বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২

ধারাবাহিক প্রেমের উপন্যাস (পর্ব-২০)।।... এবং ইরাবতির প্রেম।। গৌতম আচার্য।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





ধারাবাহিক প্রেমের উপন্যাস ( পর্ব- ২০)



.... এবং ইরাবতির প্রেম
গৌতম আচার্য



সত্যেন আকুলতা প্রকাশ করে।। কোন দুটি কথা বলা বাকি আছে আর তা বলতে চায় ইরাবতি? প্রশ্ন করা মাত্র ইরাবতি বলে ওঠে, "একটি দারুন খবর।। শুনে তুমিও আনন্দে লাফিয়ে উঠবে"।। সত্যেন অধৈর্য হয়ে বলে ওঠে, আরে বাবা, লাফালাফির ব্যাপার স্যাপার পরে হবে, আগে তো শুনি কথাটি কি? ইরাবতি ইচ্ছে করে সময় দীর্ঘায়িত করতে থাকে।। ছেলেমানুষী র ঢঙে বলে, "তাহলে তুমি শুনবেই কথাটি? যদি না-ই বলি তাতে কি ক্ষতি হবে তোমার? আর যদি বলি, তা হলেই বা কি লাভ হবে তোমার"? সত্যেন এবার সত্যি বিরক্ত হয়ে ওঠে।। বলে, ছাড়ো তোমাকে আর কিছু বলতে হবে না, আমি আর শুনতে আগ্রহী নই।। এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলে সত্যেন।।

একটু হাসে ইরাবতি।। তারপর বলে, "এই জন্যই তো তোমাকে রাগী বাবু বলি।। পান থেকে চুন খসলেই হলো, ব্যাস্ রাগী বাবু রেগে কাঁই।। কথায় কথায় রাগ করলে চলবে রাগী বাবু? 'সবুরে মেওয়া ফলে' এটাও জানো না বুঝি"? সত্যেন সব রাগ ভুলে গিয়ে বলে, আমার কাছেও এমন একটি খবর আছে, যা শুনলে তুমিও পাগল হয়ে উঠবে।। তোমার খবর না বললে, আমি সেটি তোমাকে বলবো না।। এবার ইরাবতির জোরাজুরি শুরু।। তার দাবি, আগে সত্যেন বলবে তার কথা, তারপর হবে ইরাবতির খবর।।

অবশেষে সত্যেন জানালো, সে ঠিক করেছে আগামী মাসে ৯ তারিখে ঠিক এবারের মতোই আবার তারা দুজন মিলে বেড়াতে যাবে।। এই বারের মতো আবার সেই ১১ তারিখে তারা ফিরে আসবে।। চূড়ান্ত উৎসাহ নিয়ে কথাগুলি শেষ করে দুই মিনিট অপেক্ষা করেই সত্যেন বলে উঠলো, "অপারেশন সোনার বাংলা গ্রুপ অফ্ হোটেলস্"।। তার সমস্ত উৎসাহে জল ঢেলে ইরাবতি বলে উঠলো, "ধ্যাৎ পাগল, প্রত্যেক মাসেই এভাবে যাওয়া যায় নাকি? বাড়িতে কি বলবো? বরং আমরা....." থেমে যায় ইরাবতি।। চরম উৎসাহ আর জেদ মিশিয়ে সত্যেন বলে, "নো এনি বরং।। এটাকেই ফাইনাল করতে হবে তোমাকে।। আমি কোন কিছু জানতে বা শুনতে চাই না।। যাবো মানে যাবোই"।। "চুপ্, একদম চুপ" বলে ওঠে ইরাবতি।।

কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে সত্যেন এবার বলে ওঠে, "নো চুপ্।। কি করে তুমি ম্যানেজ করবে সেটি তুমি ঠিক করো।। আমি সামনে মাসের নয় তারিখে দার্জিলিং এ সোনার বাংলা গ্রুপ অফ্ হোটেলস্ এ তোমাকে নিয়ে চেক্ ইন্ করবো।। আর চেক্ আউট ১১ তারিখে।। আমি কোলকাতা পৌঁছেই বুকিং করে দেবো"।। এবার ইরাবতির পালা।। ইরাবতি বলে, "হে আমার মহাপ্রভু, মাই ডিয়ার সত্যেন, আমি তোমার জন্য অন্যরকম ব্যবস্থা করেছি।। আর সেই ব্যবস্থার কথা শুনলে এখনই তোমার......"।। একটু থেমেই ইরাবতি বলে "তুমি ট্রেনের টিকিট করেছো? টি টি র সঙ্গে কথা বলেছো"?

কল্পলোক ছেড়ে বাস্তবে ফিরে আসে সত্যেন।। সত্যি তার টিকিট এখনও করা হয়নি।। তাকিয়ে দেখে টিকিট কাউন্টারে অনেক লম্বা লাইন।। ইরাবতি কে বলে, "থ্যাঙ্কু, মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।। আমি সব সেরে ট্রেনে উঠে তোমাকে ফোন করবো।। সময় হয়ে এসেছে।। তুমি ফাঁকা রেখো নিজেকে।। ঠিক আটটা পাঁচ থেকে আটটা কুড়ির মধ্যে ফোন করবো।। ফোন লাইন কাটতে কাটতে সত্যেন পৌঁছে যায় টিকিট কাউন্টারের লাইনে।। তার সামনে প্রায় কুড়ি বাইশ জন লোক দাঁড়িয়ে আছে।। ট্রেনের সময়সূচি আটটা বেজে পাঁচ।। টি টি বাবু ষ্টেশনে আসবেন সাতটার সময়।। এখন বাজে ছ'টা পঁয়তাল্লিশ।।

টিকিট হাতে নিয়ে সত্যেন পৌঁছে গেলো টি টি রুমে।। তার পৌঁছনোর আগেই তিন চার জন পৌঁছে গেছে।। টি টি সাহেব সকলকেই 'ট্রেন আসুক, পজিশন দেখি, তারপর দেখবো কি করতে পারি' বলে ভাগিয়ে দিয়ে নিজের দর বাড়াচ্ছেন।। এমন সময় সত্যেন তার কাছে গিয়ে বললো, "আমি রিজার্ভেশন পাই নি, বহু কষ্ট করে একটি এক্সপ্রেস টিকিট কেটে নিয়েছি।। কনফার্ম করে দিলে জার্ণিটা করতে পারি"।। একমনে চার্টের দিকে তাকিয়ে টি টি সাহেব বললেন, "গাড়িতে কথা হবে।। সিট না থাকলে জেনারেল বগিতে চলে যাবেন।। যদি কিছু ম্যানেজ করতে পারি তাহলে..." কথা শেষ করবার আগেই চোখ তুলে তাকালেন তিনি।।

"আপনি এস-৬ তে উঠে আমার সিটে বসে পড়বেন, আমি আপনাকে ডেকে নেবো।। তবে........"।। ঠিক আছে আমি দেবো-- বলে সত্যেন।। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢুকে গেছে।। সোজা এস-৬ এ উঠে টি টি সাহেবের জন্য নির্দিষ্ট আসনে বসে পড়লো সত্যেন।।



চলবে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন