সুমিত্র দত্ত রায়
---------------------------
সু মি ত্র দ ত্ত রা য়
----------------------------
স্বাধীনতা
ছাতা সারে লোকটি।
লাল নীল সবুজ হলুদ
সংখ্যায় কমই,
কিছু তরতাজা কখনো সখনো-
বৃষ্টি ভেজার আনন্দে!
কালো শুধুই কালোর মেলা...
আর সেই কালোর থেকে
নিজেকে আলাদা করতে,
পথ খুবই ঘোলাটে।
মাথা বাঁচানোর জন্য,
তার নিজের ছাতা খুলেও
জল আটকায় না এতটুকু ...
এটাকে সারাবার মানুষ,
ও পায়নি আজীবন খুঁজে বা
ঝড় জল ডিঙিয়েও।
তবুও একটা মাত্র শান্তি
ব্যবসাটা ওর স্বাধীন!
মানে, স্বাধীনতার অংশ তো বটেই …
বালিয়াড়ির দাগ
নিকোটিন দমে ঘাটতি বেশ!
আকুলতা নিয়েই ছুটে যাই,
জানি না মিটবে কবে রেশ।
পলাশ কুঁড়ি রঙীন লজ্জায়,
নির্বোধ নজরে চেয়ে থাকি;
ভাবি,'কদ্দুরই বা চলা যায়?'
স্বপ্নও দেয়,'প্রতীক্ষায় উঁকি!'
দাগ মোছে না অনন্ত টানে,
মুক্তোছাড়া ঝিনুক উদাস!
ছেঁড়াতার বারণ কই মানে?
বালিহাঁসই মুক্তি ইতিহাস।
সেই মধুপুর
সাঁকো কতদূর?
ডাইনে বামে গাড়ির শব্দ,
সাইরেন!
ছায়াময় প্রান্তিক টানে,
দায় কেউ নিলোনা।
জনান্তিকে তবুও বলবো-
সাঁকোটা খুঁজে পেলে,
ভালোই হতো…
মাটির টানে
পৃথিবীর সময় কই,
সুখে বা দুঃখে তোমার কাছে আসার!
তবু যদি অস্তিত্ব রক্ষা করতে চাও,
তাঁরই মাটি হতে একটু ধুলো নাও,
ছড়িয়ে দাও সেতুবন্ধনে।
দেখবে কোনো এক যাদুমন্ত্রবলে,
একদিন মানব বন্ধনে তাও,
সেতু গড়বেই।
আর তোমায় ঘিরে দেখো,
তোমার চারিপাশেই শুনতে পাবে,
অসংখ্য মানুষের কোলাহল।
ওরা সবাই ছিলো,
সবাই আছে,
শুধু চাই একটু কোমল মাটির টান …
অচ্ছেদ বন্ধন
একমুঠো আকাশ দিয়েছিলাম
যখন অন্ধকারে, ভুলে;
এক সাগর ঢেউ তুলে দিলাম
যখন আন্দোলিত হলে।
এক পৃথিবী বাতাস দিয়েছিলাম
যখন পল্লবিত ছিলে,
একবুক ভালবাসা এনে দিলাম
যা চেয়েছিলে তালেমিলে।
একমন বোঝা রেখে দিলাম
যখন শয্যা বেছে নিলে,
এক ঝলক আগুন দিয়ে গেলাম
যাবে বলে জীর্ণ বসন ফেলে।
হাসি কান্নার মত
ভাষার উপর দিয়ে
উড়েই চলেছে
মুক্তির আলো পেয়ে।
কল কাকলি যত
খোলা দরজার মত
অসীম পথকে ছুঁয়ে
ছড়িয়ে পড়েছে
ভোরের আমেজ নিয়ে।
মৃদু ভোরের হাওয়া
দামাল ছেলের মত
দারুণ গতিতে ধেয়ে
বয়েই চলেছে
নদীর দুকূল বেয়ে।
পাল তুলে জীবন
শেকল ভাঙা কয়েদীর মত
একবুক শ্বাস নিয়ে
ভেসেই চলেছে
জীবনের গান গেয়ে।

ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুননিজস্ব ঘরানায় লেখা। ভালো লাগলো দাদা। শুভ দুপুর ।
উত্তরমুছুন