লেবেল

বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২১

ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-১১) ।। অষ্টভুজ রহস্য — অলোক চট্টোপাধ্যায় ।

 





ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-১১) 

অষ্টভুজ রহস্য

অলোক চট্টোপাধ্যায়       


পরের দিন সন্ধ্যা।

বিজয়বাবুদের তিনতলা বাড়ির একতলায় ঝকমকে সাজানো ড্রয়িংরুমে জড়ো হয়েছেন অনেকেই। বিজয়বাবুর দুই ভাই ছাড়াও দুটো লম্বা সোফার একটায় রজতস্যারের সঙ্গে পলাশ আর কুণাল। সামনা সামনি আর একটা বড় সোফায় বিজয়বাবু আর তাঁর বাল্যবন্ধু আদিনাথ সান্যাল। আদিনাথ বাবুর ভাগনে পুলিশ অফিসার সুগত বাগচি বসে একটা ছোটো সোফায়। স্যার তার সঙ্গে পলাশদের আলাপও করিয়ে দিয়েছেন। বেশ হাসিখুশি লোক, পুলিশি কাঠিন্য নেই। কেমন যেন চেনা চেনা মুখ বলে মনে হল ওদের দুজনেরই। কিন্তু আলাদা ভাবে কথা বলার সুযোগ না হওয়ায় তা নিয়ে খোঁজ করা যায়নি। ওরা ছাড়া আরও জনাদুয়েক লোক রয়েছেন আর দুটো ছোটো সোফাতে। তাদের সঙ্গে কেউ আলাপ না করানোয় তারা কে সেকথা জানার সুযোগ হয়নি ওদের। ঘরের পরিস্থিতি ভয়ানক থমথমে।
আগের দিন কোনো কারনে রজতস্যার ক্যানিং এসে হঠাৎই সিদ্ধান্ত নেন ট্রেনে ফেরার। স্টেশনের সামনে ওদের ছেড়ে দেয় রাজিন্দার। ট্রেনে বসে রজতস্যার মন দিয়ে কুণালের তোলা ঘরটার ছবিগুলো দেখছিলেন। সঙ্গে মিলিয়ে নিচ্ছিলেন পলাশের ফোনে তোলা পুরোনো বাড়ির সামনের ঘরের ছবিগুলোও। যদিও ভেতরটা দেখা সম্ভব হয়নি , সকলে নিঃসন্দেহ এটাই অষ্টভুজ ঘরটার কপি আর বিজয়বাবু এখানে পৌঁছোতেই কেউ তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুরোনো বাড়ির বাইরের ঘরে। 
কিন্তু কেন?
এরই সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দত্তবাড়ির বাইরের ঘরে বসে দিচ্ছিলেন রজতবাবু। সুগত বাগচির উলটো দিকের সিঙ্গল সোফায় মাথা নিচু করে বসে আছেন সুজয়বাবু। ঠিক পাশেই একটা ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে বসে অজয়বাবু। তারও মুখ থমথমে। দৃশ্যতই বেশ ভেঙে পড়েছেন তারা। অস্বস্তি কাটানোর জন্যই হয়ত, দুজনেই হাতে ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন। কাউকে কল করার চেষ্টাও করছেন মাঝেমাঝে, তবে বোঝাই যাচ্ছে রজতবাবুর ব্যাখ্যার বিপক্ষে কিছুই বলার নেই তাদের।
বিজয়বাবু দীর্ঘকাল আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা। বিয়েও করেছেন সেখানেই। ছেলে মেয়ে সে দেশের নাগরিক। তারা কেউই কখনো এদেশে ফিরবেনা। বিজয়বাবুও তাই।
দাদু যখন উইল করে নাতিদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করতে চেয়েছিলেন তখন বিজয়বাবু নিজের ভাগ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দাদুর অনুরোধে বসত বাড়ি আর লাগোয়া কয়েক বিঘে জমি নিতে রাজি হন। মনে হয় দাদু মনে আঘাত পাবেন ভাবেই তিনি তাঁকে বলতে পারেননি যে তিনি ওদেশেই স্থায়ী ভাবে থাকবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ছেলেবেলার স্মৃতি জনিত একটা মায়া তো ছিলই, সেই সঙ্গে ভেবেছিলেন ঐ বাড়িটার সংস্কার করে দাদু দিদিমার নামে একটা স্কুল করবেন ওখানে। সেই উদ্দেশ্যে বাড়ি সারানো বা নতুন করে বানাবার জন্যে বেশ কয়েকবার মোটা অঙ্কের টাকা পাঠিয়েছেন ভাইদের। সুজয়বাবু এবং অজয়বাবু সেই টাকায় বাড়িও বানালেন, তবে সেটা নিজেদের ভাগের জমিতে। সম্ভবত যাতে পরে কোনো সময়ে তাদের দাদার ছেলেমেয়েরা নতুন বাড়ির মালিকানা চাইতে না পারে। সেই সঙ্গে দাদাকে একটা ভুতুড়ে গল্প বলে জানিয়েছেন সব টাকা ঢেলে বারবার চেষ্টা করেও পুরোনো বাড়ির সংস্কার বা সংরক্ষন সম্ভব হচ্ছেনা কোনো এক সাধুর অভিশাপের ফলে।
এখানে একটা কথা রজতবাবু বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন। বিজয়বাবুর মতই সুজয়বাবুদেরও তাদের দাদুর বাড়িটার ওপর ভীষন আকর্ষন ছিল। তাই নতুন বাড়িটাও তৈরি হয়েছে সেই ধাঁচেই। বিশেষ করে বাইরের অষ্টভুজ ঘরটা বানানো হয়েছে হুবহু পুরোনো বাড়ির সামনের ঘরের মত করে।
কাহিনীর এই জায়গায় বিজয়বাবু খুবই দুঃখিত গলায় বলেছিলেন – এটা তোরা কেন করলি সুজয়? আমাকে বললে কি তোদের জমিতে বাড়ি বানাতে আপত্তি করতাম? না তোদের টাকা দিতাম না? সুজয়বাবু উঠে গিয়ে দাদার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে ক্ষমা চেয়েছেন। তারপর নিজের জায়গায় ফিরে সেই যে মাথা নিচু করে বসেছেন আর মুখ তুলে তাকাননি। অজয়বাবুও নিজের চেয়ারে বসে অন্যদিকে তাকিয়ে রয়েছেন। সুতরাং রজতবাবুকে তার বিশ্লেষন আপাতত বাকি লোকেদের দিকে তাকিয়েই বলতে হচ্ছে।
-দু পাঁচ বছরে কখনো সখনো বিজয়বাবু এদেশে আসেন। শৈশব স্মৃতির টানে যেতে চান কদমফুলিতে। কোনো না কোনো অছিলায় সুজয়বাবুরা তার যাওয়া পন্ড করেন। অনেক সময়ে নিজেরাই উৎসাহ দেখিয়ে যাবার আয়োজন করেন আর তারপর এমন কিছু একটা কান্ড ঘটান যাতে বিজয়বাবুই পিছিয়ে যান। সেই অঘটনগুলো ওনার খাবারে কড়া জোলাপ মিশিয়ে তার পেটের গন্ডগোল বাধানো বা সুজয়বাবুর মিছিমিছি মাথায় গায়ে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে অ্যাকসিডেন্টের গল্প বানানোও হতে পারে। তবে এগুলো নিছক আমার অনুমান, প্রমান করতে পারব না। কিন্তু একটা ব্যাপার খেয়াল করবার মত, প্রত্যেক বারই কদমফুলি যাবার প্ল্যান হয়েছে বিজয়বাবুর আমেরিকা ফেরার আগের দু তিন দিনের মধ্যেই। যাতে একবার বাধা পড়ার পর দ্বিতীয়বার সেখানে যাওয়ার সময় না থাকে।
রজতবাবু একটু থামলেন। সেইফাঁকে বিজয়বাবু আবার দুঃখিত স্বরে ভাইদের উদ্দেশে বললেন – ছি ছি, তোরা এই সামান্য কারণে এত নিচে নামতে পারলি? বলা বাহুল্য সুজয়বাবু বা অজয়বাবু কেউই মাথা তুলে তাদের দাদার দিকে তাকাতে পারলেন না। উত্তর দেওয়া তো দুরের কথা।
-এবারেও সেই রকম ভাবেই চলছিলেন ওনারা। রজতবাবু আবার শুরু করলেন। - তবে এবার বিজয়বাবুর চাপাচাপিতে, আর তাছাড়া প্রতিবার একই ধরণের ব্যাপার হলে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে ভেবে সুজয়বাবুরা অন্য প্ল্যান বানালেন। যাওয়ার দিন সেই বিজয়বাবুর ফেরৎ যাবার দুদিন আগে। তবে এবার বিজয়বাবুকে সত্যি সত্যিই কদমফুলি নিয়ে যাওয়া ঠিক হল। ঠিক করা হল কোনো অজুহাতে বিজয়বাবুর রওনা হবার সময়টা এমনভাবে পিছিয়ে দেওয়া হবে যাতে তিনি সন্ধ্যের মুখে সেখানে পৌঁছোন। পুরোনো বাড়ি দেখতে দেখতেই অন্ধকার হয়ে যাবে। এদিক থেকে জলাজমি পেরিয়ে ফলবাগানের দিকে যাবার রাস্তা নেই। ওদিকে ফলবাগানের গেটও বন্ধ, চাবি ক্যানিংএর ঠিকেদারের কাছে। তার ওপর ওদিকে যাবার যে নতুন রাস্তা হয়েছে বাইরের দিক দিয়ে, সেকথা বিজয়বাবুর জানা নেই। ফলে কোনোমতেই তার পক্ষে সুজয়বাবুদের নতুন বাড়িটা তার দেখে ফেলার সুযোগ থাকছেনা।
-সেইমতই সুজয়বাবুকে অফিসে পৌঁছে দিয়ে জ্যামের অজুহাতে অনেক দেরিতে তাকে নিতে এল নীলমনি। ফলে তারা যাত্রা শুরু করলেন দশটার জায়গায় বারোটারও পরে। সেই পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। বিপদ বাধল বড়গাছায় গাড়ি খারাপ হয়ে। সারাবার দেরি দেখে অধৈর্য্য হয়ে বিজয়বাবু চড়ে বসলেন একটা বাসে। নীলমনি বা সুজয়বাবুর বারণ না শুনে। সুজয়বাবু দেখলেন মহা বিপদ। গ্রামের পথঘাট এত বছরে আমূল বদলে গেছে। কাঠের পুলের পুরোণো রাস্তাটা এখন আর গ্রামের প্রধান সড়ক নয়। বিজয়বাবুর কাছে সব রাস্তাই অচেনা সুতরাং বাবুবাজার থেকে রিকশা নেবেন বাড়িতে যাবার জন্য। আর কোনো রিকশাওয়ালাকে চৌধুরিদের বাড়ি আর ফলবাগানের কথা বললেই সে তাকে সোজা পৌঁছে দেবে সুজয়বাবুদের নতুন বাড়িতে। তাদের সব কীর্তি ফাঁস হয়ে যাবে বিজয়বাবুর কাছে।
নিরুপায় হয়ে তিনি ফোন করলেন নতুন বাড়ির কেয়ারটেকারকে। প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেন, যেমন মেন সুইচ অফ করে বাড়ি ঘুটঘুটে অন্ধকার করে রাখা আর তারপর অন্য যা যা করণীয় তাও। হিসেবমত সন্ধ্যে নাগাদই বিজয়বাবু সেখানে পৌঁছোবেন। অন্ধকারের ভেতর বিশেষ কিছু দেখার বা বোঝার আগেই ঘুমের ওষুধ মেশানো কফি খাইয়ে তাকে অজ্ঞান করে জলাজমির দিক দিয়ে তাকে পুরোনো বাড়িতে নিয়ে আসার প্ল্যান হয়ে গেল।
কেয়ারটেকারও নির্দেশ অনুযায়ী ঠিকমত তার কাজ করল। বিজয়বাবু তাদের হিসেব মত সন্ধ্যে নাগাদই হাজির হলেন সেই বাড়িতে। রাস্তা থেকে বাড়িতে ঢোকার পথ, গেট, ঘরের নকশা ইত্যাদি সবই পুরোনো বাড়ির সঙ্গে প্রায় একই রকম, বিজয়বাবু শুধু অবাক হয়েছিলেন ঘরদোরের একদম ঠিকঠাক অবস্থা দেখে। ভাল করে কিছু বোঝার আগেই তাকে অজ্ঞান করে ফেলা হল। আমার মনে হয় পুরোনো ইজিচেয়ারের দুটোকে সারিয়ে আগেই এবাড়িতে আনা হয়েছিল। একটা বা দুটো ভাঙা অবস্থায় আগের বাড়িতেই ছিল। তারই একটাকে জায়গা মত রেখে তার সামনে শুইয়ে দেওয়া হল বিজয়বাবুর অচেতন দেহ। বাড়তির মধ্যে যামিনী রায়ের ছবিটার কাঁচ ফাটিয়ে ধুলো মাখিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হল ঠিক সেই জায়গায় নতুন বাড়িতে যেখানে সেটা ছিল। মনে হয়, ছবিটার ওপর বিজয়বাবুর বিশেষ মায়া দেখে ওটাকে নাটকের দৃশ্যে ঢোকানোটা কেয়ারটেকারেরই নিজস্ব আইডিয়া। সেটাই অবশ্য ব্যুমেরাং হয়ে গেল ওদের সামান্য অসতর্কতায়। কি সুজয়বাবু, আমি কি কিছু ভুল বলছি?
সুজয়বাবু মাথা তুললেন না। বোঝা গেল রজতবাবুর ব্যাখ্যার বিপক্ষে তার বলার কিছু নেই। অজয়বাবু একবার ক্ষীন ভাবে বলার চেষ্টা করছিলেন যে তার মেজদা এত কিছু বলেননি, কেয়ারটেকার যা করেছে তার নিজের বুদ্ধি অনুযায়ী করেছে –কিন্তু বিজয়বাবুর কঠিন দৃষ্টির সামনে পড়ে নিজেই মাঝপথে থেমে গেলেন।
-আমার ধারণা, বিজয়বাবুর বাসে চড়ার খবর পেয়েই সুজয়বাবু অফিস থেকে বেরিয়ে ক্যানিং এর ট্রেন ধরেন। নীলমনিকেও সোজা স্টশনে আসতে বলেন। উদ্দেশ্য ছিল একটা শেষ চেষ্টা করার, যদি বিজয়বাবুকে বাসস্ট্যান্ডেই ধরা যায় রিকশায় ওঠার আগে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তখন তারা নতুন বাড়িতেই যান। অজ্ঞান বিজয়বাবুকে পুরোনো বাড়িতে রেখে আবার জলার রাস্তায় ফলবাগানে ফিরে গাড়ি নিয়ে বাইরের রাস্তা ধরে পুরোনো বাড়ির সামনে আসেন।
-একটা কথা এখানে বলতেই হবে -, একটু থেমে আবার বললেন রজতবাবু। - দাদার যাতে অন্য কোনো বিপদ না হয় সে কথা চিন্তা করে সাপ তাড়ানোর ওষুধও ছড়ানো হয়েছিল। ঘটনাচক্রে, সেটাও তাদের বিরুদ্ধে প্রমানের কাজ করেছে। যাই হোক, বিজয়বাবুর জ্ঞান ফিরে আসছে দেখে ওনারা হৈ চৈ করে, সামনের দোকানের লোকজন জড়ো করে চমৎকার একটা অলৌকিক গল্প তৈরি করে ফেলেন। 
-সবকিছু সামলে গিয়েছিল। দুদিন বাদে বিজয়বাবুও আমেরিকা ফিরে যেতেন, একটা রোমহর্ষক অলৌকিক অভিজ্ঞতা নিয়ে। একজন বিজ্ঞান শিক্ষকের জীবনে অবশ্য কাঁটার মত গেঁথে থাকত সেটা। কিন্তু গোল পাকালেন তার বন্ধু আদিনাথ সান্যাল। শুধু যে তার শারীরিক অবস্থার কথা বলে তার ফেরাটা ক’দিন পেছোলেন তাই নয়,ডেকে আনলেন নিজের পুলিশ অফিসার ভাগনেকে। তবে তিনি অবশ্য যোগাযোগ করলেন আমার সঙ্গে, বিষয়টা পুলিশী তদন্তের আওতায় আসেনা বলে। তাতে সুজয়বাবু অজয়বাবু নিশ্চিন্ত হলেন কিছুটা। তা না হলে, আমার ধারণা, কোনোভাবে দাদার ওপর চাপ সৃষ্টি করে তদন্তের ব্যাপারটা তারা আটকেই দিতেন। একজন সাধারণ স্কুলমাস্টার আর তার দুটো ছাত্র তদন্ত করে আর কিই বা উদ্ধার করবে এই ভেবে তারা শুধু রাজিই হলেননা, উপরন্তু নিজেরা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে অকুস্থলটাও দেখিয়ে দিলেন। তবে তাদের নিয়ে যাওয়া হল কিছুটা ঘুর পথে।
পুরো কাহিনীটা শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন রজতবাবু। সঙ্গে পলাশ আর কুণালও। উপসংহারের ভঙ্গিতে বিজয়বাবুকে বললেন –আমার কাজ এখানেই শেষ। এরপর আরো যদি কিছুর ব্যাখ্যা বাকি থাকে তার দায়িত্ব অন্য কেউ নেবেন।
বিজয়বাবু উঠে এসে রজতবাবুর হাত ধরে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। বোধহয় নিজের আবেগ সম্বরণ করতে সময় নিলেন কিছুটা। তারপর পাঞ্জাবীর পকেট থেকে একটা চেকবই বার করে দ্রুত হাতে ভরে রজতবাবুর হাতে দিলেন। একবার তাতে চোখ বুলিয়ে কুন্ঠিত ভাবে রজতবাবু বললেন – এতো অনেক । আমার সঙ্গে তো শুধু প্রয়োজণীয় খরচটুকুই দেবার কথা হয়েছিল –
-ওর সবটাই আপনার প্রাপ্য। কিছুটা বিষাদ গম্ভীর স্বরে বিজয়বাবু বললেন। - আমার যা শিক্ষালাভ হল তার তুলনায় এই কটা টাকা কিছুই নয়।
ওরা কথা বলতে বলতে ঘরের বাইরে এসে গিয়েছিল। বিজয়বাবুর চোখের কোনে চিকচিক করছে অশ্রুবিন্দু। আদিনাথ সান্যাল উঠে এসে তার পিঠে সান্ত্বনার হাত রাখলেন। রজতবাবু আবার বললেন – আমার খুব খারাপ লাগছে, সত্যটাকে এইভাবে আপনার সামনে তুলে ধরার জন্যে। তবে হয়ত এটাও সব নয়। হয়ত আরো কিছু অপ্রিয় সত্যের মুখোমুখি হতে হবে আপনাকে।
এগিয়ে এলেন সুগত বাগচি। ওদের ফেরার ব্যবস্থা তিনিই করবেন। রজতবাবুর সঙ্গে মৃদুস্বরে কথা বলতে বলতে এগোলেন কলকাতা পুলিশের বোর্ড লাগানো একটা সাদা রঙের এস ইউ ভি’র দিকে। একটু পেছনে পলাশ আর কুণাল।
গাড়িতে ওঠার আগে ওদের সঙ্গেও হাত মেলালেন সুগত বাগচি। তারপর হালকা ভাবে দুজনের পিঠ চাওড়ে রজতবাবুকে বললেন – আপনার এই ক্ষুদে চ্যালাদুটো কিন্তু অসাধারণ। যেমন উপস্থিত বুদ্ধি তেমনই বিশ্লেষণ ক্ষমতা। হ্যাটস অফ। শুধু পর্য্যবেক্ষণ শক্তিটা একটু কম। লোক চিনতে বা মনে রাখতে পারেনা। ওটুকু শুধরে নিলেই বড় হয়ে ভাল গোয়েন্দা হতে পারবে।
রজতবাবু এতক্ষণের গাম্ভীর্য্যমন্ডিত পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে হো হো করে হেসে উঠলেন। পলাশ আর কুণাল একই সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল – রাজিন্দারজী ! ! !



(চলবে...) 


--------------------------------------------------------------------------------------------
প্রকাশিত এই ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাসটি প্রতি বৃহস্পতিবার অঙ্কুরীশা-র পাতায় ক্লিক করে পড়ুন ও পড়াম। মতামত জানান। 

ankurishapatrika@gmail. com

---------------------------------------------------------------------------------------------       
                    

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন