মনোতোষ আচার্য
ডানার শৃঙ্খলা
মাঝরাতে বলেছিলে আশ্রয়ের নিরাকৃত মশক সংগীতে
ভালোবাসতে পারোনি
মন্দ্রিত বিশ্বাস ভেঙে ফুটে ওঠা ডানার শৃঙ্খলা
পরজন্মে আগেভাগে পাবার আবেশে টলোমলো
রণিত কণ্ঠস্বরে এত অবহেলা
গোপন সঙ্গিনী ভ্রমে গরল উদগার।
প্রাক শর্তে মুছে যাওয়া বৃষ্টি ও ঝড়ে
প্রবল দুর্গের দ্বারে আত্মমোক্ষণ
ক্ষয়ে যাওয়া বেলাভূমি ভক্তি ভজনে
কাঙ্ক্ষিত যাপন ঘিরে রেখে যায় দাগ।
জলজ প্রত্যয়ে পাই ফেলে আসা স্নিগ্ধ নিরাময়
চাকায় চাকায় ঘোরে পরিত্যক্ত জারিত যাপন
মুদিত চোখের খাঁজে এত কান্না ... সংরাগ আঁকা
অলৌকিক নীরবতা
জ্যোৎস্নায় নিরুদ্দেশ ... শান্ত স্বচ্ছতা।
বিনম্র আজান
সরিয়ে রেখেছো জাল, আলোকিত মিথ্যার বেসাতি
মৃত নগরীর পথে শ্বাপদ, শকুন
হেঁটে উড়ে কথা বলে প্রগতির কথা
জামা বদলের গানে বেজে ওঠা আবহের ভ্রমে
জমে যায় কালের জঞ্জাল
মাগো এই আত্মপ্রচার
কোথায় খুঁটিতে থাকি বাঁধা
জলের ওপরে সর ভাঙে দিন অনিবার্য আয়ু
বদলায় সাঁঝবাতি আলো
পরম আদরে জাগে ঐশ্বরিক কবিতার ধ্যান
মাটিতে পড়েছে ছায়া, পাতায় পাতায় জাগে বিনম্র আজান।
পুরোনো মাটির ঘর
এসো খেলা করি বৃষ্টি ভাষায়
নিজেকে আড়াল করি ছবিটির ফ্রেমে
পথ- ঘাট ভিজে গেছে
শুকনো কথারা আছে জেগে
গল্পের ইশারায় হারিয়েছে প্লট
পুরোনো মাটির ঘরে
বাট চেয়ে বসেছিল আমপাতা ঘট
খড়ের আলোয় জ্বলে চেতনার সপ্তসিন্ধুতট
কান্তারের মধ্যিখানে স্মৃতিপটে দয়িতার বেণী
দোঁহে মিলে কাটিয়ে যাবো বিনিদ্র রজনী ।
আত্মার ধ্বনি
রাতের আঁধার কেটে মরে গেছে পোকাদের ঝাঁক
অসীম আলোর দিকে ছুটে গিয়ে তবু
আলো আর দেখাই হল না
বিফল আত্মার ধ্বনি ঘুরে ফিরে ঘুমের ভেতর
পরিযায়ী খননের দেশ মাথা তোলে
নিবিড় স্বপ্নের চোখে আগুন প্রহর
দৃষ্টির অন্তরে পাই নিরুদ্দিষ্ট প্রাচীন অক্ষর
শরীরের শান্ত নদী বয়ে যায় পাহাড়ের ঢালে
লৌকিক ঘুড়ির দেশে ডানা মেলে রোদ্দুরের কণা
শৃঙ্খলিত অন্ধকারে ঘাম মোছে আদিম ঠিকানা।
কথা
সেইসব কথার প্রাচীরে গোপন মৃত্যুর ছলে
জ্বলে ওঠা আলো
অনিবার্য তরঙ্গমালায় নিঃশব্দ সংরাগে কাঁপে আমলকী বন
কথারা রাস্তা বেঁধে চলে যায় নিশ্চুপ মাটির তলায়
দোআঁশ স্বপ্নের দেশে ধ্বনি ভাসে শিকারগীতির
একটি সবুজপাতা ভেসে ওঠে জলের অক্ষরে
চুপ করো অবিশ্বাসী শূন্যতম বাগানের ঘ্রাণে
সুউচ্চ অন্ধকারের টিলায় রচনা করি মুহুর্তের ভাষা
মায়ালি রাতের ঠোঁটে দগ্ধ হই নগ্ন নির্বাসনে


অপূর্ব সব শব্দবন্ধনে আবদ্ধ...
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো।
বাহ ! বেশ ! শব্দবন্ধগুলি অনুপম সুন্দর ! ভালোবাসা ! (মধুসূদন দরিপা ! বাঁকুড়া )
উত্তরমুছুনঅপূর্ব
উত্তরমুছুন