লেবেল

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত কবি সুলী প্রুধোমের নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ। সুবীর ঘোষ ।

 






সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত কবি সুলী প্রুধোমের নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ

সুবীর ঘোষ

সুলী প্রুধোম:সংক্ষিপ্ত কবি - পরিচিতি        


René François Armand Prudhomme বা Sully Prudhomme –এর জন্ম মার্চের ১৬ তারিখ ১৮৩৯ খ্রীষ্টাব্দে   ফ্রান্সের প্যারিসে ।

প্রুধোম , কিছুকাল ইন্জিনিয়ারিং ও আইন পড়ার পর দর্শনশাস্ত্র ও কবিতার দিকে মনোনিবেশ করেন  ।

১৮৭০ খ্রী-তে ফ্রাঙ্কো-জার্মান যুদ্ধে তিনি জড়িয়ে যাওয়ায় তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে ।

তাঁর প্রথম কবিতার বই  Stances et Poèmes ("Stanzas and Poems", 1865) প্রশংসিত হয় । তাঁর কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে  দর্শন ও  বিজ্ঞান বিষয়ে তাঁর আগ্রহ ।

 তিনি ১৮৮১ খ্রী-তে   Académie française নির্বাচিত হন ।এবং  Légion d’honneurপান  ১৮৯৫-তে ।.

Le Bonheur এর পরে প্রুধোম কবিতা থেকে প্রবন্ধের দিকে বেশি মনোনিবেশ করতে থাকেন । দুটি বই-ও প্রকাশিত হয় ।

প্রুধোম  সাহিত্যের প্রথম বছরের নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন । ১৯০১ খ্রী-তে । তিনি একটি কবিতা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন যার নাম Société des poètes français ১৯০২ খ্রী-তে । নোবেল পুরস্কারের অধিকাংশ অর্থমূল্য তিনি সেখানেই ব্যয় করেন ।

প্রুধোম  ৬ই সেপ্টেম্বর ১৯০৭  খ্রিস্টাব্দ।  ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন ।





প্রুধোম-এর কয়েকটি কবিতার বাংলা রূপান্তর

            জলে  

(On The Water)


তীরের শব্দ , জলের শব্দ ---আমি শুনি

ক্রন্দসী বসন্তের হতাশ সমর্পণ

অথবা সেই প্রস্তরখন্ড যে প্রহরে প্রহরে অশ্রু ঝরায়

আর বার্চগাছের পাতার হালকা কাঁপন ।

নদীতে তো কোনো নৌকো যেতে দেখি না

সময় বয়ে যায় ফুলে ঢাকা তীরে

আর আমি পড়ে থাকি ।

আমি যখন জলের গভীরে ছুঁয়ে দেখি

নীল আকাশ যেন পর্দার মতো দোলে

ঘুমের ভেতর দোলে জল , তীর কোথা !

আমাকে না জানতে দিয়ে আমার জীবননদীর তীরে

ওই ফুলেদের মতোই তো  মানুষ বসবাস করতে চায় ।


 

 

     এ জগতে 

(In The World)

 

এ জগতে ফুল শুকায়
পাখির মিষ্টি গান শেষ হয়ে আসে
আমি এক চিরোষ্ণ কালের কথা ভাবি ।
এ জগতে অধরোষ্ঠ ছোঁয়া হয় মৃদু

সুমিষ্ট স্বাদেরও আর অবশিষ্ট থাকে না
 আমি এক অফুরান চুম্বনের স্বপ্নে থাকি ।
এ জগতে সবার শোক—

সখ্যের বা প্রেমিকার
আমি সব সময় অনুগতের অনুসরণের স্বপ্ন দেখি ।






কোনোদিন  শুনব না দেখব না আর

(Never To See Or Hear Her)

 

ফিরে দেখা হবে না তো আর

যাবে শোনা তার কোনো কথা ?

জোরে ডাকা যাবে  নাম তার ?

তবু তাকে ভালোবেসে সব ব্যস্ততা ।

 

দুই বাহু বাড়িয়ে কী হবে ?

অফসলি আলিঙ্গন তবে ।

পরিণতি অশ্রুমোচন

মধুঋতুস্বপ্নবপন ।

 

কোনোদিন  শুনব না দেখব না আর,

নাম ধরে ডাকব না জোরে ,

ভালোবাসা কমলিনী তবু শতধার

চিরপ্রেম সোচ্চারে ঘোরে ।








**************************************

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন