ভালোবাসার গল্প
কার কাছে হৃদয়
শ্রাবণী বসু
১.
অষ্টাদশী মেয়েটির গা চুঁইয়ে তেল গড়িয়ে পড়ছে। হ্যাঁ , কোনো ভনিতা না করেই বলা যায় মেয়েটির গায়ের রং পিচ রাস্তার মতো কালো।
মাথার চুল থেকে ভকভক করে উড়ে আসছে করঞ্জার তেলের গন্ধ। গায়ের রঙের মতোই চকচক করছে তার চুল।
চুলটা কপালের উপর চিরুনির সাহায্যে নামিয়ে এনেছে। চলতি ভাষায় এই চুল আঁচড়ানোকে বলে,পেটি পেড়ে চুল আঁচড়ানো।প্রশস্ত ললাটকে ক্ষুদ্র দেখানোর এইটি একটি সূক্ষ্ম প্রয়াস।
চুলটাকে কানের ওপর দিয়ে ঘুরিয়ে পিছনে টেনে এনে আঁটোসাঁটো করেছে একটি আলগা খোঁপা বেঁধেছে টুয়া।
পরণে গোলাপি সালোয়ার। সাদা একটা ওড়না কোমর থেকে পেঁচিয়ে বুকের ওপর সাপের মতো করে জড়িয়ে রেখেছে।
অবাধ্য বক্ষের ঔদ্ধত্যকে ঢেকে রাখার নিখুঁত চেষ্টা করা হলেও সেকাজে সে চরম ব্যর্থ। যৌবন বর্ষার নদীর মত প্রকট।
মাটিতে ঝুঁকে পড়ে মেয়েটি একখানি লাল টকটকে রুদ্র পলাশ কুড়িয়ে নিয়ে খোঁপায় বেঁধে নিলো।
মকবুল ফিদা হুসেন এখানে উপিস্থিত থাকলে নির্ঘাৎ রঙ তুলির টানে এই মুহূর্তটাকে অমর করে রাখতেন।
অথবা যদি রামকিঙ্কর বেইজ থাকতেন , জাদুস্পর্শ দিয়ে কিশোরী নদীটির প্রতিটি বাঁকের সুস্পষ্ট চিহ্ন রেখে দিতেন নিখুঁত ভাস্কর্য নির্মাণ করে।
মাটির ওপর পড়ে থাকা একটা সরু লম্বা কাঠি হাতে তুলে নিয়ে সেটা শূন্যে ঘোরাতে ঘোরাতে টুয়া বাড়ি ফিরলো।
২.
আমি এখানে নবাগত। রেলের চাকরীতে ট্রান্সফার নিয়ে পলাশতলীতে এসেছি।
যেদিকে চোখ ফেলছি , রাশি রাশি পলাশ ফুটে আছে। হয়তো কখনো শিমূল গাছও ছিল ,তাই অমন নাম জায়গাটির।
টুয়াকে আমি চিনি। সদ্য আলাপ হয়েছে। যেদিন প্রথম রেল কোয়ার্টারে মালপত্তর নিয়ে এসেছি সেদিন টুয়া ওর মায়ের সাথে এসেছিল।
ওর মায়ের কাছে স্টেশনমাস্টার চাবি রেখেছিলেন।স্টেশনমাস্টার ছুটিতে আছেন।টুয়ার বাবা রেলের চতুর্থশ্রেণীর কর্মী। ঘটনাচক্রে টুয়ার বাবাও এখন বাইরে।সেই কারণেই চাবি নিয়ে টুয়ার মা এসেছিল।সঙ্গে টুয়া।
টুয়াকে দেখে আমার সারা শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেছিল। আমি কলকাতার ছেলে। চোখ ট্যারা করে দেবার মতো রূপসী আমি বহু দেখেছি। অথচ এমন কোনোদিন হয়নি।
টুয়ার মধ্যে একটা বন্য সৌন্দর্য আছে। করঞ্জার তেলের চড়া গন্ধ নাকে লাগলো।নাম না জানা বুনো ফুলের মতোই মাতাল করা সে গন্ধ।
যুবতী মহিলা দেখে আমার কোনোদিন নিজেকে এমন মাতাল মনে হয়নি এর আগে।আমি লোভী নই।কিন্তু আমি পুরুষ ।সেদিন বিশেষভাবে টের পেলাম।
যাইহোক ,নিজের দুর্বলতাকে আড়াল করতে পেরেছি শহুরে কৌশল দিয়ে।
চাবিটা দিয়ে আর সাধারণ কয়েকটা কথা বলে মা-মেয়েতে চলে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যে সন্ধ্যা নামতেই গোটা গ্রামটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
একটানা ঝিঁঝিঁর ডাক কানে তালা ধরিয়ে দিচ্ছে।কলকাতার কলতান হাত ছানি দিয়ে ডাকছে। মাথার ভিতরটা ঝিমঝিম করছে।
৩.
এখানে আসার সময় সুমী ক্যামেরাটা ব্যাগে ভরে দিয়েছে। সুমী আমার হবু স্ত্রী। দুই পরিবারে অবাধ যাতায়াত। হঠাৎ এ রকম গন্ডগ্রামে বদলীর অর্ডার হওয়াতে যাতে আমি বোর ফিল না করি তাই সে আমার শখের ডি এস এল আর ক্যামেরাটা ব্যাগে ভরে দিয়েছে।
সত্যি কাজে লাগছে ।এখানে বিনোদনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। সময় পেলে চড়াই উৎরাই পথে হেঁটে আসি।ঘাড়ে ক্যামেরাটা থাকে। প্রচুর ছবি তুলেছি এই কদিনে।
৪.
আজ সরস্বতী পূজা। মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথি। হালকা চাঁদের আলো মাথার উপর লণ্ঠনের মতো ঝুলে আছে। ঘরে থাকতে ইচ্ছে করছে না।
একটা সিগারেট ধরিয়ে বেরোবো বলে ভাবছি।
আসলে ঘরে চাল নেই। কাজেই বেরোতেই হবে।
সুমী ফোন করেছে। এমন সময় সুমী ফোন করে না তো? কোনো অঘটন না কি? ভাবতে ভাবতে ফোনটা রিসিভ করলাম।
সুমী খুব ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
সুমীর দাদা জোর করে তার বসের লম্পট ছেলের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেছে।
ভাই,বোন,বাবা ,মা সকলেই তার রোজকারে খায় । চাকরিতে উন্নতি করার জন্য বসের অন্যায় আবদারেতে তার দাদা রাজী হয়ে গেছে।এবং দাদার মুখের উপর কেউ কথা বলতে পারেনি।
৫.
এমন পরিস্থিতির জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমি কী করবো ,কী করা উচিৎ সব গুলিয়ে গেল।
সুমীকে শান্ত করার জন্য বললাম, মেনে যখন নিতেই হবে আর কী করবে।সুখে থেকো।ভালো থেকো। এ জন্মে আমাদের মিল হলোনা ।ভাগ্যের এটাই হয়তো লিখন।
৬.
মনটা খুব খারাপ। বসে বসে একটার পর একটা সিগারেট খাচ্ছি। চোখ দিয়ে আগুন বেরোনোর মতো জ্বালা করছে।হয়তো কাঁদতে পারলে জ্বালা কমতো।
টুয়া একটা চিঠি আমার হাতে পৌঁছে দিতে এসেছে। ভদ্রতার খাতিরে ভেতরে আসতে বলা উচিৎ কিন্তু সেটা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছিনা।
না, থাক...। ও বরং চলেই যাক।যা ভাববে ভাবুক গে।
টুয়া এদিক ওদিকে দেখতে দেখতে ঘরে ঢুকে ক্যামেরাটা দেখতে লাগলো।
এত্তো বড় ক্যামেরা ? কেন? প্রশ্ন করলো।
অতি সংক্ষেপে বললাম,ছবি তোলার জন্য।
সঙ্গে সঙ্গে বললো,আমার ছবি তুলে দাও তাহলে?
একদম মুড ছিলো না।কিন্তু মুখের ওপর না বলতে পারিনি।
টুয়া আলগা খোঁপাটা তৎক্ষণাৎ খুলে দিলো। লম্বা চুলের ঢাল কোমর পেঁচিয়ে ধরলো সাপের মতো।
বাম পা-টা ডান পায়ের কাছে এনে দেহটাকে ভেঙেচুরে মহেঞ্জোদারোর নৃত্যরতা নারীর মতো করে দাঁড়ালো। হাত দুটো তার দেহের অনুপাতে লম্বা।
হাজার হাজার বছরের সেই নারীকে আমার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছি।
সেই মুহূর্তে আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো ময়াল সাপ হয়ে যেতে। চাপ দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে।একটু একটু করে গিলে খেতে।
কী হলো? ছবি তুলে দাও?
ওর সরল বিশ্বাসে আমার লোভের নিঃশ্বাস পড়তে পারলো না।
আমি তার কপালের কুচো চুল আঙুল দিয়ে গুছিয়ে দিলাম।
টুয়া আজ শাড়ি পরেছে। শাড়ির আঁচলখানা বুকের ওপর ঠিক করে রেখে দিলাম।তার পায়ের কাজললতা নুপুর উল্টে গেছিলো।হাত দিয়ে সোজা করে দিলাম।
ছবি তোলা হলো। টুয়া ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো, চিঠিটা দিয়ে গেলাম। হারিয়ে ফেলো না।
৭.
আমার কপাল ভালো ।কলকাতায় একটা মিউচুয়াল ট্রান্সফারের অফার এসে গেল।চিঠিটাতে সেই খবরটাই ছিল।
বেশ কিছু চিঠি চালাচালির পরে কলকাতায় ফিরে এলাম।
টুয়ার ছবিটা আমার কাছেই আছে। ডিলিট করতে পারিনি।সুমীর ছবি কোনোদিন দেখিনি ওর বিয়ে হবার পর।কিন্তু টুয়ার ছবিটা...!
নিজেকে বহুবার প্রশ্ন করেছি ,সুমী না কি টুয়া ? টুয়া না কী সুমী। উত্তর পাইনি...
----------------'-----------------------------------------------------------------------
শ্রাবণী বসু
১.
অষ্টাদশী মেয়েটির গা চুঁইয়ে তেল গড়িয়ে পড়ছে। হ্যাঁ , কোনো ভনিতা না করেই বলা যায় মেয়েটির গায়ের রং পিচ রাস্তার মতো কালো।
মাথার চুল থেকে ভকভক করে উড়ে আসছে করঞ্জার তেলের গন্ধ। গায়ের রঙের মতোই চকচক করছে তার চুল।
চুলটা কপালের উপর চিরুনির সাহায্যে নামিয়ে এনেছে। চলতি ভাষায় এই চুল আঁচড়ানোকে বলে,পেটি পেড়ে চুল আঁচড়ানো।প্রশস্ত ললাটকে ক্ষুদ্র দেখানোর এইটি একটি সূক্ষ্ম প্রয়াস।
চুলটাকে কানের ওপর দিয়ে ঘুরিয়ে পিছনে টেনে এনে আঁটোসাঁটো করেছে একটি আলগা খোঁপা বেঁধেছে টুয়া।
পরণে গোলাপি সালোয়ার। সাদা একটা ওড়না কোমর থেকে পেঁচিয়ে বুকের ওপর সাপের মতো করে জড়িয়ে রেখেছে।
অবাধ্য বক্ষের ঔদ্ধত্যকে ঢেকে রাখার নিখুঁত চেষ্টা করা হলেও সেকাজে সে চরম ব্যর্থ। যৌবন বর্ষার নদীর মত প্রকট।
মাটিতে ঝুঁকে পড়ে মেয়েটি একখানি লাল টকটকে রুদ্র পলাশ কুড়িয়ে নিয়ে খোঁপায় বেঁধে নিলো।
মকবুল ফিদা হুসেন এখানে উপিস্থিত থাকলে নির্ঘাৎ রঙ তুলির টানে এই মুহূর্তটাকে অমর করে রাখতেন।
অথবা যদি রামকিঙ্কর বেইজ থাকতেন , জাদুস্পর্শ দিয়ে কিশোরী নদীটির প্রতিটি বাঁকের সুস্পষ্ট চিহ্ন রেখে দিতেন নিখুঁত ভাস্কর্য নির্মাণ করে।
মাটির ওপর পড়ে থাকা একটা সরু লম্বা কাঠি হাতে তুলে নিয়ে সেটা শূন্যে ঘোরাতে ঘোরাতে টুয়া বাড়ি ফিরলো।
২.
আমি এখানে নবাগত। রেলের চাকরীতে ট্রান্সফার নিয়ে পলাশতলীতে এসেছি।
যেদিকে চোখ ফেলছি , রাশি রাশি পলাশ ফুটে আছে। হয়তো কখনো শিমূল গাছও ছিল ,তাই অমন নাম জায়গাটির।
টুয়াকে আমি চিনি। সদ্য আলাপ হয়েছে। যেদিন প্রথম রেল কোয়ার্টারে মালপত্তর নিয়ে এসেছি সেদিন টুয়া ওর মায়ের সাথে এসেছিল।
ওর মায়ের কাছে স্টেশনমাস্টার চাবি রেখেছিলেন।স্টেশনমাস্টার ছুটিতে আছেন।টুয়ার বাবা রেলের চতুর্থশ্রেণীর কর্মী। ঘটনাচক্রে টুয়ার বাবাও এখন বাইরে।সেই কারণেই চাবি নিয়ে টুয়ার মা এসেছিল।সঙ্গে টুয়া।
টুয়াকে দেখে আমার সারা শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেছিল। আমি কলকাতার ছেলে। চোখ ট্যারা করে দেবার মতো রূপসী আমি বহু দেখেছি। অথচ এমন কোনোদিন হয়নি।
টুয়ার মধ্যে একটা বন্য সৌন্দর্য আছে। করঞ্জার তেলের চড়া গন্ধ নাকে লাগলো।নাম না জানা বুনো ফুলের মতোই মাতাল করা সে গন্ধ।
যুবতী মহিলা দেখে আমার কোনোদিন নিজেকে এমন মাতাল মনে হয়নি এর আগে।আমি লোভী নই।কিন্তু আমি পুরুষ ।সেদিন বিশেষভাবে টের পেলাম।
যাইহোক ,নিজের দুর্বলতাকে আড়াল করতে পেরেছি শহুরে কৌশল দিয়ে।
চাবিটা দিয়ে আর সাধারণ কয়েকটা কথা বলে মা-মেয়েতে চলে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যে সন্ধ্যা নামতেই গোটা গ্রামটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
একটানা ঝিঁঝিঁর ডাক কানে তালা ধরিয়ে দিচ্ছে।কলকাতার কলতান হাত ছানি দিয়ে ডাকছে। মাথার ভিতরটা ঝিমঝিম করছে।
৩.
এখানে আসার সময় সুমী ক্যামেরাটা ব্যাগে ভরে দিয়েছে। সুমী আমার হবু স্ত্রী। দুই পরিবারে অবাধ যাতায়াত। হঠাৎ এ রকম গন্ডগ্রামে বদলীর অর্ডার হওয়াতে যাতে আমি বোর ফিল না করি তাই সে আমার শখের ডি এস এল আর ক্যামেরাটা ব্যাগে ভরে দিয়েছে।
সত্যি কাজে লাগছে ।এখানে বিনোদনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। সময় পেলে চড়াই উৎরাই পথে হেঁটে আসি।ঘাড়ে ক্যামেরাটা থাকে। প্রচুর ছবি তুলেছি এই কদিনে।
৪.
আজ সরস্বতী পূজা। মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথি। হালকা চাঁদের আলো মাথার উপর লণ্ঠনের মতো ঝুলে আছে। ঘরে থাকতে ইচ্ছে করছে না।
একটা সিগারেট ধরিয়ে বেরোবো বলে ভাবছি।
আসলে ঘরে চাল নেই। কাজেই বেরোতেই হবে।
সুমী ফোন করেছে। এমন সময় সুমী ফোন করে না তো? কোনো অঘটন না কি? ভাবতে ভাবতে ফোনটা রিসিভ করলাম।
সুমী খুব ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
সুমীর দাদা জোর করে তার বসের লম্পট ছেলের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেছে।
ভাই,বোন,বাবা ,মা সকলেই তার রোজকারে খায় । চাকরিতে উন্নতি করার জন্য বসের অন্যায় আবদারেতে তার দাদা রাজী হয়ে গেছে।এবং দাদার মুখের উপর কেউ কথা বলতে পারেনি।
৫.
এমন পরিস্থিতির জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমি কী করবো ,কী করা উচিৎ সব গুলিয়ে গেল।
সুমীকে শান্ত করার জন্য বললাম, মেনে যখন নিতেই হবে আর কী করবে।সুখে থেকো।ভালো থেকো। এ জন্মে আমাদের মিল হলোনা ।ভাগ্যের এটাই হয়তো লিখন।
৬.
মনটা খুব খারাপ। বসে বসে একটার পর একটা সিগারেট খাচ্ছি। চোখ দিয়ে আগুন বেরোনোর মতো জ্বালা করছে।হয়তো কাঁদতে পারলে জ্বালা কমতো।
টুয়া একটা চিঠি আমার হাতে পৌঁছে দিতে এসেছে। ভদ্রতার খাতিরে ভেতরে আসতে বলা উচিৎ কিন্তু সেটা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছিনা।
না, থাক...। ও বরং চলেই যাক।যা ভাববে ভাবুক গে।
টুয়া এদিক ওদিকে দেখতে দেখতে ঘরে ঢুকে ক্যামেরাটা দেখতে লাগলো।
এত্তো বড় ক্যামেরা ? কেন? প্রশ্ন করলো।
অতি সংক্ষেপে বললাম,ছবি তোলার জন্য।
সঙ্গে সঙ্গে বললো,আমার ছবি তুলে দাও তাহলে?
একদম মুড ছিলো না।কিন্তু মুখের ওপর না বলতে পারিনি।
টুয়া আলগা খোঁপাটা তৎক্ষণাৎ খুলে দিলো। লম্বা চুলের ঢাল কোমর পেঁচিয়ে ধরলো সাপের মতো।
বাম পা-টা ডান পায়ের কাছে এনে দেহটাকে ভেঙেচুরে মহেঞ্জোদারোর নৃত্যরতা নারীর মতো করে দাঁড়ালো। হাত দুটো তার দেহের অনুপাতে লম্বা।
হাজার হাজার বছরের সেই নারীকে আমার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছি।
সেই মুহূর্তে আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো ময়াল সাপ হয়ে যেতে। চাপ দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে।একটু একটু করে গিলে খেতে।
কী হলো? ছবি তুলে দাও?
ওর সরল বিশ্বাসে আমার লোভের নিঃশ্বাস পড়তে পারলো না।
আমি তার কপালের কুচো চুল আঙুল দিয়ে গুছিয়ে দিলাম।
টুয়া আজ শাড়ি পরেছে। শাড়ির আঁচলখানা বুকের ওপর ঠিক করে রেখে দিলাম।তার পায়ের কাজললতা নুপুর উল্টে গেছিলো।হাত দিয়ে সোজা করে দিলাম।
ছবি তোলা হলো। টুয়া ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো, চিঠিটা দিয়ে গেলাম। হারিয়ে ফেলো না।
৭.
আমার কপাল ভালো ।কলকাতায় একটা মিউচুয়াল ট্রান্সফারের অফার এসে গেল।চিঠিটাতে সেই খবরটাই ছিল।
বেশ কিছু চিঠি চালাচালির পরে কলকাতায় ফিরে এলাম।
টুয়ার ছবিটা আমার কাছেই আছে। ডিলিট করতে পারিনি।সুমীর ছবি কোনোদিন দেখিনি ওর বিয়ে হবার পর।কিন্তু টুয়ার ছবিটা...!
নিজেকে বহুবার প্রশ্ন করেছি ,সুমী না কি টুয়া ? টুয়া না কী সুমী। উত্তর পাইনি...
----------------'-----------------------------------------------------------------------
এই পর্বে আপনিও আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা পাঠান।
ankurishapatrika@gmail.com
--------------------------------------------------------------------------------

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন