।।আলোর উৎসব--১২।।
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়-র কবিতা
ভাগের আলো
আমাদের অকিঞ্চিৎ আলো পরাজয় মাখে
দূরের রোদ নাড়াপোড়া ধোঁয়ায় পাণ্ডুরোগি
ভাগাভাগির দাঁড়িপাল্লা বা ছুরি চিরকাল
শকুনি বা কালনেমির হাতে,আলোর বিভ্রম
পাণ্ডব বা কৌরব বলো শুধুই বশ্য
বকলম পাগল ঠাকুরের হাতেই শুধু নেই
ডান নয়,আন-হাতে বকলম তীক্ষ্ণধার কাটে
রক্ত নেই,রস নেই,বিলম্বিত চিনচিন শুধু
নামমাত্র ভাগ আলো নিয়ে বাঁচা বছর বছর
আলোর পরব এলে ঠাকুমার তোরঙ্গ ঘাঁটা
ইতিহাস টানা রেশমের শরম আদর
পরম যত্নে মাখি ঘ্রাণ চেখে নিই সোঁদাগন্ধ
আলো লাগা সূর্যকানা চোখে মুক্তফোটা দিন
২.
এসো আলো
সূর্য ডোবার পর আবছায়া আলো
রাস্তায় দাঁড়াতেই শিকারী বিড়াল জানি
কালো অন্ধকারে প্যাঁচা বললেও ভুল নয়
অথর্ব বাঘিনীও বেশ মেলে
এখন বাঘ আর বিড়াল,বাইসন আর গাধার
পার্থক্য হয় না,বেবুনের মুখে বাঁদর লেখা
অন্ধকারে দাঁড়াই শিকার নয় অতিথির খোঁজ
অতিথি মানেই দেবতা রজনীগন্ধা-জুঁইগন্ধে
বেগম আখতার খুলে দিচ্ছেন কিন্নরদরোজা
ক্ষণ গুনে স্বর্গের সংজ্ঞা লেখা প্রতি অঙ্গে
ধুলোমাখা খেলায় আলোর আশ্বাসে দাঁড়াই
আলো চাই আলো ল্যাম্পপোস্টের অক্ষম
হরিণীকরুণচোখে আলোর দেবতা এসো
এসো হিমেল হাওয়ায় নিম্নমান বিছানায়
হাসনুহানা কান্নার আঘ্রাণে রাতের সুন্দর

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন