লেবেল

বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-১১) ।। নেপথ্য সংগীতের আড়ালে - অনন্যা দাশ

 



ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-১১  

নেপথ্য সংগীতের আড়ালে

অনন্যা দাশ    




১৮.

“বিষের ইনজেকশান দিয়ে তথাগত লাহিডিকে খুন করা হয়েছে। এবং ধূর্জটিবাবু যে ওর বাড়ি গিয়েছিলেন সেটা তো আমি

নিজের কানে ওকে বলতে শুনেছি। তাছাড়া বাডিওলাও  একজনকে গলিপথ দিয়ে যেতে দেখেছেন এবং সেই বিবরণ ধূর্টিবাবুর সাথে মিলে যাচ্ছে। আমার আর মনে হয় না কাল উদয়পুর যাওয়া হবে ,” মামা বললেন।

মার তো সেটা শুনেই ভীষণ মন খারাপ, “এই সব খুনে ডাকাতদের মধ্যে তুই একলা থাকবি আমি তো দু দণ্ড কোথাও

শান্তি পাব না!”

“আমি তে হোটেলে রয়েছি আমার কিছু হবে না। অফিসের দুজন বড় সাহেব আসছেন। আমাকে তো থাকতেই হবে।

দেখি এয়ার লাইন কম্পানির সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করি ফ্লাইট নিয়ে।”

বাবা হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন,”ধূর্জটিবাবু তথাগত লাহিড়ির মৃত্যু নিয়ে কি বলছেন?”

“উনি তো বলছেন যে উনি তথাগতর কাছে গিয়ে ছিলেন ওকে সাক্ষী হতে অনুরোধ করতে। উনি বলেছেন আমি ওকে বললাম, “তোমার কি মনে পড়ছে না যে আলো যখন যায় তখন আমার হাতে মণিটা ছিল না?' কার হাতে ছিল ঠিক সেটা উনি বলতে পারেননি অবশ্য। তথাগত তখন বাঁকা গথ নেয়। বলেন “কি মনে পড়ছে কি পড়ছে না সেটা তো৷ বলতে পারব না তবে মনে পড়াতে পারি। মনে পড়াবার জন্যে আপনি কি করতে পারেন?  ধূর্জটিবাবু তখন বলেন, 'আমার তো অনেক টাকা এই জামিন দিতেই বেরিয়ে গেল আর ক্রমাগ্ত উকিলের খরচ তো আছেই, তাও তুমি যা বলবে আমি দিতে চেষ্টা করব'।” 


এতটা শুনে অখিলবাবু চোখ গোল গোল করে বললেন, “ব্ল্যাকমেল?”

"হ্যাঁ, তথাগতবাবু মনে হয় আরো কিছু লোককে ওই এক কখা বলেন আর সেই জন্যেই ওনার ওই পরিণতি হয়েছে। যাইহোক তারপর তথাগতবাবু একটা বড়সড় অঙ্ক হাঁকেন।ধূর্জটিবাবু তখন সেটা দেওয়ার কথা দিয়ে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে যান। বাড়িতে ঢোকার সময় বাড়িওলার স্ত্রী ওনাকে দেখেন কিন্তু উনি বলেছেন যে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কেউ বাইরে

ছিল না। ওনার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে উনি বেরিয়ে যাওয়ার পর কালনাগ ঢোকে এবং তথাগতকে খুন করে বেরিয়ে যায়। কেউ ওর ঢোকা এবং বেরনো কোনটাই দেখেনি। আর তা না হলে ধূর্জটিবাবুই কালনাগ। শুধুমাত্র অঙ্গদের ব্যাপারটা ছাড়া আর সব জায়গায় ধূর্জটিবাবু কিন্তু ফেঁসে যাচ্ছেন বলে আমাদের বেশ মুশকিল হয়েছে। আর ওনার যে কৌন সাঙাত নেই তারও তো কোন প্রমাণ নেই”


১৯.

প্রিয়ব্রতর মনটা আজ বেশ হালকা লাগছে। আজ কলেজ করে বেশ ভাল লাগছে। অনেকদিন বাদে কলেজে গেল সে।

কেন যে ভয়টা ওকে অমন পেয়ে বসেছিল। কনফিউশিয়াস বলেছিলেন, “নিজের হৃদয়টাকে পরখ করে দেখো যদি সেখানে কোন ভুল কিছু না পাও তাহলে ঘাবড়াবার কি আছে বা ভয় পাওয়ার কি আছে?” কথাটা খুব ভাল লেগেছে প্রিয়ব্রতর। বার বার ওটাকে পড়ে নিজেকে শক্তিমান মনে হচ্ছে। সে তো খারাগ কিছু করেনি তাহলে ওর ভয়ের কি আছে! তারপর সাগরদা তো বলেছিলেন পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন এবং পরে ফোন করে বলেছেন যে কথা বলেছেন এবং পুলিশে ওর কেসটা খতিয়ে দেখবে বলেছে। 

বডিগার্ড দিতে পারবে না ওরা ওদের লোকবলের অভাব বলে, তা ঠিক আছে। ওরা যে এই ব্যাপারটাকে শেষ পর্যন্ত পাত্তা

দিয়েছে সেটাই অনেক। বেশ একটা উৎফল্ল ভাব নিয়েই বাড়ি ফিরেছিল প্রিয়ব্রত। লেটার বক্সের চাবিটা পকেটের চাবির গোছা থেকে বার করে লেটার বক্সটা খুলল প্রিয়ব্রত। যদিও ওর নামে তেমন চিঠি কিছু আসে না তাও। অনেকদিন এই সব স্বাভাবিক কাজগুলো করা হয়নি। লেটার বক্সের ভিতরটা দেখেই চমকে উঠল সে। ওমা ভিতরে কি হয়েছে! ভাগ্যিস হাত দেয়নি সে! চিঠিগুলো গাঢ় লাল রক্তে মাখামাখি! গাটা কেমন জানি গুলিয়ে উঠল প্রিয়ব্রতর। এরা কারা? কি চায়? তারা কি ওকে স্বাভাবিক হতে দেবে না কোনো দিনও? 

বাঁ হাতে মোবাইল ফোনটা বার করে সাগরদাকে ফোন লাগাল প্রিয়ব্রত কিন্তু উনি মনে হয় অন্য কারো সঙ্গে কথা বলছেন। মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল। ঘরে গিয়ে ব্যাগটা রাখতে শোওয়ার ঘরে ঢুকে যা দেখল তাতে মনটা আরোই দমে গেল। খাটের ওপর ওর বালিশে মাথা দিয়ে শুয়ে রয়েছে একটা খুলি! তবে ঘুম থেকে চোখ খুলে দুটো লোককে দেখে যে রকম ভয় পেয়েছিল সেই রকম ভয় কিন্তু পেল না প্রিয়ব্রত। চিৎকারও করল না। মনে মনে বরং ভাবল যাক তাহলে অশরীরী কিছু নয়। ওর মাথাও খারাপ হয়ে যাচ্ছে না। বোতামের মতন এটাও একটা প্রমাণ যে, কেউ ওর ঘরে ঢুকেছিল। এখন প্রশ্ন কে ওর ঘরে ঢুকেছিল এবং কেন। ঘরে থাকবে না বেরিয়ে যাবে ভাবছিল সে, এমন সময় মোবাইলটা বেজে উঠল, যাক্‌ সাগরদা ফোন করেছেন!



চলবে...



----------------------------------------------------------------------------------

অঙ্কুরীশা-র পাতায় এই ধারাবাহিকটি প্রতি শুক্রবার ক্লিক করে পড়েনিন। মতামত জানান।


ankurishapatrika@gmail. com


----------------------------------------------------------------------------------


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন