কবিতায় বর্তমান সময় —১৮
এক টুকরো মেঘ
স্মৃতি শেখর মিত্র
এক টুকরো মেঘের আশায়
আমরা কত না সাধ্য সাধনা করি।
দীর্ঘদিন খরার পর মানুষের শ্বাস
নেওয়াও যখন দুষ্কর হয়ে ওঠে,
ভালভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়
শাল, পিয়াল, শিমুল, মহুয়া,নিম
প্রতিটি বৃক্ষ নতজানু হয়ে ঈশ্বরের নিকট
প্রার্থনারত বৃষ্টির কামনায়। রাস্তার
কুকুর,গরু, বাছুর সকলের মধ্যে
এক বিচলিত ভাব দেখা যায়।ঈশ্বরও হাত
গুটিয়ে নেন তাঁরও কিছু করার থাকে না।
তিনি তো জেনে গেছেন দুর্বৃত্ত মানুষদের
স্বার্থের জন্য পৃথিবী আজ কলুষিত। তাদের
উচ্চাভিলাষ বিশ্ব উষ্ণায়ন সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ
করছে। এভাবে চললে মানুষের কষ্টের সীমা
পরিসীমা থাকবে না। মানুষের ঘরে ঘরে
শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহার
বিলাসীতা এখন চরমে। কার্বন ডাইঅক্সাইড
গ্যাসের নির্গমন ও প্রাদুর্ভাব, বৃক্ষহীন বসুন্ধরা
সবই জীবের কষ্টের কারণ। সেদিন আর
বেশিদূরে নয় যখন সমুদ্রের উপকূলে অবস্থিত
বৃহৎ নগরীগুলি সমুদ্রের তলায় তলিয়ে যাবে।
বৃক্ষহীন বসুন্ধরা মরুভূমি হয়ে যাবে।তাই বলি
হে ঈশ্বর! টুকরো টুকরো মেঘের সঞ্চার ঘটাও
বৃষ্টি আসুক নেমে অঝোর ধারায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন