অণুগল্পে বসন্ত -৯
বাবা
বিমল মণ্ডল
বিধান বাবুর একমাত্র সন্তান সোমেশ।বিধান বাবুর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি বন্ধুদের সাথে দিন ও রাতের সময় কাটায়।ছেলে সোমেশ অফিসে চাকরি করে। বাবা অন্ত প্রাণ। বাবার মধ্যে সে মা ও বাবা -এই দুই রূপ দেখে।এদিকে বিধান বাবু বন্ধুদের নিয়ে এতো ব্যস্ত যে শরীর খারাপ হলেও ডাক্তারের কাছে যায় না।ছেলে সোমেশ বাবার চিন্তায় মাঝে মাঝে অফিস কামাই করে।সোমেশ জানে বাবা-ই তার আশা- ভরসা ও একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু এদিকে বিধান বাবু একমাত্র ছেলে সোমেশ কে বাড়িতে রেখে দোল পূর্ণিমায় বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে চলে যায়।বাবা বন্ধুদের নিয়ে রঙ খেলায় ব্যস্ত থাকলেও ছেলের কথা তার মনেই পড়েনি।
হঠাৎ ছেলে সোমেশের ফোন ফেসবুকে বাবা ও বন্ধুদের আবির মাখানো ছবি দেখে সোমেশের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। সোমেশ তার মা'য়ের ছবির পায়ের পাশে বসে ছলছল চোখে মা'কে জিজ্ঞাসা করে—
— মা তুমি আজ দেখতে পাচ্ছ? বাবা আমাকে ছেড়ে বন্ধুদের নিয়ে আজ দোলের দিনেও কত খুশি দেখতে পাচ্ছ?
— জানো মা, আমি তোমার মতো বাবাকে শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি। সারাজীবন তোমার আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে বাবাকে সেবা করে যাবো।
— মা গো! তুমি যেখানেই থাকো তোমার এই ছেলেটাকে আশীর্বাদ করো যেন তোমার অসমাপ্ত কাজ আমি সমাপ্ত করে যেতে পারি।
হঠাৎ মা'য়ের সাথে কথা বলতে বলতে দোলের রাতে সোমেশের ফোনে বাবার ম্যাসেজ -
— বেটা দোলের শুভেচ্ছা নিস।ভালো থাকিস।শুভ রাত্রি।
বাবা বিধান বাবুর পাঠানো বসন্তের রঙে রাঙিয়ে দেওয়া ম্যাসেজ ছেলে সোমেশের চোখের জলে সহসা ঝাপসা হয়ে যায়...

খুব সুন্দর একটি অণুগল্প। ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনমন্দ নয়
উত্তরমুছুন