লেবেল

বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১

ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস ( পর্ব- ৯)।। নেপথ্য সংগীতের আড়ালে— অনন্যা দাশ

 



ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস ( পর্ব- ৯) 
নেপথ্য সংগীতের আড়ালে
অনন্যা দাশ      

১৩
ক্রিসমাসের সময় নিউইয়র্কের ফিফৃথ আ্যভিনিউ সাংঘাতিক জমজমাটি। বিশাল বিশাল নাম করা দোকানগুলো যা সাজিয়েছে দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। প্রতিটা উইত্ডোই অসাধারণ। এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায় দেখ। চারিদিকে একটা উৎসব উৎসব ভাব, হাসিমুখ স্যান্টারা বসে রয়েছে। প্রভাদেবী আর জয়দেব সিংহ হাঁ করে সব দেখছিলেন। আজকে ঠাাটা অপেক্ষাকৃতভাবে অনেকটা কম তাই অতটা কষ্ট হচ্ছে না। রাস্তায় প্রচুর ভিড়। জয়দেব সিংহ তো হেসে ভূষণকে বললেন, “এতো আমাদের দেশের মতন মনে হচ্ছে ওয়াক-সাইন আসলেই সবাই হু হু করে হাঁটছে, আমাদের না হাঁটলেও চলবে। ঠ্যালা খেয়েই রকেফেলার সেন্টার পৌঁছে যাবো!” একটা গয়নার দোকানের সামনে দিয়ে যেতে গিয়ে ওদের শে! উইন্ডেটায় চোখ পড়তেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন প্রভাদেবী।
“কি হল মা?” ভূষণ জিজ্ঞেস করল।
উনি আঙুল দিয়ে হারের দিকে দেখিয়ে দিলেন। জয়দেব সিংহও দাঁড়িয়ে দেখছেন, "যা, এ তো অবিকল তোমার সেই
হারটার মতন দেখতে 1”
ভূষণ বলল, “চলো গিয়ে জিজ্ঞেস করি।”
ভিতরে ঢুকে যে লোকটা ছিল তাকে জিজ্ঞেস করতে সে বলল "দাড়াও আমাদের ডিজাইনার কাম কারিগ্রর লাকিলি আজকে এখানেই আছে। আমি ওকে ডেকে দিচ্ছি”
একটু পরেই কারিগর মিস্টার সিম্পসান ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন। ওদের প্রশ্ন শুনে বদলেন, “ও হো, ওই ডিজাইনটা
আমি কি করে বানালাম জানতে চাও তোমরা? আমার মস্তিস্কপ্রসূত বলতে পারলে খুশি হতাম কিন্তু সেটা মিথ্যা বলা হবে। একমিনি্ট আমি আসছি।” বলে ভিতরে গিয়ে একটা বই নিয়ে এলেন।
“এই যে, এই ডিজাইনটা থেকে কপি করেছি আমি।”
ওরা আশ্চর্য হয়ে দেখলেন মিস্টার সিম্পসনের হাতে ধূর্জটি কর্মকারের লেখা “ প্রাইসলেস জেম্স অফ ইন্ডিয়া অ্যাণ্ড দেয়ার অ্যামেজিং স্টোরিজ*বইটা! সেখান থেকে গ্রভাদেবীর হারিয়ে যাওয়া হারের ছবিটা দেখাচ্ছেন তিনি। দোকান থেকে বেরিয়ে প্রভাদেবী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “কালনাগের লেখা বই নিউইয়র্ক পর্যপ্ত পৌছে গেছে ভাবলে অবাক লাগছে”

১৪,
“ওসি মিস্টার জৈন আছেন?” তথাগত লাহিড়ি ফোনে জিজ্ঞেস করলেন।
ওপাশ থেকে উত্তর এলো, “না, স্যার তো কাজে বেরিয়েছেন। দরকারি কিছু হলে আমাকে বলতে পারেন।”
“না, ঠিক আছে। আমি কালকেই না হয় ওনার সাথে কথা বলে নেবো”
ফোনটা ছেড়ে একটু ভাবলেন তথাগত। তারপর পকেট থেকে নোটবইটা বার করে আরেকটা নম্বর টিপতে লাগলেন।
“হ্যালো, সাগর দত্ত বলছি।”
“মিস্টার দত্ত, আমি তথাগত। তথাগত লাহিড়ি।” 

“হ্যাঁ, বুঝেছি। শেঠ কুন্দনলালের সেক্রেটারি। আমি ভাবছিলাম আপনার সাথে কিছু কথা বলব কিন্তু এদিকে অন্য কিছু
ঝামেলায় আর আপনার সাথে কথা বলা হয়নি। বলুন কি বলতে চান।”
“ফোনে বলতে চাই না। আপনি এখন একবার এখানে আসতে পারেন আমার বাড়িতে?”
“না সরি, সেটা মনে হয় সন্তব হবে না। আমরা সবাই আসলে জয়গড় যাওয়ার জন্যে রওনা হয়ে পড়েছি। আমি যদি পরে
শেঠজির বাঁড়িতে গিয়ে আপনাকে ধরি? তারপর না হয় চা খেতে একটু বেরিয়ে কথা বলা যাবে যদি আপনি একান্তই চান।”
একটু অস্বস্তি হল তথাগতর। কথাটা বলে দিতে পারলে ভাল হত। কাল রাত থেকে খচখচ করছে। একটা অজানা ভয়
দানা বাধছে। যাক গে এই তিন চার ঘন্টায় আর কি হবে।
“ঠিক আছে আপনি আসুন ওখানেই। আমি শেঠজির কাছে পারমিশান নিয়ে রাখব।”
“কি নিয়ে কথাটা যদি একটু বলেন।” 
“কি নিয়ে আবার ওই মণিটাকে নিয়েই। একটা জিনিস আমার হঠাৎ মনে হল এবং সেটা মনে হবার পর থেকেই বুঝতে
পারছি যে সবাই সত্যি কথা বলছে না!”
“সবাই যে সত্যি কথা বলছে না সেটা তো আমিও আঁচ করতে পারছি। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল আমরা কি একই লোকের
কথা ভাবছি নাকি আপনি অন্য কারো কথা ভাবছেন আর আমি অন্য কারো কথা ভাবছি”
“দাঁড়ান দরজায় কেউ একজন বেল দিচ্ছে। দেখি কে এলো।” 
“ও ধূর্জটিবাবু আপনি! আচ্ছা সাগরবাবু আমি এবার ছাড়ছি। হ্যাঁ, পরে কথা হবে।”

১৫.
ফোন ছেড়ে মামা বললেন, ধূর্জটিবাবুকে জামিনে ছেড়েছে মনে হয়। অরিন্দম অবশ্য চেষ্টা করছিল আপ্রাণ।”
জিকো জানতে চাইল, “কি করে বুঝলে? উনি ফোন করেছিলেন নাকি?”
“না, তথাগত লাহিড়ি ফোন করেছিলেন এবং আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই দরজায় ধূর্জটিবাবু হাজির তাই ওঁকে
ফোনটা রাখতে হল। আজ বিকেলে শেঠজির বাড়িতে যেতে হবে ওনার সাথে দেখা করতে।”
“হ্যাঁ, আমি সেটাই ভাবছিলাম যে তথাগতবাবুর সঙ্গে আপনি কথা বলছেন না কেন” অখিলবাবু বললেন।
“সেদিন শেঠভির ব্যবহার তো দেখলেনই! তারপর যদি বলতাম তথাগতবাবুর সঙ্গে কথা বলব তাহলে লাঠিপেটা করে
তাড়াতেন আমাদের।” 
“তা আর কিছু বললেন উনি?” 
“ওঁর কিছু একটা মনে পড়েছে এবং তাই দিয়েই উনি বুঝতে পারছেন যে সবাই সত্যি কথা বলছে না?”



“সেটা আর নতুন কি? সেটা তে৷ আমরাও বুঝতে পেরেছি। অজিত পাঠকের কাছে পাথরটা ছিল যখন আলো যায় সেটা
উনি লোকাতে চাইছেন।”
“হ্যাঁ, উনিও অজিত পাঠকের কথা বলছেন কিনা সেটাই যাচাই করে দেখতে হবে। তুই তোর লিস্টটা আপডেট করে
যাচ্ছিস তো জিকো?”
“হ্যাঁ, করছি তো। কিন্তু মোটিভগুলো ঠিক ডিটেলে জানি না,” বলে জিকো ব্যাক প্যাক থেকে খাতাটা বার করে দেখাল।
“হ্যাঁ, ওগুলো কয়েকটা আমার কাছে আছে। অরিন্দম ওসি জৈনের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছে কেসটার ব্যাপারে।”



চলবে...


-----------------------------------------------------------------
অঙ্কুরীশা-র পাতায় প্রকাশিত এই ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাসটি প্রতি শুক্রবার ক্লিক করে পড়ুন ও পড়ান। 
মতামত জানান। 
ankurishapatrika@gmail. com

----------------------------------------------------------------      

                 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন