বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দের ১৬১তম জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্যঃ স্মরণে -মুক্তি দাশ
ভবিষ্যৎ-দ্রষ্টা স্বামী বিবেকানন্দ
মুক্তি দাশ
স্বামী বিবেকানন্দ প্রখর অধ্যাত্মশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন ভবিষ্যৎ-দ্রষ্টা। তাঁর ভবিষ্যৎবাণী, বিশেষত আমাদের দেশ অখন্ড ভারতবর্ষকে নিয়ে তাঁর যাবতীয় স্বপ্ন তিনি যেন তাঁর দিব্যদৃষ্টির সাহায্যে আগাম দেখতে পেতেন।
সন্ন্যাস নিয়ে বিদেশে পরিভ্রমণকালে স্বামীজিকে তাঁর এক বিদেশিনী বন্ধু, মিস ম্যাকলাউড জিজ্ঞেস করেছিলেন, “স্বামীজি, হোয়াট ক্যান আই ডু ফর য়্যু?” আমি তোমাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি? স্বামীজি মাত্র দু’টো শব্দে তার উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “লাভ ইন্ডিয়া।” ভারতকে ভালোবেসো।
বেলুড়মঠে স্বামী বিবেকানন্দ একটি নির্দিষ্ট ঘরে থাকতেন। তাঁর পাশের ঘরেই থাকতেন অপর এক স্বামীজি। স্বামী বিজ্ঞানানন্দ।
তো একবার হয়েছে কি, রাত দু’টোর দিকে বিজ্ঞানানন্দের হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। বাইরে বেরিয়ে দেখলেন, বিবেকানন্দ বারান্দায় অস্থিরভাবে পায়চারি করে চলেছেন।
বিজ্ঞানানন্দ জিজ্ঞেস করলেন : “কি স্বামীজি, আপনার ঘুম হচ্ছে না?"
বিবেকানন্দ চিন্তিত মুখে বললেন : “বেশ ঘুমিয়েছিলাম, বুঝলে। হঠাৎ যেন একটা ধাক্কা লাগল আর আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমার মনে হয়, কোন জায়গায় একটা দুর্ঘটনা হয়েছে এবং অনেক লোক তাতে দুঃখ-কষ্ট পেয়েছে।”
বিজ্ঞানানন্দ মনে মনে হাসলেন। ভাবলেন, কোথায় কি দুর্ঘটনা হলো আর স্বামীজির এখানে ঘুম ভেঙে গেল – এ-ও কি সম্ভব?
কিন্তু আশ্চর্য! পরেরদিন সকালে খবরের কাগজে দেখা গেল, সুদূর ফিজির কাছে একটা দ্বীপে অগ্ন্যুৎপাত হয়ে বহুলোক মারা গেছে। অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে ঠিক সেই সময়টায়, যে সময়টায় কিসের যেন আঘাতে স্বামীজি ঘুম ভেঙে গিয়াছিল।
স্বামীজি ভারতের অতীত মহিমা ও ঐতিহ্যের কথা শতমুখে গলা উঁচু করে গর্বভরে বলতেন। এবং তিনি মনে করতেন, ভবিষ্যতের ভারতবর্ষ অতীতের ভারতবর্ষ থেকেও শতগুণ বড় হবে, মহান হবে।
জীবনের শেষবেলায় একদিন স্বামীজি বেলুড়মঠে বসে আছেন। আশেপাশে অন্যান্য স্বামীজি-সন্ন্যাসীরাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে। নানারকম কথাবার্তা চলছে। আলোচনা চলছে। হঠাৎ স্বামীজি বলে উঠলেন : “ভারতবর্ষের আগামী চার-পাঁচশো বছরের ইতিহাসের পাতা উল্টে গেল, জানো! নিজের চোখেই সব দেখে ফেললাম।”
জীবনসায়াহ্নে এসে আর একদিন বলেছিলেন, আগামী পঞ্চাশ বৎসরের মধ্যে ভারত স্বাধীন হবে। হবেই। কিন্তু যেভাবে সাধারণত দেশ স্বাধীন হয়, সেভাবে নয়। তার আগে আজ থেকে কুড়ি বৎসরের মধ্যেই একটা মহাযুদ্ধ হবে। পাশ্চাত্ত্য দেশগুলি যদি materialism না ছাড়ে, তাহলে আবার যুদ্ধ অনিবার্য। স্বাধীন ভারতবর্ষ ক্রমে পাশ্চাত্ত্যের materialism নেবে। প্রাচীন ঐহিক গৌরবকে নতুন ভারত ম্লান করে দেবে। আমেরিকা প্রভৃতি দেশ উত্তরোত্তর অধ্যাত্মবাদী হবে। তারা জড়বাদের শিখরে পৌঁছে বুঝেছে, জড়ে শান্তি দিতে পারে না।
আর একবার স্বামীজি বলেছিলেন ; “ইংরেজরা ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যাবার পর চীনের দ্বারা ভারতবর্ষ অধিকৃত হবার বিরাট আশঙ্কা আছে।”
স্বামী বিবেকানন্দের ভবিষ্যৎবাণী কিন্তু একেবারে বিফলে যায়নি।

খুব সুন্দর লেখা।সত্যিই তিনি ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা ছিলেন।
উত্তরমুছুন