সোমবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতা -১০ ।। জয়শ্রী সরকার-এর কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

   




উন্মুক্ত কবিতা -১০





জয়শ্রী সরকার-এর কবিতা 


১.

জীবনটা ঠিক নদীর মতো 



জীবনটা ঠিক নদীর মতো ঢেউয়ের পরে ঢেউ
দুঃখ-সুখে লেপটে থাকে বাঁধতে পারে কেউ ?

মন-নদীতে উথাল-পাথাল নিত্য ঢেউয়ের চলা
ধরতে পারি কতই বা আর, যায় না কিছুই বলা !

ভাঙা-গড়ার লীলাখেলা ঢেউ নিয়ে যায় বুকে
পাড় ভেঙে দেয় কোথাও বা সে, কোথাও সবাই সুখে !

দুঃখ-সুখের ভেলায় ভেসে ঢেউয়ের নিত্য খেলা
ঢেউ চলে যায় আপন বেগে সাঙ্গ করে বেলা !

এই অবেলায় নিত্যনূতন ঢেউয়ের আনাগোনা
আগামীর সেই শুভবার্তায় স্বপ্নের জাল বোনা !

এমনি করেই জীবন-তরী  অজস্র ঢেউ গুনে
সাঙ্গ করে ভবের খেলা ওপারের ডাক শুনে !


২.

আগমনীর আবাহনে


বাজলো তোমার আলোর বেণু শরৎরানি হাসে
আকাশ মাঝে নীলপরিরা সুখসায়রে ভাসে !

মৃণ্ময়ী মা বিশ্বজননী, চিন্ময়ী মা ঘরে ঘরে
দুঃখ-সুখের অশ্রু-সাজিতে অঞ্জলি দেয় প্রাণ ভরে !

আগমনীর শেষ বিকেলে নয়নলোভন শোভা
পাপড়ি মেলে কাশফুলেরা সত্যি মনোলোভা !

ভোরের বেলায় শিউলিতলায় আগমনীর গন্ধ
জোনাকজ্বলা অন্ধকারে ঝিঁঝিঁর ডাকের ছন্দ !

দীর্ঘ দিনের প্রতীক্ষা শেষ, সবার মুখে হাসি
দুগ্গা বলে, শরৎ আকাশ বড্ড ভালোবাসি !

দুগ্গা আসুক সবার ঘরে খুশির খবর নিয়ে
সবহারাদের দুঃখ ঘুচুক সুখের পরশ দিয়ে !




৩.

ঈশ্বর-মানব


তোমাকে সূর্যের পাশে বসিয়েছি -------
তুমি পলকে দাহ্য হয়ে যাওনি, ভাস্বর থেকেছ !

তোমাকে আকাশের নীলে মিশিয়েছি -------
তুমি মেঘে ঢেকে যাওনি, মুক্তি খুঁজেছ !

তোমাকে ঝরণার কাছে রেখেছি -------
তুমি ধারা হয়ে বওনি, স্বচ্ছতাকে ধরেছ !

তোমাকে বন-বাংলোয় দেখেছি -------
তুমি ফুলটবে শুধু ফোটনি, সৌগন্ধ বিলিয়েছ !

তোমাকে অক্ষরমালায় গেঁথেছি ------
তুমি সংকীর্ণতায় হাঁটোনি, অসীম ঔদার্যে মিলেছ !

তোমাকে মনন-তুলিতে এঁকেছি ------
তুমি কর্মকে ভোলোনি, জীবনসমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছ !

তোমাকে মহামানব ভেবেছি ------
তুমি আপ্লুত হওনি, বর্ণমালায় সাঁতার কেটেছ !

তোমাকে আরাধ্যের আসনে বসিয়েছি ------
তুমি অমরত্বের আশ্বাস দাওনি, মানুষের কথা বলেছ !


    


৪.
লাঠি একটা রূপক মাত্র 
 
মনটা যে এক মস্ত লাঠি, শক্ত করে ধরো
চলতে পথে ওই লাঠিতেই শক্তিটাকে ভরো।
শিরদাঁড়াটা সোজা রেখো টাট্টুঘোড়ার মতো
দেখবে জীবন, ভু্লছে সবই দুঃখ-দৈন্য যত !

ছোট্টবেলার লাঠি ছিল আমার মা ও বাবা 
নেই ওঁরা আজ, তাই মনে হয় --- শূন্যতা এক থাবা !
বাবা ছিলেন ভরসারই ছাদ, শক্ত লাঠির মতো
মায়ের স্নেহ-সুধা পানে মনের আদর তত !

বিদ্যারম্ভে এই লাঠিটাই ভীষণ কাজে লাগে
প্রশ্রয় পেলে কোনো শিশুই আসবে না তো বাগে।
শাসন করা তাদের সাজে সোহাগ করে যারা
অন্যায়েতে লাঠির ঘাও সইবে ঠিকই তারা ! 

লাঠি লাগে অনেক কাজেই, বিপদ থেকে মুক্তি
কুকুর-বিড়াল তাড়ানোটাও অকাট্য এক যুক্তি। 
লাঠি খেলার চল ছিল তো শক্তি পরীক্ষাতে 
এখন যে তা উঠেই গেছে কালের অভিঘাতে !

লাঠি একটা রূপক মাত্র, জীবন থেকে বুঝি 
অক্ষমতা আসলে মানুষ সেই লাঠিকেই খুঁজি।
কালের ফেরে বৃদ্ধ হলে সন্তানই হয় লাঠি
সেই লাঠিতেই ভর করে তো জীবন পথে হাঁটি !

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন