কলমে—
তৈমুর খান
সমাজ বসু
দুর্গাদাস মিদ্যা
বিকাশ চন্দ
অমিত কাশ্যপ
অভিজিৎ দত্ত
সুধাংশুরঞ্জন সাহা
গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
গোবিন্দ মোদক
কাজল মৈত্র
জয়শ্রী সরকার
মুক্তি দাশ
বৈদূর্য্য সরকার
দুরন্ত বিজলী
বিদ্যুৎ মিশ্র
রূপক চট্টোপাধ্যায়
তাপস বৈদ্য
বদ্রীনাথ পাল
অশোক রায়
সামসুজ জামান
কার্ত্তিক মণ্ডল
প্রিয়াঙ্কা মজুমদার
মহা রফিক শেখ
দীনেশ সরকার
তিমির ভট্টাচার্য্য
মালা ঘোষ মিত্র
মহম্মদ সফিকুল ইসলাম
নিমাই জানা
বিমল মণ্ডল
অর্ণব বশিষ্ঠ
নীতা কবি মুখার্জী
বর্ষাকালীন
তৈমুর খান
কত বৃষ্টি পড়েছে সারাদিন
আমরা নৌকা ভাসাইনি—
আমাদের তো শব্দের তরণি!
আবেগের স্রোত যদিও বয়ে গেছে
অনুভূতির বাতাসে কার্যত কানাকানি
তবুও নিসর্গবাঁশি বাজেনি রোদের জানালায়।
কিছু কিছু কৌশলী কল্পনা দূরের মুগ্ধ মুখ
নীরব সবুজ মেখে অন্তরালে ডাকে—
আমরা কি যেতে পারি?
দুর্যোগের মিছিল ঘিরে রেখেছে শহর
অদ্ভুত রিরংসায় উত্তাল প্রহরগুলি
ছিঁড়ে ফেলেছে সব স্বপ্ন-ইশতাহার।
আলুথালু বিপ্লবীমেঘ বজ্র আঁকে
ইতিহাস হয়ে যায় সেসব বজ্রের কাহিনি
আমরা রোজ রোজ নতুন জানালা বসাই
জানালার কার্নিশে এসে ডাকে মায়াপাখি
চেতনা ও অবচেতনার ডানা ঝাপটায়
ধূসর শূন্যের বিন্দু ঝরে ঝরে পড়ে চারিধারে।
খোঁজ
সমাজ বসু
মেলায় হারিয়ে যাওয়া ভাইয়ের মত---
দীর্ঘ অবসাদ দুঃখ আর চিন্তার আড়াল ছিঁড়ে
কখনও ফিরে আসে আত্মবিশ্বাস,
তারপর তাকে বুকে টানতেই
ডুকরে ওঠে যাবতীয় সুখ অভিমান আর ভালবাসা।---
এভাবেই মেলায় হারিয়ে যাওয়া ভাইয়ের মত
ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাসের হাত ধরে
কিছু মানুষ অন্ধকার ভাঙাচোরা দুর্গম পথ ভেঙে
অনায়াস পৌঁছে যায় আলোর চাতালে।---
তন্নতন্ন মেলায় আজও আমি তাকে খুঁজে বেড়াই...
রথযাত্রা
দুর্গাদাস মিদ্যা
জন্ম থেকে যে রথে চড়েছি
আমৃত্যু চেপে থাকবো সেই রথে।
অন্য কোনো রথের কথা আমি
জানিনা। গোলোক ধাঁধায় দুচোখ
ধাঁধিয়ে দিচ্ছে প্রতিদিন। কত রকম
সিন সিনারিও ভেসে আসছে দু-চোখে
সেই রথে সমাসীন হয়ে, বুঝেছি বেশ
দুরূহ সেই রথ -অভিযান। চেপে থাকতে
থাকতে বুঝেছি মান, অভিমান, সম্মান
অপমান সব ঘর্ঘর শব্দে উঠে আসছে
আর কানের পাশ দিয়ে সাঁই সাঁই শব্দে
বেরিয়ে যাচ্ছে গতিবান তিরের মতো।
জীবন -রথে উপবিষ্ট একা আমি লড়ে
যাচ্ছি অসম যুদ্ধে আমৃত্যু সভয়ে।
রথের দিন রথের রাত
বিকাশ চন্দ
চোখের আলোয় পথ চিনেছে রথের চাকা জানি
বর্ণ ধর্ম ধুলো মাখে চেতনায় চৈতন্য বোধ জাগে
বাধ্য বাঁধনে বাঁধলো কেমন টান রশির লীলায়
জাত গোত্রের এক তরঙ্গ আত্মার মেলবন্ধনে
সকল মত মিলে গেছে সকল দেহকাণ্ডে জাগে
কোথায় ইতিকথা বাঁধনে বেঁধেছে সীমাহীন দৃষ্টি
বিলীন বৈরীতা পরষ্পর বাঁচে আত্ম লিপি টানে
সকল খণ্ড জন্ম কাল উজ্জ্বল আলোর দর্শনে
আমাদের আত্মা পোড়ে কে জানে ক্রোধের ইন্ধন
অখণ্ড দৃষ্টিপাত জুড়ে জাগে অনাবৃত নীলাকাশ
লীলা ক্ষেত্রে মানুষের অনাবিল একান্ন বসতি
অক্ষত পৃথিবীর পিঠে শান্তি চাকার সোহাগ রেখা
শ্রীবাস আদি সুদর্শন গৌর কৃষ্ণ রাধা শ্রী জাগরি
পূর্ণ শশী হতবাক জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা বরণী
সকল দর্শন একাকার তালে মাতে খোল খঞ্জনী
অমৃত যোগে মাতোয়ারা রথের দিন রথের রাত
রথযাত্রা
অমিত কাশ্যপ
ধ্বজা দেখে পায়ে পায়ে এগই
সার্কাসের তাঁবু, সারি দিয়ে আলোর মালা
মাথায় ধ্বজা ওড়ে, মেলা পড়ে
রাধাজিউর মন্দির, পাশে এখন জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা
সাতদিন বিশ্রাম, ভেবে নাও মাসির বাড়ি
বৈকণ্ঠপুর এখন সেজে আছে, রবিবার হাটবার
আশপাশের মানুষ, রথ দেখা কলাবেচা
গঞ্জমেলা, আরূঢ় তিন দেবতাকে নিয়ে মহোৎসব
গড় করতে করতে চলেছেন, চোখ সামগ্রীর ওপর
মেলা মানে মিলন, বছরের মিলনক্ষেত্র
দেবতার স্থান দেবালয়, ভক্তির স্থান হৃদয়ে
জগতের যিনি নাথ, তিনি তো প্রভু কর্তা পতি
তাঁকে প্রণাম, তাঁর রথযাত্রা মঙ্গলময় হয়ে উঠুক
রথযাত্রা
অভিজিৎ দত্ত
রথযাত্রায় মানুষ ব্যস্ত
হুজুগে আর মাতামাতিতে
ভুলে যায়,এর ভেতরের
আসল সত্যটাকে।
রথ হচ্ছে শরীর
বিগ্রহ হচ্ছে মন্দির
রশি হচ্ছে ইন্দ্রিয়
এদেরকে রাখো যদি নিয়ন্ত্রণে
সেটাই হবে প্রকৃত ধর্ম।
প্রকৃত ধর্মে নাই উচ্চ-নীচ
ভেদাভেদ আর কলহ
প্রকৃত ধর্ম মানবসেবা ও ভালোবাসা
এটা কী বুঝে সবাই?
জগন্নাথের রথযাত্রা
কয়জনই বা বুঝি?
হিংসা আর কলহে
অনেকেই মাতি।
প্রকৃত ধর্ম সমাচার ও ভালোবাসায়
জগন্নাথের রথযাত্রা তাই বোঝায়।
হেঁটে যাব
সুধাংশুরঞ্জন সাহা
বেহিসেবী এই দুনিয়ায় আমিও একটি সংখ্যা মাত্র।
দুচোখে মেঘ নিয়ে হেঁটে চলেছি
এক পকেটে ঘড়ি, অন্য পকেটে চাঁদ।
ফর্দাফাই মানচিত্র নিয়ে
আমি হেঁটে চলেছি সমুদ্র বরাবর...
একা নই আমি আর,
আমার সঙ্গে আছে বাতাস,নদী,গাছ,পাখি আর পথ...
আমি হেঁটে যাব সব সীমানা ছাড়িয়ে।
রথের দেবতা
গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
সেই ছেলেবেলায়,
শহরের মাঝে,নানান কাজের ভীড়ে —
বেশ ক'জন ভাইবোন মিলে সাজাতাম রথ।
সামর্থ্য বলতে একতলার এক রথে
ফুলে -পাতায়- বাতাসায় মাটির ত্রিমূর্তিকে নিয়ে
খানিক দড়ি টানাটানি।
শহরের মাঝে, নানান কাজের ভীড়ে —
সকলেরই তখন অমন রথ...
বড় হয়ে আর রথের দড়িতে হাত দিইনি।
বিস্মিত হয়েছি, বিহ্বল হয়েছি সে দৃশ্যে।
রথারূঢ় হে মহাদেবতা, প্রাণের দেবতা—
ভেসে যেতে পারিনি ভক্তিতে বা আনন্দে,
সে আমারই চিন্তার ভুল।
অন্তর্যামী বলে তোমাকে দেখেছে লোকে
তুমিই চির-সুক্ষ্ম এবং স্থুল!
রথের মেলা
গোবিন্দ মোদক
আষাঢ় মাসের রথযাত্রা বসবে রথের মেলা,
বিকেল হলেই মেলায় যাবে মিতু গুপি ভোলা।
জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা এই দিনেই ভাই,
রথে চড়ে বেড়াতে মাসির বাড়ি যায়।
রাস্তার দু'ধারে তাই বসবে রথের মেলা,
পুতুল নাচ জাদু খেলা ম্যাজিক নাগরদোলা!
বাদাম ভাজা জিলিপি পাপড় তেলেভাজা,
হরেকরকম দোকানপাট মিষ্টি খাজা গজা!
আলুকাবলি পপকর্ণ পরোটা আলুর দম,
রোল চাউমিন পাস্তা খাবার সব রকম।
আরও আছে খেলনাপাতি খুন্তি কড়াই হাঁড়ি,
মাটির আর প্লাস্টিকের পুতুল রকমারি!
বাঁশের বাঁশি, খঞ্জনি – চুড়ি রবার বল,
চাবি দিলেই চলবে গাড়ি নড়বে খুড়োর কল!
গৃহস্থালির হরেক জিনিস পিতল চিনেমাটি ,
দোকানদার বলছে হেঁকে নিয়ে যান সব খাঁটি!
এরই মাঝে গড়গড়িয়ে চলছে কাঠের রথ,
"জয় জগন্নাথ! বলরাম!!" জনাকীর্ণ পথ!
ধাক্কাধাক্কি চেঁচামেচি টানতে রথের দড়ি,
সবাই চায় পুণ্যি করতে তাইতো হুড়োহুড়ি!
বাচ্চা থেকে বুড়ো মাতে বাহা রে রথের মেলা,
এমন সময় বৃষ্টি আসে ফুরিয়ে আসে বেলা!
মেলায় ঘোরার মজা নিয়ে সবাই ফেরে ঘরে,
আসছে আবার উল্টোরথ ঠিক আটদিন পরে!!
আমার ঈশ্বর
কাজল মৈত্র
আমি রেখে যাব আমার ঈশ্বর
উত্তরপুরুষের কাছে
যেখানে শুধু আছে আমার ছায়া
প্রতিদানে পাই পাঁশুটে ঈশ্বর কণা
যা খুঁজে ফিরি তিনজনা
আর আধখানা চাঁদ লুকিয়ে রাখে কলঙ্ক
তার গোপন গহ্বর থেকে
বিচ্ছুরিত হয় আগুনে শব্দ
হে ঈশ্বর , এই আমার পাওনা
চৌদ্দ প্রদীপের নিভন্ত ধোঁয়ায়
বিলীপ হয়ে যায়
আমার পূর্ব পুরুষের বিদগ্ধ বেদনা ।
স্মৃতির ভেলায় রথের মেলা
জয়শ্রী সরকার
রথযাত্রা নামটা শুনেই পৌঁছে তো যাই ছোট্টবলায়
বাবার কাছে বায়না ধরি, যাও না নিয়ে রথের মেলায় ।
সেই সে দিনের সুখগুলো সব লেপটে আছে মনের মাঝে
চাইলেও কী ভুলতে পারি ? প্রশ্ন করি সকাল-সাঝে।
রথযাত্রার রহস্য কী -- সেটাই মাথায় ঢুকতো না যে
আনন্দটাই মুখ্য ছিল--- আর বাকি সব বৃথাই কাজে।
ছুটি পেতাম একটি দিনের --- ঠিক দুপুরে পৌঁছে যেতাম
জিলিপি আর পাঁপড় ভাজা মনের সুখে হামলে খেতাম !
রথটাকে তো টানবো বলে বায়না ধরি বাবার কাছে
ধমক যে খাই ঠিক তখনই ভীড়ের মাঝে হারাই পাছে।
নাগরদোলায় আমার সাথে চড়তে হ'তো বাবাকেও
নাছোড়বান্দা আমি নাকি, ছাড়ছি না তো ধমকালেও !
বায়না করার আগেই বাবা কিনে দিতো পালকি-পুতুল
সাজবো বলে সঙ্গে দিতো গলার হার আর কানের দুল।
বাবার হাতটা ধরে ধরেই আহ্লাদেতে কাটতো বেলা
মনের সুখে মজা লোটা --- এই না হলে রথের মেলা!
হঠাৎ দেখি মেঘের ঘটা --- বৃষ্টি নামে মুষলধারে
জল-কাদা আর ভীড়ের ঠেলায় দাঁড়াই গিয়ে শেডের ধারে।
ভাবতে গেলেই মন ছুটে যায় সেই সে দিনের রথের মেলায়
হাতড়ে বেড়াই আজকে শুধুই মধুর স্মৃতির এই অবেলায় !
আষাঢ়ে জগন্নাথ
মুক্তি দাশ
দেবতারা সব প্রিয়দর্শন-
জানি সেই কথাটা্ই।
তোমরা যে বাবা কিসের দেবতা
মাথায় আসে না ছাই!
শ্রীজগন্নাথ, বলরাম আর
সুভদ্রা– তিনজনে,
এত বিদঘুটে কেন গো তোমরা
হলে তিন ভাইবোনে?
তোমাদের ছাড়া ভক্তকুলের
নয়নের মণি যে হারা!
অথচ কেমন কিম্ভূত সব
তোমাদের এই চেহারা!
প্রতি বছরেই ফিরে ফিরে মনে
জাগে যে প্রশ্ন দুটো-
কেন তোমাদের পা-গুলো উধাও?
হাতগুলো কেন ঠুঁটো?
এর জবাবে যে আষাঢ়ে গল্প
বহু পুরাতন যা- সেই
শোনাতেই বুঝি আসো বারে বারে
ঠিক সে আষাঢ় মাসেই?
মেদিনী গ্রাস করলে
বৈদূর্য্য সরকার
হারিয়ে গেছে রাধারাণীরা, শুধু লৌকিক বিশ্বাসে
যাত্রাপাড়ায় নিয়মমতো আলো মালা হালখাতা
তবে বাজার পড়তি সে না বোঝার কারণ নেই ।
সদ্য যৌবনে আমরা ভিড় ঠেলে মার্বেল প্যালেসে
বাদল সঙ্গীত আর শরীরে ঘামের ধারা নিয়ে
রথের দিন যেতাম, আজকাল জৌলুস কমেছে
কমেছে আগ্রহ সবারই...শুধু পড়ে আছে লোভ ।
পাড়ার খুদেরা কাগজের শিকলি কাটা রথের
বদলে নিশ্চয় ইলেকট্রনিকস খেলনা পছন্দ করে,
কোলেস্টেরলে বারণ ভাজাভুজি আমোদ আহ্লাদ,
পার্টির লোকেরা শুধু নিজেদের খুঁটি পুজো করে
বিস্তর ফূর্তি করে শুনেছি ।
রথের মেলা
বিদ্যুৎ মিশ্র
সকাল থেকেই রিমিঝিমি
বৃষ্টিতে পথ কাদা
খোকা যাবে রথের মেলায়
সঙ্গে যাবে দাদা।
বিকেল বেলা চক বাজারে
খুব জমেছে ভিড়
রথের চাকায় টান পড়েছে
চলছে মানুষ ধীর।
খোকার আমার সাধ হয়েছে
কিনবে পুতুল, ঘুড়ি
মায়ের জন্য সাত রঙা সে
আনবে নতুন চুড়ি ।
দাদার জন্য লুডো এবং
বাবার জন্য গাড়ি
অফিস যাবে বাবা নাকি
সেটায় তাড়াতাড়ি।
সকাল থেকে তাইতো খোকা
নতুন জামা পরে
রথের মেলা যাবার জন্য
তৈরি নিজের ঘরে।
বিদ্যুৎ মিশ্র
সকাল থেকেই রিমিঝিমি
বৃষ্টিতে পথ কাদা
খোকা যাবে রথের মেলায়
সঙ্গে যাবে দাদা।
বিকেল বেলা চক বাজারে
খুব জমেছে ভিড়
রথের চাকায় টান পড়েছে
চলছে মানুষ ধীর।
খোকার আমার সাধ হয়েছে
কিনবে পুতুল, ঘুড়ি
মায়ের জন্য সাত রঙা সে
আনবে নতুন চুড়ি ।
দাদার জন্য লুডো এবং
বাবার জন্য গাড়ি
অফিস যাবে বাবা নাকি
সেটায় তাড়াতাড়ি।
সকাল থেকে তাইতো খোকা
নতুন জামা পরে
রথের মেলা যাবার জন্য
তৈরি নিজের ঘরে।
মেলার টানে
জগদীশ মন্ডল
বৃষ্টি পড়ে টুপটুপাটুপ
সূর্য নেয়নি ছুটি,
রথের চাকার দড়ি টানতে
পড়ে ছোটাছুটি।
নতুন জামায় মেলার টানে
মজ্জি মাফিক হাঁটে,
নানান গাছের সবুজ চারা
দিব্যি মজায় কাটে।
কাঁচের চুড়ি,নাগর দোলা
ভেঁপু,এয়ার গান,
মাইক বাজে পুতুল নাচের
ম্যাজিক শো'তে কান।
খোকাখুকি বায়না ধরে
চড়বে ঘোড়া দোলা,
রঙিন ফিতের স্বপ্ন চোখে
যায় না সে সব ভোলা।
চিটচিটানি কাদা পায়ে
আঁধার ধরে ঘিরে,
পাঁপর ভাজা খেতে খেতে
বাড়ি আসি ফিরে।
রথ কথা
রূপক চট্টোপাধ্যায়
রথের চাকারা ঘোরে,
ধূলোর শৈশব থেকে দু'টাকার
তেলে ভাজা জিলিপি শহরে।
চূড়ায় পতাকা, নীচে কোলাহল,
ভিজে কাক, নবকিশোরমেলা
বুকেচাপা আগুন বিফল!
দৌড়ে যাই দড়ি টান জোর,
কাঠের ঈশ্বর হাসেন
বলরাম, সুভদ্রা,আর বর্ণচোর।
এলো মেঘের সঘন,
ভেজা পথ, ভেজা চুল
রথী জানে, কি আছে গোপন!
কি খোঁজে নয়নে কার,
দেহ রথে উঠে বসে চতুর
পাখিওড়ে, হৃদয়টি নব চন্দ্রহার।
মায়ের পিছু, শিশু ভোলনাথ,
তর্জনীধরে, পারহয় মেলা,
বিকেলের সীমান্তে নৃতত্ত্ব রাত!
লোক বাড়ে,জনতা প্লাবন,
রথের চাকায় তবু ঘর্ঘর,
ঈশ্বর মফস্বলি, এবং মনকেমন!
ওই যে কিশোরী স্বরবৃত্ত একা,
নেমে আসে ছাদ থেকে,
বহুচোখে সেই চোখ যায়নাই দেখা।
এসো বর্ণচোরা, তার দৃষ্টি পথে,
দেখো এতো লোকারণ্যে
সাজো রথ, সাজো প্রেম
সাজো অনাদিকাল হতে!
রথানুগমন
তাপস বৈদ্য
চাকা ও আগুন আবিষ্কারের পর থেকেই
মানুষকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
স্থানিক ও কালিক বিবর্তনের অনিবার্য ধারায়
অগ্রগতির সঙ্গে রথ শব্দটি যুক্ত হয়েছে।
রথ বললেই কেন জানি না মাহেশের মেলায়
হারিয়ে যাওয়া রাধারানীর কথা মনে পড়ে।
আর রাধারানী বললেই আমার ছোট্ট মেয়েটি
পাশে এসে বসে, স্বভাবজ চঞ্চলতায় খেলে।
হারিয়ে যাওয়া সময় থেকে উজিয়ে ওঠে
রথের মেলা, মনোহারী দ্রব্যের বিকিকিনি,
জিলিপি ফুচকার গন্ধ, সমবেত আনন্দ-রব।
এর মধ্যেই অদ্ভুত জঙ্গমতায় জীবন-রথ
পেরিয়ে যেতে থাকে একেকটি মাইলস্টোন,
সসীমের দড়িতে বাঁধা যার অসীমের পথ।
রথের মেলা
বদ্রীনাথ পাল
জল ঝমাঝম্ হোক্ না যতই, পথটা হাঁটু কাদা-
রথের মেলা যাবোই যাবো- সঙ্গে যাবে দাদা।
কিনতে হবে বাঁশের বাঁশি গরম পাঁপর ভাজা-
রথের রশির টানটি দিয়ে খাবো গজা খাজা।
সেই মেলাটি আজ বসেছে আমার গাঁয়ের পাশে,
দেখছি কতো মজার জিনিস নৌকো করে আসে !
লোকে লোকে লোকারণ্য কেবল ঠেলাঠেলি-
জগন্নাথ-ও দেখছে কি তাই বড় দু'চোখ মেলি ?
ওই দেখা যায় মনোহারি দোকান সারি সারি,
বায়স্কোপের মজা কোথাও বড়ই দেখনদারি।
নাগরদোলা ঘুরছে জোরে বন্ বন্ বন্ করে-
তাইনা দেখে দত্ত বাড়ীর কাঁপছে ছেলে ডরে !
আমার কিন্তু ভারি মজা, ঘুরছি সারা মেলা-
দেখছি কতো ভীড় মানুষের, হাজার রকম খেলা !
রথের রশি টান দিয়েছি ফিরে আসার পথে-
মন চেয়েছে এই মেলা শেষ নাহোক কোনোমতে।
রথযাত্রা - সেকাল ও একাল
অশোক রায়
সকাল থেকে ঝমঝমিয়ে ঝরছে আকাশ
মেলার মাঠ জলে কাদায় মানুষে থিক থিক
রথ কেনার বায়না নিয়ে চলেছি মায়ের সাথে
সারাদিন সে উপোসী সে কথা যাই ভুলে
পুতুল ব্যাট বল বন্দুক থালা বাটি
কেনবার আছে আরো কত কি
তেলেভাজার সুগন্ধে ম ম করে বাতাস
মাগো দাওনা কিনে পাঁপড় বেগুনি জিলিপি
বজ্র নিরঘোষে স্বপ্ন গেল ভেঙে
চেয়ে দেখি সম্মুখে অপার ভক্তির নীলাচল
দূর হোক সব পাপ যত দুঃখ শোক
শ্রীক্ষেত্রে চল সবে প্রভুর রথযাত্রায়
উৎসবের পুণ্য রশিতে পড়ল টান
হে জগা কালিয়া তোমার করুণা ঝরুক অপার।।
ভালোবাসা পারিজাত
সামসুজ জামান
দিতে গেছি যে মালা তুমি কি তা নেবে না?
তোমার ঠোঁটের হাসি তুমি কি তা দেবেনা?
না না না কিছুতেই ভালো লাগে না এ ছলনা।
সারাবেলা এই খেলা মিছিমিছি করো কেন বলো না।
যে হৃদয় কলি খানি ফোটার অপেক্ষায়
তাকে তুমি তুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলো না।।
জানি, জানি , প্রিয় আজ আমি বড় রিক্ত।
মন তবু হতে চায় ভালোবাসা সিক্ত।
সইবে না এ বেদনা জেনো আজ এই প্রাণে।
তৃষিত চাতক আমি মরেছি গোপন প্রেমবাণে।
প্রীতি ভরা মধু গান থাকত সদাই যে অধরে
সে আননে ব্যথার প্রদীপখানি আজ তুমি জ্বেলো না।।
কত কথা, কত গান, কত যে অশ্রুজল।
বৃথা হল শুকালো যে। সে কিসের প্রতিফল?
জানিনা বন্ধু আজ বসে শুধু একা একা,
জাগরনে আধো ঘুমে দুরাশার স্বপ্ন যে দেখা।
নন্দন কাননে যে ভালোবাসা পারিজাত ফুটে ছিল
সে অপূর্ব সৌরভ অকারনে অবহেলা করে শুধু ভুলোনা।
রথের মেলা
কার্ত্তিক মণ্ডল
সাজ পরেছে জগন্নাথ,সুভদ্রা,বলরাম
যাবে মাসির বাড়ি
আকাশ ছোঁয়া রথের চাকা স্বর্গধাম
গড়ায় টানলে দড়ি
চারদিক হৈ-হুল্লোড় বেজায় খুশি
দৌড়ঝাঁপ শঙ্খধ্বনি হাসাহাসি
স্নানযাত্রা পূণ্যতীথির সমাগমে ভাসি
রঙ বাহারী রথের মেলা
উচ্ছ্বাস আর আনন্দরই সুরের বাঁশি
গড়গড়িয়ে সারাবেলা
কচিকাঁচার পাতার বাঁশির সুরে সুরে
খুশ মেজাজে ভাসছে সবাই অন্তঃপুরে
বিভেদ বিচার উঁচু নীচু সব ভুলে যাই
রথের মেলা এলে
মানবতাই আসল ধর্ম সব খুঁজে পাই
ইর্ষা ঘৃণা ভুলে ।
ঠেলাঠেলি বৃষ্টি ছাঁটে সবার মাতামাতি
কেউ ভিজছে কারো আবার মাথায় ছাতি
কৃপা করে অধমেরে কৃপালু শ্যাম
কি আমোদে নাচতে দেখি দাদু-নাতি।
রথের মেলা
প্রিয়াঙ্কা মজুমদার
আষাঢ় মাসে রথের মেলা
রাজবাড়ীর ওই মাঠে
টুসি রাণীর ভাবনা আসে
রঙ্গীন স্বপ্ন বেশে
রথ সাজবে ,পথ সাজবে
সাজবে সুভদ্রা,বলরাম আর জগন্নাথ দেব
আলোর মালা,বেলুন ,বাঁশি
সেজে উঠবে দেশ
ভারী মজা, খানা পিনা, নাগরদোলায় ঘোরা
নানান খেলনা,মাটির পুতুল,আকাশ,বাতাস আনন্দেতে মোড়া।
টুসি ভাবে কি নেবে সে
রথের মেলা থেকে
যাতে মা আনন্দ পায়
দিন কাটে তার হেসে
গোটা কয়েক খাতা নেবে
ডজন খানেক পেন
তাতেই মা কে করবে খুশি
ঘুচবে ঋণের লেনদেন।
রথের মেলা
মহা রফিক শেখ
আষাঢ় মাসে - আনন্দ ভাসে -
শুরু রথের মেলা,
মিলনমেলায় - সারা বেলায় -
ভাসায় মনের ভেলা।
রথের নেশায় - মেলামেশায় -
হচ্ছি আগুয়ান,
সবার মনে - হ্যাঁচকা টানে -
দুলছে ভগবান।
রথের সাথে পথের দাবি -
মনের সাথে প্রাণ,
চারা গাছে - ধরা নাচে -
গাহি সাম্যের গান।
রশি টেনে - নিয়ম মেনে -
চলুক রথের চাকা,
ঘৃণা দ্বেষ পিষ্ট হয়ে -
মনটা এবার ফাঁকা।
কে যাবি আয় রথের মেলায়
দীনেশ সরকার
কে যাবি আয় রথের মেলায় আয় রে ছুটে আয়
রথের রশি টানতে হবে লগন বয়ে যায়।
জগন্নাথ আর বলভদ্র, সুভদ্রা মাঝখানে
উপবিষ্ট রথের মাঝে মাসির বাড়ির টানে।
পৌঁছে দেবো মাসির বাড়ি টেনে রথের রশি
ধুয়ে যাবে পাপ সবই ভাই পুণ্যেতে হাত ঘষি।
ফিরবে ঘরে উল্টোরথে ঠিক আটটা দিন পরে
রথতলাতে রথের মেলা চলবে ন'দিন ধরে।
রথের মেলায় ভারী মজা চল্ রে নেবো লুটে
করিস্ নে আর দেরি তোরা আয় রে সবাই ছুটে।
জিলিপি আর পাঁপড় খাবো, খাবো খাস্তা গজা
নাগরদোলায় দুলবো সবাই হবে ভারী মজা।
পুতুলনাচ আর ম্যাজিক শো-ও দেখবো দুচোখ ভরে
রথের মেলায় খুশি-মজা পড়বে শুধু ঝরে।
কত কি যে কিনবো সবাই রথের মেলা থেকে
আষাঢ় মাসে রথের মেলা যাচ্ছে যে ওই ডেকে।
পশ্চিম বঙ্গের রূপকার
তিমির ভট্টাচার্য্য
দরিদ্র যুব-ট্যাক্সি চালক সকাশে হার মেনেছে -
তারই নিত্য সঙ্গী স্বরূপ 'চরম দারিদ্রতা'।
ডিগ্রী লভিয়া বিশাল ডাক্তার হয়েছেন চালক,
বঙ্গবাসী স্বচোক্ষে হেরিল সে'দুর্লভ সফলতা।
চাকরি করে ডাক্তার ক্রমশ হয়েছেন স্বচ্ছল।
গরীব বাঁচিয়ে , সকলের পক্ষে দিয়েছেন সায়।
মাত্র দু' টাকায় যিনি আজীবন দেখেছেন রোগী।
তিনিই হলেন, প্রিয় ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়।
দেশবন্ধুর হাত ধরে তাঁর রাজনীতিতে আসা।
স্বাধীনতাকল্পে বিধান, বরণ করেছিলেন কারা।
তাঁর করস্পর্শে ধন্য, কলকাতার মেয়র পদ।
এ' রাজ্যের রূপকার হয়ে, চিত্তে জাগালেন সাড়া।
চৌদ্দ বছরের মুখ্যমন্ত্রী, অদ্বিতীয় কর্মবীর।
নগরায়ণ শিক্ষা স্বাস্থ্য শিল্পে অসীম ছিল মান।
স্নেহ-মূল্যে সব নেতাদের নিতেন আপন করে।
দেশ গঠনের কাজে দিতেন উৎকৃষ্ট সম্মান।
পাটনায় জন্ম হলেও দুই বাংলা ছিল প্রাণ।
লাখো উদ্বাস্তু মদত করেই রেখেছেন
প্রমান ।
হেন ফী-মুক্ত ডাক্তার আর পাবে' না এ' দেশে।
দেশ "ভারত রত্ন" উপাধি দিয়ে , করেছে সম্মান।
রথযাত্রা
বিউটী সান্যাল
জগতের নাথ দেখো বসি রথের উপর।
রসি ধরে টান মারে ভক্ত শত শত,
কাল চক্র সম ঘোরে যেনো রথের চাকা।
কাতারে কাতারে লোক ছুটিছে হোথা।
তিল ঠাঁই নাই কোথা পথ গেছে ভরে,
চারদিকে মেলা বসে রথকে কেন্দ্র করে।
রথ যাবে প্রভু জগন্নাথের মাসীর বাড়ি,
সঙ্গে যাবে দাদা বলভদ্র,শুভদ্রা ভগিনী।
জগৎ ঘুরছে যার এক ইসারায়,
কত শোভায় সেজে সে আজ,
বেড়িয়েছে জগৎসভায়।
প্রভু দেখে হাসি হাসি দুই নয়ন মেলিয়া,
মেলার একধারে বসি, জগন্নাথের মা,
কাঠের জগন্নাথ বেচিছে বিছাইয়া।
শান্তি দাও
মালা ঘোষ মিত্র
রথের মেলায় তুতুলসোনা
যাবে বলে বায়না ধরে,
কালো মেঘে আকাশ ঢাকা
বৃষ্টি এখন এলো বলে।
হোক না যতই বৃষ্টি - বাদল
রথের মেলায় যেতেই হবে।
গাছ লাগানো, রথ টানবো
পাঁপড় খাবো, চরকা নেবো
নাগরদোলায় অনেক মজা
রথযাত্রায় মায়ের কথা পড়ে মনে।
রথ সাজাতাম রঙিন ফুল আর চন্দনে
আনন্দ উৎসবে কাটতো দিন।
জয় জগন্নাথ, জগদীশ্বর
দুঃখ ঘোচাও, শান্তি দাও
পিষ্ট করো রথের চাকায়
মনের যত অন্ধকার।।
রথের মেলায় তুতুলসোনা
যাবে বলে বায়না ধরে,
কালো মেঘে আকাশ ঢাকা
বৃষ্টি এখন এলো বলে।
হোক না যতই বৃষ্টি - বাদল
রথের মেলায় যেতেই হবে।
গাছ লাগানো, রথ টানবো
পাঁপড় খাবো, চরকা নেবো
নাগরদোলায় অনেক মজা
রথযাত্রায় মায়ের কথা পড়ে মনে।
রথ সাজাতাম রঙিন ফুল আর চন্দনে
আনন্দ উৎসবে কাটতো দিন।
জয় জগন্নাথ, জগদীশ্বর
দুঃখ ঘোচাও, শান্তি দাও
পিষ্ট করো রথের চাকায়
মনের যত অন্ধকার।।
রথের মেলা
মহম্মদ সফিকুল ইসলাম
আষাঢ় বাদল মাঝে রথের মেলা বসে
রথের দড়ি টানে ভক্ত,
মেলা ঘিরে কচিকাঁচা বুড়ো বুড়ি
আসে যারা অনুরক্ত।
কত মন্ডা মিঠাই জমে আষাঢ়ের ফল
বাদাম পাঁপড় ফুচকা চিড়া,
মনিহারি খেলনা পুতুল বেলুন চুড়ি
কাঠের খেলনা রথ আর পিঁড়া।
দেবতা জ্ঞান করে ভক্তিভরে পূজা
রথের দড়িতে মারে টান,
অশুভ যা কিছু বিদায় দিয়ে ভবে
জগন্নাথ মাহেশে যান।
সমুদ্র গুপ্ত ও ঈশ্বরের উপবৃত্তাকার চোখ
নিমাই জানা
ঈশ্বরের মতো উপবৃত্তাকার চোখ নিয়ে বসে আছেন নিদ্রিত মহাকাল , জিভের শ্বেতাঙ্গ পুরুষেরা প্রতিদিন তীর্থক্ষেত্র খুঁজে বেড়ায় সসীম ভগ্নাংশে
অনুদৈর্ঘ্য কম্পাঙ্ক কমে আসার পর নীল রঙের মায়ামৃগের হেটেরোজেনিক অবয়ব গুলো অক্ষিকোটরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে অনন্ত নাভিপদ্ম নিয়ে ,
আজ ঈশ্বর ও আমাদের মতো লাল রঙের অজিত পুরুষের স্তম্ভমূলের ভিতরে ঋষি চক্রের পর্ণমোচী কথা নিয়ে বসে থাকেন , আমাদের হাতে তখনও তিনকোনা এক অস্ত্র , মুখ থেকে রক্তাক্ত লাইসোজোম গড়িয়ে পড়ছে , আমাদের বাকলে নীল আগুনের সূত্রপাত হয়েছে দৈনিক অশৌচ পালন
সমুদ্রের উপর হেঁটে হেঁটে পেরিয়ে যাবেন অজস্র সুতনগর ,
ব্রহ্ম পদার্থ নিয়ে আমাদের গায়ে লিউকোপ্লাস্টের গন্ধ
এক অনাবিল ছায়ার কাছে সমুদ্র ভক্ষণ করে উড়ে আসছে দ্বারকা নগরীর রাত্রিকালীন অবৈধ কথা , অক্ষরেখায় বিমুগ্ধ মেগাস্থিনিস পাঠ করছেন তৎসম কথা
একটি জলাশয়ের কাছে ফেলে আসি শীৎকার শব্দটির অযুত সমোচ্চারিত শব্দ , সুনীল কম্পাঙ্কের কাছে ঈশ্বরময় শঙ্খচূড় হেঁটে বেড়াবেন অপার্থিব অন্তরফলের মতো
ছায়ার ১৯ দৈর্ঘ্যের যজ্ঞ স্তোত্রমালা নিয়ে তৃতীয় ঈশ্বর ও নৈঋত যুগের মহাপ্রস্থান কথা লুকিয়ে রাখেন ধূসর ট্রাপিজিয়ামের ভেতর
ঈশ্বর এখনই ছটফট করছেন নাভিকুণ্ডলের ধূসর অ্যাম্বিক্যাল কর্ডে
সমুদ্র গুপ্ত বেহালা বাজাতে জানতেন বলে সমুদ্রের মহাশিখর থেকে উঠে আসছেন কোন এক প্রাচীন বাবা
ঈশ্বর আজ থেকে বাণপ্রস্থে নিয়ে যাবেন কোন গোপন গর্ভগৃহের জলাশয়টিকে, হরিণের কোন মাতৃভাষা নেই
নিমাই জানা
ঈশ্বরের মতো উপবৃত্তাকার চোখ নিয়ে বসে আছেন নিদ্রিত মহাকাল , জিভের শ্বেতাঙ্গ পুরুষেরা প্রতিদিন তীর্থক্ষেত্র খুঁজে বেড়ায় সসীম ভগ্নাংশে
অনুদৈর্ঘ্য কম্পাঙ্ক কমে আসার পর নীল রঙের মায়ামৃগের হেটেরোজেনিক অবয়ব গুলো অক্ষিকোটরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে অনন্ত নাভিপদ্ম নিয়ে ,
আজ ঈশ্বর ও আমাদের মতো লাল রঙের অজিত পুরুষের স্তম্ভমূলের ভিতরে ঋষি চক্রের পর্ণমোচী কথা নিয়ে বসে থাকেন , আমাদের হাতে তখনও তিনকোনা এক অস্ত্র , মুখ থেকে রক্তাক্ত লাইসোজোম গড়িয়ে পড়ছে , আমাদের বাকলে নীল আগুনের সূত্রপাত হয়েছে দৈনিক অশৌচ পালন
সমুদ্রের উপর হেঁটে হেঁটে পেরিয়ে যাবেন অজস্র সুতনগর ,
ব্রহ্ম পদার্থ নিয়ে আমাদের গায়ে লিউকোপ্লাস্টের গন্ধ
এক অনাবিল ছায়ার কাছে সমুদ্র ভক্ষণ করে উড়ে আসছে দ্বারকা নগরীর রাত্রিকালীন অবৈধ কথা , অক্ষরেখায় বিমুগ্ধ মেগাস্থিনিস পাঠ করছেন তৎসম কথা
একটি জলাশয়ের কাছে ফেলে আসি শীৎকার শব্দটির অযুত সমোচ্চারিত শব্দ , সুনীল কম্পাঙ্কের কাছে ঈশ্বরময় শঙ্খচূড় হেঁটে বেড়াবেন অপার্থিব অন্তরফলের মতো
ছায়ার ১৯ দৈর্ঘ্যের যজ্ঞ স্তোত্রমালা নিয়ে তৃতীয় ঈশ্বর ও নৈঋত যুগের মহাপ্রস্থান কথা লুকিয়ে রাখেন ধূসর ট্রাপিজিয়ামের ভেতর
ঈশ্বর এখনই ছটফট করছেন নাভিকুণ্ডলের ধূসর অ্যাম্বিক্যাল কর্ডে
সমুদ্র গুপ্ত বেহালা বাজাতে জানতেন বলে সমুদ্রের মহাশিখর থেকে উঠে আসছেন কোন এক প্রাচীন বাবা
ঈশ্বর আজ থেকে বাণপ্রস্থে নিয়ে যাবেন কোন গোপন গর্ভগৃহের জলাশয়টিকে, হরিণের কোন মাতৃভাষা নেই
চলন্ত রথের পায়ের বিদ্যুতে
বিমল মণ্ডল
রথ এইদিকে — জনপদ, রাস্তা জুড়ে
রথ চলতে শুরু করে মাটি মাড়িয়ে, এখন তার পাশে শ্রদ্ধার ঘর
মানুষের কোলাহল দীর্ঘ অপেক্ষায় কেটেছে কাল।
নেমেছে পথের প্রান্তে, অস্থির পাঁজর রথের রশ্মি
অগণিত হাত, নীরবে কিছু মুখ, আম, কাঠাল আর মাটির সান্নিধ্যে
আলো জ্বলে ওঠে
তার দ্যুতি কোমল কুঞ্জের প্রলম্বিত ছায়া ঘিরে
দুরন্ত এই রাস্তা ঘিরে আনন্দের মৌন ইতিহাস হয়
চলন্ত রথের পায়ের বিদ্যুতে।
ছোটবেলার রথ
অর্ণব বশিষ্ঠ
ছোটবেলার নরম গন্ধ আসে ভেসে
রথের মেলা পাঁপরভাজা ভেঁপুর আওয়াজ
একসাথে মিশে যায় ঝিরিঝিরি বৃষ্টিদিনে
সারাদিন রাংতার মালায় সেজে ওঠে ছোট রথ
ছোট ছোট হাতে টান পড়ে রশিতে
বৃষ্টির উচ্ছ্বাস গায়ে মেখে এইদিন
ঈশ্বরও শিশু হয়ে যান
সকলকে শুভ রথযাত্রার শুভকামনা জানাই।
শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব সবার মুখে হাসি ফোটাক।
রথযাত্রার একাল, সেকাল
নীতা কবি মুখার্জী
জয় জয় জগন্নাথ! শুভ করো সবাকার
ধরাধামে বর্ষিত হোক তোমার করুণা অপার।
আমরা যেতাম রথ দেখতে, জগন্নাথের রথ
দল বেঁধে সব যেতাম হেঁটে বহুদূরের পথ।
রথের দড়ি টানলে নাকি মহাপুণ্য হয়
মা- দিদিমা বলতেন সব, মিথ্যে কথা নয়।
সকাল সকাল স্নানটি সেরে শুদ্ধ কাপড় পরে
খাবার বেঁধে নিয়ে যেতাম বাবার হাতটি ধরে।
জেঠতুতো ভাই, খুড়তুতো ভাই, মাসী-পিসী যতো
হাসি, গল্প, গান গেয়ে সব কতো মজা হতো।
এক পয়সার মণ্ডা কিনে দিতাম রথের পরে
পাঁপড় ভাজা খেতে খেতে ফিরতাম সব ঘরে।
দড়িখানা টানার জন্য কতো হুটোপুটি!
সবার ভাগের পুণ্যটুকু একাই যেন লুটি।
আজকাল সে সব নেই রে বাবা! রথের মেলায় যাওয়া
হৈ-হুল্লোড়, হাসিমজা, পাঁপড় ভাজা খাওয়া।
আধুনিকের যুগ এ যে ভাই, ক্যারিয়ারই সব
দিনরাত্তির পড়া পড়া, ভুলে যাও উৎসব!
ওসব নাকি ব্যাকডেটেড ভাই, ভাদু-পূজা, রথের মেলা
একলা ঘরে বসে শুধু মোবাইলে গেম খেলা!
বাবা-মা সব অফিসে যায়, ঠাম্মা-দাদু বৃদ্ধাশ্রম
নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে শিশুদের উঠে উপর-দম!



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন