শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০

হৃদয়ে প্রেমের ঋণ/বিমল মণ্ডল




আক্রোশ 
বিমল মণ্ডল 

পাহাড়  ধসে ফেলি আক্রোশে 
জঙ্গলে  আগুন  জ্বালিয়ে হাসি
বিরহের মুখে  স্বপ্নকে করি জয়ী
পাহাড় থেকে  জঙ্গল  করে অট্টহাসি 
ভুলে গেছি এতো দ্রুত  আমি ছলনাময়ী। 

জোয়ারের  জলে এতো বেনোজল 
জেনেও চুপচাপ  ছিলাম কতদিন 
ভূকম্পনে ধসে গেল সব ফল
পুরনো  স্মৃতি ফিরাবে না আর মন। 

ফিরে এলাম প্রেমাহত পাখি একা
অসময়ে ঝড় ছিল  বিদায়ের  সেই রাতে
জঙ্গল  আজ সাফ, চারদিক শুধু ফাঁকা 
আমার জীবনে  কোকিল ডাকবে  না প্রভাতে। 

ভাষার  খেলা  করেছি নিজ ক্রোধে 
তার প্রতিদানই  পেয়েছি শব্দের  চোখে 
সব হারাবার  আক্রোশে  জ্বলেছি মধ্যে মধ্যে 
আজ আমি বিরহী  রাধা কৃষ্ণের  দুঃখে। 



তুমি
বিমল মণ্ডল 
তুমি যখন  আমার কাছে এলে
তোমার  দুচোখে দেখেছি সীমার মাঝে  অসীম
আমার হৃদয়ে  তুমি ভালোবাসা  দিলে 
রাত্রিময় আকাশে তোমার দান  অপরিসীম। 

বেদনা  আর কষ্টে  গড়া  তোকার শরীর 
চিন্তার  মাঝে খুঁজে  পেয়েছো আমায়
তুমিই প্রতীক  আমার পৃথিবীর 
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ  আমি শরীরের অর্ধেক দেবো  তোমায়।

কতবার  তুমি আঘাত  খেয়েছো কাঁটার 
কতবার  তুমি  ধরেছো বেদনার গান
হৃদয়ে  শূণ্যতার   সুর পেয়েছো কতবার 
তোমার সান্নিধ্যে  আজ পেয়েছি অপরূপ  ঘ্রাণ। 

জীবনে  ধরে রাখো জয়ের সাক্ষর
এ তোমার সব চেয়ে বড়ো পাওয়া 
আমি তোমার হয়ে করবো  ঝঙ্কারমুখর
তোমার কাছে শুধু  এই টুকু  চাওয়া । 



অন্ধকার থেকে আলোর  পথে  এলে 
তোমার মুখে  তবুও  মধুর  অস্ফুট সুরে
অস্থির অবগাহনে ডুব দিয়ে তুমি গেলে। 


যা কিছু তুমি- আমি ভাগ করে নেবো 
আমার ভালোবাসায়  খাদ নেই জানো
তাই আমি   তোমায় সাথে  পত্রপুটে খুঁজে  যাবো 
যেখানে  তুমি তোনার স্পর্শে ভালোবাসা দেবে। 













আত্মকেন্দ্রিক 
বিমল মণ্ডল 

অন্ধকারে জ্বলে ওঠে গগনচুম্বী  স্বপ্ন 
জেগে ওঠে মনে কত বাসনার ঢেউ
আমি পাবো না কিছু দেখিনি তা দুঃস্বপ্ন 
আমি ছাড়া এ আকাশ পাবে না কেউ। 

আকাশের  সব তারা মিটিমিটি  করে তাকায় 
আমার কাছে  একথা ধ্রুব অবশ্য 
আকাশে  বসে তারাদের কতকথা জানায়
দূর থেকে দেখবে আমায় প্রকাশ্য।

পাহাড়, নদী , জঙ্গল পেরিয়ে আমি যাবো 
কু-রুচিতে থামবো  না আর মোটে
দেখবে সবাই আমায়, সে কথাটা  ভাবো
মাটি থেকে  আকাশ  কত ফুল ফোটে । 






পিঁপড়ে 
বিমল মণ্ডল 

পিঁপড়ে  পিঁপড়ে এদিক শুনো ভাই
তোমার অতো বদবুদ্ধি আমাদের মধ্যে নেই
মাঝেমধ্যে অকারণে ঢুকে  যাও চটপট 
ঠান্ডা মাথায় কোপ মারো বেশ কটকট। 


সাবধান বলি ভাই শোনো বলি কথা 
তোমার কারণে কেন লোকে পাবে ব্যথা? 
ভালো আছো ভালো থেকো শান্তির  দেশে
সুযোগ বুঝে কোপ মারো এ কোন ছদ্মবেশে? 




আমি চলে যাচ্ছি
বিমল মণ্ডল 

আমি  যাচ্ছি, নদীর পর সমুদ্রের  পাড় ধরে
কত জলচ্ছ্বাস,  পাখিরা  দেশ -বিদেশে  উড়ে
মাঝমাঝে  শোনা যায়  জাহাজের সাইরেন 
মাঝিরা  মাঝধরে ভাটিয়ালি  সুরে গান ধরেন।

আমার   ক্লান্ত  অপরিশ্রীয়মান সেই হাঁটা পথে 
আমি চলে যাচ্ছি  তোমার থেকে দুরত্বের সাথে 
তবুও  আমার চলে যাওয়া  কিছুতেই  শেষ নয়
তোমার ভালোবাসার ঘরে বসে থাকি প্রতিক্ষায়।     

বাতাসের  সাথে কথা  বৃষ্টির সাথে কথা বলে
আমার  দিকে চোখ ফেরাতেই তুমি দেখলে 
আমি দেখলাম   তুমি যাচ্ছো সময় ভরে ভরে
আমি হাঁটছি নদীর  পর সমুদ্রের  পাড়  ধরে।

আমি যাচ্ছি অস্থিরতা, কান্না শুনতে শুনতে
আমি যাচ্ছি চৈতন্যময়  হৃদয়ের বান ভাঙতে 
তবু্ও  তোমার থেকে চলেছি অনেক দূরে    
আমার দিকে ফিরেও চাওনি তুমি একেবারে।      








হতাশার গল্প
বিমল  মণ্ডল 

আমার স্মৃতি  জেগে ওঠে রাতের অকূল অন্ধকারে
অবোধ্য  বিলাপ গল্পের নদীটা মেশে গভীর সমুদ্রে 

রৌদ্রস্নাত নির্জনতা শূন্য মরুময় চারদিকে
এমনই ভাবে ভুলে  থাকা যায়,পরিপূর্ণ ভালোবেসে
দূরে  গেলে আমায় ফেলে অনেক অনেক দূরে   

আমার নিবিড় আত্মায় তোমার কথামালা,
 তোমার প্রীতি বন্ধনে, স্মরণ পাতায় 


তোমার  সামনে অসংখ্য  বিপ্লব পুঞ্জীভূত
 আর  পরীক্ষার  প্রশ্ন পত্র  হাতে
তুমি জেগে  শান্তির  লালিত বানী শোনাও আমায়।

সময় বলে দেয় দিগন্ত রেখা ধরে 
সমুদ্রের  অগাধ গভীরে 
  সমস্ত  দুঃখ  হতাশায় কাটে দিন-রাত । 


 






প্রায় আকাশ  পেরিয়ে
বিমল মণ্ডল 

ছাউনি  ঘেরা  মাটির  দেওয়াল ঘেরা
তার মাঝে   আকাশ পেরিয়ে চাঁদের  বাড়ি
জানালা  থেকে  একটুকরো  আলো 
 বাড়িময় ছড়িয়ে 
উঠানের পাশে পুকুরের জলে ভাঙ্গা চাঁদ 
মাছেদের সাথে খেলা  করে 



এই রাতে নীল আকাশের  নীচে 
তুমি আর আমি
ঝোড়ো  রাত, চাঁদিনী  বাতাসে 
উন্মত্ততার ভেতরে 
তোমার অফুরান ভালবাসার বাতাস 
আমার হৃদয়ে  আসে 
এই উন্মুক্ত আকাশে।   

 






দায়বদ্ধতা 
বিমল  মণ্ডল 

এই দায় আমার, একেবারে নিজস্ব 
তোমার জন্য এইটুকু... 


আমার চেতনায় তোমার পদচ্ছায়া 
তোমার জীবন  যেন  অনন্ত  স্বপ্নের  প্রতিচ্ছবি 
 বিষাদের সুর বাজে হৃদয়জুড়ে  
দায়বদ্ধতা শুধু আমার
 
মনে হতে পারে তোমার  - এ শুধু বিলাপের  ভাষা
তুমি অনেক দূর  আমার কণ্ঠস্বর  শুনবে 
চিৎকারে  নিস্তব্ধতা  আনো
তোমার ইতিহাস  বলে দেবে মরুভূমির  যন্ত্রণার  কথা 
তাই তোমার পাশে আমি 
দায়বদ্ধতা নিয়ে জেগে আছি 
সুদূর অনন্তকাল।    
 





পরিপূর্ণ  এই সকাল 
বিমল  মণ্ডল 

ঠান্ডা  হাওয়া  মদমত্ততায় ভরে ওঠে  
এই প্রখর গ্রীষ্মের  হৃদয়
ভ্রাম্যমাণ  বাতাস গাছেদের শরীরী স্বাদ নেয় 
মাঝেমধ্যে  ঝোড়ো  হাওয়ায় মেঘেরা দোলা খায় 
পাখিরা   বাসা ছেড়ে খাওয়ারের খোঁজে 
গ্রীষ্ম  বাতাস ঠেলে সুরের মূর্চ্ছনায় নতুন আভাসে

শুকনো  পাতাগুলো  ঝরে পড়ে বিরহে 
এ সকাল দুষ্টু  রোদের    পরিপূর্ণ 
 সকালের  স্নিগ্ধতা  পাখিদের  ডানায় আর গাছেদের শাখায় শাখায়  মেঘেদের  ঘ্রাণ। 






উপেক্ষা 
বিমল মণ্ডল 

কি ছিল তোমার  ভালোবাসায়?
যেখানে  মন ধেয়ে যায়  নতুন  এক পৃথিবী  তৈরি করে 
আমার ভালোবাসায় কার্পণ্য  ছিলো  না 
কারণ  আমি শিখিনি  এই ভালোবাসা 
তোমার আবিল দৃষ্টিতে  সমস্ত বোধের  উৎস গ্রাস করে প্রেম

কিন্তু  তোমার উপেক্ষা পেলে অনায়াসে ভুলে যেতে পারি
যদি তুমি সে প্রেম দূরে  সরিয়ে দাও

আসলে ভুলে যাওয়া, আর মনে রাখা  এক আপেক্ষিক  ভাবনা 
মাপকাঠি  নির্ণয়  হয় তা 
উপেক্ষা করা আর উপেক্ষিত  হওয়া দুটো  মনের প্রাণে জাগে
সময় উপেক্ষা করে আমাকে 
তোমার অপেক্ষায় 



তোমার সাথে বেঁধেছি  আমি 
কত শব্দের  সংসার। 




ভালোবেসে নিজেকে কাঁদাই
বিমল  মণ্ডল 

সরলতা  খোঁজে  ভালোবাসার সন্ধান 
সুযোগ  সন্ধানীরা  সেই অপেক্ষায় 
মনের ছোঁয়ায় বেড়ে উঠে আশা   
সময়ের অল্প পরিসরে  

তুমি যেখানেই  স্পর্শ  রাখো তা আমার শরীর 
আমার চোখে ঈশ্বর  দেখি
নির্দিষ্ট আসনে তোমায় স্মরণ করি   

তুমি যেখানে  হাত রাখো, সেখানে  আমার হাত হয়ে ওঠে  রক্ত জবাফুল 
তুমি যেখানেই  ঠোঁট  রাখো
সেখানেই  আমার চুম্বন 

অথচতোমার শরীর  থেকে  প্রবল  অযত্ন  ঝরে 
তোমার চোখের থেকে জ্বলন্ত আগুন
ঠিকরে ঠিকরে পড়ে

এতো কালো মনে
তুমি বিশ্বাস কেড়ে নিলে

ভালোবেসে নিজেকে কাঁদাই।    







একটা  গরমের  সন্ধ্যা 
বিমল মণ্ডল 
 
সারাদিন   রোদ  অকথ্য  অত্যাচার  করেছে 
সারা পাড়া জুড়ে
গৈরিক  বসনে বড়ো  বাঁধের ধারে 
খিরিশ গাছের গায়ে হেলে 
কমলালেবুর মতো  ক্লান্তির  আলো  ছড়িয়ে দেয় 

সন্ধ্যা  হয়ে আসে সারা পাড়া  জুড়ে 
পাড়ার ছেলে , বৌ, বুড়ো, বুড়ী রা শরীরে গরম  মেখে 
অশ্বত্থ গাছের নীচে  ভীড় করে 
থমথমে  বাতাস নির্জনতা  আনে
অসম্ভব  গরমে সারা পাড়া জুড়ে 
হেঁটে হেঁটে  বাতাস খোঁজে  সারা সন্ধ্যায় 
রাত বাড়ে 
গভীর  অন্ধকারে  নক্ষত্রের  নীচে  
উত্তপ্ত  গরমে সারা রাত জেগে 
পুরো  পাড়া। 



প্রেম বন্দনা 
বিমল মণ্ডল 

হয়তো  তুমি যতটা  কাছে আছো
ততটা দূরেও  তুমি 
সকালে  পাখিরা উদাস সুরে বলে
বনের কুসুমগুলো ঘিরে,আকাশ মিলে বলে
ভালোবাসা বেঁচে  আছে  তোমার সাথে সাথে

বসন্ত  মাখানো  শরীরে 
তোমার চোখে  চোখ রেখে 
লিখে যাই  প্রেমের  কাব্যখানি

ঋতুময় নারী হয়ে গিলছে 
আপাদমস্তক  ভালোবেসে 

আমি তাই লিখে যাই আজও 
প্রেমের  সহজপাঠ।






চিঠি
বিমল  মণ্ডল 

বুকের  ভেতর কঠিন  পাথর 
কান্না  হয়ে  আসে না আর
স্বপ্ন  গুলো  নাচতে  থাকে 
হৃদয়  ভাঙা  চিঠির  ডাকে
তোমার মতো  কঠিন চিন্তা 
আমার মনে ভাসে কি তা? 
ভাবার মতো  ভাবতে পারো তুমি
এ সব  চিঠি দেখছি শুধু  আমি
তুমি দিতে পারো নতুন পথের  দিশা 
তোমার চোখে  দেখেছি নতুন আশা 
খুঁজতে  থাকি চিঠির প্রতি শব্দে  শব্দে 
হৃদয়ের  কঠিন  পাথর  পড়েছে  না-কি  জব্দে। 



দুঃখের  চিহ্ন 
বিমল মণ্ডল 

দুঃখ  তো আমার সেই জন্ম থেকে 
মা - বাবা কে দেখেছি দুঃখের  পাহারা  দিতে 
দুঃখের  স্লোগান  আমার নিজ মুখে 
দুঃখের  চিহ্ন  আমি নিজে

দুঃখ  আমার জীবনের  মৌলিক  কাহিনী 
দুঃখ  আমার  মায়ার আঁচল 
দুঃখ  আমার  বাবার নিত্য সঙ্গী 
আমার শৈশব  বলে কিছু  নেই
আমার কৈশোর  বলে কিছু  নেই 
আমার যৌবনে  দুঃখের  পাহাড়  - পর্বত স্তুপ
আমার শরীরে  প্রতিটি  হাড়ে দুঃখের  চিহ্ন 
 
আপাতমস্তক নিখুঁত  আঁকা দুঃখের  চিত্র

আমার দুঃখের  সাথে মনের সুখ জড়িয়ে
সুখের  কামনায়  দুঃখকে লালন  করি

আমার এক একটা  দুঃখ স্যাঁতসেঁতে  দেশলাইয়ের  কাঠি

আজও  আমি প্রতি  পাঁজরে  সাজিয়ে  রেখেছি দেশলাই  বাক্সের মতো প্রতিটি  দুঃখকে 

দুঃখের  চিহ্ন  আমার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে 
যেখানে  সুখ অতিথি দুঃখের  দরজায়। 






রক্তপ্রবাহ 
বিমল  মণ্ডল 

প্রায় দু'মাস ওরা  আমার দেহ থেকে বোতল  বোতল রক্ত সিরিঞ্জে  নিয়েছে
আমাকে অপমানে অপমানে নিঃসঙ্গ  অন্ধকারে রেখেছে 
বেঁধে  মেরেছে, অন্যায়ভাবে  দোষী  ছিলাম আমি
ওরা আড়ালে   দোষীদের ঢেকেছে জানেন অন্তর্যামী 
প্রতিবাদী হলে মারে বুকে গুলি
এতো রক্ত দেখে গ্রাম -শহরে শরীর  উঠে দুলি
দিয়েছো সমস্ত পৃথিবী  কাঁপিয়ে  সমস্ত মানুষ  আজ পথে পথে 
আজ এই শপথে দাঁড়িয়ে  শপথ  নিলাম থাকবো এদের সাথে সাথে
আর নয় এদেশে  রক্ত প্রবাহ 
আজ থেকে আসবে নতুন  আবহ।




দেখে হাঁটতে  শেখো
বিমল মণ্ডল 


অজানা  রাস্তা , এবড়ো খেবড়ো  পথ, অন্ধকার  সময় দেখে  হাঁটতে  হয়
না বুঝে  হাঁটা বিপদসীমার নীচে নামে
মাথার  মধ্যে  কিছু শয়তানি  ভাবন বাদ না দিলে 
চূর্ণ  বিচূর্ণ  হয়ে যায় মাংস পেশি
চোখ, কান ঠিক রেখে  চলতে গেলে
সামনের  দিকে  দেখে  হাঁটতে  হয় 

শত্রুর  দল চারধারে আজ 
পা ফসকে খাদের নীচে
ভালো  মন্দ যাচাই করে 
সাহস ভরে যাও এগিয়ে 

দেখে  হাঁটতে  শিখুন  
পথগুলো  সব জেনে বুঝে  
হাঁটতে  হবে সাবধানে। 






ইউক্যালিপটাসের হাহুতাশ 
বিমল মণ্ডল 


মোরাম রাস্তার  দুপাশে ইউক্যালিপটাসের অচেনা  সংকেত 
মোবাইলে দুর্বোধ্য গলা 
খাঁ খাঁ  করছে মাঠ
বাতাসে ছড়িয়ে  পড়ছে হাহুতাশ 
সংকেতবহ  কিছু  বার্তা  ঘিরে ধরে

সবুজ পাতায় বিষাদের  হাহুতাশ 
দিনের  শেষে  শুকনো পাতাগুলো বাতাসে  হাহাকার করে অন্ধকারে  কাঁদতে কাঁদতে সারা পথে ভেসে বেড়ায়

অচেনা  মানুষের  অকস্মাৎ হাঁটা চলা দেখে
হাহুতাশ  আরও  বেড়ে চলে 
নিজের মতো করে হাওয়ায়  আনন্দে আর হৃদয় নাচে না

আসলে ইউক্যালিপটাসের হাহুতাশ  নয় 
এ হাহুতাশ  আমার 
আমার জীবন  আর ইউক্যালিপটাসের জীবন 

একই হৃদয়ে  একাকার হয়ে আছে।






ভুলতে  ডুবে  আছি
বিমল  মণ্ডল 

নদী বোঝে  সময় যাপনের  কৌশল 
গাছ বোঝে  বাতাসের  সাথে  বিবাদ
শুধু  আমি বুঝি না  আমার ভালো -মন্দের সঠিকটা 
আসলে  বিশ্বাস আমাকে দৈব শক্তি দেয় 
যার ফলে চেনা - অচেনা  মানুষের কাছে হৃদয়  অর্পণ করি
ঠুনকো  সম্পর্ক  ভেবে ছুঁড়ে  ফেলে 
কাঁচের  চুড়ির  মতো  সম্পর্ক  ভেঙে  যায় 
তবুও  আশা নিয়ে ভালোর  পথে পা বাড়াই
সেই পথ পিচ্ছিল  আর কাঁটা ময় হয়ে ওঠে 

কতটা  আমি পেলাম আর কতটা  আমি দিলাম
তা নিয়ে খাতা খুলে বসি
রাত বেড়ে যায় 
নির্জনতা  ঢেকে  আসে
তবুও  ঘুম নেই চোখে 

দিনের  পর দিন আর রাতের পর রাত ঘুমহীন  চোখে  
শুধু  ভুলে ডুবে আছি। 



বৃষ্টির আনন্দে আজ মেতে
বিমল  মণ্ডল 

কত দিন নিরবতা  ছিলো  
জ্বলে পুড়ে  ছারখার  হয়  গ্রাম -শহর 
অসহ্য  গরমে  টিকা দায় হয়ে পড়ে
সবার মনে তিক্ততা  জাগে 

এমন সময় মেঘ অন্ধকার  করে 
ঘনঘন বিদ্যুৎ  চমকায়  
শহর  -গ্রাম আনন্দে  মেতে ওঠে 
অঝোরে  বৃষ্টি  নামে 
ঝড় আসে সাথে সাথে 

কত দিন পরে এমন খুশি 
মানুষের  মনে দেখা যায়

সেই বৃষ্টির আনন্দে  আজ মেতে  আমরা সবাই।





নদীর  কান্না
বিমল মণ্ডল 


জোয়ারে  নদীর  জল  ফুলে ফেঁপে  ওঠে 
নদীর  বুকে অচেনা  সংকেত  
কত যন্ত্রণা  নিয়ে সমুদ্রে  মেশে আবার ভাঁটার টানে 
কান্না নিয়ে ফিরে আসে
গাংচিল  ঘুরে ঘুরে নদীর  বুকে সুর সুরে গান ধরে
নদী  তবু কেঁদে  যায় 
কত আঘাত , কত ব্যথা  সবই সহে নিরবে
কি করে বলবে কাকে নিজের দুঃখের  কথা 
গোপনে  কেঁদে  যায়  
নির্জন  রাতে  

দিনের পরে রাত আসে, রাতের  পরে দিন 
চেনা মানুষ  অচেনা  হয়
অচেনা মানুষ  আরও  অচেনা 
সব কিছু  ঠেলে  জোয়ার  - ভাঁটার ক্রমে কেঁদে  যায় 
আজীবন  ধরে। 






কবিতার  জন্ম হয়-মৃত্যু নেই
বিমল  মণ্ডল 

আমার কবিতার জন্ম হয় কিন্তু  মৃত্যু  হয় না
কেননা  আমি মায়ের অভাব  কোলাজ
শব্দ   শরীরে   তৈরি  করেছিলাম
আমার মা'কে এবং আমাকে কতজন বাঁকা  চোখে দেখেছে
তা শব্দের  ইতিহাসে  পাওয়া  যায়
আমার কবিতা  আলো - অন্ধকার  ঘেরা 
যা সহজে মানুষ  মিশে যায়

কেই কবিতায় বাহবা  জানায়
আবার কেউ  বদনাম  করে

আমার কোনো  ভয় হয় না
কারন আমার কবিতা  জন্ম হয়, মৃত্যু হয় না 

আসলে প্রতিটি  কবিতায় আমি আমার মতো  করে শব্দ  বসাই 
যেখানে  আমার মা আমাকে 
ভালোবাসতে শিখিয়েছে 
প্রতিটি  মানুষকে । 


 



সন্ধ্যা 
বিমল মণ্ডল 

এবার সন্ধ্যা  নেমেছে 
সারাদিন  রোদের সঙ্গম
গ্রামের প্রান্তে। উদাসীন  মেঘে বৃষ্টির ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু 
ইউকেলিপটাশের ভীড়ে
তোমারও অশান্ত  মনে শান্তির  ঘোষণা 
এখনো  সে কথা বলে মোরাম রাস্তার  ধার ধরে 
জৈষ্ঠ্যের মেঘ মন্থর  ধারায় হাঁটে
তোমার  শরীরে  গভীর  অসুখ 
এখনো  তা বলে যায়

সন্ধ্যা  নেমেছে, দিনের ব্যস্ততা   আর নেই তেমন
নির্বাক মাটিতে পোড়া পোড়া গন্ধ ভেসে বেড়ায় 
আমার গ্রামের  পথে পথে
সন্ধ্যায়  কিছুটা  খুঁজে  নিই বিশ্রামের 
তুমি ভালোবেসেছিলে  তোমার সন্ধ্যার  অনুভবে
সারাদিন ভ্যাপসা গরমের  গন্ধই 
আমার সর্বাঙ্গে গ্রামের ব্যথা  বাজে
একে একে শান্তির  ছায়া 
এই সন্ধ্যায় তোমাকে  নিয়ে যায় আমার গ্রামের আলোময় পথে পথে। 



আমি চলে যাচ্ছি
বিমল মণ্ডল 

আমি চলে যাচ্ছি, নদীর পর সমুদ্রের  পাড় ধরে
কত জলচ্ছাসসহ  পাখিরা  দেশ -বিদেশে যায় উড়ে
মাঝমাঝে  শোনা যায়  জাহাজের সাইরেন 
মাঝিরা  মাঝধরে ভাটিয়ালি  সুরে গান ধরেন

আমার   ক্লান্ত  অপরিশ্রীয়মান সেই হাঁটা  পথ থেকে 
আমি চলে যাচ্ছি  তোমার থেকে দুরত্বের ফাঁকে 
তবুও  আমার চলে যাওয়া  কিছুতেই  শেষ হচ্ছে না
তোমার থেকে  হৃদয়  ছিঁড়ে  দেওয়া  আর হলো  না।

বাতাসের  সাথে কথা  বলে, বৃষ্টির সাথে কথা বলে
বাগুইহাটির  দিকে চোখ ফেরাতেই তুমি দেখলে 
আমি দেখলাম   তুমি যাচ্ছো সময় ভরে ভরে
আমি হাঁটছি নদীর  পর সমুদ্রের  পাড়  ধরে।

আমি যাচ্ছি অস্থিরতা, কান্নার  শুনতে শুনতে
আমি যাচ্ছি চৈতন্যময়  হৃদয়ের বান ভাঙতে 
তবু্ও  চলে যাওয়া  শেষ হয়নি 
আমি জানি তুমি আমাকে  পাওনি 

তবুও  আমি যাচ্ছি পথের শেষ  হয় নি
তুমি আমার জন্য আর অপেক্ষা  করো নি
আমার যাওয়া  আর শেষ  হয়নি 
পথের শেষে  পথ আর নেই। 








প্রতিটি  দিন একেই রকম
     বিমল মণ্ডল 

প্রতিটি দিন আমার কাছে একেই  রকম 
পাল্টায় না  শুধু  দিন পাল্টাই
তাই দিনগুলো  করে না আর বকম বকম
ভাবতে থাকি দিনগুলো  সব আমার কাছে একটাই।


জীবনটা বেশ দিনের কাছে বড্ড বেমানান 
তাই দিনগুলো  সব যেন উল্টো  পথে  হাঁটে
দিনের  কাছে আমিই যেন প্রয়াণ
দিন দুপুরে  আমায় নিয়ে চাটে।


হয় না  বলা , বুকের কথা  বুকেই চেপে 
হয় না  লেখা মনের সাথে তা শুধুই থাকে
তোমার চোখ আমায় দেখে মেপে মেপে 
ঘুম আসে না সারারাত  তোমায় ডেকে ডেকে।


তোমার জন্য দিয়েছি সংসার ভাগিয়ে
রাত জেগে খেলছি অক্ষরের কোণে  কোণে 
ইচ্ছে  হয় ভাববো শুধু  তোমাকেই  নিয়ে
সত্যি  বলছি প্রতিদিন  তোমায় পড়ে মনে। 


প্রতিটি দিন আমার কাছে একেই রকম  হয়
তুমি ছাড়া আমার কাছে পৃথিবী শূন্যময়। 





প্রায় আকাশ  পেরিয়ে
বিমল মণ্ডল 

ছাউনি  ঘেরা  মাটির  দেওয়াল বাড়ি 
তার মাঝ দেখা যায়  আকাশ পেরিয়ে চাঁদের  বাড়ি
জানালা  থেকে  একটুকরো  আলো  
সারা বাড়িময় ছড়িয়ে 
উঠানের পাশে পুকুরের জলে ভাঙ্গা চাঁদ 
মাছেদের সাথে খেলা  করে 

আমার জীবনে তোমার প্রকাশ এই রাতে নীল আকাশের  নীচে 
ঝোড়ো  রাত, চাঁদিনী  বাতাসে 
উন্মত্ততার ভেতর  দিয়ে 
তুমি ছড়য়ে আকাশ পেরিয়ে
তোমার অফুরান ভালবাসার বাতাস 
আমার হৃদয়ে  আসে 
প্রায় আকাশ পেরিয়ে। 



উপেক্ষা 
বিমল মণ্ডল 

কি ছিল তোমার  ভালোবাসায়?
যেখানে  মন ধেয়ে যায় যা দিয়ে নতুন  এক পৃথিবী  তৈরি করে 
আমার ভালোবাসায় কার্পণ্য  ছিলো  না 
কারণ  আমি শিখিনি  এই ভালোবাসা 
তোমার আবিল দৃষ্টিতে  সমস্ত বোধের  উৎস গ্রাস করে প্রেম

কিন্তু  তোমার উপেক্ষা পেলে অনায়াসে ভুলে যেতে পারি
যদি তুমি সে প্রেম দূরে  সরিয়ে দাও

আসলে ভুলে যাওয়া, আর মনে রাখা  এক আপেক্ষিক  ভাবনা 
মাপকাঠি  নির্ণয়  হয় তা 
উপেক্ষা করা আর উপেক্ষিত  হওয়া দুটো  মনের প্রাণে জাগে
সময় উপেক্ষা করে আমাকে 
তুমি উপেক্ষা  করো আমাকে 

কত সহজে ভালোবাসা  উপেক্ষিত  হয়
আমি ভুলে  যাবো যদি তুমি কাছে  এসে উপেক্ষা  করো 

তোমার সাথে বেঁধেছি  আমি 
কত শব্দের  সংসার 

আমি কি ডরাই সখা,ভালোবাসা  ভিখারি  বিরহে? 
আমার প্রেমের  ঘরে এসে উপেক্ষা  করো
তখন  চলে যাবো  আমি অনেক দূরে । 


পরিপূর্ণ  এই সকাল 
বিমল  মণ্ডল 

ঠান্ডা  হাওয়া  মদমত্ততায় ভরে ওঠে  
এই প্রখর গ্রীষ্মের  হৃদয়ে 
ভ্রাম্যমাণ  বাতাস গাছেদের শরীরে  স্বাদ অনুভব  করে
মাঝেমধ্যে  ঝোড়ো  হাওয়ায় মেঘেরা দোলা খায় 
পাখিরা  নিজের  বাসা ছেড়ে ঘুরে বেড়ায় নিজের  মতো করে
গ্রীষ্ম  বাতাস ঠেলে সুরের মূর্চ্ছনায় নতুন আভাস দেয়

শুকনো  পাতা গুলো  ঝরে পড়ে বিরহে 
এ সকাল দুষ্টু  রোদের  থেকে বেশি  পরিপূর্ণ 
যেখানে সকালের  স্নিগ্ধতা  পাখিদের  ডানায় আর গাছেদের শাখায় শাখায়  মেঘেদের  ঘ্রাণ  ঘুরেফিরে। 





ভালোবেসে নিজেকে কাঁদাই
বিমল  মণ্ডল 

সরলতা মনে খোঁজ  করি ভালোবাসার সন্ধান 
সুযোগ  সন্ধানীরা  করে অপব্যবহার 
সহজাত প্রবৃত্তিতে  আমি হাঁটি
তুমি  একাত্মতা  অনুভবে 

তুমি যেখানেই  স্পর্শ  রাখো তা আমার শরীর 
তোমার  চোখের  সামগ্রী  নিয়ে ফিরে ঘরে 
অথবা  ফিরি না ঘরে
ভালোবাসার সৌজন্য  আজ  আমি চতুর্দিকে শূন্যতা  অনুভব করি 

তুমি যেখানে  হাত রাখো, সেখানে  আমার হাত হয়ে ওঠে  রক্ত জবাফুল 
তুমি যেখানেই  ঠোঁট  রাখো
সেখানেই  আমার চুম্বন 

আর তোমার শরীর  থেকে  প্রবল  অযত্ন  ঝরে যায়
তোমার চোখের  ছায়ায় প্রতিদিন যাযাবর  হয়ে ঘুরিফিরি 
তুমি সব কেড়ে নিলে 
আমি উদাসীন  হয়ে ঘুরে বেড়াই

আমি তোমার আশায় 
তোমার কাছে হাত রাখি
তুমি সরিয়ে দিলে অসীম  শূন্যতার দিকে। 

আজ আমি শুধু  একা
ভালোবেসে নিজেকে কাঁদাই 
যা নিয়েছো কেড়ে
বিন্দুমাত্র  আমায় তা দিলে না ফিরে।





 


দু মিনিট 
বিমল মণ্ডল 

কত দু'মিনিট  পেরিয়ে 
কত ঘন্টা  হাঁটছে সামনে
তবুও  হিসেব মিলাতে পারি না 
সময়ের
বুদ্ধি টা বড্ড কাঁচা  অঙ্কে
ভূগোলের  সময় সূত্রও বুঝি না তেমন

তোমায় বিশ্বাস করে সময়ের কৌশল  শেখার  নেশায় 
এতো সময় বসে থাকা
আর কত সময় ফাঁকা  মাঠে গরমের  স্রোতে বসে থাকবো বলতে  পারো?

আর কত দু'মিনিট! 

অন্ধকার  নির্জনতা  জোনাকির ডাক
দু'মিনিট  আমায় ভালোবেসে বসে আছে
তুমি আর কত দু'মিনিট  নেবে?
কথাটা এদের কাছে যে রাখতে হবে। 

 শুধু  দু'মিনিট  পরে! 



একবার  ডাকো
বিমল  মণ্ডল 

এই পৃথিবী  বা পৃথিবীর বাইরে 
যেখানেই  আমি থাকি না কেন
তুমি ডাকলেই ফিরে আসবো 
তুমি শুধু  একবার  ডেকো 
সত্যিই  বলছি আমি ফিরে আসবো 
সম্বল  সহায়হীন  -আমি একা
একমাত্র  আমার সম্বল  তুমি

এই পৃথিবী  আমার কয়েক দিনের  চেনা  - জানা 
তোমার  চোখ আমার শরীরে  নতুন ছায়া পড়ে 
তোমার প্রেম আমাকে দিন - রাত পাগল করে
তোমার বলা গল্প এখনো  স্মৃতিতে 
তবুও  তুমি মুখ ফিরিয়ে  
আকাশে বসন্ত  বাতাসে 
কিসের হিসেব কষছো? 

তুমি একবার  ডাকো 
আমি তোমার কাছে ফিরে আসবো । 





নদীর  কান্না
বিমল মণ্ডল 


জোয়ারে  নদীর  জল  ফুলে ফেঁপে  ওঠে 
নদীর  বুকে অচেনা  সংকেত  
কত যন্ত্রণা  নিয়ে সমুদ্রে  মেশে আবার ভাঁটার টানে 
কান্না নিয়ে ফিরে আসে
গাংচিল  ঘুরে ঘুরে নদীর  বুকে সুর সুরে গান ধরে
নদী  তবু কেঁদে  যায় 
কত আঘাত , কত ব্যথা  সবই সহে নিরবে
কি করে বলবে কাকে নিজের দুঃখের  কথা 
গোপনে  কেঁদে  যায়  
নির্জন  রাতে  

দিনের পরে রাত আসে, রাতের  পরে দিন 
চেনা মানুষ  অচেনা  হয়
অচেনা মানুষ  আরও  অচেনা 
সব কিছু  ঠেলে  জোয়ার  - ভাঁটার ক্রমে কেঁদে  যায় 
আজীবন  ধরে। 







একা 
বিমল  মণ্ডল 
খোলা  মাঠে যেন এক
পৃথিবী  রচিত  হয়
চক্রাকারে সমর্পিত স্থির, ধীর  শরীরে  আমায় বড্ড  ক্লান্ত  করে
সবার স্বার্থ  মিটে গেলে 
ছেড়ে চলে যায় অনেক দূরে 

একা আমি সুড়ঙ্গের মতো। 
সব একে একে ছেড়ে গেল আমাকে
আর আমি যখন  আর্ত হয়ে উঠি
সুগভীর  রাতের  ক্ষুব্ধ  বিক্ষোভে 
আমার নতুন  অস্তিত্ব  ধূসর  গ্রামে ছুঁয়ে  যায় 
আমার সামান্য  চাওয়া- পাওয়া 
আমার বিবর্তমান পথ
আমার সাথে থাকে ক্লান্ত ও অসীম  বেদনা। 




ভাসমান
বিমল  মণ্ডল 

আমি সাঁতার  জানি না 
নদী , সমুদ্র  তো আছেই 
পুকুরেও তা পারি না

অসম্ভব  ভাবে সবাই তাকিয়ে 
আমি লজ্জিত  হই 
না পারার বেদনা  আমাকে 
বারবার  উসকে  দিচ্ছে 
যে পারতে হবে।

উৎসাহ  গুলো  বারবার 
পূবে - পশ্চিমে ঘিরে ধরে 
আমি সামগ্রিক  চেষ্টা করি

ঘুরেফিরে  বারবার  সাঁতারকে আমার শরীরে  অনুধাবন  করি 
প্রথমে  পুকুর , তারপর  নদী, অবশেষে  সমুদ্রে 
যা আজও  সাঁতার  কেটে চলি আমার সমুদ্র রূপ  কবিতায় । 




হৃদয়ে প্রেমের  ঋণ 
বিমল মণ্ডল 

প্রায় হৃদয়  ছড়িয়ে,ভাঙা প্রেম
বসে আছে কতগুলো  হৃদয়ের মানুষের  মাঝে
বর্ষার ব্যাঙ ডাকা মাঠে
ঘুরছে, দিন - রাত্রির  ব্যবধানে 
এসো দেখি কত ঋণ 
আজও  জমেছে আমার ভাঙা  হৃদয়ে 

আমার দু'চোখে কত না শোকের চিহ্ন 
আমার শরীরে  কত না ব্যথার  অনুভূতি 
সবার কাছে ঋণের  বোঝা 
আমার হৃদয়ে  ঋণের  চাকা  ঘুরেঘুরে  চলে
কত পাগলামো  রাত কেটেছে  অনিদ্রায়
কত অভাবী দিন কেটেছে ক্ষুধার্ত  আর তেষ্টায় 

ঋণের  বাতাস হৃদয়ে এসে ভাঙে আর বিক্ষিপ্ত  করে
আমার অফুরান ভালবাসাকে

আর মেঘমুক্ত  আকাশের নীচে 
হৃদয়ে  প্রেমের ঋণ  
বাতাসে যা বলে। 




মধ্যরাত 
বিমল মণ্ডল 

এখন  মধ্যরাত
সুগভীর  ঘুম খাদ

সারাদিন ছিল  পায়ে পায়ে জনতার পথ হাঁটা 
প্রখর রোদেও জনতার  হয়নি ভাঁটা 

নিরিন্ন মানুষের  খেটে  খাওয়ার  ন্যায্য  দাবি
সহায় সম্বলহীন আজ তাদের সবই

মন তাদের শান্ত  নীরব 
ছলনায়  ঘুমিয়ে রাখে সব

এতো ভীড়ে একজনই  বাড়ায় হাত
ছিল শুধু  তার প্রতিবাদ 

বুকভরা  সাহস  ছিলো  তার
উজ্জ্বল  দিন, যৌবন চেয়েছিলো বহুবার 

সারারাত  সবুজ ঘেরা গ্রামে চষে  খুঁজেছে ভালোবাসা 
পাওয়া  না পাওয়ার  কত না প্রত্যাশা 

বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে এখন  সারারাত হাহাকার 
পথে ওড়ে ধুলো, ছাই ওড়ে শুধু  পথে ছিল আগুন বারবার 

হৃদয়ে এখন টুকরো  টুকরো  স্বপ্ন  আছাড় খায়
আলো নিভে যায় সারা ঘর  শুধু  এক রয়

থেমে যায় সব গাওয়া  গান
থেমে যায় আমার প্রাণ 

এখন  মধ্যরাত। 





শব্দ জাদু
বিমল  মণ্ডল 

শব্দ  বিভ্রাটে 
কিছু শব্দ বাতাসে বিছিয়ে 
আর কিছু শব্দ  চুপটি  মেরে বসে
তরল পারার  মতো  আবার শব্দ  কিছু গলে যায়
শব্দের  জাদুতে রাতের আকাশে কিছু শব্দ নক্ষত্র  হয়ে ভেসে থাকে
তুমি -আমি শব্দ আয়নায়  ঠোঁটে  দেহস্পর্শ তাপে 


শব্দ সৌজন্য  কল্পনায়  
এক একটি  শব্দ 
অর্থের ব্যঞ্জনা  দেয়
তৈরি  হয় ভিন্ন ভিন্ন শব্দ  জাদু। 


 



জন্ম  যদি দাও ধৈর্য ধরে
বিমল মণ্ডল 

কঠিন  সমাজ 
যেখানে পাথরও ভাঙে না
সেখানে  জন্মের  কোনো  চিহ্ন  নেই
যদি জন্ম দিতে চাও 
কতগুলো  মাস ধরে
তবে ধৈর্য  ধরো বারবার 

জানি কষ্ট  হবে।কষ্ট  হবে তার নিজ অধিগত 
সদ্য  যৌবনে  শরীরী ঘ্রাণে 
বাঁধ ভেঙে যায়  ধৈর্যের 
স্থায়ী  হৃদয়  ও মননে 
জন্মের  অধিকার  বোধ  জন্মায়

প্রতিটি  জন্মের  সাথে  ধৈর্যের  
অসহন সহনীয় 
দুঃখের দ্রবণ থেকে জনকজীবন তৈরি হয়। 








বেদনার  স্মৃতি 
বিমল মণ্ডল 

কতগুলো  বছর কেটে  যায়  
কতগুলো  কথা  শুধু  থেকে যায়
হৃদয়ে কবিতা হয়ে ঘাসের  বুকে  শিশিরের  মতো  তা টুপটাপ  ঝরে পড়ে

আমার থেকে সমস্ত  সুবিধা  নিয়ে চলে যাও অনেক দূরে 
আমাকে নিঃস্ব  করে 
গান করে বেড়াও আনন্দে দূরে ও বহুদূরে 

আজ আমার ব্যথিত হৃদয়  খোঁজে নিবিড়  স্নেহ
কতনা এই ভালোবাসা  ছিলো  অর্থের স্পর্শ  সন্ধ্যানে

মন  কত ছোটো  তোমার
তোমারও  পূর্ণ  হবে না আশা
তুমি আজ আমার কাছে 
অপরিচিত  কেউ

আমি শুধু  হৃদয়ে লিখে যাই 
এই বেদনার স্মৃতি। 



কাহিনী 
বিমল মণ্ডল 

প্রতিদিন  দশটায় নদী পেরিয়ে  গ্রামে যাও
যে গ্রামে প্রতি মুহূর্তে  নদী ছুঁয়ে  যায় 
যাওয়ার  পথে পথে কত সব্জি আর মাছের  বিক্রিবাটা
ছেলে  - মেয়েরা সময় মেনে স্কুলে যায়
প্রতিটি  ঋতুতে  গ্রাম আর নদীর  কাহিনী  আকাশ স্পর্শ  করে 
গ্রাম পথে গাছেদের  ছায়া 
পিচ রাস্তার  উপরে  মরিচার প্রলেপ 
ধাঁধা  চোখে  মুখে  ঘোরে

এ কাহিনী  আজও   নদী  আর গ্রামে পূর্বজন্মের  স্মৃতি 
ছুঁয়ে  যায়।




নিঃসত্ত্ব 
বিমল মণ্ডল 

হঠাৎ  রেগে যেওনা 
চুপচাপ  শুনো 

মন আরো সময়ে দাও
অনেক আলোচনা  বাকি 
সময়ের  সাথেই  ঠিক  থাকো

রেগে যাওয়া  মানে 
নিজের দৈহিক আর মননে 
বিকলাঙ্গসার

তোমার এই রাগ বিকলাঙ্গ  করা নয়
বিকলাঙ্গ   সারানো 

রেগে যেওনা 
চুপচাপ শুনো। 








মাটি আঁকড়ে  পড়ে থাকা 
বিমল মণ্ডল 


আমি এখনোও  মাটি আঁকড়ে  
কবে  এই মাটিতে  চাষ করবো  বলতে পারেন?
কতজন  শক্ত -পোক্ত  পায়ে এই মাটিকে মাড়িয়ে যায় 
কেউ মাটির  রঙ দেখে  বিদ্রুপ করে। 
কেউবা  গন্ধ শোঁকে 

আপনি  কথা দিয়েছেন  
আমার এই মাটিকে  চাষের  উপযোগী  করে তুলবেন 
আসলে আদৌ মাটিটা  উপযোগী  তো?
এ প্রশ্ন  এলে 
আপনি  এড়িয়ে  যান
আর বলেন  "চাষ যোগ্য করবেন।"

আমি আনন্দিত  ও  আপ্লুত  হই
তাই  সেই মাটি  আজও  আমি আঁকড়ে 
কবে আপনি  চাষযোগ্য  করবেন  সেই আশায় 
এজন্মেও বসে । 







সাহিত্য বাসরের ইতিকথা 
বিমল মণ্ডল 

প্রতিটি  সাহিত্য বাসরে  যে যাঁর  চেনাজানা  কবি থাকে
যাঁরা  সময়ের  পরে গেলেও  আগে ডাক পায় 
আগে গেলেও আগে ডাক পায় কবিতা  পড়ার

তখন  আমারও  কিছুই  বলতে পারিনা 

যাঁরা  নিজেদের  শুধু  বড়ো  ভাবে
তাঁদের  মন আর কয়েকজনের মতো  সহজ  সরল নয়
নিজেদের স্বার্থের জন্যে এভাবে  আর কয়েকজন কে অপমান  করে
আমরা সেখানে  ঝগড়া  করতে পারিনা 

নিজেদের মধ্যে  যখন  ওরা কবিতার আলাপ চারিতা করে 
তখন  মনে ওরাই একমাত্র কবি
সেখানে  আমরা অংশ গ্রহণ  করতে পারিনা 

আসলে শিক্ষিত  কবি সমাজে
এমনও হয় এখনো কবি সভাতে। 






মনটা আজ আর ভালো  নেই
বিমল  মণ্ডল 

সারাটি  দিন  ঝড়, জল,প্রমুখ  বাতাসের ভেতর  কেটে গেলো 
রোদ, মেঘের  খেলা  সেরে
আকাশ প্রেমিক  হয়ে উঠে
পাখিরা  অবুঝ প্রেমে উড়ে উড়ে  বেড়ায়

অযথা  কাটাছেঁড়া কথা আমার মনে বাজে
আমার সরলতায় , আমার বিশ্বাসে সংশয় আসে
একটু  একটু  করে  চারদিকে  বেঠিক  তত্ত্ব  ছড়িয়ে  পড়ে 

মানুষের  স্বতন্ত্র  ধারাগুলো  পচে পচে যায়
ধারালো  অস্ত্রের  মতো  আমার শরীরে  আঘাত লাগে
ক্লান্তিতে  চোখে  মিথ্যার জল 

শুধু  সারাটি দিন মন খুঁজে  বেড়িয়েছে
আমার সততার  প্রশ্ন 
আর  বোকামির  কিছু বিশ্বাস 

মনটা আজ আর ভালো  নেই। 








পিতৃসত্য 
বিমল  মণ্ডল 


দীর্ঘ  কথা 
নিয়মিত  সন্তান স্নেহ
অভাব বাজে নির্দিষ্ট  শরীরে 

বাবা ও  মায়ের স্মৃতি  অবিকল  তোমার চোখেমুখে 
আমার চেতনায়  দুঃখ 
তবুও  তোমার আশ্রয়ে  আমি

কতগুলো  ঝড় আমায় পেরিয়ে চলেছে 
সন্তর্পণে  হেঁটে  যাই 

তোমার দু'চোখে ভালোবাসা  ঝরে 
আমার হৃদয়ে  বাজে
রক্তের  শরীর  আমার তবুও  তোমার রক্ত নেই 
সব রক্ত তোমার  আমার 
পিতৃসত্যের আসল পরিচয়ে

তোমার আমৃত্যু  অবধি 
আমি তোমার পাশে
চিরকাল  এমনই  কথা যেন থাকে।







তুমি আছো মানসপটে 
 বিমল মণ্ডল 



দূর আকাশে কাহার পানে 
তাকিয়ে আছো কিসের টানে?
কাদি বসে হেথায়  একা 
তোমার জন্য অভিমানে।

জানি জানি তুমি আমার
আছো বসে মানসপটে
স্রোতের মতো সহজ পথে
এসো মোর আঙিনাতে।

আমার ভুল অনেক বেশি
সেটা জেনেছি আগে
তোমায় ভালোবেসে আমি
রেখেছি হৃদয়ভাগে।   




যদি শোনো আমার  কথা
বিমল মণ্ডল 

শোনো না দাদা।এসো না কাছে রেখো না তোমার ডালে
ভালোবাসা  নেবে? আদর নেবে? শুনবে আমার কথা?
ভয় পেয়োনা পাবে সব আমায় কাছে রাখলে
কথা দেবে?ভাগ করে নেবে সুখ - দুঃখের  ব্যাথা? 


চেয়ে  দেখো দূরে  তোমার চেয়ে আছে ওরা অনেক  কষ্টে
হঠাৎ  ঝড়ে  সব সৃষ্টি  ওদের পড়েছে  ভীষণ  ফাঁদে
তোমারও সৃষ্টির  ফল পাবে যা আছে অদৃষ্টে
মাটি, গাছ, আকাশ  সব হারিয়ে একা একা কাঁদে


কথা দাও এদের মতো  যেন থাকে তোমার মন
ফুল দেবে, ফল দেবে রাখবে ধরে  শুধু  বুকে
শুনবে  কথা? বলো না আমায়  তুমি না আমার প্রিয়জন?
কথা দিলাম  থাকবো পাশে থাকবে তুমি সুখে। 





উপলব্ধি  এমনও হয়
বিমল মণ্ডল 

কতটা  শ্রম দিলে একটা  ভালো সৃষ্টি  হয়
কত উপাদান  দিলে তা মজবুত  হয়
আমি এখন  বুঝলাম 
যেখানে   ইট, বালি, সিমেন্ট ঘেঁটে  একটা  বাসস্থান  তৈরি  হয়
আমার টাকা, মন, পরিচিতি এসব আশার বাণীতে জাগে

দিন রাত  খেঁটে  
সখের বাড়ি  হয়

নিরুৎসাহিত  রাতে  ভয়ংকর  চেনা দস্যুরা
সমস্ত সৃষ্টি  ভেঙে  তছনছ  হয়ে যায়

এই উপলব্ধি  এমনও  হয় 
নিজের সৃষ্টি চোখের সামনে 
ধ্বংস  হয়ে যায় যখন। 



 



বাঁচার গান
বিমল মণ্ডল 

কত ঝড়ে যায় সব উড়ে
শুকনো পাতার মতো  মৃত্যু  ঘুরে
দিকে দিকে মানুষ  ধরেছে বাঁচার গান
স্বদেশের কাছে নেই তাদের টান। 



 এসো ঝড়,তুমি এসে  নিয়ে যাও সব
আর দেখতে পারিনা  মৃত্যুর  শব
ভারতমাতার বুকের ভেতর জেগে ওঠে শোক
দিক দিগন্তে আজ এই আনন্দে নবজন্ম হোক

চারদিকে  আজ অসহায়  মানুষ  ধরেছে বাঁচার গান। 








অক্ষয় হোক
বিমল মণ্ডল 


আমি যা 
তাই সর্বদাই 
আমার সামনে পেছনে
নিষ্ঠুর  ভালোবাসা 
শৈশব , কৈশোরে  মায়ের উপচে পড়া ভালোবাসা 
যা আমার শরীরে  আজও  ছড়িয়ে
যৌবনে  মিশে যায় সমুদ্রের  গভীরে 
নিতান্ত  অসহায়  ভাবে  পথিমধ্যে  একা একা ঘুরি

প্রবল  হাওয়ায়  স্মৃতি গুলো  এলোমেলো  
সহসা বাতাস নিয়ে যায় টেনে 
তোমার প্রেমের  কোলে
ভয়াবহ  ভয় সরিয়ে
হৃদয়ের এককোনায়   বসালে

তোমারও মনে সংশয় 
পিতৃত্বের  দাবিদার  ভেবে

অবশেষে  সময় গোড়ায়
মন থেকে  সংশয়  সরায়

সম্পূর্ণ করলে  বুকে টেনে
পুত্রের  সম্মান  দিলে
আমার হৃদয়ে  বাবার সম্মান
এযেন জন্মান্তরবাদের সংকেত

কথা নয় শুধু 
প্রতিটি  কাজ 
তোমার আমার প্রতি
অক্ষয় হোক। 







রেখো হৃদয় মাঝে 
বিমল মণ্ডল 

পরিচয় শুরুতে কেউ কেউ আবেগ ঢালে
কথায়  কথায়  সংকল্প জাগায়
নিজের একান্তে রেখে 
ভাবি সহজ সরল মানে

বুকের গভীরে নতুন  প্রীতির সংকেত
আমিও শুদ্ধস্বরে চৈতন্যের কথা বলি
যা যা শ্রুত তার সবই স্মৃতিধার্য করি
এসো হে প্রণম্য 
যেখানে বেঁধেছি ঘর তারই পাশে রাখি এ প্রণাম 

 এভাবে  তোমারও  বয়স  বাড়ে 
দিনে দিনে আমিও  তোমার হৃদয়ে গভীর  শিকড় ছড়াই
তোমার  দু'চোখে  জল 

কথা রাখার উজ্জীবিত  আবেশে 
আমাকে রাখো হৃদয়ের মাঝে। 




সাবধানের গল্প
বিমল  মণ্ডল 

আমরা সাবধান  হই
কিন্তু  অসাবধানে  পথে  চলি
শুধু  বলি আমরা খুব  সাবধানী
তাই হোঁচট  খাই খানিকটা 
আসলে সাবধান  হওয়া  আর অসাবধানে  বোমারু হওয়া  
নাকি  সমাজের চিত্র 

যদি সুন্দর  সমাজ আসে পাশে 
সাবধান থাকে না  কেউ তাতে

চিৎকারে  প্রসংশা  ছড়ায় 
সাবধানে  সবাই 

সাবধানী সত্যিই  আমরা বলেই
পদে পদে এতো  হোঁচট  খাই। 




আদর্শ বন্ধন 
বিমল মণ্ডল 

বয়সের  সাথে সাথে 
সংসারের থেকে প্রকৃতির টান বেশি
মায়ায় ঘেরা নিজের  বাসনা  ছেড়ে পিছুটান  আসে
পরিবারের  সাথে ঘটে কত ঘটনার  সাক্ষী 
দিনের আলো  নেভার  শেষে  ফিরে আসার জাগতিক  শক্তির  টান

একটু  শান্তির  আশায় প্রকৃতির  খোলা  হাওয়ায়  মন ভাসিয়ে  দেই 

আত্মভোলা  বন্ধনের স্বপ্ন  দেখি
সততা , নিষ্ঠাবান  এ সবই আমার আদর্শ 
পরিবার  আর প্রকৃতিই শুধু  মায়ার বন্ধন

এই পরিচয়েই হলে
তোমার আমার আদর্শ বন্ধন। 







সহানুভূতি 
বিমল মণ্ডল 

একটা জীবন  যখন  
সত্যিকারের নতুন আশ্রয়  চায়
তখনই অবহেলিত  হয় সমাজের কাছে
যে সমাজ অজ্ঞতার কারণে 
নিদারুন  নির্যাতন  করে 

একটু সহানুভূতি  কি পেতে পারে না? 
তাহলে কেন বলি ভালোবাসি?
 
কেন এতো লেখালিখি? 
কেন এতো প্রতিবাদী? 

তোষামোদে ভরে যায় সমাজ
যে যার প্রচারে ঢেউ তোলে 
সহানুভূতির  নেই সেখানে স্থান
ভালোবাসা  যায় হারিয়ে 
স্তব্ধতা  আসে  বিনা বিচারে
রক্তের  খেলা বিনা কারনে 

কবিতায় নির্মমতা  আর আসেনা 
শব্দের  সহানুভূতি  প্রলেপ  লাগায়

শব্দে  রাঙানো সহানুভূতি আজ নিজ আশ্রয়  পায়

সমাজ আজ জেগে ওঠে 
নতুন সহানুভূতির  জন্ম দেয়।


 




তোমার প্রতি 
বিমল মণ্ডল 

তোমার  হৃদয় প্রাসাদে  নাই বা দিলে ঠাঁই 
ঈশ্বর প্রেরিত আমি জেনে রেখো তাই
ভালোবাসি  ঈশ্বর  মুখে বলো না  আর 
মুখের কথাতে প্রত্যাশা  থাকে বিশ্বাস  আমার


স্বপ্নপূরণ  ইচ্ছেটাই যদি আমার আর না থাকে
কেন বা সমাজ কেন ভালোবাসা বলতে পারো আমাকে?
ঘাত-প্রতিঘাত , দুঃখ বেদনা ভালোবাসারই অঙ্গ 
নিজের কথা ভেবে আমার স্বপ্ন  করলে ভঙ্গ


মূল্যবোধ আর মানবিকতা  বুলি আওড়াও মুখে
ভালোবাসতে না পারলে  থাকবে  না তুমি সুখে
কথার ভীড়ে  চাপিয়ে দিও না নিজের দোষটাকে
সবার সাথে মিলিয়ে  দিয়ে ফিরালে আমাকে


তুমি যদি পারো আমি পারবো না মোটে
আমার বিবেক যতটুকু ততটা দেবো তোমাকে
ভেবোনা  আর ঈশ্বর  যদি এভাবে  চায় 
তোমার প্রতি  ভালোবাসা  যেন ঈশ্বর  দেয়। 








অধিকার 
বিমল মণ্ডল 


আমার নেই কোনো  অধিকার 
তোমার ঘর ছেড়ে কালো রাস্তায় 
ঝরে পড়া গান শুনি
তুমি যেন স্বপ্নের  চিত্রমালা
অধিকারে অর্ধচেনা 
আমার ক্যানভাসে করুণার  বিদ্রুপ  শুনি

আমায় দাওনি তো অধিকার 
যে অধিকারে কাছে যাওয়া  যায় 
যে অধিকারে  প্রাপ্তির স্বাদ  মেটে
সে অধিকার  নেই তো আর 

তবু্ও  শুধু  বুভুক্ষু  হয়ে অধিকারের আশায়
নিঃস্বতা নিজেকে  ঘিরে 
ঠিক যেন কর্ণের মতো। 

প্রতিক্ষা আর প্রত্যাশা  আজ 
তোমার চরণে

তবু্ও  আমার নেই কোনো  অধিকার । 



 




বুঝবে সেদিন 
বিমল মণ্ডল 

অনেক কথা শৈশবের স্মৃতিতে  ধরা
সেই মাটির  দেওয়াল  আর কাদা ভরা গ্রাম পথ
যেখানে  আমার মা  তুলসীতলাতে অনন্ত সুখী  প্রদীপ জ্বালে
বাবার হাতের শাসন এখনো  শরীর জুড়ে
নিয়মিত  অভাব  ছিলো  আতঙ্কে  
আমার শরীর  মজ্জায় দুঃখ  আজও  লেগে

তাই আজ মন ভালোবাসা  খোঁজে 
ভালোবাসার নীড়ে  তখন  অন্ধকার  আসে
সব যন্ত্রণা সহজে পরস্পর ভাগাভাগি  করি 
প্রেমের  হৃদয়  দিলে আবার অনেকটাই নিলে  কেড়ে

আমার স্মৃতি  ফিরে পাই তোমায় যখন  ঘিরে
আমার মনে সেই আসনটি তোমায় দিলাম  তুলে

অযথা  বিরক্ত সুর তোমার গলায় ভাসে
বলবো না আর কিছুই  তোমায়

যেদিন  তুমি আসবে ফিরে

বুঝবে সেদিন  আমার ভালোবাসা । 









অভিমানী  সংলাপ 
বিমল মণ্ডল 


রাত্রির  সাথে ছায়াপথ 
অন্ধকার নিয়তি
পথে পার্থিব সম্পদ 
হৃদয়ে  অপার্থিব  ভয়
মনে ডুবছে আত্ম সংলাপ 
ভবিষ্যতে অভিমানী  ভরা সংলাপ 
সারারাত  ছুঁয়ে  যায়  

দীর্ঘ  পরিচয়  বিরহবিধুর 
সময়  জানে  অভিমানী  সংলাপ সুর। 







আমার জন্মান্তরবাদ 
বিমল মণ্ডল 

আমার স্বাধীনতা  নেই 
আমার শরীর  ঘিরে তোমাদের উন্মাদনা 
পাতা, ফুল, ফল এমন কি আমার শরীরকেও ভোগে লাগাও
সময়ের অনুপাতে  মায়ায় ঘিরে রই 
রোদ বৃষ্টিতে আশ্রয়  পাও
আমি অনন্ত মনের অধিকারী 
আমি তোমাদের সাথে থাকি 
তবুও  তোমাদের স্বাধীনতা  আছে
কিন্তু  আমার নেই

নেই আমার জন্মান্তরবাদ  
আমি আজও  তোমাদের প্রাণের  আশা করি
আমার বৃত্তের মাঝে  
ফিরিয়ে  দাও আমার জন্মান্তরবাদ ।


৩/০৭/২০১৯

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন