তৈমুর খানের কবিতা
১.
কিংবদন্তির পাড়ায়
কিংবদন্তির পাড়ায় মেঘ জমে
আমরা উন্মুখ হই
সোনালি বৃষ্টিতে ভিজিয়ে নেবো আমাদের
আমাদের বিরহেরা দু এক কলি গান ফিরে পাবে
গোলাপি হাতের স্পর্শ এখানে পড়ে আছে
চোখ সরোবর জলে পদ্ম এখানে ফুটেছিল
বাঁকানো ভ্রুর ধনু ছুঁড়ে দিয়েছিল
দীর্ঘশ্বাসেরা আজ সাবধানে থেকো
পুরোনো স্বপ্নেরা সব চলাফেরা করে
বিস্মৃতিরা সব প্রাণ পেয়ে ফিরে আসে ঘরে
চুল খুলে দাও মেঘ
আজ অনবদ্য হোক হৃদয় আমাদের
২
উল্কা
উল্কা কুড়োতে এসে রাত জাগি
বৈষ্ণবপদের ছায়া হৃদয়ে আমার
বৈরাগিনী তোলপাড় করে সারারাত
তবু উল্কা প্রেমের পরাগ
অন্ধকারে তার কমলা ফুলে
আমার শরীর রাধা, ইচ্ছা কৃষ্ণ হয়
স্বপ্নের পুতুলগুলি ফিরে আসে একে একে
প্রেমের ঝরনায় নামে দিব্য আলোতে স্নান সারে
মগ্ন চড়ায় নৌকা থেমে আছে কার?
উল্কা কুড়াই আমি
আমার হৃদয় পোড়া
উল্কার ছাই
৩
মৃত্যুর বিরুদ্ধে
আর একবার জিজ্ঞেস করি:
সঙ্গে আছো তো?
শামিয়ানা টেঙেছে সব বাড়ি
পাড়া-প্রতিবেশী সবাই উলুধ্বনি দেয়
সন্ধেবেলা ফিরব কোথায়?
অন্ধকার সব রাস্তা করে নিচ্ছে চুরি!
এটাই দুর্গার বাপের বাড়ি?
এখানেই হোম করেছিলেন দক্ষ প্রজাপতি?
শিউরে উঠছি…
হাসপাতালের দিকে যেতে যেতে
অ্যাম্বুলেন্সটি পাক খাচ্ছে...
গাড়ি থামাও, গাড়ি থামাও
একবার অন্তত একটা ফোন করি!
৪
বিশ্বাস
আমরা বিশ্বাস পুষে রাখি
বিশ্বাস এসে আলো জ্বালে
আলোকিত ঘরে
আমাদের শিশুরা চাঁদ দ্যাখে।
চাঁদ কি টিপ দিয়ে যায়
তাদের কপালে?
দুধ নেই, দুধ খাওয়ার বাটি নেই
তবুও বিশ্বাস আছে আমাদের।
৫
আমার নীরব ধর্ম
স্বর্ণকমলগুলি ফুটেছে সরোবরে
গুঞ্জন এসেছে কত গুঞ্জরিত হতে
আমার নীরব ধর্ম, আমার নিশির খড়কুটো
বিশ্রামে অবিশ্রাম অস্থির হয়েছে
প্রতিবাদ ছিল নাকো, ঘোষণা ছিল না
নির্বেদ অভ্যাসে শুধু শূন্যতা রচনা
একটি মানুষ যদি এভাবেই মানুষ হতে চায়
কাঁটাগুলি কেন রাখো তার রাস্তায় ?
রাস্তা যেমনই হোক লক্ষ্য শুধু হাঁটা
একটি পৃথিবী থেকে অন্য এক পৃথিবীর দিকে
আমাদের ভাষার ভিতরে অন্য এক ভাষা আছে
আমাদের বাঁচার ভিতরে অন্য এক বাঁচা

প্রতিটি কবিতাই স্বাতন্ত্র্য ভাব বজায় রেখে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত। খুব সুন্দর।
উত্তরমুছুন