গ্রীষ্মের দুপুর -১৫
শ্রীমন্ত দাস
১.
তপ্ত দুপুর
তপ্ত দুপুর কুকুর গুলো ধুঁকছে পথের পরে,
তপ্ত রোদে পান্থ বাঁশীর সুর শোনা যায় দূরে।
জলের খোঁজে তপ্ত মাঠে হাঁড়িচাচার দল,
ঝাপটে ডানা কাকের ছানা খাচ্ছে ডোবার জল।
হাটুরেরা ফিরছে ঘরে ঘর্মে বেজায় নেয়ে,
পথের ধারে বিরাম নিতে বসছে তরুর ছায়ে।
খালের জলে নাইতে সেথায় আদুড় ছেলের দল,
ঝাঁপিয়ে মজায় জলের মাঝে ডুবছে অনর্গল।
ফিরছে বধূ কলসি কাঁখে সিক্ত বসন পরে,
ল্যাংটো শিশু ছুটছে পিছু মায়ের হাতটি ধরে।
তপ্ত রোদে বাইছে মাঝি খেয়ার যাত্রী নিয়ে
তীরে গাইছে অন্ধ কানাই কষ্টে পেটের দায়ে।
কাতরে গরু তপ্ত মাঠে হাম্বা হাম্বা করে,
গেরস্তবৌ দড়ির টানে তুলছে গোয়াল ঘরে।
ছাদের পরে তন্দ্রা ঘোরে ভাবছে খুকু জলি,
উদাস সুরে হাঁকিয়ে যেতো হলে বাসনওয়ালী।
মন্দ হয় না ভাবছে অমল পারতো যদি হতে!
দই ওয়ালা হয়ে সে আজ হাঁকতো পথে পথে।
তপ্ত রোদে ভিজতে মানা বাড়ির লোকের আদেশ,
শৈশব মন ইচ্ছেডানায় হচ্ছে নিরুদ্দেশ।
তপ্ত রোদে দুপুর বেলা ভাবছে কবিগন ,
গরম গরম হোক না কাব্য উদাস করে মন।
২.
অধিকার
কি রোদ্দুর! ভরদুপুরে
গ্রীষ্মে ঘর্ম ঝরে,
চাতক ডাকে কাতর হয়ে
ফটিক বারি তরে।
কাকের ছানা মেলে ডানা
তৃষায় খোঁজে জল,
মাঠের মাঝে ডোবায় নেমে
খাচ্ছে অনর্গল।
পানের শেষে ভিজিয়ে ডানা
করছে কাক স্নান,
শীতল হলো, শান্তি পেল
জুড়ালো তার প্রাণ।
ছুটলো সেথা বাতেলা বালা
দুইটি ধূর্ত শালিক,
বললো হেঁকে জল খেও না
আমরা তো এর মালিক।
যাঃ-যাঃ করে তাড়িয়ে এল
ক্রুদ্ধ কাকের ছানা,
প্রকৃতির সব সবার তরে
হেথায় কেন মানা?
কাকের ডাকে পাখপাখালি
এলো ঝাঁকে ঝাঁকে,
কাবু হলো ধূর্ত শালিক
আর কি সেথায় থাকে?


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন