গ্রীষ্মের দুপুর -৩০
জয়শ্রী সরকার
গ্রীষ্মকালের ভরদুপুরে
গ্রীষ্মকালের ভরদুপুরে
তপ্ত তাওয়ার মতো
পিচ্ গলা পথ, ধুঁকছে দেখি
ক্লান্ত পথিক যত ।
গাছগুলো সব পুড়ছে যেন
দহনজ্বালায় জ্বলে
শান্তি পেতো একটু তবু
বৈশাখী ঝড় হলে !
পুকুর-ডোবা-পুস্করিণীর
জল শুকিয়ে মরা
ফুটিফাটা মাটির বুকে
শুধুই রুক্ষ্ম খরা ।
কুকুরগুলোর ঝিম ধরে যায়
তপ্ত দুপুরবেলায়
বাঁচতে যে চায় হাঁফ ছেড়ে সব
মন বসে কী খেলায় ?
গ্রীষ্মকালের ভরদুপুরে
সব যেন নিস্তব্ধ
ডানপিটে ওই ছেলেরা সব
তাতেও কী হয় জব্দ ?
এ-গাছ ও-গাছ করে বেড়ায়
নিঝুম দুপুরবেলায়
বদ্ধ ঘরে মন বসে কী ?
মেতে বেড়ায় খেলায় !
গ্রীষ্মকালের তপ্ত বেলায়
কুলফিওলা হাঁকে
মনখুশিতে ডানপিটেরা
ছুট্টে গিয়ে ডাকে ।
ছোট্টবেলার আর এক মজা
তপ্ত দুপুরবেলায়
ঘামঝরা দিন হার মেনে যায়
ডানপিটেদের মেলায় !
চাতক পাখির মতো সবাই
থাকে অপেক্ষাতে
বৈশাখী ঝড় আসলে পরে
প্রাণটা জুড়োয় তাতে।
বনস্পতির দিনগুলো আজ
সত্যি বড়ই মন্দ
নড়ছে না তো একটা পাতা
চারিদিক নিস্পন্দ !
হঠাৎ দেখি আকাশখানা
ঢাকলো কালো মেঘে
পাল্লা দিয়ে ঝড়ের মাতন
ক্ষিপ্রতর বেগে ।
পাখিরা সব কুলায় ফেরে
যে যার মতো করে
আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এলো
কালবোশেখীর ঝড়ে !
চাষীভাইয়ের চিন্তা বাড়ে
ভেবেই না পায় সাড়া
মুহূর্মুহু মূর্চ্ছা যে যায় ----
যেন পাগলপারা ।
কালবোশেখী, কালবোশেখী,
একটু দয়া করো
সোনাধানে মাঠ ভরেছে
আর একটু দম ধরো !


খুব সুন্দর কবিতা। ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর ছড়া।
উত্তরমুছুন