প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা -৯
দীপক বেরা
১.
হারানো সুর
ভালোবাসি একটা আবির রাঙানো সকাল
জানালার পাশে পাখিদের গুঞ্জন কোলাহল
ভালোবাসি গঙ্গার বুকে জোয়ারের হিল্লোল
ছোট-বড় ছলাৎছল ঢেউয়ে হঠাৎ বেখেয়াল
উদ্দাম ঝড়ে নৌকার সাথে মন বেসামাল।
ভালোবাসি বসন্তের মৃদুমন্দ স্নিগ্ধ বাতাস
হাজার রঙের ভিড়ে লাল কৃষ্ণচূড়া পলাশ
তোমাকে একটা বিকেল দেবো, কাজল আঁখি
মনের মতো করে সাজিয়ে নিও গাছ ফুল পাখি
ডাহুক বক বুনোহাঁস, এক পশলা বৃষ্টি বিলাস!
ধূলিমাখা তানপুরার তারে সুখ-স্মৃতির ঝাঁপি
রাতজাগা ডায়েরিতে রঙচটা প্রেমের স্বরলিপি
রূপসী রহস্যময়ী রানি হয়ে আসুক হেমন্তকাল
শিউলি ভোরে পৌষের চিঠি, কুয়াশার ইন্দ্রজাল
ধুলোবালি থিতিয়ে পড়া মোহময় উদাস বাতাসে
কবেকার হারিয়ে যাওয়া ছবি, সেই মুখ ভাসে..
ভালোবাসি, —আমি ভীষণ ভালোবাসি
তাই জেগে থাকি মায়াময় স্বপ্নের চারপাশে
সেই হারানো সুর আবার যদি ফিরে আসে,
মৌনসন্ধিতে শুধু ছবি আঁকি হৃদয়ের ক্যানভাসে!
২.
রচনাপরম্পরা
এই পথ ধরে সোনালি রোদ আসে
এই পথ সবুজ ধানখেতের আলপথ
রৌদ্রস্বভাবী প্রাণের পরিসর রচনা করে গেছে
এই পথ বহুকাল.., আজ
শূন্যে ধাবিত ডানা গাজনের বাজনায় কাঁপে
পাখিপালক উড়ে আসে ডালে ডালে ভ্রমণে।
চাঁদের গ্রহণ লাগার কিছু আগে
রিক্ততার ঘাসে ঘাসে সোনার হরিণ
কবে প্রাণে দোলা দিয়ে চলে গেছে নিঃশব্দে!
তবু, গোচারণ ভূমির লতাগুল্মে আজও
কিছু কিছু তৃণভোজী প্রত্যাশা জেগে আছে,
গোধূলির অস্তরাগে পড়ন্ত ভূমিকার শেষে
তখনও চরম ভাবনাগুলি যেভাবে বেঁচে থাকে
আত্মমগ্ন রচনার ভোরে, —রচনাপরম্পরায়..


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন