গুচ্ছ কবিতা
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়
রাস্তায় নামলেই ছয়
ঝন্টু গেছিলো মাসিমার বাড়ি সঙ্গে ছিলো যে মা
মা বোঝায় তাকে টিকিটকাকুকে ব’লো তুমি ছয় না।
ছ বছর হলেই পুরো ভাড়া বাসে তার কম হলে নাই
কয়েকটা টাকা বাঁচাবার তরে এতকিছু আসনাই।
টিকিট কাকুটা যেই এলো কাছে মুখ এনে কানপাশে
যা বলেছি তোমাকে ভোলোনি তো বাছা আশা করি মনে আছে।
একটা টিকিট দিন নাগো দাদা বাছার হয়নি ছয়
বয়সের থেকে বেড়ে গেছে বেশী দশবারো মনে হয়।
টিকিট টা দিয়ে মনেতে খটকা কটা পয়সার জন্য
কত কত বাজে মিথ্যা আচার শিক্ষাটা কি জঘন্য।
কিছুক্ষণ বাদে নামার স্টপেজে বাহুখানা হাতে ধরে
অনেক আদর হাতে চকোলেট কাকুটি শুধান তারে।
তুমি খুবই ছোট সঠিক বয়স তোমার কি জানো তা
ছ বছর হবে আমার বয়স রাস্তায় দিলে পা।।
জামা দিলো ফ্রী তে
ঝন্টুচরন ব্যস্ত ভীষণ তার অফিসের কাজে
দোকান ঘুরে জিনিস কেনা ভালো লাগে না যে।
সন্ধ্যা বেলায় ঝন্টু যখন ফিরলো অফিস থেকে
চা কাটলেট ধরিয়ে হাতে বৌ বললো তাকে।
দত্ত দিদি বাজার থেকে কিনলো কাপড় কতো
জামা দুটো পড়লো চোখে তাকিয়ে থাকার মতো।
এমন জিনিস মেলে নাকো ওরা বললো নিতে
পয়সা কিছুই নিলোনাকো দুটো জামাই ফ্রী তে।
দেখো পরে জামাগুলো দেখতেও হাইফাই
শাড়ি আমার অনেক আছে নেওয়ার ইচ্ছা নাই।
জামা দুটো মনের মতো আনার ইচ্ছা ঘরে
নিতে হলো একটা শাড়ি অনেক কষ্ট করে।
ঝন্টু বলে দামটা কতো টাকা কোথায় পেলে
ক্রেডিট কার্ডটা ইচ্ছে করেই গিয়েছিলে ভুলে।
দামটাও তো নগদে নয় দিচ্ছে উপহার
কার্ডটা ঘষেই দাম নিয়েছে পঞ্চান্ন হাজার।।
একানড়ে
তালগাছেতে একানড়ে ঝুলিয়ে রাখে পা
কেমন করে ওঠে সেথায় কেউ তা জানে না ।
বিল্টু মামা গল্পটা যেই সভায় দিলো ঝেড়ে
হাত পা টেনে কোমর কষে দাঁড়ায় একানড়ে ।
শুনেই সবাই বললো গাঁজার টান দিয়েছো মামা
এত্তো উঁচু গাছের থেকে সম্ভবই নয় নামা।
দেখিসনিতো বুঝবি কি আর এরোপ্লেনের থেকে
জানলা খুলে লাফ দিয়ে যেই বসলো ডালের ফাঁকে।
ডাল কোথা সে তালগাছেতে দিচ্ছো গাঁজায় দম
তখন সে তো মানুষ ছিলো ছিলো না নির্মম।
সেই যে বিমান গোঁত্তা খেয়ে পড়লো কোঝিকোড়ে
তারপরেতেই মানুষগুলো বনলো একানড়ে ।।
-----------------------------------------------------------------
মতামত জানান
ankurishapatrika@gmail.com
---------------------------------------------------------------------

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন