অণুগল্পে বসন্ত -৫
রোদ ছায়া
অশোক রায়
মোহময় ক্রমশঃ আরো শীতের দেশে চলে যাচ্ছেন। তাঁকে ঘিরে বন্ধুরা যতই আনন্দ উৎসব পান ভোজন করুক, তাঁর কোনো হেলদোল নেই। ঘড়ি ধরে প্রাতঃভ্রমণ, সারাদিন খবরের কাগজে গোমড়া মুখ গুঁজে -সব কেমন যেন বিস্বাদ বিবর্ণ লাগে। আর ঠান্ডাটাও পড়েছে নাগপুরে এবার। সুবর্ণা চলে যাবার পর কোনো কিছুই আর ভাল লাগে না মোহময়ের। খালি দিনগুলো ভারী পাথরের মত বুকে চেপে বসে।
বন্ধুরা আসে। আড্ডা দেয়। কিন্তু ওরা চলে গেলে আবার সেই অসহ্য শুন্যতা! মোহময় ভাবেন রিটায়ার্ড মানুষ, পিছুটান নেই যখন, নির্জন কোনো পাহাড়ে চলে গেলে কেমন হয়! বাকি দিনগুলো কাটুক সেই কল্লোল-হীন পরিবেশে?
হাঁটতে হাঁটতে স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে চলে এসেছেন। এখানে একটা নতুন চায়ের দোকান দেখছেন আজ। ‘অমৃত-তুল্য চাহা’।
সত্যি এখানে একটা চায়ের দোকান দরকার ছিল। দু-পা বাড়িয়েছেন এমন সময় কানে এল এক মহিলার চিল চিৎকার। একটা সুন্দর পমেরানিয়ানকে ঘিরে ধরেছে কয়েকটা বড়সড় নেড়ি কুত্তা। এক ভদ্রমহিলা বাঁচাতে চেষ্টা করছেন কিন্তু রাস্তার কুকুরগুলোর সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণে থমকে গেছেন। মোহময় দেখলেন অবস্থা শোচনীয়। হয় এসপার নয় ওসপার! কিছু না ভেবেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন ওয়াকিং স্টিক হাতে। দু-তিনতে ঘা খেয়েই কেঁউ কেঁউ… পমেরানিয়ান তার মালকিনের কোলে। থর থর করে কাঁপছেন মাঝবয়সী একাকী ভদ্রমহিলাটি। ধন্যবাদে ভরিয়ে দিতে লাগলেন। বললেন এদিকটায় খুব বেশি মানুষের আনাগোনা নেই, আপনি না থাকলে কি যে হত। একসময় চোখ গেল নতুন দোকানের দিকে। মহিলা বলে উঠলেন চলুন দাদা - চা খাওয়া যাক।
মোহময় শুনলেন যেন কোকিলের কুহু রঙীন বাতাসে। এগোলেন একসাথে। প্লাস্টিকের চেয়ারে বসেছেন মুখোমুখি। এত শীতেও দুজনে ঘামছেন। চা এল ধুমায়িত। এটা সেটা কথাবার্তা চলছে। চিনি-মেশানো দুধ-চা, তবু সত্যিই অমৃত লাগছে। বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটাবার পর দুজনে যখন ফেরার পথে, মোহময় টের পেলেন ভারী পাথরগুলো নেমে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। বিবর্ণতা ছাপিয়ে জাগছে রক্তিম পলাশের স্বপ্ন। বসন্ত বুঝি এখনও রয়ে গেছে সুপ্ত মরমে।এত তাড়াতাড়ি বাণপ্রস্থে যাবার দরকার আছে কি।

বাহ্! চমৎকার উপস্থাপনা। সুন্দর গল্প।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ
মুছুনসুন্দর লিখেছেন
উত্তরমুছুনধন্যবাদ জানাই।
মুছুন