হেমন্তের সকাল-৩২
অমিত চক্রবর্তী
মৌনপারে গাঁথা
বৃষ্টি ফেরত আসে নভেম্বরে, প্রসাধনে দড় সে এবার,
রিমঝিম থেকে ফিসফাস, বজ্রবিদ্যুৎ, মুষলধারে
সম্ভাষণ, সবই তার বিদুষী ঝোলায়। নিবিষ্ট সে,
একমনে, যেন কোন এক বিরাট ভুল সংশোধন,
যেন হেমন্তে পায়ে ধরে সাধা সেই ন্যাড়া গাছের,
যে হাজার চেয়েও জল পায়নি সারা সামার।
আমি গাছটিকে দেখি, তার লিকলিকে পেশি,
হৃদপিন্ডে পোলিও, আমি লক্ষ্য করি তার কৃচ্ছ,
সংযমে সাধনায় তার ঋজু রিক্ত দম্ভ –
এদিকে বৃষ্টিও কাছে এসে দাঁড়ায়,
নরমসরম মেয়েটার চোখে জল,
মারমেডের কান্না অথবা স্বাতী নক্ষত্রের, এসেছিলে
কোনো এক পথের ভুলে, অজানা অন্বেষণে,
দেখা শেষ এখন, পরিব্রজন সমাপ্ত, থাকবে না পাশে
বন্ধু, আর একটুক্ষণ, সোলমেট?
দুর্বলতা বলি না, বরং খেদ বা অনুতাপ
বলতে পারি, পুরোপুরি নিষ্কলুষ। পাপশূন্য না হলে,
শরীরে জল না টানলে মরুবনে ন্যাড়া গাছটার বুকে,
সে ছুঁতে পারতো না এই সন্ন্যাসী গাছ, তার সাধ্যের
বাইরের বাঁশি, মৌনপারে গাঁথা।
খুব সুন্দর কবিতাটি। সুন্দর নির্মাণ।
উত্তরমুছুনবাঃ!দারুণ
উত্তরমুছুন