লেবেল

মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

ধারাবাহিক গোয়েন্দা উপন্যাস ( শেষ পর্ব ) ।। একটি মার্ডার : এবং তারপর... সৈয়দ রেজাউল করিম

 



ধারাবাহিক গোয়েন্দা উপন্যাস ( শেষ পর্ব )


একটি মার্ডার : এবং তারপর...

  সৈয়দ রেজাউল করিম

 

           থানায় তখন বসেছিলেন যতীন দারোগা। তখনও রাঘব কে নিয়ে ফেরেনি জ্যোতিষ বাবু। হঠাৎ বড়সাহেবের ফোন। ফোন ধরে যতীন দারোগা বললেন-- নমস্কার স্যার যতীন বলছি।

           ‎-- আপনারা কি সব আজে-বাজে কাজ করে বেড়াচ্ছেন ? আপনাদের কাজের জন্য আমাকে নানান কথা শুনতে হচ্ছে। বড় সাহেবের গলায় উষ্মা ভাব।

          যতীন দারোগা সাফাই গাইতে বললেন-- কোন কিছু বেআইনি কাজ তো করিনি স্যার ! কে আপনার কাছে অভিযোগ করলো ?

           ‎জগাছার চেয়ারম্যান ফোন করে দু'চারটে উল্টোপাল্টা কথা শুনিয়ে দিল আমাকে। আপনারা নাকি তার সাদাসিধে কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে ধরে এনেছেন ?

           ‎-- না স্যার ! এরকম ঘটনা.... বলতে বলতে থেমে গেলেন যতীন দারোগা। পরক্ষণে মেজোবাবুকে আসামি নিয়ে থানায় ঢুকতে দেখে তিনি বললেন-- হাঁ স্যার ! জগাছার দিকে মেজোবাবু গিয়েছিলেন মানস মিত্রের মার্ডার কেসটা তদন্ত করতে। তবে স্যার ! মেজোবাবু তো উল্টোপাল্টা কোনো আসামী ধরে না ওরা এইমাত্র থানায় ঢুকল। আমি ওদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আপনাকে ফোন করছি।

           ‎এ কথা বলে ফোন রেখে দিলেন যতীন দারোগা। একটু তাড়াতাড়ি করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। না হলে সাহেব কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন করবে। কিন্তু আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার আগে মেজোবাবুর কাছে জেনে নিতে হবে ঘটনাটা। এসব কথা ভেবে মেজোবাবুকে ডেকে নিলেন কাছে। মেজোবাবুর কাছে এক এক করে শুনলেন দেবব্রতকে ধরে আনার কথা। থানায় রাঘবের সাথে ছাতা নিয়ে কোন্দলের কথা। বড়বাবুর চমকে ওঠার কথা। সব এক এক করে বললেন মেজোবাবু। সব শুনে খুশিতে চোখ দুটো ঝলমল করে উঠল যতীন দারোগার। এখন শুধু জানতে হবে খুন করার কারণ।

           ‎কলিংবেল বাজিয়ে কনস্টেবলকে ডেকে যতীন দারোগা বললেন-- আসামীকে নিয়ে আসুন এখানে।

        কোমরে দড়ি পরিয়ে রাঘবকে বড়বাবুর চেম্বারে নিয়ে এল সেন্টি কনস্টেবল। বড়বাবু ও মেজোবাবু পাশাপাশি দু'জনে বসে ছিলেন দুটি চেয়ারে। জিজ্ঞাসাবাদে সুবিধার কথা ভেবে, দুটি চেয়ারের মাঝখানের ফাঁকা মেঝেতে রাঘবকে বসালেন। তারপর শুরু করলেন জিজ্ঞাসাবাদ। প্রথমে নাম ধাম, পড়াশোনা, বন্ধু বান্ধব ইত্যাদির কথা শেষ করে যতীন দারোগা সেই ছাতা দিয়ে শুরু করলেন তার দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদ।

           ‎-- আচ্ছা রাঘব ! তুমি তো বিজ্ঞানের ছাত্র। তুমি বলো তো, কোন সম্পূর্ণ জিনিস থেকে যদি অস্বাভাবিকভাবে কোন বস্তু ভেঙে বেরিয়ে আসে, তাহলে কি অন্য কোন বস্তু দিয়ে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব ?

           ‎প্রশ্নের অভিমুখ উপলব্ধি করে, না জানার ভাব দেখিয়ে, অত্যন্ত কৌশলে প্রশ্নটাই এড়িয়ে যাবার জন্য রাঘব বলল-- আমি আপনার প্রশ্নটা ঠিক বুঝতে পারলাম না স্যার!

           ‎যতীন দারোগাও ছাড়ার পাত্র নয়। তিনি সেই বাঁটহীন ছাতাটা দেখিয়ে রাঘবকে বললেন-- এ ছাতাটা যে তোমার, তা মেজোবাবুর কাছে তুমি স্বীকার করেছ। ছাতার কাপড়ে তোমার নাম লেখা আছে দেখছি। ছাতা কেনার রসিদ তোমার কাছে আছে বলে দাবী করেছ। ছাতার বাঁটটা কোথায়, কিভাবে খুলে পড়ে গেছে, তা তুমি জানোনা বলছ। এখন তুমি বলো, এই ছাতাটা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে, যদি একটা অন্য বাঁট লাগানো হয়, তাহলে কাটাকুটি, ঘষাঘষি না করে, তা কি লাগানো কখনও সম্ভব ?

           ‎রাঘব বুঝতে পারল সে এক প্রমাণের জালে পড়েছে। তাহলে কি মানসের মৃতদেহের পাশে এই ছাতার বাঁটটা পেয়েছে ? তাই যতীন দারোগার সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে একটু ইতস্ততঃ করল। তা দেখে একই কথা আবার জিজ্ঞাসা করলেন মেজোবাবু। তাই সে উত্তরে বলল-- না স্যার!

           ‎যতীন তখন বললেন-- যদি হারিয়ে যাওয়া বাঁটটা, খুলে যাওয়া বাঁটটা খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে কি এই ছাতাতে লাগানো সম্ভব ?

           ‎রাঘব সেই প্রশ্নের উত্তরে কিছুতেই মুখ খুলতে চাইছিল না। অবশেষে মেজোবাবুর ধমক খেয়ে বললো-- হাঁ স্যার !

           ‎তখন পকেট থেকে সেই ছাতার বাঁটটা বার করে মেজোবাবু বললেন-- দেখো তো, এই বাঁটটা ছাতাতে লাগছে কিনা ?

           ‎রাঘব ইচ্ছে করে বাঁটটাতে হাত দিতে চাইছিল না। ধমক খেয়ে বাঁটটা লাগাবার চেষ্টা করল। ইচ্ছে করে লাগাল না। ভাঙার চেষ্টা করল। বুঝতে পেরে জ্যোতিষ বাবু জোর করে ছাতা ও ছাতার বাঁটটা কেড়ে নিলেন রাঘবের হাত থেকে। তারপর নিজেই সেটা লাগিয়ে দিলেন। যথারীতি বাঁটটা ঠিক মতো লেগে গেল। তখন যতীন দারোগা বললেন-- এই ভাঙা ছাতার বাঁটটা পাওয়া গেছে মৃত মানস মিত্রের হাত থেকে। ছাতা তোমার। ছাতার বাঁটটাও তোমার। তাহলে এতে কি প্রমাণ হয় ? শুধু তাই নয়, তোমার কীর্তিকলাপ ট্রেনের অনেক লোকজন দেখেছে। এখন তুমি বলো, কেন তুমি মানসকে খুন করতে গেলে ? মানসের মত একটা সহজ সরল ছেলে, কি এমন অপরাধ করেছিল ? যার জন্য তাকে তুমি খুন করে বসলে ?

           ‎হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে রাঘব। পালাবার আর কোন পথ নেই। এসব বুঝে কান্নায় ভেঙে পড়ল রাঘব। সে কোন জবাব দিচ্ছে না দেখে জ্যোতিষ বাবু তাকে সান্তনা দেবার চেষ্টা করলেন। একসময় বললেন-- যদি তুমি সব কথা স্বীকার কর, তাহলে তোমার শাস্তি যাতে কম হয়, তার আপ্রাণ চেষ্টা করব ‌। তুমি তো আর খুন করবো বলে, মানসকে খুন করোনি। হঠাৎ কোন রাগের বশে, উত্তেজনার কারণে, কিংবা নিজের জীবন বাঁচাতে, এ কাজটা তুমি করতে বাধ্য হয়েছ। সেই পরিস্থিতি, সেই ঘটনা সম্বন্ধে আমরা কিছু জানতে না পারলে ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাব কিভাবে ? তুমি ঘটনাটা আমাদের কাছে খুলে বলো। আমরা বিচার বিবেচনা করে দেখি, দোষটা কার ? তোমার না মানসের ?

           ‎জ্যোতিষ বাবুর ভালো মানুষি টোপটা সহজেই গিলে ফেলল রাঘব। সে একসময় বলতে শুরু করল- আমি, দেবব্রত, মানস, তরুণ সকলেই জগাছা কলেজে পড়ি। সেকেন্ড ইয়ারে। সায়েন্স নিয়ে। কোচিং নিতে আমি বাগনানের 'রানাদা কোচিং সেন্টারে' এবং দেবব্রত, মানস 'সুমতি কোচিং সেন্টারে' যেতাম। আমরা স্কুল থেকে অভিন্ন হৃদয়ের বন্ধু। পরীক্ষায় ভালো নাম্বারের জন্য মনে রেষারেষি থাকলেও, আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের প্রতি সহানুভূতিশীল। আমাদের মধ্যে সময়ে সময়ে তর্ক-বিতর্ক হলেও, মারপিট, ঝগড়াঝাটি কখনো হয়নি।

           ‎এতগুলো কথা বলে শ্বাস নিতে একটু থামল রাখব। হয়ত বা কি বলবে না বলবে, তা মনে মনে একবার ভেবে নিল। ভয়ে শুকিয়ে যাওয়া গলাটা বোতলের জলে একটু ভিজিয়ে নিল। তারপর আবার বলতে শুরু করল।

           ‎আমাদের বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে আমার আর তরুণের গার্লফ্রেন্ড আছে। দেবব্রত ও মানসের কোন গার্লফ্রেন্ড নেই । আমার গার্লফ্রেন্ড শান্তি পাল ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রী। আর তরুণের গার্লফ্রেন্ড স্বপ্না দাস, টুয়েলভ ক্লাসের ছাত্রী।

           ‎কয়েকদিন ধরে শান্তি আমাকে বলছিল, মানস তাকে বিরক্ত করছে। আমি সে কথায় কোন পাত্তা দিইনি। শান্তি আমার সঙ্গে ঘোরাঘুরি করে, তাই বন্ধু-বান্ধবরা তার সঙ্গে একটু ইয়ার্কি ফাজলামি করেছে, তাতে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেছে ? আমি শান্তিকে বুঝিয়ে বলেছিলাম, আমি মানসকে যা বলার বলব, বারণ করব। সে যেন তোর পিছনে না লাগে। যেন বিরক্ত না করে।

           ‎শান্তিকে একথা বললেও সে কথা মানসকে আমি বলতে পারিনি। তাছাড়া ওর সাথে দেখা হচ্ছিল না কোনোভাবেই। সেদিন কোচিং সেরে ফেরার পথে ট্রেনে ওর সঙ্গে দেখা হল। আর শান্তির কথাটা সেই সময় মনে পড়লো আমার। আমি কথায় কথায় মানসকে বললাম-- তুই শান্তির পিছনে লেগেছিস কেন ?

           ‎ও বলল-- লাগবো বেশ করব। ও কি তোর বিয়ে করা বউ ?

           ‎এই নিয়ে ওর সঙ্গে খুব কথা কাটাকাটি হল। একসময় ব্যাপারটা খুব সিরিয়াস পর্যায়ে চলে গেল। ধাক্কাধাক্কি শুরু হল দুজনের মধ্যে। সেদিন আমাদের ট্রেনের বগিতে লোকজন খুব কম ছিল। তাদের মধ্যে দু'একজন আমাদের বিবাদ থামাবার চেষ্টা করল। কিন্তু তাদের উপদেশ কর্ণপাত করলাম না আমরা। মানস আমার মুখে একটা ঘুষি মেরে দিল। আমার মাথা গেল বিগড়ে। রাগে অন্ধ হয়ে আমি ওকে ধাক্কা মেরে ট্রেন থেকে ফেলে দিতে গেলাম। ও আমার ছাতার বাঁটটা ধরে ফেলল। আমি ভুল করেছি ভেবে, ওকে টেনে তোলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ছাতার বাঁটটা খুলে গেল। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গেল মানস । লোকজন আমাকে খুনী বলে ধরে বেদম প্রহার করতে পারে, থানার হাতে তুলে দিতে পারে, এসব কথা ভেবে, সময় বুঝে চলন্ত ট্রেন থেকে আমি ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ রক্ষা করলাম।

           ‎কাহিনী শুনে বড়বাবু, মেজোবাবু, দুজনেই থ। চাকরী জীবনে তারা অনেক খুনের মুখোমুখি হয়েছেন। এক তাল গোবরের অধিকার নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন হতে দেখেছেন। মান সম্মান বাঁচাতে নিরাপরাধ পুত্র-কন্যাকে মরতে দেখেছেন । খুন দেখতে দেখতে কেমন যেন পাথরের মত শক্ত হয়ে গেছে তাদের হৃদয়, তাদের মন। কিন্তু বিবেকটা আজ ও মরে যায়নি তাদের। বুদ্ধি, বিবেচনা এখনো স্বতন্ত্র প্রহরীর মত জাগ্রত। তাই একরকম অযাচিত খুন হতে দেখলেও তাদের বুকটা কেঁপে ওঠে। মনে মনে সঙ্কিত হয়ে ওঠে তারা। কি দিনকাল পড়েছে আজকাল ? মানুষ তার ক্ষুদ্র স্বার্থের কারণে, একটা জলজ্যান্ত মানুষকে খুন করতেও দ্বিধা করে না। তাদের একটুও হাত কাঁপে না। নিরাপরাধ মানুষের মত সমাজে বাস করে। আর পুলিশ প্রশাসনের ওপর দোষ চাপাতে সর্বদা চেষ্টা করে। পুলিশের ব্যর্থতার কথা ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করে ।

           জ্যোতিষ বাবুরা খুব কে বললেন যা দোষ করেছিস ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সব স্বীকার করিস তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তোর সাজা কম করে দেবে ।

           ‎মেজোবাবুর কথা শুনে মুখ মুচকে হাসলেন যতীন দারোগা। মনে মনে ভাবলেন, এখান থেকে যতই শিখিয়ে পড়িয়ে দাওনা কেন মেজবাবু, উকিলরা বসে আছেন কোর্টে । তারাই শিখিয়ে দেবে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তি না দিতে। বিচারের সত্যতা যাচাই করতে এসে অবিবেচকের মতো কাজ করে ফেলবে।

         এই সব নিয়ে যতীন দারোগা যখন ভাবছিলেন, ঠিক সেইসময় বড় সাহেব এসে ঢুকলেন থানাতে। আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে ভুলে বসেছিলেন কথাটা। তাই আর সাহেবকে খবর দেওয়া হয়ে ওঠেনি। এজন্য সাহেব খুব একটা বিরক্ত হলেন না। তিনি স্বচক্ষে দেখতে পেলেন বড়বাবু, মেজ বাবু দুজনই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সারমর্মটা জেনে নিলেন তাদের কাছে। চেয়ারম্যানের ছেলেকে মুক্তি দিতে এসে দেখতে পেলেন, মার্ডার কেসে ফেঁসে বসে আছে রাখব। নিজে সন্তুষ্ট হবার জন্য তিনিও কিছুক্ষণ রাঘবকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তারপর অত্যন্ত নিচু গলায় যতীন দারোগাকে বললেন-- এই মার্ডার কেসে রাঘবকে ইনসিস্ট করার জন্য আমরা তো শান্তিকেও ধরে আনতে পারি। সে তো এ কেসের অন্যতম আসামী।

           ‎যতীন দারোগা বললেন-- না স্যার ! ওটা করা যাবে না। মেয়েদের ব্যাপারে আমাদের আইন-কানুন অনেক বেশি উদার। তাছাড়া 'ও আমাকে বিরক্ত করে' কথাটার মধ্যে খুন করার কোন প্রভোকেশন নেই। একটা সাদামাটা কথার কথা। ধরলে অনেক কিছু, না ধরলে কিছুই নয়। এটা প্রমাণ করাও দুঃসাধ্য ব্যাপার। মিছেমিছি বিড়ম্বনা বাড়িয়ে লাভ নেই। তবে একদিন শান্তিকে আপনার অফিসে ডেকে, ওকে বুঝিয়ে বলতে পারেন। ভয় দেখাতে পারেন । যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের উক্তি না করে।কোন কিছু অসুবিধা হলে থানা পুলিশের সাহায্য নিতে পারে।



---------------------------------------------------------------------------


এই বিভাগে আপনিও আপনার মৌলিক অপ্রকাশিত   সেরা লেখাটি   পাঠাতে পারেন । 

ankurishapatrika@gmail. com

--------------------------------------------------------------------------------     

            

           ‎

           ‎

           ‎

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন