বা বহিরাগত ঢেউ
কতটাই বা অন্তর্গত ক্ষরণ
এইসব নিহিত প্রশ্নের দ্বন্দ্বে
দ্বিধায় বিভক্ত হতে হতে
বিপন্ন ছায়াটি সাঁৎ করে ক্রুর দ্রুততায়
গলিঘুঁজি পেরিয়ে এসে
বর্তমানে শেয়ালদা স্টেশন অভিমুখী...
রাত্রি তখন যৌবনের উচ্ছলতা হেতু
কল্লোলিনী। যথারীতি আলোকোজ্জ্বল।
ঘর ডাকে আয় আয়
এসময় প্রত্যাবর্তনের
দিনকাল বদলে যাচ্ছে দ্রুত
পরিবেশ পরিস্থিতি যথেষ্ট পরিবর্তিত।
তোকেও যে মুছে নিতে হবে
দূষণের চিহ্ন-গন্ধ
বিন্দু বিন্দু লালারসত্রাস।
রাতপরী ঘরে ফিরবে কিনা
সেই অপ্রাসঙ্গিকতা ভুলে
ফিরে আয় শহরে ছাড়িয়ে।
এসময় প্রত্যাবর্তনের
এবং অবশ্যই কালের নিয়ম মেনে
এসময় পরিবর্তনকামী।
কল্লোলিনী তিলোত্তমা –
কত কাচের মতো স্বচ্ছ জল
অবিরত অনর্গল
বয়ে চলেছে জটিল ধারায়
সম্ভবত উৎসের সন্ধানে...
----------------------------------------------------------------
আপনিও আপনার মৌলিক অপ্রকাশিত লেখা পাঠান ।
মতামত জানান।
ankurishapatrika@gmail. com
----------------------------------------------------------------


অপূর্ব।
উত্তরমুছুনখুবই প্রাসঙ্গিক এবং হৃদয়বিদারক। অপূর্ব লেখা।
উত্তরমুছুনঅন্তর্ভেদী দৃষ্টি। চালিয়ে যা পার্থ।
উত্তরমুছুনসময়োপযোগী
উত্তরমুছুন