উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৯
তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য-এর পাঁচটি কবিতা
১.
হাসি
ঠোঁটের ব্যালকনিতে একদল ছোট্ট শিশু
খেলা করে বেড়াচ্ছে।
গাছ ভর্তি কৃষ্ণচূড়া প্রখর দহনকে বলে দিয়েছে কেয়ার করিনা....
গোপন কথা কেউ প্রকাশ করেনা কেবল দুজনে হেসে ওঠে। চোখের ভঙ্গিতে নেচে
ওঠেন পবনদেব।
পিয়ানো বাজে সুর ভাঁজে গোয়ালা কৃষ্ণ তাঁর কুলের অতিথি নন্দন।
প্রেম ছড়াচ্ছে ভূমিহীন কৃষক মাঠে মাঠে।
দানায় দানায় ভরে উঠবে স্বপ্নের আনাগোনা।
হাসি অজস্র ঢেউয়ের নাম, মুহূর্তের খামে।
২.
নর্তকীর পা
কথা নেই মেয়েটার মুখে ভীষণ লাজুক শান্ত সরসী।
পা তার কথাকলি কবিতার আসর
মধুচন্দ্রিমা দেহভঙ্গিমা দুলে ওঠে
বালুকাবেলা সগরতট।
এত লোক সমাগম পিপাসার চাতক,
ওরা ছন্দ মাপে, আনন্দ মাপে, কেনে অহংকার।
শরীরের নাটমন্দিরে আনন্দের পুকুরে
লেখা আছে বিষাদ আত্মার নিষাদ জল।
পায়ের তাল ঠুকে ক্ষমা করে দেয়
মেয়েটি, যত্তসব মন্দবাতাস।
দরাজ বুকে রক্তে লেখা বর্ণপরিচয়।
দেবতা দেখেন সব অক্ষরহীন লেখা মানুষের বুকের যন্তর মন্তরে আঁকা।
গান হলেই প্রাণ নাচে হরবোলা পা ঝঙ্কৃত বুলবুলি।
কথা নয়, কথা নয়, এ হৃদয় ভাষা হয়ে ফোটে
ভাষার সঙ্কটে। নৃত্যরত তরুণী জানে একামাত্র সফল মানুষই কেবল ছন্দ বোঝে।
৩.
অনন্ত বলে কিছু নেই
জঙ্গল থেকে কাঠ কুড়িয়ে এনে ভাত তরকারি রাঁধলেন জেলে বুড়ি। আগুনের অনন্ত খিদে এবং বুড়িরও ভীষণ খিদে, দুই আগুন মিলেমিশে একাকার হলো। উনুনের পাশে তিনটে পিঁপড়ে
এক টুকরো আলু পেয়েছে এবং কষ্ট করে তিনগুণ ভার বহন করে কতদূর নিয়ে গেল কে জানে?
ফলের ভার গাছকেই বইতে হয়, অপেক্ষা এক রত্নের নাম তাকে হৃদয়ে ধারণ করতেই হয়।
অন্ধকার এবং আলো মুখোমুখি হয় না, তবুও অন্ধকারের পরেই আলো উচ্চারিত হয়।
৪.
আয়না ও জল
আয়না ভেসে গেল জলে, দুজনের গলায় গলায় ভাব। কার ছবি কে দেখে? বিশ্বের সব ছবি জল তুলে রাখে ও ধুয়ে রাখে। আয়না ভুলিয়ে দেয় অতীতের যত করুণ কাহিনী। অচেনা ছবির আঙিনায় আয়না এক গোলক ধাঁধা। আপন ছবি আয়নার কাছে ভীষণ অস্পষ্ট । তবুও এক এঁটো লাগা নেশা আয়নায় বাসা বাঁধে। জলের ভেতর এক সন্ন্যাসীর আত্মা খেলা করে বেড়ায়। এ যে পিপাসার নাম দেবতা তুমি কোথায় ? কত পথ পেরিয়ে যায় অন্তরে খিদে ভ্রমণের নাম ভূমিকায়। আয়না এবং জল ভ্রমরের মতো মধু লুটে খায়। আয়না সাজায় দেহ, সাজায় গৃহপালিত আসবাব।
জলে মানুষের তৃষ্ণা মেটে, গাছেরা প্রাণ
ফিরে পায়।
সব ক্রোধ জল চুরি করে, আয়না শরীরে ডুগডুগি বাজায় প্রেমের মোহনায়।
৫.
সাগর
উথাল পাথাল ছন্নছাড়া সমুদ্রের মন
ফেরালেই ফেরাতে পারো যখন তখন।
বুকের গভীরে আরেক সাগর সহচরী।
অনেক নুড়ি পাথর নিয়ে আমিও ঘর করি।
ঢেউ এলে দিইনা ঠেলে পরের ঢেউয়ে সুখ মেলে ।
নাচি দুহাত তুলে হাসি দুঃখের কৌটো খুলে।
বিরহ প্রেম যা আজ চাকভাঙা মধু
কাল সে পথ চলতি পথিক শুধু।
আজ সকালে কাঁচভাঙা রোদ ছিল যে!
সন্ধ্যে হলো প্রেমিক এল চোখ ভরা সাগর নিয়ে।
চুপ করে ডুব দেবো ও সখী তোরা একটু আড়াল দে।

প্রতিটি কবিতাই খুব সুন্দর। আনন্দ পেলাম।
উত্তরমুছুন